অধ্যাপক খুরশীদ আহমদ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | অধ্যাপক খুরশীদ আহমদ |
| জন্ম | ২৩ মার্চ ১৯৩২ |
| জন্মস্থান | দিল্লি, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ১৩ এপ্রিল ২০২৫, লেস্টার, ইংল্যান্ড |
| জাতীয়তা | পাকিস্তানি |
| পেশা | অর্থনীতিবিদ, ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ |
| শিক্ষা | লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়; করাচি বিশ্ববিদ্যালয়; লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | ইসলামি অর্থনীতির শাস্ত্রীয় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা; ইংরেজি ও উর্দুতে প্রায় ৭০টি গ্রন্থ |
| পুরস্কার | কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার (১৯৯০), নিশান-ই-ইমতিয়াজ (২০১১) |
পরিচিতি
অধ্যাপক খুরশীদ আহমদ ছিলেন একজন পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও ইসলামি কর্মী, যিনি ইসলামি অর্থনীতিকে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্রীয় শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আধুনিক ইসলামি অর্থনীতির জনক হিসেবে তিনি বহুল পরিচিত। তিনি ব্রিটেনের লেস্টারে দ্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন তিনি জামায়াতে ইসলামীর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও কর্মী ছিলেন।
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৯৩২ সালের ২৩ মার্চ দিল্লিতে একটি উর্দুভাষী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পরিবার পাকিস্তানে চলে আসে এবং লাহোরে স্থায়ী হয়। তিনি লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও ব্যবসায় নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯৫২ সালে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম.এসসি. (১৯৫৫), এল.এল.বি. (১৯৫৮) এবং ইসলামি অধ্যয়নে এম.এ. (১৯৬২) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে বৃত্তি নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭-৬৮ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন; তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ইসলামি অর্থনীতি। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭০ সালে লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে শিক্ষায় সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে।
কর্মজীবন
১৯৪৯ সালে তিনি ইসলামি জমিয়তে তালাবায় যোগ দেন এবং ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সংগঠনটির প্রধান প্রশাসক ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হন এবং পরবর্তীতে দলটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি পাকিস্তানের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং পরিকল্পনা কমিশনের উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫, ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে তিনি পাকিস্তানের সিনেটে নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত সিনেটর ছিলেন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য এবং ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক ইকোনমিকসের চেয়ারম্যান ছিলেন।
সাহিত্যজীবন
খুরশীদ আহমদ ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় প্রায় ৭০টি গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- Family Life in Islam (১৯৭৪)
- Mawlana Mawdudi: An Introduction to His Life and Thought (১৯৭৯)
- Elimination of Riba from the Economy (১৯৯৪)
- তাহরিকে ইসলামি (১৯৬৩)
- সোশ্যালিজম ইয়া ইসলাম (১৯৬৯)
- Essays on Pakistan Economy (১৯৫৮)
অনুবাদক হিসেবে তিনি সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর Toward Understanding Islam ও First Principles of the Islamic State গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ করেন। এছাড়া Islam: Its Meaning and Message ও Islamic Perspectives গ্রন্থের সম্পাদক ছিলেন তিনি। তাঁর লেখায় ইসলামি অর্থনীতি, রিবা-মুক্ত অর্থব্যবস্থা, ইসলামি শিক্ষা ও সমাজদর্শনের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
পুরস্কার
ইসলামে সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯০ সালে তিনি কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ সালের ২৩ মার্চ তাঁকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা নিশান-ই-ইমতিয়াজ প্রদান করা হয়।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল ইংল্যান্ডের লেস্টারে ৯৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ইসলামি অর্থনীতিকে আধুনিক শাস্ত্রীয় শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, ইসলামাবাদ ও লেস্টারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং প্রায় ৭০টি গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘস্থায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।