কেন পড়বেন? শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই : মাহমুদ বিন নূর বই

শয়তা‌নের বিরু‌দ্ধে লড়াই
লেখক : মাহমুদ বিন নূর
প্রকাশনী : রাইয়ান প্রকাশন
বিষয় : আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
পৃষ্ঠা : 144, কভার : পেপার ব্যাক, সংস্করণ : 1st Published, 2022
ভাষা : বাংলা
রিভিউ ও ফটোগ্রাফিঃ তানহা তনু


আল্লাহ স্বয়ং ঘোষণা করেছেন শয়তান হচ্ছে আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। জীবনের পদে পদে আমরা টের পাই শয়তান আমাদেরকে আল্লাহর থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য কত কূটকৌশল করে। চব্বিশ ঘন্টা শয়তান আমাদের পেছনে লেগে থাকে। সারাক্ষণ প্ররোচনা দিতে থাকে পাপ কাজের জন্য। নেক কাজ থেকে দূরে রাখার জন্য কত ষড়যন্ত্রই না সে করে! অনেক সময় আমরা বুঝতেও পারি না শয়তানের ফাঁদে পা ফেলে কত ক্ষতি করছি নিজেদের। শয়তান সম্পর্কে, শয়তানের আসল উদ্দেশ্য ও তার কাজের ধরণ সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান না থাকার দরুণ আমরা সহজেই তার ফাঁদে পড়ে যাই, পাপে জড়িয়ে পড়ি।

শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে তার সম্পর্কে জানতে হবে, তার উদ্দেশ্য,প্ররোচনা, কাজের কৌশল সবকিছু জানতে হবে। এ সবকিছুর সুবিন্যস্ত একটি রূপ লেখক মাহমুদ বিন নূরের লেখা “শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই” বইটি।

শয়তানের আকার-আকৃতি, উদ্দেশ্য,মুমিনের নিকট তার আগমন, সব ধরণের চক্রান্ত-প্ররোচনা,শয়তানের ফাঁদে পড়ে নিজের অজান্তেই ইমান হারিয়ে ফেলা,স্মার্টফোন, গান,নারী,হতাশা ইত্যাদিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে শয়তানের আমাদেরকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেওয়া থেকে শুরু করে শয়তানের সব চক্রান্ত নষ্ট করে দেওয়ার কৌশল, শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার ট্রিকস ইত্যাদির সমন্বয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে “শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই” বইটি।

শয়তান কীভাবে আমাদের নিকট আগমন করে, কোন সময় বেশি ওয়াসওয়াসা দেয়, কীভাবে একজন মুমিন ব্যক্তিকে নিজের ফাঁদে ফেলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে, ইমানদারের পরিচ্ছন্ন হৃদয়কে কোন কৌশলে নোংরার ভাগাড়ে পরিণত করে, কীভাবে কুফর-শিরকে লিপ্ত করে, রবের আনুগত্যে বাঁধা প্রদান করে, মানুষের মাঝে কীভাবে ফিতনা ছড়ায় ও পাপকে সুশোভিত করে তোলে সবকিছুর আদ্যোপান্ত ব্যাখ্যা করেছেন লেখক পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই বইটিতে।

বইটি এক পৃষ্ঠা শেষ করে অপর পৃষ্ঠায় যাচ্ছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম। আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজে শয়তান কীভাবে আধিপত্য বিস্তার করে সেসবকিছুর ব্যাখ্যা পড়ছিলাম আর মনে পড়ে যাচ্ছিলো, “এসব তো আমার সাথেও হয়। আমাকেও তো শয়তান এভাবেই ধোঁকায় ফেলে। তাহলে কীভাবে এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণ পাবো!” মানুষকে শয়তান যত ধরণের প্রক্রিয়ায় ধোঁকায় ফেলে সেগুলো যেমন বইটিতে আছে, একইভাবে এই ধোঁকা থেকে পরিত্রাণের উপায়ও বর্ণনা করা হয়েছে।

বই থেকে নেওয়া মনে গেঁথে যাওয়ার মতো একটা
অংশ —❝যেখানেই অশ্লীলতার ছড়াছড়ি, সেটাই মূলত হচ্ছে শয়তানের বাগান। যে বাগানের ফুল হচ্ছে ‘পাপ’। মালি হচ্ছে ‘শয়তান’। পর্যটক হচ্ছি আমরা। আমরাই শয়তানের বাগানে বিচরণ করি, অতঃপর পাপ নামক ফুল নিয়ে নীড়ে ফিরি। সাধারণ গাছের ফুল শুকিয়ে গেলেও, সেই ফুল কখনও শুকায় না; তার পাপড়ি ঝরে না-যতক্ষণ না তাওবা করা হয়।❞

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বইয়ের লেখা, শব্দ চয়ন খুবই সহজ; নেই কোনো কাঠিন্যতা। যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী একটি বই। পঞ্চম শ্রেণির একজন ছাত্র বা পঞ্চান্ন বছরেরও একজন বৃদ্ধও খুব সহজেই বুঝতে পারবে বইটির মূলভাব।

[sc_fs_faq html=”true” headline=”h2″ img=”” question=”শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই বইটির লেখক কে?” img_alt=”” css_class=””] শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই জনপ্রিয় এই বইটি রচনা করেছেন প্রজন্মের লেখক মাহমুদ বিন নূর। [/sc_fs_faq]

Leave a Reply 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *