অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম |
| জন্ম | ২৯ অক্টোবর ১৯৩৯ |
| জন্মস্থান | থানাকান্দি, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইতিহাসবিদ, গবেষক, অধ্যাপক, জ্ঞানকোষ-সম্পাদক |
| শিক্ষা | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইতিহাসে বিএ, এমএ); লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় (পিএইচডি, ১৯৭২) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | বাংলাপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক; বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭০৪–১৯৭১); বাংলার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯০–১৮১৯); ঢাকার ৪০০ বছর |
| সম্মাননা | স্যার যদুনাথ সরকার স্বর্ণপদক; সিনিয়র ফুলব্রাইট স্কলারশিপ (হার্ভার্ড) |
পরিচিতি
অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (জন্ম ২৯ অক্টোবর ১৯৩৯) বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, গবেষক ও জ্ঞানকোষ-সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার প্রধান সম্পাদক — এই গ্রন্থের উদ্ভাবক ও বাস্তবায়ক হিসেবে বাংলাপিডিয়া ও সিরাজুল ইসলাম প্রায় সমার্থকের পর্যায়ে উপনীত হয়েছেন। ঔপনিবেশিক যুগের বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস, বিশেষত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও ভূমিব্যবস্থা নিয়ে তার মৌলিক গবেষণা তাকে বাংলাদেশে আধুনিক ইতিহাস-গবেষণার পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। বইইনফোর সংগ্রহে থাকা বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭০৪–১৯৭১) গ্রন্থের সম্পাদক হিসেবেও তিনি পরিচিত — এই লেখক-পরিচিতি সেই গ্রন্থের লেখক-পরিচয়ের ভিত্তিতে রচিত।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৩৯ সালের ২৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার থানাকান্দি গ্রামে তার জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যয়ন করে তিনি ১৯৬১ সালে বিএ (অনার্স) ও ১৯৬২ সালে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। উচ্চতর গবেষণার জন্য ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে যান এবং ১৯৭২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে তার চাকরিজীবন শুরু হয়। সেখানে দীর্ঘ ৩৪ বছর অধ্যাপনা করার পর ২০০০ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন এবং সার্বক্ষণিক গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি দুই দফায় — ১৯৯৪–৯৫ ও ২০০৮–১১ মেয়াদে — বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রচনাবলি ও সম্পাদনা
বাংলার ভূমিব্যবস্থা ও ঔপনিবেশিক অর্থনীতি নিয়ে তার মৌলিক গবেষণাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাংলার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯০–১৮১৯), বাংলার ভূমিস্বত্ব: মধ্যবর্তী শ্রেণীর উদ্ভব, বাংলাদেশের নদী অববাহিকার গ্রামগুলো, বাংলাদেশের গ্রামীণ ইতিহাস, ভূমি ব্যবস্থা ও সামাজিক সমস্যা, ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো এবং ভূমি ও ভূমি সংস্কার। ব্রিটিশ আমলে প্রকাশিত সরকারি গেজেটগুলোর ওপর গবেষণা করে তিনি ১২ খণ্ডে গেজেট প্রকাশ করেছেন।
সম্পাদক হিসেবে তার অবদান আরও ব্যাপক: বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় ১০ খণ্ডের বাংলাপিডিয়া (সঙ্গে ডিভিডি ও অনলাইন সংস্করণ), ফ্লোরা ফনা অব বাংলাদেশ, কালচারাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, ছোটদের বাংলাপিডিয়া, ঢাকার ৪০০ বছর এবং এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত তিন খণ্ডের বাংলাদেশের ইতিহাস (১৭০৪–১৯৭১)।
পুরস্কার ও সম্মাননা
ইতিহাসশাস্ত্রে মৌলিক গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভারতের স্যার যদুনাথ সরকার স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। সিনিয়র ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তার সম্মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ‘সিরাজুল ইসলাম লেকচার হল’ স্থাপন করা হয়েছে এবং তার নামে ‘ড. সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
২০০০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরের পর থেকে তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিকে গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়ে সার্বক্ষণিক গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। দশ খণ্ডের বাংলাপিডিয়া আজ দেশের কোটি মানুষের আস্থার জ্ঞানভান্ডার — এই জাতীয় জ্ঞানকোষের স্রষ্টা হিসেবেই তিনি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।