আবদুল মওদুদ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | আবদুল মওদুদ |
| জন্ম | ১৯০৮ |
| জন্মস্থান | ওয়ারী গ্রাম, খণ্ডঘোষ, বর্ধমান জেলা, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ২১ জুলাই ১৯৭০ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | বিচারপতি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক |
| শিক্ষা | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়: ইতিহাসে বি.এ. (অনার্স) ও এম.এ. (১৯৩১), এল.এল.বি. (১৯৩২) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস (অনুবাদ), ওহাবী আন্দোলন |
পরিচিতি
বিচারপতি আবদুল মওদুদ ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলের একজন বাঙালি আইনজ্ঞ, ইতিহাস-গবেষক, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। আইন পেশার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেও তিনি ইতিহাসচর্চা ও অনুবাদকর্মে গভীর মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টারের বিখ্যাত গ্রন্থ The Indian Musalmans-এর বাংলা অনুবাদ দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী কাজ।
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৯০৮ সালে বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার ওয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বি.এ. (অনার্স) সহ এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন। পরের বছর, ১৯৩২ সালে, তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি. ডিগ্রি লাভ করেন। ইতিহাসে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই পরবর্তীকালে তাঁর গবেষণামূলক রচনার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
কর্মজীবন
আইন পেশায় তিনি দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। ১৯৬১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নিযুক্ত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচারপতির পদে থাকা অবস্থায় ১৯৭০ সালের ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।
সাহিত্যজীবন
ব্যস্ত কর্মজীবনের মধ্যেও আবদুল মওদুদ লেখালেখি ও অনুবাদে নিয়মিত ছিলেন। বিচারকের চেয়ারে বসেও তিনি ইতিহাস-পাঠ ও গবেষণা থেকে দূরে সরেননি, বরং ঔপনিবেশিক বাংলার মুসলিম সমাজের অতীত বোঝার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- ওহাবী আন্দোলন — উপমহাদেশে ওয়াহাবি আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ
- দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস — ডব্লিউ. ডব্লিউ. হান্টারের The Indian Musalmans গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ
- পৃথিবী ও পাশ্চাত্যজগৎ
- মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ সংস্কৃতির রূপান্তর
- কামেল নবী
- ইসলাম ইউরোপকে যা শিখিয়েছে
- মুসলিম মনীষা
- শাহ আবদুল লতিফ ভেটাই
- হযরত ওমর
ইসলামি আন্দোলনের ইতিহাস পাঠকদের কাছে ওহাবী আন্দোলন আজও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স। তাঁর লেখায় ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম সমাজের ইতিহাস, ইসলামি চিন্তাধারা এবং মুসলিম মনীষীদের জীবনকথা প্রাধান্য পেয়েছে। হান্টারের গ্রন্থের অনুবাদে তিনি কেবল ভাষান্তরই করেননি, ঔপনিবেশিক যুগের মুসলিম-প্রশ্নকে বাঙালি পাঠকের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছিলেন। কোনো কোনো গ্রন্থতালিকায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রকাশিত বাংলা সহীহ মুসলিম-এর অনুবাদক হিসেবে তাঁর নাম পাওয়া যায়, তবে এই তথ্যটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৭০ সালের ২১ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। আইনজ্ঞ হিসেবে তিনি বিচারবিভাগে স্মরণীয়, আর লেখক ও অনুবাদক হিসেবে তাঁর কাজ বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার পাঠকদের কাছে এখনো পরিচিত। বিশেষ করে দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস ও ওহাবী আন্দোলন গ্রন্থ দুটি আজও ইতিহাস-অনুরাগীদের আগ্রহের বিষয়।