February 26, 2024

আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে ‘ডিভাইস প্রজন্ম’ হিসেবে না গড়তে চাইলে বাড়িতে পারিবারিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করুন

আপনি কীভাবে বেড়ে উঠেছেন, জানি না। তবে, আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে ‘ডিভাইস প্রজন্ম’ হিসেবে না গড়তে চাইলে বাসা-বাড়িতে পারিবারিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করুন। একদিনেই তা হয়তো হবে না। তবে চেষ্টা করলে ৫/৭ বছরে একটা সমৃদ্ধ পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

কল্পনা করুন তো, আপনার স্টাডি রুমে কোনো মেহমান বসলে কেমন লাগবে? আগত মেহমান আপনার ব্যক্তিত্ব ও রুচি সম্পর্কে এবং আপনার পরিবারের ব্যাপারে কেমন একটা পজেটিভ ধারণা নিয়ে তারা ফিরবে। আপনার বাচ্চারা একাডেমিক এক্সিলেন্সির পাঠ পাবে লাইব্রেরিতে বসে। কোনো বাচ্চা মোবাইলে গেম খেলতে চাইলে তাকে শর্ত দিন রিডিং রুমে বসে ১০ পৃষ্ঠা পড়লে ১০ মিনিট খেলতে পারবে। বাচ্চাদের বইয়ের সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতে হবে। বাচ্চারা পৃষ্টা ছিঁড়ে ছিঁড়ে বড়ো হয়ে উঠুক।

কোনো প্ল্যানের দরকার নাই। যত দ্রুত সম্ভবত আপনার ড্রয়িং রুমেই একটা বুকসেলফ কিনে ফেলুন। কতকিছুই তো আছে! টিভি, সোফা, ফুলের টব, ওয়ালমেট। সাথে একটা বুকসেলফ কিনুন না! মনে রাখবেন, প্রথমেই বই নয়, আগে একটা বুকসেলফ কিনতে হবে। বুকসেলফ থাকলে বই সেখানে ঢুকবেই।

প্রতি মাসে ৫০০ টাকার বই কিনুন। স্রেফ ৫০০ টাকা! অনেক বেশি মনে হচ্ছে? এই ৫০০ টাকা আপনার নেক্সট জেনারেশনকে এক্সিলেন্সি এনে দিবে ইনশাআল্লাহ।

সন্তানকে কত কী কিনে দিচ্ছেন। সাথে নবিজির জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, কুরআনের একটা সহজ অনুবাদ, একটা হাদিস গ্রন্থ, ইসলামি জীবন দর্শনের সহজ পাঠ, ইসলামি গল্প-উপন্যাস, ইতিহাস, মানবিক গুণাবলীর সাহিত্য সংগ্রহ করে দিন না! জাহেলিয়াতের চতুর্মুখী আক্রমণের মোকাবিলায় কেন নিশ্চুপ থাকছেন?

প্রতি পরিবারে একটা লাইব্রেরি থাকা নিশ্চিত করা দরকার। উন্নত বিশ্বে বাড়িতে স্টাডি রুম মাস্ট। আমাদের দেশে হয়তো কঠিন, আবার চাইলে সহজ। চেষ্টা তো করুন, অন্তত ড্রয়িং রুমে একটা বুকসেলফে কিছু বই।

আচ্ছা, আপনি তো পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, তাই নয়? ইন্তেকালের ২০০ বছর পর আপনার কী কী স্মৃতিচিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে? উত্তর প্রজন্ম এসে আপনার অস্তিত্ব কীভাবে উপলব্ধি করবে? কখনো ভেবেছেন? আপনি কি এখন আপনার পূর্বের পঞ্চম পুরুষের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারেন?

একটা সমৃদ্ধ পারিবারিক পাঠাগার তৈরি করুন; পঞ্চম পূরুষ এসেও আপনার অস্তিত্ব অনুভব করবে ইনশাআল্লাহ। তারা ছুঁয়ে দেখবে, স্পর্শ করবে বইগুলো। তারা ভাবতে পারবে, তাদের এক পূর্বপূরুষ এই বইগুলো স্পর্শ করেছিল। ২২০০ সালের প্রজন্ম বই খুলে দেখবে বইটির প্রকাশনা সাল ২০২০-২০৫০।

© চমৎকার এই লেখাটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত! আল্লাহ লেখককে উত্তম জাযা দিন। আমিন।

Habiba Tasnim

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, আমি এই ওয়েবসাইটের নতুন সদস্য। ওয়েবসাইটটি আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে তাই চিন্তা করেছি এখন থেকেই ওয়েবসাইটটি প্রতিনিয়ত ব্যবহার করব ইনশাআল্লাহ। ব্যক্তিগত ব্যাপারে বলতে গেলে এতোটুকুই বলতে পারি আমি আপাতত একজন আলিম দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। বরিশাল ভোলা

View all posts by Habiba Tasnim →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *