মূল কন্টেন্টে যান
আঁতোয়ান দ্য স্যান্তেক্সুপেরি

আঁতোয়ান দ্য স্যান্তেক্সুপেরি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম আঁতোয়ান মারি জাঁ-বাতিস্ত রজে দ্য স্যান্তেক্সুপেরি (Antoine Marie Jean-Baptiste Roger de Saint-Exupéry)
জন্ম ২৯ জুন ১৯০০
জন্মস্থান লিওঁ, ফ্রান্স
মৃত্যু ৩১ জুলাই ১৯৪৪ (প্রায়; রেকি মিশনে নিখোঁজ — ধারণা করা হয় সেদিনই বিমান বিধ্বস্তে মৃত্যু)
জাতীয়তা ফরাসি
পেশা ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক, বিমানচালক
শিক্ষা মারিয়ানিস্ট কলেজ ভিলা সাঁ-জঁ, ফ্রিবুর; একোল দে বো-জার, প্যারিস — স্থাপত্য (অডিটর, অসমাপ্ত)
উল্লেখযোগ্য কর্ম ভল দ্য নুই (১৯৩১), তের দে জম (১৯৩৯), পিলত দ্য গের (১৯৪২), ল্য প্যতি প্র্যাঁস (১৯৪৩)
পুরস্কার লেজিয়ঁ দনর (১৯৩০, ১৯৩৯), প্রি ফেমিনা, আকাদেমি ফ্রঁসেজের গ্রাঁ প্রি দ্যু রমাঁ (১৯৩৯), যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড (১৯৪০), ক্রোয়া দ্য গের (১৯৪০), পামসহ ক্রোয়া দ্য গের (১৯৪৪, মরণোত্তর)

পরিচিতি

আঁতোয়ান দ্য স্যান্তেক্সুপেরি (২৯ জুন ১৯০০ – ৩১ জুলাই ১৯৪৪) ফরাসি লেখক, কবি, সাংবাদিক ও অগ্রদূত বিমানচালক। বিমান-ডাক সেবার প্রথম দিককার দিনগুলোতে সাহারা, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিপজ্জনক আকাশপথে উড়ে বেড়ানো এই মানুষটির কলম থেকে বেরিয়েছে বিমান-সাহিত্যের কাব্যময় রচনা — এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় রূপকথা ল্য প্যতি প্র্যাঁস (দ্য লিটল প্রিন্স)।

জন্ম ও শৈশব

১৯০০ সালের ২৯ জুন ফ্রান্সের লিওঁ শহরে এক অভিজাত ক্যাথলিক পরিবারে তার জন্ম। বাবা ভিকন্ত জাঁ দ্য স্যান্তেক্সুপেরি ছিলেন বীমা দালালি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা; মা মারি বোয়ায়ে দ্য ফঁস্কলঁব। তিন বোন ও এক ছোট ভাইসহ পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ১৯০৪ সালে বাবা স্ট্রোকে মারা যান — তখন আঁতোয়ানের বয়স চারও হয়নি; এরপর পরিবার কার্যত “দরিদ্র অভিজাত”-এ পরিণত হয়। ছোট ভাই ফ্রঁসোয়া মাত্র ১৫ বছর বয়সে রিউম্যাটিক জ্বরে মারা যান, সুইজারল্যান্ডের ফ্রিবুরে মারিয়ানিস্ট কলেজ ভিলা সাঁ-জঁ-এ পড়ার সময়।

শিক্ষাজীবন

ভিলা সাঁ-জঁ-এ পড়াশোনার পর নৌবাহিনী একাডেমির প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় তিনি দুবার অকৃতকার্য হন। এরপর প্যারিসের একোল দে বো-জার-এ অডিটর হিসেবে ১৫ মাস স্থাপত্য পড়েন, কিন্তু ডিগ্রি নেননি। ১৯২১ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন; স্ট্রাসবুরের কাছে ব্যক্তিগত ফ্লাইং পাঠ নিয়ে ১৯২২ সালে বিমানবাহিনীতে বদলি হন এবং মরক্কোর কাসাব্লাংকায় পাইলটের উইংস অর্জন করেন।

কর্মজীবন (বিমানচালক)

