নরেন্দ্রনাথ দত্ত থেকে স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩–১৯০২) — মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের জীবনে তিনি বদলে দিয়েছিলেন ভারতের আত্মবিশ্বাস। শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্য হিসেবে তিনি বেদান্তের বাণী পৌঁছে দেন পশ্চিমা বিশ্বে; ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মসম্মেলনে “সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অব আমেরিকা” বলে শুরু করা তাঁর ভাষণ আজও ইতিহাস। দেশে ফিরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মিশন — সেবা আর শিক্ষার মাধ্যমে সমাজ বদলের প্রতিষ্ঠান।
তাঁর বাণীর কেন্দ্রে তিনটি কথা — শক্তি, আত্মবিশ্বাস আর সেবা। দুর্বলতাকে তিনি পাপ বলতেন, ভয়কে বলতেন মৃত্যু। তরুণদের তিনি ডাক দিয়েছিলেন — “উঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” এই প্রবন্ধে রইল তাঁর কমপ্লিট ওয়ার্কস, বক্তৃতা ও চিঠি থেকে যাচাই করা ১০০টি বাণীর বাংলা অনুবাদ — প্রতিটির সঙ্গে উৎস ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ।
একটি সৎ কথা: নিচের ১০০টি উক্তির প্রতিটিই নির্দিষ্ট বই, বক্তৃতা, পত্রিকা-নিবন্ধ বা যাচাইকৃত সংকলন থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ — প্রতিটির পাশে উৎসের নাম দেওয়া আছে। ইংরেজি মূল থেকে বাংলা অনুবাদ করেছে বইইনফোর সম্পাদকীয় দল। ইন্টারনেটে এই মনীষীর নামে যেসব উক্তি ঘোরে কিন্তু যাচাই করা যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিচের বিশ্লেষণ এই প্রবন্ধের জন্য নতুন লেখা।
নিজের ওপর বিশ্বাস
বিবেকানন্দের মূল কথা — নিজেকে বিশ্বাস করো।
১. “যে নিজেকে বিশ্বাস করে না, সেই নাস্তিক।” — স্বামী বিবেকানন্দ, হিজ কল টু দ্য নেশন (অদ্বৈত আশ্রম)
আয়নার সামনে বলো — আমি পারব।
২. “নিজের ওপর বিশ্বাস, ঈশ্বরে বিশ্বাস — এটাই মহত্ত্বের রহস্য।” — স্বামী বিবেকানন্দ, হিজ কল টু দ্য নেশন
বড় কাজে আগে বড় বিশ্বাস।
৩. “উঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
থামা মানেই হারা।
৪. “বিশ্বের সব শক্তি আমাদের; আমরাই চোখে হাত রেখে অন্ধকার দেখি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হাত সরাও, আলো দেখবে।
৫. “ঈশ্বরে বিশ্বাসের আগে নিজেকে বিশ্বাস করো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
আত্মবিশ্বাসই প্রথম প্রার্থনা।
৬. “প্রথম কর্তব্য নিজেকে ঘৃণা না করা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজেকে ছোট ভাবা বন্ধ করো।
৭. “শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মনকে শক্ত করো।
৮. “দুর্বলতা ভেবে দূর হয় না; শক্তির কথা ভাবো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, হিজ কল টু দ্য নেশন
সমস্যা নয়, সমাধান ভাবো।
৯. “ওঠো, সিংহের দল, ভেড়ার ভ্রম ঝেড়ে ফেলো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, দ্য চার্ম অব হিজ পার্সোনালিটি
ভেতরে সিংহ ঘুমিয়ে আছে।
১০. “মহত্তম ধর্ম — নিজের স্বভাবের প্রতি সত্য থাকা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজের মতো হওয়াতেই মহত্ত্ব।
লক্ষ্য ও একাগ্রতা
এক ভাবনায় লেগে থাকা — এটাই সাফল্যের সূত্র।
১১. “এক ভাবনা নাও, তাতে ডুবে যাও — সূর্য উঠবেই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
লক্ষ্যে লেগে থাকো।
১২. “সূর্যরশ্মির মতো মন — একাগ্র হলেই আলো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মনকে এক জায়গায় আনো।
১৩. “মস্তিষ্ক ভরো উচ্চ চিন্তায়; তা থেকেই বড় কাজ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
যা ভাবো, তাই হও।
১৪. “পৃথিবী বিরাট ব্যায়ামাগার — শক্ত হতে এসেছি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, হিজ কল টু দ্য নেশন
কষ্টই তোমাকে গড়ছে।
১৫. “সাফল্যে চাই অসাধারণ অধ্যবসায় ও ইচ্ছাশক্তি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, রাজযোগ লেকচার (১৮৯৯)
জেদটাই আসল।
১৬. “বড় কাজে দীর্ঘ অবিচল চেষ্টা চাই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হোঁচটে থেমো না।
১৭. “সাফল্যের গুণ — পবিত্রতা, ধৈর্য, অধ্যবসায়, ভালোবাসা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
তাড়াহুড়ো নয়, ধৈর্য ধরো।
১৮. “একাগ্রতায় পৃথিবীর দরজা খুলে যায়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
একাগ্র হও।
১৯. “বড় কাজ মসৃণ হয় না; সময় ও ধৈর্য চাই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
বাধায় ধৈর্য ধরো।
২০. “যা দুর্বল করে, তা ছুঁয়ো না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
দুর্বলতা থেকে দূরে থাকো।
ভয়কে জয় করো
ভয়ই সব দুর্বলতার মূল — চেয়েছিলেন ভয়হীন মানুষ।
২১. “অস্তিত্বের রহস্য — ভয় না পাওয়া, কারো ওপর নির্ভর না করা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভয়কে বিদায় দাও।
২২. “ভয়ই মৃত্যু, ভয়ই পাপ, ভয়ই নরক।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভয়ে মন দুর্বল হয়।
২৩. “ভয়ংকরের মুখোমুখি হও সাহসে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মুখোমুখি হলেই সমস্যা ছোট হয়।
২৪. “বীর হও; বলো — আমার ভয় নেই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
রোজ নিজেকে বলো।
২৫. “নিজেকে ঈশ্বর থেকে আলাদা ভাবলেই ভয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজের শক্তি চিনলে ভয় যায়।
২৬. “উপনিষদের বোমা-শব্দ — অভয়, ভয়হীনতা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভয়হীনতা ধারণ করো।
২৭. “পাথরের মতো দাঁড়াও; তুমি অবিনশ্বর।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ঝড়ে অটল থাকো।
২৮. “অজ্ঞান আমরাই বানাই; চোখে হাত রেখে অন্ধকার দেখি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হাত সরালেই আলো।
২৯. “নিজের আত্মার বাইরে চাওয়ার কিছু নেই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভেতরেই সব আছে।
৩০. “দৃষ্টি বদলালে পৃথিবী বদলে যায়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
চেষ্টা করে দেখো।
সেবাই ধর্ম
দরিদ্রের মধ্যে শিবকে দেখাই আসল পূজা।
৩১. “সবার মঙ্গলে জীবন উৎসর্গই ধর্ম।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
অন্যের জন্য বাঁচো।
৩২. “তারাই বাঁচে যারা অন্যের জন্য বাঁচে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, পার্লস অব উইজডম
নিজের জন্য বাঁচা অর্থহীন।
৩৩. “নিঃস্বার্থতাই ঈশ্বর।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
স্বার্থ ছাড়ো।
৩৪. “অন্যের ভালো করলে হৃদয় পবিত্র হয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
উপকারই মন পরিষ্কারের পথ।
৩৫. “দাও কিছু নিঃস্বার্থ মানুষ — পৃথিবী কাঁপিয়ে দেব।” — স্বামী বিবেকানন্দ, পার্লস অব উইজডম
তুমিও সেই দলে যোগ দাও।
৩৬. “কাউকে সাহায্য নয়, শুধু সেবা করতে পারো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সম্মান দিয়ে সেবা করো।
৩৭. “সাহায্য পারলে বাড়াও, না পারলে আশীর্বাদ করো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিন্দা নয়, সহানুভূতি দাও।
