মূল কন্টেন্টে যান
উসতাজ হাসসান শামসি পাশা

উসতাজ হাসসান শামসি পাশা

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম ডা. হাসান ওয়াসফি শামসি পাশা
জন্ম ১৯৫১ (সঠিক তারিখ জানা যায়নি)
জন্মস্থান হিমস, সিরিয়া
জাতীয়তা সিরীয়
পেশা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক, লেখক
শিক্ষা আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয় — চিকিৎসাশাস্ত্র ও অস্ত্রোপচারে স্নাতক (১৯৭৫); দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় — অভ্যন্তরীণ চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি (১৯৭৮, প্রথম স্থান); যুক্তরাজ্যে হৃদরোগে বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ (লন্ডন, ম্যানচেস্টার, প্রেস্টন)
উল্লেখযোগ্য রচনা ‘কাইফা তাকী নাফসাকা মিন আমরাদিল কালব’; ‘আদ-দালীলুত তিব্বী ওয়াল ফিকহী লিল মারীদ ফি শাহরিস সিয়াম’; ‘কাবাসাত মিনাত তিব্বিন নববী’; ‘ওয়াসায়া তাবীব’; ‘হাকাযা কানূ ইয়াওমা কুন্না’; ‘হামসাতুন ফি উযুনি শাব্ব/ফাতাহ/যাওজাইন’

পরিচিতি

ডা. হাসান ওয়াসফি শামসি পাশা (জন্ম ১৯৫১, হিমস) একজন সিরীয় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও বহুগ্রন্থপ্রণেতা লেখক। চিকিৎসা-পেশার পাশাপাশি তিনি হৃদরোগ, জনস্বাস্থ্য, তিব্বে নববী (নববী চিকিৎসা), চিকিৎসা-ফিকহ, চিকিৎসা-নৈতিকতা, সাহিত্য-ইতিহাস এবং পারিবারিক আচরণ — এই বিস্তৃত বিষয়ভান্ডারে কয়েক ডজন বই লিখেছেন। তাঁর লেখার বিশেষত্ব হলো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানকে ইসলামি উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে সাধারণ পাঠকের বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপন করা। প্রাপ্ত সর্বশেষ বিশ্বকোষীয় তথ্য অনুযায়ী তিনি জীবিত আছেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৫১ সালে সিরিয়ার হিমস শহরে তাঁর জন্ম। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা তিনি হিমসের বিদ্যালয়গুলোতেই সম্পন্ন করেন। এরপর আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তি হন এবং ১৯৭৫ সালে স্নাতক হন — চিকিৎসা-কলেজের সেরা পাঁচজনের মধ্যে তিনি ছিলেন। ১৯৭৮ সালে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন, সেখানে প্রথম স্থান অধিকার করেন; ‘ই’তিলালুল আদালাতিল কালবিয়্যাহ’ (হৃদপেশির রোগ) শীর্ষক গবেষণাপত্রের জন্য প্রথম শ্রেণীর সম্মানও পান। এরপর বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও প্রেস্টনে প্রায় দশ বছর কাটান — এই সময়ে তিনি হৃদরোগে বিশেষজ্ঞ হন এবং তিন বছর ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালগুলোতে হৃদরোগের গবেষণা-সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ব্রিটেনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্সের এবং ১৯৮৭ সালে আয়ারল্যান্ডের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্সের সদস্যপদ অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৮৮ সালে তিনি সৌদি আরবে আসেন এবং জেদ্দার কিং ফাহদ সশস্ত্র বাহিনী হাসপাতালে হৃদরোগ পরামর্শক হিসেবে যোগ দেন; পরে হৃদরোগ বিভাগের প্রধান এবং সাত বছরেরও বেশি সময় নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি লন্ডন ও গ্লাসগোর রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্সের ফেলো, আয়ারল্যান্ডের রয়্যাল কলেজের ফেলো এবং আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির ফেলো নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের বিশ্বখ্যাত চিকিৎসকদের ‘হু ইজ হু’ বিশ্বকোষে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি সৌদি হৃদরোগ সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি জেদ্দার আন্তর্জাতিক ইসলামি ফিকহ একাডেমির বিশেষজ্ঞ, সৌদি চিকিৎসা জার্নালসহ কয়েকটি চিকিৎসা-সাময়িকীর সম্পাদনা-পর্ষদের সদস্য ও পর্যালোচক। চিকিৎসা-নৈতিকতা বিষয়ে সৌদি আরবসহ নানা দেশের সেমিনারে তিনি বক্তৃতা দিয়েছেন।

লেখালেখি ও রচনাবলি

তাঁর বইগুলো দামেস্কের দারুল কালাম, জেদ্দার দারুল বাশীর ও দারুল মানারাসহ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়ভিত্তিক নির্বাচিত রচনা:

