মূল কন্টেন্টে যান
ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ

ইমাম ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ আল বায (عبد العزيز بن عبد الله آل باز)
পরিচিত নাম ইবনু বায
জন্ম ২১ নভেম্বর ১৯১২, রিয়াদ (কিছু সূত্রে জন্মসাল ১৯১০ উল্লেখ আছে)
মৃত্যু ১৩ মে ১৯৯৯, তায়েফ, সৌদি আরব — বয়স ৮৬
সমাধিস্থল আল-আদল কবরস্থান, মক্কা
জাতীয়তা সৌদি
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, বিচারক, শিক্ষক, গ্র্যান্ড মুফতি
মাযহাব ও ধারা হানবালি ফিকহ; আছারি আকিদা
শিক্ষা ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা — কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির (প্রধান শিক্ষক: মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম আলে আশ-শাইখ)
উল্লেখযোগ্য কর্ম মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া-মাকালাত মুতানাওয়িআহ (ত্রিশ খণ্ডের বেশি ফতোয়া-সংকলন); দ্য করেক্ট ইসলামিক আকিদাহ অ্যান্ড হোয়াট অপোজেস ইট; ইম্পর্ট্যান্ট লেসনস ফর এভরি মুসলিম; হজ-উমরা বিষয়ক গ্রন্থাবলি — সর্বমোট ষাটের অধিক গ্রন্থ
পুরস্কার বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার — ইসলামের সেবায় (১৯৮১); মরিতানিয়ার ন্যাশনাল অর্ডার অব মেরিট

পরিচিতি

আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ আল বায — “ইবনু বায” নামে সর্বাধিক পরিচিত — বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী সুন্নি ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন। তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সিনিয়র আলেম পরিষদের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কৈশোরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও অধ্যবসায়ের জোরে তিনি ফিকহ, হাদিস, তাফসির ও আকিদা বিষয়ে ষাটের অধিক গ্রন্থ রচনা করেন এবং তার ফতোয়া সৌদি আরবসহ বিশ্বের বহু মুসলিমের ধর্মীয় চর্চায় প্রভাব ফেলে। আলে আশ-শাইখ পরিবারের বাইরে তিনিই ছিলেন সৌদি আরবের প্রথম গ্র্যান্ড মুফতি।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯১২ সালের ২১ নভেম্বর (হিজরি ১৩৩০ সনের যিলহজ্জ মাসে) রিয়াদ শহরে ইবনু বাযের জন্ম, একটি ইসলাম-অনুরাগী পরিবারে। তবে কিছু জীবনীসূত্রে তার জন্মসাল ১৯১০ বলেও উল্লেখ আছে। তিন বছর বয়সে তার বাবা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান মারা যান। তেরো বছর বয়সে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বাজারে কাপড় বিক্রির কাজ শুরু করেন এবং একই সঙ্গে কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও তাফসিরের পাঠ নিতে থাকেন — যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহিম আলে আশ-শাইখ, যিনি পরবর্তীতে দেশের গ্র্যান্ড মুফতি হন।

১৯২৭ সালে, ষোলো বছর বয়সে, চোখের গুরুতর সংক্রমণের পর তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেন; বিশ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। তৎকালীন সৌদি আরবে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়-ব্যবস্থা না থাকায় তিনি রিয়াদের প্রখ্যাত আলেমদের কাছে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে ইসলামি সাহিত্য ও শাস্ত্রে শিক্ষা লাভ করেন।

কর্মজীবন

ইবনু বাযের কর্মজীবন বিচার, শিক্ষকতা ও ধর্মীয় প্রশাসন — তিন ক্ষেত্রেই বিস্তৃত ছিল:

  • বিচারক: ১৯৩৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত আল-খারজ জেলার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • শিক্ষকতা: বিচার বিভাগ ছেড়ে প্রায় নয় বছর রিয়াদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ইসলামি আইন কলেজে শিক্ষকতা করেন।
  • মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রথমে উপ-উপাচার্য ও পরে পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ উপাচার্য (চ্যান্সেলর) নিযুক্ত হন।
  • ধর্মীয় প্রশাসন: ইসলামি গবেষণা, ইফতা (ফতোয়া), দাওয়াহ ও প্রচার বিভাগের সভাপতি এবং ইসলামি গবেষণা ও ফতোয়ার স্থায়ী কমিটির প্রধান হন।
  • গ্র্যান্ড মুফতি: ১৯৯২ সালে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সিনিয়র আলেম পরিষদের প্রধান নিযুক্ত হন; ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সালের ১৩ মে মৃত্যু পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।
  • আন্তর্জাতিক ভূমিকা: মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিষদের সদস্য ও সভাপতি ছিলেন।

তিনি “নূরুন আলা আদ-দারব” (পথের আলো) নামে একটি জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যেখানে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করতেন এবং শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর ও ফতোয়া দিতেন। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় মুজাহিদিনদের সমর্থনে সম্পদ-কর সংক্রান্ত ফতোয়া দেওয়ার ঘটনা ঐতিহাসিকভাবে নথিভুক্ত আছে; তার কিছু মতামত জনসমক্ষে বিতর্কিতও হয়েছে।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

ইবনু বায ষাটের অধিক গ্রন্থ রচনা করেন — বিষয়বস্তু ছিল হাদিস, তাফসির, ইসলামি উত্তরাধিকার-আইন, তাওহিদ, ফিকহ, সালাত, যাকাত, দাওয়াহ এবং হজ-উমরা। তার ফতোয়া ও প্রবন্ধের সংকলন মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া-মাকালাত মুতানাওয়িআহ ত্রিশ খণ্ডের বেশি বিস্তৃত, যা ইসলামি আইন ও অনুশীলনের প্রায় প্রতিটি দিক নিয়ে আলোচনা করে। ইংরেজিতে অনূদিত তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে দ্য করেক্ট ইসলামিক আকিদাহ অ্যান্ড হোয়াট অপোজেস ইট, ইম্পর্ট্যান্ট লেসনস ফর এভরি মুসলিম এবং হজ-উমরা বিষয়ক রচনাবলি। তার ওয়েবসাইট (binbaz.org.sa) থেকে তার রচনা ও ফতোয়া আজও পাঠ করা যায়।

ব্যক্তিগত জীবন

তার স্ত্রী ও সন্তানরা রিয়াদের শুমাইসি এলাকায় একটি ছোট আধুনিক ভবনসমষ্টিতে বসবাস করতেন। তার চার পুত্রের নাম জানা যায় — আহমাদ, আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান ও খালিদ। সরল জীবনযাপন, বিনয় ও দানশীলতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন; ইশার নামাজের পর লোকজনকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো তার নিয়মিত অভ্যাস ছিল বলে জীবনীসূত্রে উল্লেখ আছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার — ইসলামের সেবায় (১৯৮১)
  • মরিতানিয়ার ন্যাশনাল অর্ডার অব মেরিট

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৯৯ সালের ১৩ মে, বৃহস্পতিবার সকালে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ বছর বয়সে ইবনু বায মৃত্যুবরণ করেন। তাকে মক্কার আল-আদল কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাদশাহ ফাহদ ১৯৯৯ সালের ১৪ মে আব্দুল আযীয আলে আশ-শাইখকে নতুন গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিযুক্ত করেন। তার শিক্ষাদান ও ফতোয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত বহু আলেম পরবর্তীতে সৌদি আরবের বিচার ও ধর্মীয় অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন, ফলে সালাফি ধারার চিন্তায় তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।