মূল কন্টেন্টে যান
জীবনানন্দ দাশ

জীবনানন্দ দাশ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম জীবনানন্দ দাশ
উপাধি রূপসী বাংলার কবি
জন্ম ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯
জন্মস্থান বরিশাল শহর
মৃত্যু ২২ অক্টোবর ১৯৫৪, কলকাতা (ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে)
জাতীয়তা ভারতীয়
পেশা কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, অধ্যাপক
শিক্ষা ব্রজমোহন স্কুল (ম্যাট্রিক, ১৯১৫); ব্রজমোহন কলেজ (আই.এ., ১৯১৭); প্রেসিডেন্সি কলেজ — ইংরেজিতে বি.এ. (সম্মান, ১৯১৯); কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় — ইংরেজিতে এম.এ. (১৯২১)
উল্লেখযোগ্য কর্ম ঝরা পালক (১৯২৭), ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৪২), মহাপৃথিবী (১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৫৪), রূপসী বাংলা (১৯৫৭, মরণোত্তর)
পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৫, মরণোত্তর)

পরিচিতি

জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯ – ২২ অক্টোবর ১৯৫৪) বাংলা আধুনিক কবিতার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও রহস্যময় কবি। রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী যুগে বাংলা কবিতা যার হাতে নতুন ভাষা ও চিত্রকল্প পেয়েছে, তিনি জীবনানন্দ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা আধুনিকতাবাদী কবিতার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত এই কবি প্রকৃতি, ইতিহাস, নৈঃসঙ্গ্য ও মৃত্যুচেতনাকে একসূত্রে গেঁথেছেন। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন প্রায় অনালোচিত, আর্থিক কষ্টে জর্জরিত এক কলেজশিক্ষক; মৃত্যুর পর, বিশেষ করে ‘বনলতা সেন’ ও ‘রূপসী বাংলা’-র মাধ্যমে, তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার সবচেয়ে পঠিত আধুনিক কবি।

জীবদ্দশায় তার মাত্র সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল; মৃত্যুর পর দেখা গেল, তিনি গোপনে লিখে গেছেন আরও বিপুল সম্ভার — যা তাকে রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী যুগের সবচেয়ে আলোচিত কবিতে পরিণত করে।

কেউ কেউ তাকে অভিহিত করেছেন ‘রবীন্দ্রনাথের পর বাংলার সবচেয়ে প্রিয় কবি’ হিসেবে। শব্দচিত্র নির্মাণে তিনি ছিলেন অতুলনীয় — ঐতিহ্য থেকে উপাদান নিলেও তার কাব্যভাষা ছিল চমকপ্রদভাবে নতুন। তার কবিতায় গ্রামবাংলার পাশাপাশি নগরজীবন, ইতিহাস ও পুরাণের প্রসঙ্গও ঘুরেফিরে এসেছে।

জন্ম ও শৈশব

১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে এক বৈদ্য পরিবারে জীবনানন্দের জন্ম — তখন বরিশাল ছিল ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অংশ। বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও ব্রাহ্ম সমাজের সক্রিয় সদস্য — পেশার প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা এবং নৈতিক-ধর্মীয় আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য তিনি আদর্শবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন; মা কুসুমকুমারী দেবী ছিলেন সে যুগের পরিচিত কবি। সাহিত্য ও নৈতিকতার এই পারিবারিক আবহে বড় হন জীবনানন্দ; মায়ের কবিত্বের উত্তরাধিকার তার ভেতরেও সঞ্চারিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের জ্যেষ্ঠ সন্তান।

শিক্ষাজীবন

বরিশালের ব্রজমোহন স্কুল থেকে ১৯১৫ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন; ১৯১৭ সালে ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ. পাস করে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯১৯ সালে ইংরেজি সাহিত্যে বি.এ. (সম্মান) এবং ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ. (দ্বিতীয় শ্রেণী) ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর আইন পড়া শুরু করলেও তা অসমাপ্ত রেখে শিক্ষকতার পথ বেছে নেন।

কর্মজীবন (অধ্যাপনা)