৩৮. “নিঃস্বার্থ হলে মন্দির ছাড়াই পূর্ণ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিঃস্বার্থ মনই যথেষ্ট।
৩৯. “কথায় নয়, নিঃস্বার্থ কাজে পূর্ণতা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কম বলো, বেশি করো।
৪০. “দরিদ্র-দুর্বল-রোগীতে শিবকে দেখাই পূজা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, রামেশ্বরম ভাষণ (খণ্ড ৩)
ক্ষুধার্তকে খাওয়াও — এটাই পূজা।
চরিত্র ও কাজের নীতি
পৃথিবীর দরকার চরিত্র — আজও সমান সত্যি।
৪১. “পৃথিবীর চাই চরিত্র — জ্বলন্ত নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জীবন।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
চরিত্রই আসল পরিচয়।
৪২. “ধৈর্যে চরিত্র গড়ে, সত্য-সন্ধানের সংগ্রামে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
তাড়াতাড়ি বড় হতে চেয়ো না।
৪৩. “মনপ্রাণে কাজে সাফল্য ও পরম সত্য মেলে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কাজে ডুবে যাও।
৪৪. “সিংহের নির্ভীকতায় কাজ, ফুলের কোমলতা মনে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কঠোর কাজে, কোমল মানুষে।
৪৫. “প্রতিটি কাজে তিন ধাপ — উপহাস, বিরোধিতা, গ্রহণ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হাসিতে ভেঙে পোড়ো না।
৪৬. “প্রতিটি কাজকে মনের মতো বানাতে পারাই বুদ্ধি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কাজকে ভালোবাসতে শেখো।
৪৭. “ছোট কাজে গজগজকারীর জীবন ব্যর্থ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ছোট কাজকে ছোট ভেবো না।
৪৮. “পেছনে তাকিয়ো না — সামনে এগোও!” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সামনে চোখ রাখো।
৪৯. “সামনে — অসীম শক্তি, উদ্যম, সাহস, ধৈর্য।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
এই চারটে চাই।
৫০. “যত শান্ত, তত ভালো কাজ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
শান্ত মনেই সেরা কাজ।
মন ও চিন্তার শক্তি
বাইরের পৃথিবী ভেতরের মনের প্রতিচ্ছবি।
৫১. “চিন্তাই জিনিসকে সুন্দর বা কুৎসিত করে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
আগে চিন্তা বদলাও।
৫২. “একাগ্র মন নিজের গভীর রহস্য ভেদ করে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভেতরে তাকাও।
৫৩. “আমি মন নই — এই ভাবনা ধরে রাখো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
তুমি মনের দর্শক।
৫৪. “মন ও কথায় বিরাট শক্তি রাখো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কথা ভেবে বলো।
৫৫. “আমায় যা সত্য তা ঈশ্বর; ঈশ্বরে যা সত্য তা আমি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
তোমার ভেতরেই তিনি।
৫৬. “আলোয় নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ চিরকালের।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভালো পথে এক পাও বৃথা নয়।
৫৭. “ভবিষ্যৎ অতীতের চেয়ে গৌরবময় হবে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সামনে তাকাও।
৫৮. “সত্য হাজারোভাবে বলা যায়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
অন্যের মতকে সম্মান করো।
৫৯. “প্রতিটি আত্মা মেঘে ঢাকা সূর্য।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
কাউকে ছোট ভেবো না।
৬০. “বিশ্বাস করলেই আমরা চিরমুক্ত।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মুক্ত ভাবলেই মুক্তি।
ব্যর্থতা ও সংগ্রাম
ব্যর্থতাই জীবনের সৌন্দর্য — ভয় পেয়ো না।
৬১. “ব্যর্থতা স্বাভাবিক; এগুলোই জীবনের সৌন্দর্য।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ব্যর্থতায় ভেঙে পোড়ো না।
