মূল কন্টেন্টে যান
আল্লামা শিবলী নোমানী

আল্লামা শিবলী নোমানী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মুহাম্মদ শিবলী নোমানী (জন্মনাম শিবলী; পরে “নোমানী” যুক্ত করেন)
জন্ম ৪ জুন ১৮৫৭
জন্মস্থান বিন্দওয়াল, আজমগড়, উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান উত্তরপ্রদেশ)
মৃত্যু ১৮ নভেম্বর ১৯১৪, আজমগড় (বয়স ৫৭)
জাতীয়তা ভারতীয়
পেশা ইসলামী পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ, কবি, শিক্ষাবিদ, লেখক
শিক্ষা প্রথাগত ইসলামী শিক্ষা (শিক্ষক: মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক চিরায়কোটি)
উল্লেখযোগ্য কর্ম সীরাতুন নবী, আল-ফারুক, আল-মামুন, আল-গাজালী, ইলমুল কালাম, শের-উল-আজম; প্রতিষ্ঠান — শিবলী ন্যাশনাল কলেজ (১৮৮৩), দারুল মুসান্নিফীন শিবলী একাডেমি (১৯১৪)
পুরস্কার অটোমান সাম্রাজ্যের “অর্ডার অব দ্য মেজিদিয়ে”; ব্রিটিশ সরকারের “শামসুল উলামা” উপাধি

পরিচিতি

আল্লামা শিবলী নোমানী (৪ জুন ১৮৫৭ – ১৮ নভেম্বর ১৯১৪) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের ইসলামী পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ, কবি, দার্শনিক, শিক্ষাচিন্তাবিদ, লেখক ও প্রাচ্যবিদদের সমালোচক। তাকে উর্দু ইতিহাস-লিখনের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়; আরবি ও ফারসি ভাষায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। আলীগড় আন্দোলন ও নদওয়াতুল উলামা — এই দুই প্রভাবশালী আন্দোলনের সঙ্গেই তিনি যুক্ত ছিলেন। ইসলামের অতীত নায়কদের জীবনী রচনার মাধ্যমে তিনি বিশ্বাস করতেন, তার সমকালের মুসলিমরা ইতিহাস থেকে মূল্যবান শিক্ষা নিতে পারে।

জন্ম ও শিক্ষা

১৮৫৭ সালের ৪ জুন আজমগড়ের কাছে বিন্দওয়ালে এক মুসলিম রাজপুত পরিবারে শিবলী নোমানীর জন্ম। পিতা শেখ হাবিবুল্লাহ, মাতা মকীমা খাতুন। সুফি সাধক আবু বকর আশ-শিবলীর নামে তার নামকরণ হয়; পরবর্তীতে তিনি নিজের নামের সঙ্গে “নোমানী” যুক্ত করেন। তার ছোট ভাইয়েরা ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য গেলেও শিবলী প্রথাগত ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার শিক্ষক ছিলেন যুক্তিবাদী পণ্ডিত মাওলানা মুহাম্মদ ফারুক চিরায়কোটি — এই পটভূমি শিবলীর চিন্তায় যুক্তিবাদ ও স্পষ্ট প্রকাশভঙ্গির ছাপ রেখে যায়।

কর্মজীবন: আলীগড়, হায়দরাবাদ, লখনউ

১৮৮২/১৮৮৩ সালে শিবলী আলীগড়ের মহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজে ফারসি ও আরবি ভাষার অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে ১৬ বছর শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি টমাস আর্নল্ডসহ ব্রিটিশ পণ্ডিতদের সংস্পর্শে এসে আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হন। ১৮৯২ সালে আর্নল্ডের সঙ্গে তিনি অটোমান সাম্রাজ্যসহ মধ্যপ্রাচ্য (সিরিয়া, তুরস্ক, মিশর) সফর করেন; ইস্তাম্বুলে সুলতান আবদুল হামিদের কাছ থেকে তিনি পদক লাভ করেন এবং কায়রোতে বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত মুহাম্মদ আবদুহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৮৯৮ সালে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের মৃত্যুর পর তিনি আলীগড় ছেড়ে হায়দরাবাদ রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা হন; সেখানে তিনি বহু শিক্ষা-সংস্কার চালু করেন এবং তার নীতির ফলে উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় উর্দুকে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। ১৯০৫ সালে তিনি লখনউয়ে দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার শিক্ষা বিভাগের সচিব/প্রধান হিসেবে যোগ দেন (১৯০৫–১৯১৩) এবং পাঠ্যক্রমে সংস্কার আনেন; রক্ষণশীল আলেমশ্রেণির বিরোধিতার মুখে ১৯১৩ সালে তিনি আজমগড়ে ফিরে আসেন।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

শিবলী নোমানী উর্দুতে জীবনী ও ইতিহাস-রচনার ধারা প্রতিষ্ঠা করেন — এই কারণেই তাকে উর্দু ইতিহাস-লিখনের জনক বলা হয়। তার প্রধান গ্রন্থ সীরাতুন নবী-র প্রথম দুই খণ্ড তিনি নিজে সম্পন্ন করেন; তার শিষ্য সৈয়দ সুলায়মান নদভী পরে বাকি পাঁচ খণ্ড রচনা করেন। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে আল-ফারুক (খলিফা ওমর ফারুকের জীবনী), আল-মামুন, আল-গাজালী, সীরাতুন নোমান, ইলমুল কালাম ও শের-উল-আজম (ফারসি সাহিত্যের ইতিহাস)। তিনি কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং প্রাচ্যবিদদের সমালোচনা করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি ভাষা ও ইউরোপীয় বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে তিনি মত দেন; আবার পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে হারিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে মুসলিমদের সতর্কও করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

১৮৭৬ সালে মাজিদুন্নেসার সঙ্গে তার বিবাহ হয়; তাদের তিন সন্তান ছিল (উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী)।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯১৪ সালের আগস্টে বড় ভাইয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি এলাহাবাদ যান; ভাইয়ের মৃত্যুর পর আজমগড়ে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ১৮ নভেম্বর ১৯১৪ মৃত্যুবরণ করেন — বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তার মৃত্যুর মাত্র তিন দিন পর, ২১ নভেম্বর ১৯১৪, তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান দারুল মুসান্নিফীনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়; শিষ্য সৈয়দ সুলায়মান নদভী এই “লেখকদের ভবন” প্রতিষ্ঠা করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। ১৮৮৩ সালে তার প্রতিষ্ঠিত শিবলী ন্যাশনাল কলেজ আজও আজমগড়ে সক্রিয়। তার চিন্তা মুহাম্মদ ইকবাল, আবুল কালাম আজাদসহ বহু পরবর্তী চিন্তাবিদকে প্রভাবিত করে। ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ডাক বিভাগ “পায়োনিয়ার্স অব ফ্রিডম” সিরিজে তার সম্মানে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।