মূল কন্টেন্টে যান
ইকবাল খন্দকার

ইকবাল খন্দকার

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম ইকবাল খন্দকার
জন্ম ১১ জানুয়ারি ১৯৮৩
জন্মস্থান ভাবলা গ্রাম, বেলাবো উপজেলা, নরসিংদী, বাংলাদেশ
মৃত্যু —
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা কথাসাহিত্যিক, টিভি উপস্থাপক, গীতিকার, নাট্যকার, টিভি স্ক্রিপ্ট লেখক
শিক্ষা ভাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (অনার্স-মাস্টার্স)
উল্লেখযোগ্য কর্ম ভুলে যেও আমায় (২০০১), একাত্তরের বদ্ধঘর (২০১৮), রম্য সিরিজ (দাঁত ভাঙা হাসি, বস্তা ভরা হাসি), ভৌতিক সিরিজ (গলাকাটা ভূত), কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ (রোল নং এক, কালাদিঘি রহস্য); উপস্থাপিত অনুষ্ঠান বেআক্কেলের আড্ডা
পুরস্কার যাচাইযোগ্য তথ্য নেই

পরিচিতি

ইকবাল খন্দকার বাংলাদেশের একজন বহুমাত্রিক লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, টিভি উপস্থাপক, গীতিকার, নাট্যকার ও টিভি স্ক্রিপ্ট লেখক — তবে কথাসাহিত্যিক ও উপস্থাপক হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। উপন্যাস, গোয়েন্দা-রহস্য-থ্রিলার, ভৌতিক, রম্য, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য — সব ধারাতেই তাঁর লেখালেখি বিস্তৃত। ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত তাঁর বইয়ের সংখ্যা ৭৩টি। বাংলাদেশের অল্প কয়েকজন পূর্ণকালীন পেশাদার লেখকের একজন তিনি; লেখালেখিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নেওয়াই তাঁর পরিচয়ের মূল ভিত্তি।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার ভাবলা গ্রামে ইকবাল খন্দকারের জন্ম। বাবা মো. শামসুদ্দীন খন্দকার, মা আমিনা খাতুন। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু ভাবলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘নতুন ধান’ নামে একটি ছড়া লেখা দিয়ে তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু হয় বলে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।

কর্মজীবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন ইকবাল খন্দকার সিদ্ধান্ত নেন যে লেখালেখিই হবে তাঁর কর্মজীবন — লেখালেখির বাইরে তিনি কিছু করবেন না। এরপর পেশাদার লেখক হিসেবে তিনি দেশের প্রায় সবকটি জাতীয় দৈনিকে লিখতে শুরু করেন; পাশাপাশি লিখতে শুরু করেন টিভি অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট। জাতীয় দৈনিকে ছাপা হওয়া তাঁর প্রথম লেখার শিরোনাম ‘চামচা’, যা ১৯৯৯ সালে দৈনিক ইনকিলাবের ‘উপহার’ পাতায় প্রকাশিত হয়। টিভির জন্য সর্বপ্রথম তিনি স্ক্রিপ্ট লেখেন এনটিভির ‘বিভ্রাট’ অনুষ্ঠানের। তাঁর প্রথম বই ভুলে যেও আমায় প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।

২০১২ সাল থেকে তিনি টেলিভিশন উপস্থাপনায় যুক্ত হন। তাঁর উপস্থাপিত প্রথম অনুষ্ঠান বেআক্কেলের আড্ডা, যা ২০১২ সালে একুশে টিভির ঈদুল ফিতরের বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় প্রচারিত হয়। এরপর বিটিভি, একুশে টিভি, চ্যানেল নাইন, এশিয়ান টিভি, গাজী টিভি, মাই টিভিসহ নানা চ্যানেলে তিনি হাসতে নেই মানা, শিল্প প্রাঙ্গণ, বইমেলা প্রতিদিন, খবরের খবর আছে, গল্পে শুনি যাদের নাম-এর মতো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। টিভির জন্য তাঁর লেখা স্ক্রিপ্টে প্রচারিত হয়েছে দেশ টিভির কে হতে চায় কোটিপতি, এনটিভির বিভ্রাট, বৈশাখী টিভির জোর করে হাসি নয়, এটিএন বাংলার জমবে এবার গানে গানে-সহ বেশ কিছু অনুষ্ঠান।

সাহিত্যজীবন

ইকবাল খন্দকার সব বয়সের পাঠকের জন্য লেখেন। তাঁর বইগুলোকে কয়েকটি ধারায় ভাগ করা যায়: উপন্যাস (ভুলে যেও আমায়, এ হৃদয় চায় তোমাকে, তরুণী তখন ঘরে একা, বিদায় মা, ভালো থেকো মা, তালাকপ্রাপ্তা), মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস (একাত্তরের বদ্ধঘর), শিশু-কিশোর গোয়েন্দা ও রহস্য (রোল নং এক, কালাদিঘি রহস্য, অপারেশন দস্যুবাড়ি, একচোখা গোয়েন্দা), ভৌতিক বই (গলাকাটা ভূত, ভুতুড়ে ডাকঘর, অভিশপ্ত স্টেশন), রম্য (দাঁত ভাঙা হাসি, বস্তা ভরা হাসি, পেট ফাটা হাসি) এবং শিশুতোষ গল্প-ছড়া (দোয়েল ও জোনাকি, কাকের গান শেখা)।

সাহিত্যের পাশাপাশি গীতিকার হিসেবেও তিনি সক্রিয় — তাঁর লেখা প্রকাশিত গানের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। তাঁর লেখা নাটকের মধ্যে দর্শকনন্দিত হয়েছে কদম চোরা, বিয়ে করবো স্পন্সর চাই ও রোজাদার।

ব্যক্তিগত জীবন

প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকার অনুযায়ী তাঁর স্ত্রী লরা খন্দকার এবং কন্যা ইলমা। বর্তমানে তিনি লেখালেখি ও টেলিভিশন উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করেই কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

ইকবাল খন্দকার জীবিত ও সক্রিয়। পূর্ণকালীন পেশাদার লেখক হিসেবে টিকে থাকা, শিশু-কিশোরদের জন্য ধারাবাহিক গোয়েন্দা-রহস্য ও ভৌতিক সাহিত্য রচনা, এবং রম্য লেখায় স্বাতন্ত্র্য — এগুলোই তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের ভিত্তি। তাঁর বইগুলো এখনো বইমেলা ও বইবাজারে পাওয়া যায়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।