৬২. “দুঃখ আমারই সৃষ্টি; আমাকেই মুছতে হবে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজের সমস্যা নিজে মেটাও।
৬৩. “আঘাতই জাগায়, স্বপ্ন ভাঙে, মুক্তি চায়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
আঘাতকে শিক্ষক ভাবো।
৬৪. “প্রফুল্ল মনই অধ্যবসায়ী।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হাসিমুখে লড়ো।
৬৫. “আঘাতে আত্মা আহত হয় না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভেতরের তুমি অক্ষত।
৬৬. “জীবন কঠিন; সাহসে এগোও — আত্মা শক্তিশালী।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
তুমি জীবনের চেয়ে কঠিন।
৬৭. “সবাই বিরোধিতা করলেও সঠিক কাজ করবে?” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সঠিক পথে থাকো।
৬৮. “কর্মেই ওপরে ওঠা যায়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভালো কর্ম করো।
৬৯. “যা বুনি, তাই কাটি — ভাগ্যের নির্মাতা আমরাই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভাগ্যকে দোষ দিয়ো না।
৭০. “ইচ্ছা, অজ্ঞানতা, বৈষম্য — এই ত্রয়ীই বন্ধন।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
চাওয়া কমাও।
সত্য, ধর্ম ও আনন্দ
বিবেকানন্দের ধর্ম আনন্দের — গোমড়া মুখে ধর্ম হয় না।
৭১. “সত্য সমাজের কাছে মাথা নত করে না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সত্যের পক্ষে দাঁড়াও।
৭২. “সত্য সাহসে বলো, আঘাত করুক বা না করুক।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সত্য বলাই সাহস।
৭৩. “ধর্মের মূল — হৃদয় পবিত্র করা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মন পরিষ্কার করো।
৭৪. “ভালোবাসাতেই ধর্ম, আচারে নয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, রামেশ্বরম ভাষণ (খণ্ড ৩)
হৃদয়ে ভালোবাসা রাখো।
৭৫. “ধার্মিক হওয়ার লক্ষণ — প্রফুল্ল হওয়া।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
আনন্দই ধর্মের পরিচয়।
৭৬. “গোমড়া মুখে ধর্ম হয় না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হাসিমুখে থাকো।
৭৭. “আরাম সত্যের পরীক্ষা নয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সত্যকে আঁকড়ে ধরো।
৭৮. “বিষণ্ণতা ধর্ম নয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
আনন্দে ঈশ্বরের বাস।
৭৯. “প্রশ্ন না করে কিছু বিশ্বাস কোরো না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
যাচাই করে বিশ্বাস করো।
৮০. “ধর্মকে বুদ্ধি দিয়ে বোঝো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
অন্ধভাবে নয়।
জ্ঞান ও শিক্ষা
শিক্ষা মানে চরিত্র, মনের শক্তি, আত্মনির্ভরতা।
৮১. “শিক্ষা — ভেতরের পূর্ণতার প্রকাশ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, পার্লস অব উইজডম
ভেতরের প্রতিভা জাগাও।
৮২. “জ্ঞানের একটাই পথ — অভিজ্ঞতা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
করে শেখো।
৮৩. “জ্ঞান মানুষের ভেতরেই আছে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
ভেতরেই জ্ঞানের খনি।
৮৪. “মহাবিশ্বের গ্রন্থাগার আমাদের মনেই।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মনকে শাণিত করো।
৮৫. “শক্তির আসন হৃদয়ে, মাথায় নয়।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
হৃদয়কেও শিক্ষিত করো।
৮৬. “মানুষকে বোঝাই সর্বোচ্চ জ্ঞান।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
এটাই বড় পাণ্ডিত্য।
৮৭. “শিশুদের ভালো চিন্তা শেখাও।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
এটাই জাতির ভবিষ্যৎ।
