আলী হাসান উসামা
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আলী হাসান উসামা (Ali Hasan Usama); মুফতী উসামা নামেও পরিচিত |
| জন্ম | ২২ আগস্ট ১৯৯৫ |
| জন্মস্থান | জৈন্তাপুর, সিলেট, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইসলামি পণ্ডিত, লেখক, অনুবাদক, গবেষক |
| শিক্ষা | জামিয়া দারুস সালাম, সিলেট (হিফজ; বেফাক কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম); জামেয়া আরাবিয়া বাইতুস সালাম, ঢাকা (দাওরায়ে হাদিস, ২০১৫); বেফাক — ফযিলত ১২তম, তাকমিল ফিল হাদিস ৬ষ্ঠ; ফতোয়া বিভাগ (২ বছর) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | আমাদের আকিদা; কুফর ও তাকফির; মিল্লাতে ইবরহিমের জাগরণ; আদ দীন আন নসিহাহ (অনুবাদ) |
পরিচিতি
আলী হাসান উসামা (জন্ম ১৯৯৫) একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, লেখক, অনুবাদক ও গবেষক। সিলেটের জৈন্তাপুরে জন্ম নেওয়া এই আলেম কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হিফজ, ফযিলত ও তাকমিল বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জন করে ছাত্রজীবনেই পরিচিতি পান। আকিদা, ফিতনা ও ইসলামি রাজনীতি নিয়ে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে জাতীয় সংসদ ভবনে হামলার ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়ে ২০২২ সালে মুক্তি পান তিনি; ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৯৫ সালের ২২ আগস্ট সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় তার জন্ম; পিতা খলিলুর রহমান। সিলেটের জামিয়া দারুস সালামে হিফজ সম্পন্ন করে তিনি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ঢাকার জামেয়া আরাবিয়া বাইতুস সালাম মাদরাসা থেকে ২০১৫ সালে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন (কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ); পরে বেফাকের ফযিলত বিভাগে ১২তম ও তাকমিল ফিল হাদিসে ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেন। এরপর দুই বছর ফতোয়া বিভাগে পড়াশোনা করেন। বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ারও শিক্ষার্থী ছিলেন।
কর্মজীবন
শিক্ষা শেষে ২০১৭ সাল নাগাদ তিনি শিক্ষকতায় প্রবেশ করেন। প্রকাশকের লেখক-পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি একটি মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস পদে এবং ফতোয়া বিভাগের সহযোগী মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন; পাশাপাশি লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, আলোচক ও খতিব হিসেবে কাজ করেন। (এই কর্ম-বিবরণ প্রকাশকের লেখক-পরিচিতি থেকে নেওয়া; স্বতন্ত্র সূত্রে যাচাই করা যায়নি।)
অভিযোগ ও গ্রেফতার
২০২১ সালে সংসদ ভবনের সামনে থেকে তলোয়ার ও কালো পতাকাসহ নিষিদ্ধ সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য সন্দেহে আবু সাকিব নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল, সাকিবসহ কয়েকজন আলী হাসান উসামাসহ কয়েকজন বক্তার উগ্রবাদী বক্তব্যসংবলিত ভিডিও দেখে প্রভাবিত হয়েছিলেন। এই মামলায় হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২১ সালের ৫ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ তাকে রাজবাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল তিনি মুক্তি পান।
রাজনৈতিক জীবন
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি খেলাফত মজলিসে যোগ দিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় উলামাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করলেও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কারণে অংশ নেননি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি খেলাফত মজলিস ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
লেখালেখি
আকিদা, ফিতনা ও ইসলামি রাজনীতি তার লেখার মূল বিষয়। বাংলা উইকিপিডিয়া ও বই-বিপণন সূত্রের তালিকা অনুযায়ী তার রচিত, অনূদিত ও সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য বই:
- জামায়াতে ইসলামীর আকিদা, আমাদের আকিদা, কুফর ও তাকফির
- মুক্ত প্রাণের হে সন্ধানী, ফিতনার বজ্রধ্বনি, নারী ফিতনা, দ্রোহের তপ্ত লাভা
- আজমতে সাহাবা, রক্তাক্ত লাল মসজিদ
- মিল্লাতে ইবরহিমের জাগরণ, ইসলামি আকিদা ও মানহাজ
- আদ দীন আন নসিহাহ (অনুবাদ), মাযহাব বিরোধিতার খণ্ডন (অনুবাদ)