১৯২৬ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ডাক-উড়ানের অগ্রদূতদের একজন — এরোপোস্তালের তুলুজ–ডাকার রুটে ওড়েন; দক্ষিণ মরক্কোর কেপ জুবি বিমানঘাঁটির স্টপওভার ম্যানেজার হিসেবে সাহারান গোত্রের হাতে জিম্মি পাইলটদের মুক্তির দরদামে ভূমিকা রাখেন, যার জন্য ১৯৩০ সালে প্রথম লেজিয়ঁ দনর পান। ১৯২৯ সালে আর্জেন্টিনায় এরোপোস্তা আর্জেন্টিনা এয়ারলাইনের পরিচালক নিযুক্ত হন (বুয়েনস আয়ার্স)। পরে এয়ার ফ্রান্সের টেস্ট পাইলট হন এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধে ফরাসি সংবাদপত্রের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৩৫ সালে লিবিয়ার মরুভূমিতে তার বিমান বিধ্বস্ত হয় — চার দিন প্রায় খাদ্য-পানীয় ছাড়া টিকে থেকে তিনি উদ্ধার পান; এই অভিজ্ঞতা তার পরবর্তী লেখায় গভীর ছাপ ফেলে।

সাহিত্যজীবন

১৯২৬ সালে ল্য নাভির দার্জঁ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম নভেলা লাভিয়াতর। প্রথম বই কুরিয়ে স্যুদ (১৯২৯) — কাসাব্লাংকা–ডাকার ডাক-রুটের অভিজ্ঞতার বর্ণনা। ভল দ্য নুই (১৯৩১) প্রি ফেমিনা জিতে তাকে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা দেয়। তের দে জম (১৯৩৯) আকাদেমি ফ্রঁসেজের গ্রাঁ প্রি দ্যু রমাঁ ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড — দুটোই জেতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্সের পতনের পর ১৯৪১–৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে থাকাকালে তিনি রচনা করেন পিলত দ্য গের (১৯৪২) ও লেত্র আ অঁতাজ (১৯৪৩)। ১৯৪২ সালে নিউইয়র্কে লেখা ও নিজে চিত্রিত ল্য প্যতি প্র্যাঁস ১৯৪৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজি ও ফরাসি — দুই ভাষাতেই প্রকাশিত হয়; ফ্রান্সে এটি প্রকাশিত হয় দেশের মুক্তির পর, মরণোত্তর। বইটি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লেওঁ ভের্তকে উৎসর্গিত এবং দুই শতাধিক ভাষা ও উপভাষায় অনূদিত হয়েছে। মরণোত্তর প্রকাশিত হয় সিতাদেল (১৯৪৮)।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৩১ সালে গ্রাসে তিনি সালভাদোরীয় লেখক ও শিল্পী কনসুয়েলো সুনসিনকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল ঝঞ্ঝাটপূর্ণ — স্যান্তেক্সুপেরি ঘনঘন ভ্রমণ করতেন এবং দীর্ঘ সময় স্ত্রীর থেকে দূরে থাকতেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

বিমানচালনা ও সাহিত্য — দুই অঙ্গনেই তিনি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পান: লেজিয়ঁ দনর (১৯৩০, ১৯৩৯); প্রি ফেমিনা (ভল দ্য নুই-এর জন্য); আকাদেমি ফ্রঁসেজের গ্রাঁ প্রি দ্যু রমাঁ (১৯৩৯, তের দে জম-এর জন্য); যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড (১৯৪০); ক্রোয়া দ্য গের (১৯৪০) এবং পামসহ ক্রোয়া দ্য গের (১৯৪৪, মরণোত্তর)।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৪৩ সালে পাইলটদের বয়সসীমার আট বছর বেশি হওয়া সত্ত্বেও জেনারেল আইজেনহাওয়ারের বিশেষ অনুমতিতে তিনি ফ্রি ফরাসি বিমানবাহিনীতে ফিরে রেকি স্কোয়াড্রনে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালের ৩১ জুলাই কর্সিকার ওপর দিয়ে এক রেকি মিশনে উড্ডয়নের পর তিনি আর ফেরেননি; ধারণা করা হয় বিমান বিধ্বস্তে সেদিনই তার মৃত্যু হয়। ১৯৯৮ সালে এক জেলে মার্সেইয়ের কাছে তার নামখোদাই করা ব্রেসলেট খুঁজে পান; ২০০০ সালে বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত হয়, তবে দুর্ঘটনার কারণ আজও অজানা। দ্য লিটল প্রিন্স আজ বিশ্বের সর্বাধিক অনূদিত অ-ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর একটি; ফ্রান্সে স্যান্তেক্সুপেরি জাতীয় বীরের মর্যাদা পান।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।