মূল কন্টেন্টে যান
আহমদ দীদাত

আহমদ দীদাত

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম আহমদ হুসাইন দীদাত
জন্ম ১ জুলাই ১৯১৮
জন্মস্থান তাডকেশ্বর, সুরাট, বোম্বে প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ৮ আগস্ট ২০০৫, ভেরুলাম, কোয়াজুলু-নাতাল, দক্ষিণ আফ্রিকা
জাতীয়তা দক্ষিণ আফ্রিকান (ভারতীয় বংশোদ্ভূত)
পেশা ইসলামি প্রচারক, বক্তা, লেখক; ইসলামিক প্রোপাগেশন সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল (আইপিসিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা
শিক্ষা স্ট্যান্ডার্ড ৬ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শিক্ষা; মূলত স্বশিক্ষিত
উল্লেখযোগ্য কর্ম দ্য চয়েস: ইসলাম অ্যান্ড ক্রিশ্চিয়ানিটি; ইজ দ্য বাইবেল গড’স ওয়ার্ড?; ক্রুসিফিকশন অর ক্রুসি-ফিকশন?
পুরস্কার কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার (১৯৮৬)

পরিচিতি

আহমদ হুসাইন দীদাত (১ জুলাই ১৯১৮ – ৮ আগস্ট ২০০৫) ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান ইসলামি লেখক, বুদ্ধিজীবী ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের বক্তা। তিনি খ্যাতি অর্জন করেন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের সঙ্গে অসংখ্য আন্তঃধর্মীয় জনসম্মুখ বিতর্ক, এবং ইসলাম, খ্রিস্টানধর্ম ও বাইবেল নিয়ে ভিডিও-বক্তৃতার মাধ্যমে। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামি প্রচার সংস্থা আইপিসিআই প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইসলাম ও খ্রিস্টানধর্মের ওপর বহুল-বিতরিত পুস্তিকা রচনা করেন। ইংরেজিতে তিনি লিখতেন ও বক্তৃতা দিতেন।

জন্ম ও শৈশব

দীদাত ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে প্রেসিডেন্সির সুরাট জেলার তাডকেশ্বর শহরে ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হুসাইন কাজেম দীদাত তার জন্মের অল্পদিন পরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। নয় বছর বয়সে দীদাত ভারত ছেড়ে পিতার কাছে তৎকালীন কোয়াজুলু-নাতালে যান; তার যাত্রার কয়েক মাস পরই মা ফাতমা দীদাতের মৃত্যু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে ভাষাগত বাধা কাটিয়ে তিনি পড়াশোনায় ভালো করেন এবং স্ট্যান্ডার্ড ৬ পর্যন্ত পড়েন। তবে আর্থিক অবস্থার কারণে ষোলো বছর বয়সে তাকে স্কুল ছেড়ে কাজে নামতে হয়।

কর্মজীবন

প্রথমে তিনি আসবাবপত্র বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৩৬ সালে নাতাল দক্ষিণ উপকূলের একটি খ্রিস্টান সেমিনারির একদল মিশনারির সঙ্গে সাক্ষাতে তুলনামূলক ধর্মের প্রতি তার আগ্রহ জাগে — মিশনারিরা প্রায়ই ইসলামি নবী মুহাম্মদ সম্পর্কে সমালোচনামূলক দাবি তুলতেন, যা দীদাতকে উদ্দীপিত করে। ১৯৫৭ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ইসলামিক প্রোপাগেশন সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল (আইপিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭০-এর দশক থেকে ৯০-এর দশক পর্যন্ত তিনি পাস্টর স্ট্যানলি শোবের্গ, ড. আনিস শরোশ ও ড. রবার্ট ডগলাসসহ খ্যাতনামা খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের সঙ্গে জনসম্মুখ বিতর্কে অংশ নেন; এগুলো রেকর্ড করে বিশ্বব্যাপী বিতরণ করা হয়। তিনি জাকির নায়েকসহ পরবর্তী মুসলিম বক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলেন বলে উল্লেখ করা হয়।

রচনাবলি

দীদাতের বহু পুস্তিকা ও বই বিশ্বজুড়ে বিতরিত হয়। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য চয়েস: ইসলাম অ্যান্ড ক্রিশ্চিয়ানিটি’, ‘ইজ দ্য বাইবেল গড’স ওয়ার্ড?’ এবং ‘ক্রুসিফিকশন অর ক্রুসি-ফিকশন?’ — এগুলোতে তিনি বাইবেল ও ইসলামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তার লেখা ও বক্তৃতা মুসলিম পাঠকদের কাছে খ্রিস্টান মিশনারিদের যুক্তির জবাব হিসেবে জনপ্রিয় হয়।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৩৭ সালে তিনি হাওয়া দীদাতকে বিয়ে করেন; এই দম্পতির পুত্র ইউসুফ দীদাত। ১৯৯৬ সালে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলতে পারতেন না; এরপর তার জনসম্মুখ কার্যক্রম (১৯৪২–১৯৯৬) শেষ হয়।

পুরস্কার

পঞ্চাশ বছরের দাওয়াহ-কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৬ সালে তিনি কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০০৫ সালের ৮ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাতালের ভেরুলামে আহমদ দীদাতের মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাকে ভেরুলাম সমাধিক্ষেত্রে দাফন করা হয়। আইপিসিআই-এর কার্যক্রম, তার বইপত্রিকা ও রেকর্ডকৃত বিতর্কের মাধ্যমে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্রে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।