  • হৃদরোগ বিষয়ে: ‘কাইফা তাকী নাফসাকা মিন আমরাদিল কালব’ (হৃদরোগ থেকে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন); ‘ইরতিফাউ দাগতিদ দাম’ (উচ্চ রক্তচাপ); ‘আদ-দুহূন ওয়াল কোলেস্টেরল ওয়াল কালব’ (চর্বি, কোলেস্টেরল ও হৃদয়); ‘কালবুকা বাইনাস সিহহা ওয়াল মারাদ’ (তোমার হৃদয় — সুস্থতা ও রোগের মাঝে); ‘দালীলুকা ইলাল আমালিয়্যাতিল কালবিয়্যাহ আল-জিরাহিয়্যাহ’ (হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের নির্দেশিকা)।
  • জনস্বাস্থ্য: ‘ওয়াসায়া তাবীব’ (একজন চিকিৎসকের পরামর্শ); ‘শাবাবুকা কাইফা তুহাফিযু আলাইহি’ (তোমার যৌবন কীভাবে রক্ষা করবে); ‘সিহহাতুকা বাইনাল হাকাঈক ওয়াল আওহাম’; ‘আল-কাহওয়া ওয়াশ শাই’ (কফি ও চা: উপকার ও ক্ষতি)।
  • তিব্বে নববী: ‘কাবাসাত মিনাত তিব্বিন নববী ওয়াল আদিল্লাতিল ইলমিয়্যাতিল হাদীসাহ’; ‘জাইতুয যাইতুন বাইনাত তিব্বি ওয়াল কুরআন’ (চিকিৎসা ও কুরআনের আলোকে জলপাই তেল); ‘আন-নাওম ওয়াল আরাক ওয়াল আহলাম বাইনাত তিব্বি ওয়াল কুরআন’; ‘মু’জিযাতুল ইসতিশফা বিল আসাল’ (মধু দিয়ে আরোগ্যের অলৌকিকত্ব); ‘শিফা বিল হাব্বাতিস সাওদা বাইনাল ই’জাযিন নববী ওয়াত তিব্বিল হাদীস’ (কালোজিরা); ‘আত-তিব্বুন নববী বাইনাল ইলমি ওয়াল ই’জায’।
  • চিকিৎসা-ফিকহ: ‘আদ-দালীলুত তিব্বী ওয়াল ফিকহী লিল মারীদ ফি শাহরিস সিয়াম’ (রমজানে রোগীর চিকিৎসা ও ফিকহি নির্দেশিকা); ‘আস-সাওম বাইনাল ফিকহ ওয়াত তিব্বি’; ‘সিহহাতুকা ফিল হাজ্জি ওয়াল উমরাহ’; ‘সূমূ তাসিহহূ’।
  • চিকিৎসা-নৈতিকতা: ‘মাসঊলিয়্যাতুত তাবীব বাইনাল ফিকহ ওয়াল কানূন’; ‘মাওসূআতু আখলাকিয়্যাতি মিহনাতিত তিব্বি’ (চিকিৎসা-পেশার নৈতিকতার বিশ্বকোষ)।
  • সাহিত্য ও ইতিহাস: ‘হাকাযা কানূ ইয়াওমা কুন্না’; ‘আদ-দাউ ওয়াদ দাওয়া বাইনাল আতিব্বা ওয়াল উদাবা’ (চিকিৎসক ও সাহিত্যিকদের মধ্যে রোগ ও ওষুধ); ‘হিযার হিযার মিন হাযিহিল কুতুব’।
  • প্রতিপালন ও আচরণ: ‘আস’ইদ নাফসাকা ওয়া আস’ইদিল আখারীন’; ‘কাইফা তুরাব্বী আবনাআকা ফি হাযায যামান’; ‘হামসাতুন ফি উযুনি শাব্ব’, ‘হামসাতুন ফি উযুনি ফাতাহ’, ‘হামসাতুন ফি উযুনি যাওজাইন’ (দম্পতির কানে ফিসফিসানি); ‘সাহরাতুন আঈলিয়্যাতুন ফি রিয়াদিল জান্নাহ’; ‘কামামুন তাহওয়ান নাজাহ’।
  • ইংরেজি ভাষায়: ‘Hope Heartcare Handbook’ (ম্যানচেস্টার, ১৯৮৭); ‘Handbook of Coronary Care’ (লন্ডন, ১৯৯০); ‘Patient’s Guide to Heart Disease’ (জেদ্দা, ১৯৯৭)।

এছাড়া আমেরিকান ও ইউরোপীয় চিকিৎসা-সাময়িকীতে হৃদরোগ বিষয়ে তাঁর পঞ্চাশটির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং আরবি পত্রপত্রিকায় তাঁর শত শত প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে।

সদস্যপদ ও সম্মাননা

তিনি সৌদি হৃদরোগ সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (১৯৯৫–২০০৬), ব্রিটিশ হৃদরোগ সমিতি, বিশ্ব ধমনী-রোগ সমিতি, আমেরিকান নিবিড়-পরিচর্যা চিকিৎসক সমিতি, ব্রিটিশ পুষ্টি সমিতি ও ব্রিটিশ বক্ষ-রোগ সমিতির সদস্য। চিকিৎসা-বিষয়ক বই ও পত্রিকার প্রবন্ধের মাধ্যমে চিকিৎসা-সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে (৪ যুলকা’দা ১৪১৮ হিজরি) জেদ্দায় ‘আল-ইসনাইনিয়্যাহ’ অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

বর্তমান অবস্থা

বিশ্বকোষীয় সূত্র অনুযায়ী তিনি জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা ও লেখালেখি — দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয়। চিকিৎসক-লেখক হিসেবে তাঁর রচনা আরব বিশ্বে স্বাস্থ্য-সচেতনতা ও নববী চিকিৎসা-চর্চার জনপ্রিয় উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।