February 25, 2024

ইমাম গাযালীর চিঠি লেখক: ইমাম গাযালী (রহ.) – বই রিভিউ

বই: ইমাম গাযালীর চিঠি
লেখক: ইমাম গাযালী (রহ.)
অনুবাদক: মহিউদ্দিন রূপম
প্রকাশনী: ওয়াফি পাবলিকেশন
পৃষ্ঠা: ৫৫
মূল্য: ৩০% ছাড়ে ৫৭ ৳ (wafilife)

বইটির ভালোলাগা অংশ
“দুনিয়াবি অর্জনগুলো দুনিয়াতেই থেকে যায়। সাথে যায় শুধু সেটাই, যেখানে ইখলাস থাকে, আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে। অতত্রব, জ্ঞানকে কাজে লাগাও জ্ঞানের প্রতিদান বিলীন হবার আগেই।”

ইমাম আবু হামিদ আল-গাযালী রহ.-এর এমন অসাধারণ সব নাসিহায় ভরপুর ‘ইমাম গাযালীর চিঠি’ বইটি। কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, এই বইয়ের কোন দুটো লাইন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে— আমি সহজে বলতে পারব না। কারণ, এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় আমার পছন্দের বানী আছে। আমি মনে করি, এটি বার বার পড়ার মতো একটি বই।

বইয়ের সারসংক্ষেপ
দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে সহজ এবং উপযোগী পন্থা হল বিজ্ঞ আলিমদের পরামর্শ নেওয়া। তাদের দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়া। কারণ, তারা গোটা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপদেশ দেন। এই উপদেশগুলো কখনও প্রদীপ হয়ে অন্ধকারে পথ দেখায়, আবার কখনও জ্ঞান থেকে সৃষ্ট অন্তরের রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

ইমাম গাযালী রহ.-এর এক প্রিয় ছাত্র দীর্ঘদিন তাঁর সংস্পর্শে থেকে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। জ্ঞান অর্জনের যাত্রায় এক পর্যায়ে এসে তার মনে নানান প্রশ্ন উদয় হতে থাকে। দুনিয়ায় অর্জিত জ্ঞান কীভাবে তাকে জীবনের চূড়ান্ত সফলতা জান্নাত লাভে সহায়তা করতে পারে—এটাই ছিল তার সব প্রশ্নের সারাংশ। প্রশ্নগুলোর উত্তরে ইমাম গাযালী রহ. এক অসাধারণ চিঠি লিখেছিলেন। যেখান থেকে পাওয়া যায় চব্বিশটি যুগান্তকারী উপদেশ। এই উপদেশগুলো নিয়েই রচিত বই ‘ইমাম গাযালীর চিঠি’।

আলোচ্য বিষয়বস্তু
বইটি হাজারো বছর আগের হলেও আমাদের যুগের সাথে পুরোপুরি মানানসই। এ যুগে দ্বীনের জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী ছাত্রদের মধ্যে খুব কমন একটা সমস্যা হচ্ছে—আমল কমে যাওয়া। এই বইয়ে উল্লেখিত উপদেশগুলোর মধ্যেও জ্ঞানের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে আমলের ওপর। তাই তো ইমাম গাযালী রহ. বলেন, “আমল ছাড়া ইলম পাগলামি বৈ কিছু নয় এবং ইলম ছাড়া আমল বাতিল বৈ কিছু নয়।”

জান্নাতে পৌঁছতে চাইলে ঈমান লাগবে, সাথে আমলও লাগবে। আর ঈমান-আমল বাড়ানোর জন্যই প্রয়োজন দ্বীনের জ্ঞান। এ বিষয়গুলো নিয়ে বইতে যেমন আলোচনা এসেছে, তেমনি দ্বীনের সঠিক জ্ঞান কাদের কাছে পাওয়া যাবে, তাদের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে—সেই বিষয়েও আলোচনা এসেছে। এ ছাড়াও জ্ঞান অর্জনের পথে চলতে গেলে একজন ছাত্রকে সময়, নাফস, তাওয়াক্কুল, তাকওয়া, ইখলাস, দাওয়াহ, মৃত্যু সহ জীবনের নানান বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। প্রতিটি বিষয়েই লেখক সংক্ষিপ্ত ভাষায় গভীর এবং গোছালো উপদেশ দিয়েছেন। ছোট ছোট চিঠি আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে উপদেশগুলো।

