মূল কন্টেন্টে যান
ইবনে হিশাম

ইবনে হিশাম

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

নাম ইবনে হিশাম
পূর্ণ নাম আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম ইবনে আইয়ুব আল-হিমইয়ারি
ইংরেজি নাম Ibn Hisham
জন্ম অজ্ঞাত (নবম শতাব্দী; বসরায় শৈশব)
মৃত্যু ৭ মে ৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ (১৩ রবিউস সানি ২১৮ হিজরি); কিছু সূত্রে ৮২৮ খ্রিস্টাব্দও উল্লেখিত
অঞ্চল বসরা ও মিশর
পেশা ইতিহাসবিদ, সীরাত সংকলক, ব্যাকরণবিদ
উল্লেখযোগ্য রচনা আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ (সিরাতে ইবনে হিশাম), কিতাব আত-তীজান

পরিচিতি

আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম, সংক্ষেপে ইবনে হিশাম, নবম শতাব্দীর আব্বাসি যুগের একজন পণ্ডিত, ব্যাকরণবিদ ও ইতিহাসবিদ। তাঁর খ্যাতি মূলত ‘আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ (সিরাতে ইবনে হিশাম) গ্রন্থের জন্য, যা ইবনে ইসহাকের রচিত সীরাতগ্রন্থের সম্পাদিত সংস্করণ। ইবনে ইসহাকের মূল রচনাটি বর্তমানে বিলুপ্ত হলেও ইবনে হিশামের এই সংস্করণ ও আল-তাবারির গ্রন্থে তা টিকে আছে। গবেষকদের কাছে এই গ্রন্থটি মুহাম্মদের জীবনীসংক্রান্ত প্রামাণ্য প্রাচীন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

জীবনী

ইবনে হিশামের পরিবার ছিল বসরার অধিবাসী; একটি সূত্র অনুযায়ী তিনি পুরনো কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন, তবে এ বিষয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য নেই। তিনি বসরায় শৈশব কাটান এবং পরবর্তীতে মিশরে চলে আসেন, যেখানে তিনি ব্যাকরণ ও ভাষা-ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে পরিচিতি পান। তাঁর পরিবার ছিল হিমইয়ারি বংশোদ্ভূত এবং ইয়ামেনের বনু মা’আফির গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর জ্ঞান-সাধনার ধারা ইবনে ইসহাকের শিষ্য জিয়াদ আল-বাক্কা’ইর মাধ্যমে ইবনে ইসহাকের সীরাত-ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।

রচনাবলি

তাঁর প্রধান রচনা ‘আস-সীরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ’ (অর্থাৎ ‘নবীর জীবনী’) মূলত ইবনে ইসহাকের ‘সিরাতু রাসূলিল্লাহ’-এর সম্পাদিত সংস্করণ। ভূমিকায় ইবনে হিশাম তাঁর সম্পাদনার মানদণ্ড ব্যাখ্যা করেছেন: তিনি এমন বর্ণনা বাদ দেন যাতে মুহাম্মদের উল্লেখ নেই, কিছু কবিতা, যেসব ঐতিহ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়নি সেগুলো এবং পাঠককে আহত করতে পারে এমন অনুচ্ছেদ বাদ দেন। তিনি অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলোর নির্ভুল পাঠ দেন, কঠিন আরবি শব্দ ও বাক্যের ব্যাখ্যা যোগ করেন, বংশতালিকাগত তথ্য সংযোজন করেন এবং উল্লিখিত স্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন; মূল পাঠে নিজের টীকা তিনি ‘কালা ইবনে হিশাম’ (ইবনে হিশাম বলেন) শব্দে যুক্ত করেন।

তাঁর অপর রচনা ‘কিতাব আত-তীজান লি মা’রিফাতি মুলুক আজ-জামান’ দক্ষিণ আরবের প্রাক-ইসলামি যুগের রাজা ও স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে একটি বংশতালিকামূলক-ঐতিহাসিক গ্রন্থ, যা ১৯২৮ সালে হায়দরাবাদ (ভারত) থেকে মুদ্রিত হয়।

অনুবাদ ও সংস্করণ

ইবনে হিশামের সীরাত মূলত তাঁর শিষ্য ইবনে আল-বারকির মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং ৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে ইসলামি স্পেনের কর্ডোবায় তা পৌঁছে যায়। প্রথম মুদ্রিত আরবি সংস্করণ প্রকাশ করেন জার্মান প্রাচ্যবিদ ফার্দিনান্দ ভ্যুস্টেনফেল্ড (গ্যোটিঙেন, ১৮৫৮–১৮৬০)। গুস্তাভ ভাইল ১৮৬৪ সালে (স্টুটগার্ট) প্রথম জার্মান অনুবাদ প্রকাশ করেন। বিংশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যে বহুবার বইটি মুদ্রিত হয়েছে। ১৯৫৫ সালে ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ আলফ্রেড গিয়ম অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ‘দ্য লাইফ অব মুহাম্মদ’ শিরোনামে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করেন। ১৯৯৯ সালে গেরনোট রটার এর একটি সংক্ষিপ্ত জার্মান অনুবাদ প্রকাশ করেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

ইবনে হিশাম ৮৩৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে (১৩ রবিউস সানি ২১৮ হিজরি) মৃত্যুবরণ করেন বলে সাধারণভাবে স্বীকৃত; কিছু সূত্রে ৮২৮ খ্রিস্টাব্দও (২১২ হিজরি) উল্লেখ আছে। তাঁর সীরাতগ্রন্থ পরবর্তী যুগের জীবনী-রচনা ও গবেষণায় মৌলিক উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং ইসলামি ঐতিহ্যে এটি সিরাত-সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ধারাবাহিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

তথ্যের সীমাবদ্ধতা

নবম শতাব্দীর এই পণ্ডিতের জন্মতারিখ ও জন্মস্থান সূত্রগুলোতে সুস্পষ্টভাবে নথিভুক্ত নয়; তাই সেগুলো এখানে অজ্ঞাত রাখা হয়েছে। তাঁর জীবনের বহু বিবরণ মধ্যযুগীয় জীবনী-অভিধান ও পরবর্তী পণ্ডিতদের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।