আল্লামা আরশাদুল কাদেরী
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | আল্লামা আরশাদুল কাদেরী |
| জন্ম | ৫ মার্চ ১৯২৫ |
| জন্মস্থান | সায়্যিদপুরা, বালিয়া, উত্তর প্রদেশ, ভারত |
| মৃত্যু | ২৯ এপ্রিল ২০০২, জামশেদপুর, ভারত |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| পেশা | ইসলামি পণ্ডিত, লেখক ও ধর্মপ্রচারক |
| শিক্ষা | আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া, মুবারকপুর — ফাজিলাত ডিগ্রি (১৯৪৪); শিক্ষক: শাহ আবদুল আজিজ মুরাদাবাদী (হাফিজ-এ-মিল্লাত) |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | জলজলা, জের ও জবর, তাবলিগি জামাআত, মিসবাহুল কুরআন (৩ খণ্ড) |
| প্রতিষ্ঠান | ওয়ার্ল্ড ইসলামিক মিশন (প্রথম মহাসচিব), জামিয়া হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া, মাদিনাতুল ইসলাম (হেগ) |
পরিচিতি
আল্লামা আরশাদুল কাদেরী (৫ মার্চ ১৯২৫ – ২৯ এপ্রিল ২০০২) ভারতের একজন সুন্নি ইসলামি পণ্ডিত, লেখক ও ধর্মপ্রচারক ছিলেন। বেরলভী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকায় বহু মাদরাসা, মসজিদ ও ইসলামি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। উর্দু ভাষায় রচিত তাঁর বিশের বেশি গ্রন্থের মধ্যে জলজলা ও জের ও জবর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি পায়। প্রায় অর্ধশতক ধরে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা ও সংগঠন-কর্মে নিয়োজিত ছিলেন।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯২৫ সালের ৫ মার্চ ভারতের উত্তর প্রদেশের বালিয়া জেলার সায়্যিদপুরায় মাওলানা আবদুল লতিফের পরিবারে তাঁর জন্ম। বাবা ছিলেন একজন ধর্মীয় পণ্ডিত; দাদা মাওলানা আজিমুল্লাহ শাহও ছিলেন খ্যাতিমান আলেম। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা তিনি বাবা ও দাদার তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই লাভ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মুবারকপুরের আল জামিয়াতুল আশরাফিয়া মাদরাসায় যান; সেখানে শাহ আবদুল আজিজ মুরাদাবাদী (হাফিজ-এ-মিল্লাত)-এর তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন করে ১৯৪৪ সালে শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
কর্মজীবন (শিক্ষা ও সংগঠন)
শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি মাদরাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন এবং শত শত আলেম তৈরি করেন; একপর্যায়ে তিনি নাগপুরের মাদরাসা ইসলামিয়া শামসুল উলুমে শিক্ষকতা করেন। তাঁর উদ্যোগে বহু সুন্নি ইসলামি সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয় — উল্লেখযোগ্য হলো:
- ওয়ার্ল্ড ইসলামিক মিশন (যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের সুন্নি সংগঠনগুলোর ছাতা-সংগঠন); এর প্রথম মহাসচিব নিযুক্ত হন তিনি, প্রধান কার্যালয় ব্র্যাডফোর্ড, ইংল্যান্ডে।
- জামিয়া হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (নয়া দিল্লি), জামিয়া আমজাদিয়া রিজভিয়া (ঘোসি), জামিয়া ফাইজুল উলুম (জামশেদপুর)।
- মাদিনাতুল ইসলাম (হেগ, নেদারল্যান্ডস), ইসলামিক মিশনারি কলেজ (ব্র্যাডফোর্ড, ব্রিটেন), দারুল উলুম আলেমিয়া (সুরিনাম)।
- ইদারাহ-ই-শরইয়াহ (পাটনা, বিহার), অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ কনফারেন্স (১৯৮৬; ওবায়দুল্লাহ আজমি মহাসচিব), অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্ট (রায়পুর)।
বিহার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিকল্পনা ও প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর ভূমিকা ছিল। উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা যায়, দাওয়াতে ইসলামি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানি সুন্নি আলেমদের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং ইলিয়াস কাদরীকে এর প্রধান নির্বাচন করা হয়।
সাহিত্যজীবন
তাঁর রচনা সরল ও সহজবোধ্য ভাষায় বিতর্কমূলক বিষয়ে বলিষ্ঠ যুক্তি উপস্থাপনের জন্য পরিচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ (সবই উর্দু ভাষায় রচিত):
- তাবলিগি জামাআত, জের ও জবর, লালা জার, জলজলা, দাওয়াতে ইনসাফ, জামাআত-ই-ইসলামি
- আনওয়ার-ই-আহমদি, দিল কি মুরাদ, জলওয়া-ই-হক, শরিয়াত, লিসানুল ফিরদাউস
- মিসবাহুল কুরআন (৩ খণ্ড), নকশ-ই-খাতম, তাফসির-ই-সুরাহ-ই-ফাতিহা
- ইজহার-ই-আকিদত (কাব্যসংকলন), আফকার ও খায়ালাত (প্রবন্ধ সংকলন), সাদা-ই-কলম (পত্রাবলি)
জিয়াউল মোস্তফা কাদরী তাঁর জীবনীগ্রন্থ হায়াতে ও খিদমাত রচনা করেছেন।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
২০০২ সালের ২৯ এপ্রিল জামশেদপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (বয়স ৭৭); জামশেদপুরের ফাইজুল উলুম মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ও সংগঠনগুলো আজও ভারত, ব্রিটেন ও ইউরোপে সুন্নি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে সক্রিয়।