১৯২২ সালে কলকাতার সিটি কলেজে ইংরেজির টিউটর হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়; ১৯২৮ সালে ছাত্রসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে এই চাকরি হারান। এরপর বাগেরহাটের পি.সি. কলেজ (১৯২৯) ও দিল্লির রামজস কলেজে (১৯২৯-৩০) স্বল্পকালীন শিক্ষকতা করেন — কোথাও স্থায়ী হতে পারেননি। একের পর এক কলেজে পড়ালেও কোনোটিতেই তিনি স্থায়ী (টেনিউরড) পদ পাননি; সারাজীবন আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই কেটেছে তার। সারাজীবন তিনি স্থায়ী চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছেন; বেকার সময়ে বীমা কোম্পানিতে চাকরির চেষ্টা করেছেন, ছোটখাটো ব্যবসাও করেছেন। দীর্ঘ বেকারত্ব, ঋণ ও হতাশার পর ১৯৩৫ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে যোগ দেন; ১৯৪৭ পর্যন্ত এটিই ছিল তার দীর্ঘতম কর্মস্থল। দেশভাগের পর বরিশাল পাকিস্তানে পড়ায় তিনি স্থায়ীভাবে কলকাতায় চলে আসেন। এরপর খড়গপুর কলেজ (১৯৫০-৫১), বরিশা কলেজ (১৯৫২-৫৩) এবং সবশেষে হাওড়া গার্লস কলেজে (১৯৫৩-৫৪) ইংরেজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে ‘স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক এবং কলকাতার সমকালীন সাহিত্য কেন্দ্রের মুখপত্র ‘দ্বন্দ্ব’-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও কাজ করেন। সারাজীবন স্থায়ী চাকরির নিরাপত্তা তার ভাগ্যে জোটেনি — এই অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তা তার কবিতার নৈঃসঙ্গ্যবোধকে আরও গভীর করেছে বলে জীবনীকাররা মনে করেন।

সাহিত্যজীবন

১৯১৯ সালে বরিশালের একটি পত্রিকায় তার প্রথম কবিতা ছাপা হয়; প্রথম বই ‘ঝরা পালক’ (১৯২৭)-এর পর দীর্ঘ নয় বছর কোনো গ্রন্থ বেরোয়নি; জীবদ্দশায় প্রকাশিত মোট সাতটি কাব্যগ্রন্থের পাশাপাশি মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ‘রূপসী বাংলা’ (১৯৫৭), ‘বেলা অবেলা কালবেলা’সহ আরও বহু সংকলন। বুদ্ধদেব বসু ‘প্রগতি’ পত্রিকায় প্রথম তার কবিতার আলোচনা করেন; পরে বুদ্ধদেবের ‘কবিতা’ পত্রিকা জীবনানন্দকে প্রতিষ্ঠায় নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে — জীবদ্দশায় প্রকাশিত তার ১৬৭টি কবিতার মধ্যে ১১১টিই ছাপা হয়েছিল বুদ্ধদেবের উদ্যোগে।

তার কবিতার ইংরেজি অনুবাদ করেছেন চিদানন্দ দাশগুপ্তসহ অনেকে; অনুবাদকের ভাষায়, তার প্রথম দিকের কবিতা বাংলার সৌন্দর্যের উজ্জ্বল উদ্‌যাপন, আর চল্লিশ-পঞ্চাশের দশকের পরিণত রচনা যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও দাঙ্গার অন্ধকারময় ভাষ্য। প্রকৃতির কবি হিসেবে খ্যাত হলেও তিনি ছিলেন একই সঙ্গে নাগরিক, অন্তর্মুখী ও আধুনিক — নৈঃসঙ্গ্য, বিষণ্ণতা ও মৃত্যুচেতনা তার কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয়।

‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪) গ্রন্থে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পৃথিবীর পটভূমিতে তিনি এঁকেছেন মানবসভ্যতার সংকটের ছবি; এই গ্রন্থেরই পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে, তার মৃত্যুর বছরে। ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে দেশভাগ-পরবর্তী অন্ধকার সময়ের কবিতা — যেখানে ইতিহাস ও বর্তমানের সংঘাত তার কবিতাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

১৯৩৪-৩৫ সালে ‘কবিতা’ পত্রিকায় (পৌষ ১৩৪২ সংখ্যায়) ‘বনলতা সেন’ প্রকাশিত হলে তা তার সাহিত্যজীবনের মাইলফলক হয় — আঠারো লাইনের এই কবিতা আজ বাংলা ভাষার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতাগুলোর একটি। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬), ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২), ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪), ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮) ও ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ (১৯৫৪)। ১৯৪২ সালে গ্রন্থাকারে ‘বনলতা সেন’ বেরোলে বিক্রি হয় মাত্র ৪৬ কপি — অথচ আজ তা বাংলা ভাষার সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা। ১৯৩৪ সালে লেখা ‘রূপসী বাংলা’ প্রকাশিত হয় মৃত্যুর পর, ১৯৫৭ সালে; নদী-পাখি-ধানক্ষেতের এই সনেটগুচ্ছ ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি পরিচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়। তার কবিতার কেন্দ্রে বাংলার প্রকৃতি — ধানক্ষেত, নদী, পাখি, হেমন্তের সন্ধ্যা — কিন্তু তার দৃষ্টি শুধু গ্রামীণ সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ ও দেশভাগের দাঙ্গা তার পরিণত কবিতাকে করেছে অন্ধকার ও রাজনৈতিক। ‘বনলতা সেন’-এর সেই অবিস্মরণীয় পঙ্‌ক্তি — ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ — আজও পাঠকের মুখে মুখে। কবিতার পাশাপাশি তিনি গোপনে লিখে গেছেন গদ্যও — মৃত্যুর পর তার সিন্দুক থেকে বেরিয়ে আসে ১৪টি উপন্যাস ও শতাধিক ছোটগল্পের পাণ্ডুলিপি, যার কোনোটিই জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়নি। এর মধ্যে ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩) ও ‘সুতীর্থ’ (১৯৭৭) মরণোত্তর প্রকাশিত হয়ে তাকে গদ্যশিল্পী হিসেবেও পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করে। প্রবন্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কবিতার কথা’ এবং ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত আত্মজৈবনিক রচনা ‘কেন লিখি’।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৩০ সালের মে মাসে লাবণ্যপ্রভা দাশের (বিবাহপূর্ব গুপ্ত) সঙ্গে তার বিয়ে হয় — লাবণ্যপ্রভা এসেছিলেন এক ধনী জমিদার পরিবার থেকে। পরের বছর জন্ম নেয় কন্যা মঞ্জুশ্রী (১৯৩১), ১৯৩৬ সালে পুত্র সমরানন্দ। জীবনীকারদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিয়ের অল্প পরেই ব্যক্তিত্বের অমিল দেখা দেয় এবং দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি — এই দূরত্ব আর কখনো ঘোচেনি। দেশভাগের পর লাবণ্যপ্রভা সন্তানদের নিয়ে বরিশালেই থেকে যান, আর জীবনানন্দ একা চলে আসেন কলকাতায়।

পুরস্কার ও সম্মাননা

জীবদ্দশায় বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি তিনি। মৃত্যুর পর ১৯৫৫ সালে ‘জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র জন্য তিনি মরণোত্তর সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিকেলে নিয়মিত সান্ধ্যভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের কাছে রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ট্রাম তাকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রাম হুইসেল বাজিয়েছিল, কিন্তু তিনি থামেননি। স্থানীয় চা-দোকানি ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে নিয়ে যান; ডান পা সম্পূর্ণ থেঁতলে গিয়েছিল, পাঁজরের হাড় ভেঙেছিল। অস্ত্রোপচারের পর সেপটিসেমিয়া দেখা দেয়। আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২২ অক্টোবর গভীর রাতে, ৫৫ বছর ৮ মাস বয়সে তার মৃত্যু হয়। রেখে যান স্ত্রী লাবণ্যপ্রভা, পুত্র সমরানন্দ, কন্যা মঞ্জুশ্রী এবং দিন দিন বাড়তে থাকা পাঠকগোষ্ঠী। মৃত্যুর পর দশকের পর দশক ধরে তার খ্যাতি বেড়েই চলেছে — আজ তিনি রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা কবিতার সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি হিসেবে স্বীকৃত। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বরিশালের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নামকরণ করে ‘কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম’।

তার কবিতা ইংরেজিসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। কলকাতা পোয়েট্রি কনফ্লুয়েন্স ও ভাষা সংসদ কবিতা অনুবাদের জন্য ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছে, যা দশটি ভাষায় প্রদান করা হয়। রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা কবিতার পূর্ণতা যার হাতে, সেই নিভৃতচারী কবি আজ বাংলার ঘরে ঘরে পঠিত — এটাই তার প্রকৃত উত্তরাধিকার।

তার মৃত্যুর পর ভাই অশোকানন্দ দাশ, বোন সুচরিতা দাশ, ভাইপো অমিতানন্দ দাশ এবং ড. ভূমেন্দ্র গুহর উদ্যোগে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাণ্ডুলিপি থেকে কপি করে প্রকাশিত হতে থাকে তার অপ্রকাশিত কবিতা — এই প্রকাশনা-যজ্ঞ আজও চলমান।

জনপ্রিয় কবিতা

সব কবিতা দেখুন →

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।