মুফতি মুহাম্মাদ শফি রহ.
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | মুফতি মুহাম্মাদ শফি (Muhammad Shafi Deobandi) |
| জন্ম | ২৪ জানুয়ারি ১৮৯৭, দেওবন্দ, ব্রিটিশ ভারত |
| মৃত্যু | ৬ অক্টোবর ১৯৭৬, করাচি, পাকিস্তান |
| জাতীয়তা | পাকিস্তানি (পূর্বে ব্রিটিশ ভারতীয়) |
| পেশা | ইসলামী আলেম, মুফতি, লেখক, শিক্ষাবিদ |
| শিক্ষা | দারুল উলূম দেওবন্দ |
| উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ | মা’আরিফুল কুরআন (৮ খণ্ড উর্দূ তাফসীর); সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া; ইমদাদুল মুফতিন |
| সন্তান | মুহাম্মদ রফী উসমানী, মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানী |
পরিচিতি
মুফতি মুহাম্মাদ শফি (১৮৯৭–১৯৭৬) ছিলেন উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী আলেম, হানাফি ফকীহ ও মুফতি। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৫১ সালে করাচিতে দারুল উলূম করাচি প্রতিষ্ঠা করেন, যার প্রথম প্রধান হিসেবে মৃত্যু পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। উর্দূ তাফসীরগ্রন্থ মা’আরিফুল কুরআন তার সর্বাধিক পরিচিত রচনা।
জন্ম ও শিক্ষা
১৮৯৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের দেওবন্দে তার জন্ম (একটি জীবনী-সংকলনে জন্মতারিখ ২৫ জানুয়ারিও উল্লেখ আছে — দেখুন তথ্য-সীমাবদ্ধতা)। রশিদ আহমদ গঙ্গোহী তার নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ১৯০৭/০৮ সালে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন এবং ১৯১৮ সালে (১৩৩৬ হিজরি) ২১ বছর বয়সে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আনোয়ার শাহ কাশ্মিরি, আশরাফ আলী থানভী ও মাহমুদ হাসান দেওবন্দীসহ প্রখ্যাত আলেমদের কাছে তিনি শিক্ষা লাভ করেন।
কর্মজীবন
স্নাতকের পর ১৯১৮/১৯ সালে তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং দ্রুত উচ্চ শ্রেণীতে উন্নীত হন। ১৯৩২ সালে তিনি দারুল উলূমের গ্র্যান্ড মুফতি (দারুল ইফতার প্রধান) নিযুক্ত হন — প্রথম দফায় প্রায় ১৯৩৫/৩৬ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ১৯৪০/৪১ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। এই সময়ে তিনি ২৬ হাজার থেকে ৪০ হাজারের মতো ফতোয়া প্রদান করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়; এর একটি অংশ আট খণ্ডে ইমদাদুল মুফতিন নামে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৪৪ সালে তিনি পাকিস্তান আন্দোলনে পূর্ণ সময় দেওয়ার জন্য দারুল উলূম থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন এবং ১৯৫১ সালে করাচিতে দারুল উলূম করাচি প্রতিষ্ঠা করেন, যার প্রথম প্রধান হিসেবে মৃত্যু পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তানে তিনি “মুফতি-ই-আ’যম” (প্রধান মুফতি) উপাধিতে পরিচিত ছিলেন।
রচনা
তিনি এক শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা। তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, আকাঈদ, সীরাত, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ে তার বই রয়েছে। তার সর্বাধিক পরিচিত রচনা উর্দূ ভাষায় কুরআনের তাফসীর মা’আরিফুল কুরআন (৮ খণ্ড), যা তিনি মৃত্যুর চার বছর আগে সম্পন্ন করেন; এর ইংরেজি অনুবাদ তার পুত্র মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানীর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া। হাদীসের সনদ-শৃঙ্খল তিনি সংকলন করেন আল-ইজদিয়াদুস-সানী নামে সংক্ষিপ্ত আরবি গ্রন্থে।
ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকার
তার দুই পুত্র — মুহাম্মদ রফী উসমানী ও মুফতি মুহাম্মাদ তাকী উসমানী — দুজনেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী আলেম ও ফকীহ। তিনি আশরাফ আলী থানভীর শিষ্য ও খলিফা ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৭৬ সালের অক্টোবর মাসে (১১ শাওয়াল ১৩৯৬ হিজরি) করাচিতে তার ইন্তেকাল হয়। দারুল উলূম করাচি আজ পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তার প্রতিষ্ঠিত উত্তরাধিকার বহন করে।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা
জন্মতারিখ নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে একদিনের পার্থক্য আছে (২৪ বনাম ২৫ জানুয়ারি ১৮৯৭); এখানে উইকিপিডিয়ার ২৪ জানুয়ারি তারিখটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রদত্ত ফতোয়ার সংখ্যা (২৬,০০০–৪০,০০০+) ও মোট রচনার সংখ্যা (প্রায় ১০০–১৫০) নিয়েও সূত্রভেদে পার্থক্য আছে, তাই সংখ্যাগুলো পরিসর হিসেবে দেওয়া হয়েছে।