আল বাহি আল খাওলি
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আল-বাহি নাজা ইবরাহিম আল-খাওলি (Al-Bahi al-Khawli) |
| জন্ম | ১৯০১ (সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা যায়নি) |
| জন্মস্থান | আল-কুরাশিয়া গ্রাম, আল-সান্তা, আল-গারবিয়া, মিসর |
| মৃত্যু | ২৭ ডিসেম্বর ১৯৭৭, মিসর |
| জাতীয়তা | মিসরীয় |
| পেশা | ইসলামি পণ্ডিত, লেখক ও ধর্মপ্রচারক |
| শিক্ষা | কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুল উলুম কলেজ — স্নাতক (আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্র) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | তাযকিরাতুদ দু’আত, ইসলাম: না পুঁজিবাদ, না সমাজতন্ত্র, ইসলামে সম্পদ, বাড়ি ও সমাজের মাঝে নারী, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, মক্কা বিজয়ের রহস্য; বাংলায়: নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় |
পরিচিতি
আল-বাহি আল-খাওলি (১৯০১–১৯৭৭) বিশ শতকের মিসরের বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত, লেখক ও ধর্মপ্রচারক ছিলেন। তার প্রথম ও সবচেয়ে খ্যাত গ্রন্থ তাযকিরাতুদ দু’আত-এর নামে তিনি “সাহিবু তাযকিরাতিদ দু’আত” হিসেবে পরিচিতি পান। দাওয়াতি চিন্তা, ইসলামি অর্থনীতি, কুরআন-অধ্যয়ন, সীরাত ও সমাজ-সংস্কার — বহু শাখায় তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার বই মিসর ছাড়িয়ে আরব বিশ্বের বহু দেশে পঠিত হয়েছে এবং বাংলাসহ অন্যান্য ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে। (কিছু সূত্রে তার জন্মসাল ১৮৯৯ হিসেবে উল্লেখ থাকলেও আরবি উইকিপিডিয়াসহ নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সে ১৯০১ সাল দেওয়া আছে।)
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৯০১ সালে (১৩১৭ হিজরি) মিসরের আল-গারবিয়া প্রদেশের আল-সান্তা জেলার আল-কুরাশিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ধার্মিক ও স্বচ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠা এই পণ্ডিত গ্রামের মক্তব থেকে কুরআন মুখস্থ করেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তান্তার আল-আহমাদি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। পরে তিনি কায়রোর দারুল উলুম কলেজে ভর্তি হয়ে আরবি ভাষা ও ইসলামি শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে তিনি মুহাম্মদ আবদুল মুত্তালিব, আবদুল ওয়াহহাব আন-নাজ্জার, তানতাওয়ি জাওহারি ও শাইখ আহমদ ইবরাহিমের মতো খ্যাতিমান আলেমদের কাছে পাঠ গ্রহণ করেন এবং ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়ার রচনার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।
কর্মজীবন
দারুল উলুম থেকে পাস করে তিনি প্রথমে তান্তার আল-আযহার ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন; এরপর আসিউত ও কায়রোতেও শিক্ষকতা করেন। ১৯৫২ সালের মিসর বিপ্লবের পর তিনি দেশের ধর্মমন্ত্রণালয়ে (ওয়াকফ মন্ত্রণালয়) মসজিদের মহাপরিচালক, “মিনবারুল ইসলাম” পত্রিকার সম্পাদক এবং পরে ধর্মীয় বিষয়ক মহাতত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ইসলামি বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের সদস্য, যুব মুসলিম সমিতির উপদেষ্টা এবং আল-আযহারের উসুলুদ দ্বীন অনুষদ, দারুল উলুম ও সমাজবিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপনা করেন।
সংগঠনমূলক ও দাওয়াতি ভূমিকা
আল-বাহি আল-খাওলি মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কমিটি ও গাইডেন্স ব্যুরোর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হাসান আল-বান্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে তিনি আত-তুর শিবিরে বন্দি হন এবং ১৯৫১ সালে পুনর্গঠিত গাইডেন্স ব্যুরোর সদস্য নির্বাচিত হন। তার শিষ্যদের মধ্যে সাঈদ রমজান, আবদুল আযিম আদ-দিব ও ইউসুফ আল-কারযাভির নাম উল্লেখযোগ্য। (তথ্য: আরবি উইকিপিডিয়া।)
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
তার রচনা বিপুল ও বহুমুখী। দাওয়াত-বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাত তার প্রথম রচনা তাযকিরাতুদ দু’আত — বইটির একাধিক সংস্করণ ছেপেছে এবং শাইখ হাসান আল-বান্না এর ভূমিকা লিখেছিলেন। এছাড়া আদম: ফালসাফাতু তাকউইমিল ইনসান ওয়া খিলাফাতিহি, মানহাজুল কুরআন ফিল মা’রিফা ও মুযাক্কারাতুন ফিদ-দাওয়াতি উল্লেখযোগ্য। ইসলামি অর্থনীতির ওপর তার বইয়ের মধ্যে আছে আস-সারওয়াতু ফি যিল্লিল ইসলাম, আল-ইসলাম লা শুয়ূ’ইয়্যাতুন ওয়া লা রা’স-মালিয়্যাতুন (১৯৪৭) ও আল-ইশতিরাকিয়্যাতু ফিল মুজতামা’ইল ইসলামি। সীরাত ও জীবনী-ধরনের রচনার মধ্যে মিন আসরারিল ফাতহি (ফাতহু মাক্কা), ইয়াওমুল ফুরকান (গাযওয়াতু বদর) ও আল-ইমামুল মুমতাহান আহমদ বিন হাম্বল প্রসিদ্ধ। কুরআন-বিষয়ক গবেষণায় বানু ইসরাঈল ফি মিযানিল কুরআন ও তাফসিরু সূরাতিল মুযযম্মিল, ফিকহি রচনায় আস-সিয়াম, আল-হাজ্জু ওয়াল উমরাহ ও মানহাজুল ইসলাম ফিয-যাওয়াজি ওয়াত-তালাক, এবং সমাজ-বিষয়ক রচনায় আল-মারআতু বাইনাল বাইতি ওয়াল মুজতামা’ (১৯৬৫) ও আল-ইসলাম ওয়া কাযায়াল মারআতিল মু’আসিরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষায় তার নারী ও পুরুষ ভুল করে কোথায় বইটি পিস পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবন
তিনি একটি ধার্মিক ও স্বচ্ছল পরিবারে জন্ম নেন; তার পিতার নাম নাজা ইবরাহিম। তার এক পুত্র — মেজর জেনারেল মাজিদ আল-খাওলি।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৭৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিনি মিসরে মৃত্যুবরণ করেন; বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। জীবনের শেষ দিকে তিনি সন্তানদের অনুরোধ করেন যেন তারা তার মৃত্যুসংবাদ প্রচার না করেন, ফলে তার অনেক পরিচিতজনও তখন জানতে পারেননি। পরবর্তীতে ইয়াসরি আবদুল খালিক “শাইখ আল-বাহি আল-খাওলি ওয়া জুহুদুহু ফিদ-দাওয়াতি ইলাল্লাহ” শিরোনামে তার জীবন ও দাওয়াতি অবদান নিয়ে স্নাতকোত্তর অভিসন্দর্ভ রচনা করেন।