বইটি কাদের জন্য
আমি মনে করি, যারা শুধু দ্বীনের জ্ঞান অর্জনকেই গুরুত্ব দেন, সর্বদা ফিকহি বিষয়ে তর্কে লিপ্ত থাকেন এবং আমলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন—তাদের জ্ঞান উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তারা অন্তরের রোগে ভুগছেন। এই বই তাদের রোগের ওষুধ হতে পারে। এ ছাড়াও প্রতিটি মুসলিমেরই বইটি পড়া উচিত। কারণ, ফরজ জ্ঞান সবারই অর্জন করতে হয়। আর জ্ঞান অর্জনের পথে খুঁটিনাটি যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয় সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এক কথায় বলতে গেলে, দুনিয়ায় অর্জিত দ্বীনের জ্ঞানকে পরকালের পাথেয় বানানোর জন্য এই বইয়ে দেওয়া উপদেশগুলো মানাই যথেষ্ট।

লেখক সম্পর্কে
‘ইমাম গাযালীর চিঠি’ বইয়ের লেখক হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযালী রহ.-কে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তিনি একাদশ শতাব্দীর একজন কালজয়ী ইমাম। তখনকার সময়ে ইসলামকে গ্রিক দর্শনের কুপ্রভাব থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। ইসলামের গভীর ও দার্শনিক জ্ঞান অর্জনে ইমাম গাযালী রহ.-এর বই অনন্য। তীক্ষ্ণ মেধা ও অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন এই আলিম তাঁর কর্মজীবনে প্রায় চারশো অমূল্য গ্রন্থ রচনা করে গেছেন যা যুগ যুগ ধরে জ্ঞানের ছাত্রদের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
.
○ বই সম্পর্কে আমার মতামত
‘ইমাম গাযালীর চিঠি’ বইয়ের অনুবাদ আমার কাছে সরল ও সাবলীল লেগেছে। নাসিহাগুলো ছোট ছোট চিঠি আকারে থাকায় পড়ায় সহজে মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয় না। বইটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে, ইমাম গাযালী রহ. যেন আমাকে উদ্দেশ্য করেই চিঠিগুলো লিখেছেন। কিছু সংক্ষিপ্ত উপদেশ থেকে পাঠক যাতে ভুল না বোঝেন সেজন্য অনুবাদক নিজ থেকে টিকা যুক্ত করে দিয়েছেন।

এই বই পড়তে গেলে অনেক অসাধারণ উপদেশ পাবেন যা আপনার পুরো চিন্তাধারাই বদলে দিতে পারে। উক্তিগুলো দাগিয়ে বার বার পড়া উচিত। যার মাথায় কথাগুলো থাকবে সে জ্ঞান দ্বারা সহজে পথভ্রষ্ট হবে না, ইনশা আল্লাহ।
.
○ পছন্দের কিছু উক্তি
“জীবন বড়ই দামি, তার চেয়ে বেশি দামি শত ব্যস্ততার ভিড়ে পাওয়া অবসর সময়টুকু।” – ইমাম গাযালী রহ.

“দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে ব্যস্ত ছাত্রদের অনেকে মনে করে পরকালে রক্ষা পেতে ইলমের পাহাড়ই যথেষ্ট, আমলের প্রয়োজন নেই। মজার বিষয় হলো, বিভ্রান্ত দার্শনিকদের বিশ্বাসও এরকম।” – ইমাম গাযালী রহ.

“যারা মনে করে চেষ্টা ছাড়াই তাদের লক্ষ্যে (অর্থাৎ জান্নাতে) পৌঁছুতে পারবে, তারা দিবা স্বপ্ন দেখছে। আবার যারা মনে করে, শুধু চেষ্টা দিয়েই তাদের লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারবে (আল্লাহর দয়ার প্রয়োজন নেই), তারা আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে।” – আলী ইবনু আবি তালিব (রাযি.)
.
পরিশেষে বলব, আমাদের এই যুগ ফিতনার যুগ। তথ্যের সাগরে ভাসছি আমরা। উপকারী-অপকারী সব জ্ঞানই আমাদের সামনে উপস্থিত। এর মধ্যে নিজেকে ঠিক রাখার জন্য, দ্বীনের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে জান্নাত লাভের জন্য এই বইয়ের উপদেশগুলোকে নিত্যদিনের সঙ্গী করে রাখা উচিত।
.
রিভিউ লেখক: Md Shadek Hossain Minhaz

বইটি অর্ডার করতে ভিজিট করুন: wafilife.com/?p=267845

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *