মূল কন্টেন্টে যান
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
জন্ম ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০
মৃত্যু ১৪ আগস্ট ২০২৩, ঢাকা
জন্মস্থান ইন্দুরকানি, পিরোজপুর (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা ইসলামি পণ্ডিত, ধর্মীয় বক্তা, রাজনীতিবিদ
শিক্ষা সারসিনা আলিয়া মাদরাসা (১৯৬২); খুলনা আলিয়া মাদরাসা
উল্লেখযোগ্য কর্ম ওয়াজ মাহফিলে তাফসির-ভিত্তিক বক্তব্য; তাফসির ও ইসলামি সমাজচিন্তা বিষয়ে বহু গ্রন্থ; পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য (১৯৯৬–২০০৬); বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর (২০০৯–২০২৩)

পরিচিতি

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী (২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০ – ১৪ আগস্ট ২০২৩) ছিলেন বাংলাদেশের একজন ইসলামি পণ্ডিত, ধর্মীয় বক্তা ও রাজনীতিবিদ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে কুরআনের তাফসির-ভিত্তিক বক্তব্য দিয়ে লাখো শ্রোতার কাছে পরিচিতি পান। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর (সহকারী আমীর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি গ্রামে (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি) তার জন্ম। পিতার প্রতিষ্ঠিত গ্রামের মাদরাসায় তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৬২ সালে তিনি সারসিনা আলিয়া মাদরাসায় এবং পরে খুলনা আলিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।

ধর্মীয় বক্তা হিসেবে খ্যাতি

রাজনীতিতে আসার আগে সাঈদী সারাদেশের ওয়াজ মাহফিলে ইসলামি বক্তব্যের জন্য ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন; তার মাহফিলগুলোতে নিয়মিত বড় শ্রোতাসমাগম হতো। মুফাসসির হিসেবে তার ভূমিকার জন্য সৌদি আরবের প্রধান ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস তার প্রশংসা করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে।

রচনাবলি

তিনি তাফসির, ইসলামি সমাজচিন্তা, নৈতিকতা ও পারিবারিক জীবন বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।

রাজনৈতিক জীবন

১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন; ১৯৮৯ সালে দলের মজলিসে শূরার সদস্য হন এবং ১৯৯৬ সালে নির্বাহী পরিষদের সদস্য হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন (মেয়াদ: ১৪ জুলাই ১৯৯৬ – ২৭ অক্টোবর ২০০৬)। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ছিলেন।

মামলা ও রায়

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০টি অভিযোগের মধ্যে ৮টিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর করে। রায়টি দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়; রায় ঘোষণার পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

মৃত্যু

২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন; বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের বাইরে হাজারো সমর্থক ও শোকাহত মানুষ জড়ো হয়। পরে তাকে তার জন্মস্থান পিরোজপুরে দাফন করা হয়।

জনপ্রিয় বই

সব বই দেখুন →

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।