৮৮. “কুসংস্কার শত্রু, গোঁড়ামি আরও খারাপ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
মুক্ত মনে ভাবো।
৮৯. “জ্যোতিষ দুর্বল মনের লক্ষণ।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজে ভাগ্য গড়ো।
৯০. “যা দুর্বল করে, তা ছুঁড়ে ফেলো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
শক্তিই পথ।
নারী, সমাজ ও স্বাধীনতা
নারীর স্বাধীনতা নিয়ে ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক।
৯১. “পূর্ণ নারীত্বের আদর্শ — পূর্ণ স্বাধীনতা।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
স্বাধীনতাকে সম্মান করো।
৯২. “নারীর ধৈর্য দুর্বলতা নয়, শক্তি।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সহনশীলতাই শক্তি।
৯৩. “নারীর ভাগ্য নারীই গড়বে।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
বাধা দিয়ো না।
৯৪. “সমতা ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
সম্মানই বন্ধুত্বের ভিত্তি।
৯৫. “পরনির্ভরতায় সত্যের সেবা হয় না।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নিজের পায়ে দাঁড়াও।
৯৬. “নিজে মুক্ত হও, অন্যকে মুক্ত করো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
এটাই পরম কর্তব্য।
৯৭. “ভণ্ড না হয়ে সবাইকে খুশি করো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
নীতি বিকিয়ো না।
৯৮. “নিজেকে দুর্বল ভাবা বন্ধ করো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
শক্ত ভাবলেই শক্তি।
৯৯. “অন্যের সুখে সুখী হও।” — স্বামী বিবেকানন্দ, কমপ্লিট ওয়ার্কস
এটাই বড় মন।
১০০. “সবার প্রতি সদয় কথা বলো।” — স্বামী বিবেকানন্দ, ভ্রাতৃশিষ্যদের চিঠি
শান্ত কথাই কাজে লাগে।
স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি: সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: বিবেকানন্দের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি কোনটি?
উত্তর: “উঠো, জাগো, লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না” — এটি তাঁর সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত বাণী, কমপ্লিট ওয়ার্কস থেকে।
প্রশ্ন ২: “নিজেকে বিশ্বাস করো” কথাটা তিনি কোথায় বলেছেন?
উত্তর: তাঁর “হিজ কল টু দ্য নেশন” (অদ্বৈত আশ্রম) সংকলনে — “যে নিজেকে বিশ্বাস করে না, সেই নাস্তিক” এই বাণীটি সেখানকার।
প্রশ্ন ৩: বিবেকানন্দের বাণী কি শুধু ধর্ম নিয়ে?
উত্তর: না। তাঁর বাণীতে আছে শক্তি, শিক্ষা, চরিত্র, নারীর স্বাধীনতা, সেবা ও সমাজ-সংস্কার — ধর্মের চেয়ে জীবনদর্শনই বেশি।
প্রশ্ন ৪: ইন্টারনেটে তাঁর নামে অনেক উক্তি — সব কি আসল?
উত্তর: না। এই প্রবন্ধে শুধু কমপ্লিট ওয়ার্কস, বক্তৃতা, চিঠি ও রামকৃষ্ণ মিশনের সংকলন থেকে যাচাই করা ১০০টি রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: ছাত্রদের জন্য তাঁর সেরা বাণী কোনগুলো?
উত্তর: “একটা ভাবনা নাও, তাতে নিজেকে উৎসর্গ করো”, “শক্তিই জীবন, দুর্বলতাই মৃত্যু”, “শিক্ষা হলো ভেতরের পূর্ণতার প্রকাশ” — এই তিনটি দিয়ে শুরু করতে পারো।
প্রশ্ন ৬: এই উক্তিগুলো কি স্ট্যাটাসে ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: ব্যক্তিগত শেয়ারে হ্যাঁ — উৎস (বিবেকানন্দের নাম ও গ্রন্থের নাম) উল্লেখ করে শেয়ার করাই শোভন।
বিবেকানন্দের বাণী ভালো লাগলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: এ পি জে আব্দুল কালামের উক্তি, মহাত্মা গান্ধীর উক্তি — আর শক্তি, আত্মবিশ্বাস, সাফল্য, শিক্ষা ও মানবতা নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় বাণীটি শেয়ার করো — হয়তো কারো ভাঙা মনোবল জেগে উঠবে।