আকরাম ফারুক
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | হাফেজ মাওলানা আকরাম ফারুক |
| জন্ম | ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯ |
| জন্মস্থান | জানা যায়নি (স্থায়ী ঠিকানা: গাড়ফা, মোল্লাহাট, বাগেরহাট) |
| মৃত্যু | জানা যায়নি |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | লেখক, অনুবাদক |
| শিক্ষা | হাফেজ; আলিম; এমএ (আরবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | অনুবাদ: ফী যিলালিল কুরআন (২২ খণ্ড), আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, সীরাতে ইবনে হিশাম; মৌলিক গ্রন্থ: ইসলামে শক্তির উৎস, সীরাতে সরওয়ারে আলম, আল জিহাদ, শিক্ষাব্যবস্থা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ, উপমহাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন, ইসলাম প্রচারের হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতি, ইসলামী রাষ্ট্র, তাকদীরের হাকিকত, ইসলাম ও পাশ্চাত্য সমাজে নারী, ইসলামী সভ্যতার অবদান |
| পুরস্কার | জাতীয় সীরাত কমিটি পুরস্কার (২০০১) |
পরিচিতি
হাফেজ মাওলানা আকরাম ফারুক (জন্ম: ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি লেখক ও অনুবাদক। সাইয়েদ কুতুবের বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন-এর ২২ খণ্ডের বাংলা অনুবাদ তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কীর্তি — এই একক অনুবাদকর্মের মাধ্যমেই তিনি বাংলা ভাষায় কুরআনি সাহিত্যের ভাণ্ডারকে অসামান্যভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। মৌলিক গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি হাদিস ও সীরাতসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ আরবি গ্রন্থের বাংলা অনুবাদেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৪৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম। পিতা মাওলানা মোহাম্মদ নূহ মিয়া, মাতা সালেহা খাতুন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাটের গাড়ফা গ্রামে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে — কুরআন হিফজ ও আলিম পাসের পর তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। কুরআন হিফজ ও আরবি ভাষায় এই দ্বৈত দক্ষতাই পরবর্তীকালে তাঁকে আরবি থেকে বাংলায় নির্ভরযোগ্য অনুবাদের যোগ্য করে তোলে।
কর্মজীবন
পেশাগত জীবনে তিনি মরক্কো দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি ও অনুবাদে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি। তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় যশোর থেকে প্রকাশিত মাসিক মুকুল পত্রিকায়।
সাহিত্যজীবন
তাঁর মৌলিক গ্রন্থ দশটি: ইসলামে শক্তির উৎস (১৯৭৩), সীরাতে সরওয়ারে আলম (১৯৭৮), আল জিহাদ (১৯৮০), শিক্ষাব্যবস্থা: ইসলামী দৃষ্টিকোণ (১৯৮৪), উপমহাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন (১৯৮৮), ইসলাম প্রচারের হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতি (১৯৯২), ইসলামী রাষ্ট্র (১৯৯৫), তাকদীরের হাকিকত (১৯৯৬), ইসলাম ও পাশ্চাত্য সমাজে নারী (২০০০) ও ইসলামী সভ্যতার অবদান (২০০০)।
অনুবাদক হিসেবে তাঁর কীর্তি আরও ব্যাপক। শহীদ সাইয়েদ কুতুবের ২২ খণ্ডের তাফসীর ফী যিলালিল কুরআন-এর পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ, বিশ্ববিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব-এর তিন খণ্ডের বাংলা অনুবাদ এবং ইবনে হিশামের সীরাতে ইবনে হিশাম-এর বাংলা অনুবাদ (বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার থেকে প্রকাশিত) — এই তিনটি কাজই বাংলা ইসলামি সাহিত্যের মাইলফলক। এছাড়া মোগল সাম্রাজ্য পতনের ইতিহাস (আধুনিক প্রকাশনী, ১৯৯৭) গ্রন্থের অনুবাদকও তিনি। নিজের লেখা বইয়ের মধ্যে হাদীসের কিসসা ও ইমাম হুসাইনের শাহাদাত উল্লেখযোগ্য।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
ইসলামি সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০১ সালে তিনি জাতীয় সীরাত কমিটি পুরস্কার লাভ করেন।
বর্তমান অবস্থা
তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায়নি; রকমারির লেখক-পরিচিতিতে ঢাকার উত্তরায় তাঁর বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।