মূল কন্টেন্টে যান

আমীরুল ইসলাম

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম আমীরুল ইসলাম
ডাকনাম টুলু
জন্ম ৭ এপ্রিল ১৯৬৪, লালবাগ, ঢাকা
মৃত্যু ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা (বয়স ৬২)
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা শিশুসাহিত্যিক; সাংবাদিক; চ্যানেল আইয়ের জেনারেল ম্যানেজার (অনুষ্ঠান)
শিক্ষা ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুল (ঢাকা); ঢাকা কলেজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — বাংলা বিভাগ
উল্লেখযোগ্য কর্ম খামখেয়ালি (১৯৮৪); অচিন জাদুকর; আমাদের গোয়েন্দাগিরি; একাত্তরের মিছিল; আমি সাতটা; রোবট রহস্য; যাচ্ছেতাই; রাজাকারের ছড়া — দুই শতাধিক শিশুতোষ গ্রন্থ
পুরস্কার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৬)সহ একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা

পরিচিতি

আমীরুল ইসলাম (৭ এপ্রিল ১৯৬৪ – ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিশুসাহিত্যিক। তাকে বলা হয় “আধুনিক বাংলা শিশুসাহিত্যের রূপকার”। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়া, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন; তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক — সবই শিশুসাহিত্য। শিশুসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে তার জন্ম। বাবা প্রয়াত সাংবাদিক সাইফুর রহমান, মা আনজিরা খাতুন। চাচা হাবীবুর রহমান ছিলেন খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক। ছেলেবেলায় পরিবারের সবাই তাকে “টুলু” নামে ডাকত; পরিবার ও বন্ধুমহলে তিনি এই নামেই পরিচিত ছিলেন। প্রাক-প্রাথমিক পাঠ তিনি বাবার কাছে বাড়িতেই সম্পন্ন করেন। ১৯৭২ সালে পুরান ঢাকার ওয়েস্ট এন্ড হাই স্কুলে ভর্তি হন; সেখান থেকে নিম্ন মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন।

কর্মজীবন

অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলার কিশোরদের পাতার বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে তিনি পাঁচ বছর কাজ করেন। এরপর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের মাসিক “আসন্না”-র সম্পাদক ছিলেন দশ বছর। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; মৃত্যুর সময় তিনি চ্যানেল আইয়ের জেনারেল ম্যানেজার (অনুষ্ঠান) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

রূপকথা ছিল তার প্রিয় বিষয়; পুরনো রূপকথা নতুন ঢঙে লেখার ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যে তার বিকল্প নেই বলেই মনে করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি তিনি পেয়েছেন ছড়া লিখে — বিষয়বৈচিত্র্য ও সংখ্যার বিচারে বাংলা ছড়াসাহিত্যে তার সমকক্ষ কেউ নেই। বিশ বছর বয়সে প্রকাশিত প্রথম বই “খামখেয়ালি” (১৯৮৪)-র জন্য তিনি অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমী শিশুসাহিত্য পুরস্কার পান — এত কম বয়সে এই পুরস্কার আর কেউ পাননি। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে “অচিন জাদুকর”, “আমাদের গোয়েন্দাগিরি”, “রুঝুমপুর”, “একাত্তরের মিছিল”; গল্পের মধ্যে “আমি সাতটা”, “ভূত এলো শহরে”, “রোবট রহস্য”, “শাদা ভূত কালো ভূত”; ছড়াগ্রন্থের মধ্যে “যাচ্ছেতাই”, “রাজাকারের ছড়া”, “আমার ছড়া”।

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিজীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন। কৌতুকপ্রিয়, আড্ডাবাজ ও ভোজনরসিক হিসেবে পরিচিত আমীরুল ইসলাম পৃথিবীর প্রায় বিখ্যাত সব শহর ঘুরেছিলেন। পুরনো বই ও চিত্রকলা সংগ্রহ, বইপড়া, দাবা খেলা ও রবীন্দ্রসংগীত শোনা ছিল তার প্রিয় শখ।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

দীর্ঘদিন তিনি কিডনি-জটিলতায় ভুগছিলেন; কিডনি ঠিকমতো কাজ না করায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হতো। ২০২৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৭ মিনিটে তিনি মারা যান; বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তার মৃত্যুতে সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী ও চ্যানেল আইয়ের সহকর্মীরা গভীর শোক জানান। শিশুদের কল্পনাজগৎ ও চারপাশের জীবনকে সহজ-প্রাণবন্ত ভাষায় তুলে ধরে তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন, দুই শতাধিক গ্রন্থের সেই ভান্ডারই তার স্থায়ী উত্তরাধিকার।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।