মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (১৮৬৯–১৯৪৮) — পোরবন্দরের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে, যিনি হয়ে উঠলেন মহাত্মা। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ থেকে শুরু করে চম্পারণ, খেড়া, অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৩০-এর লবণ সত্যাগ্রহ আর ভারত ছাড়ো আন্দোলন — অহিংস প্রতিরোধের এক নতুন পথ দেখিয়েছিলেন তিনি, যা পরে পৃথিবীর বহু মুক্তি-আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে।
ইয়ং ইন্ডিয়া ও হরিজন পত্রিকায়, আর হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯) বইতে তিনি লিখে গেছেন সত্য, অহিংসা আর সরল জীবনের কথা — যা আজও কোটি মানুষের জীবনদর্শন। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁকে হত্যা করা হয়, কিন্তু তাঁর বাণী আজও পৃথিবীকে পথ দেখায়। এই প্রবন্ধে রইল তাঁর ১০০টি যাচাইকৃত উক্তির বাংলা অনুবাদ — প্রতিটির সঙ্গে উৎস ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ।
একটি সৎ কথা: নিচের ১০০টি উক্তির প্রতিটিই নির্দিষ্ট বই, বক্তৃতা, পত্রিকা-নিবন্ধ বা যাচাইকৃত সংকলন থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ — প্রতিটির পাশে উৎসের নাম দেওয়া আছে। ইংরেজি মূল থেকে বাংলা অনুবাদ করেছে বইইনফোর সম্পাদকীয় দল। ইন্টারনেটে এই মনীষীর নামে যেসব উক্তি ঘোরে কিন্তু যাচাই করা যায়নি, সেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিচের বিশ্লেষণ এই প্রবন্ধের জন্য নতুন লেখা।
সত্যের পথ
গান্ধীর মূলমন্ত্র — সত্যের চেয়ে বড় ঈশ্বর নেই।
১. “সত্যই টিকে থাকবে, বাকি সব স্রোতে ভেসে যাবে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
টিকে থাকে শুধু সত্য।
২. “বিবেকের বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের আইন চলে না।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (৪ আগস্ট ১৯২০)
বিবেকের কথা শোনো।
৩. “সত্য-সন্ধানীর সাধারণীকরণের অবকাশ নেই।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৬ জুলাই ১৯৪০)
সত্য জানতে ধৈর্য লাগে।
৪. “মরতে প্রস্তুত এমন কারণ অনেক; মারতে প্রস্তুত এমন কারণ নেই।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১৫ নভেম্বর ১৯২০)
ত্যাগ করো, ক্ষতি কোরো না।
৫. “আমার একমাত্র স্বৈরশাসক — ভেতরের ক্ষীণ কণ্ঠস্বর।” — মহাত্মা গান্ধী, কিংসলে হল (১৯৩১); কালেক্টেড ওয়ার্কস ৪৮
বিবেকই পথপ্রদর্শক।
৬. “অহিংসা আমার বিশ্বাসের প্রথম ও শেষ অনুচ্ছেদ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৩ মার্চ ১৯২২)
মূলনীতিতে অটল থাকো।
৭. “শক্তিশালীও দুর্বল হতে পারে, জ্ঞানীও ভুল করতে পারে।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৪০)
বিনয় হারিয়ো না।
৮. “ভুলের স্বাধীনতা ছাড়া স্বাধীনতার মূল্য নেই।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১২ মার্চ ১৯৩১)
ভুল থেকেই শেখা।
৯. “তুমি যা করবে তা তুচ্ছ হলেও, তা করা জরুরি।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
ছোট কাজও পৃথিবী বদলায়।
১০. “আমার জীবনই আমার বাণী।” — মহাত্মা গান্ধী, ১৯৪৬, সাংবাদিকের প্রশ্নোত্তর
কাজে প্রমাণ করো তুমি কে।
অহিংসার দর্শন
গান্ধীর অহিংসা দুর্বলতা নয় — সাহসের নাম।
১১. “কাপুরুষতা আর হিংসায় বেছে নিলে হিংসাই নেব।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১১ আগস্ট ১৯২০)
ভয়ে চুপ থাকা কাপুরুষতা।
১২. “অহিংসা হিংসার চেয়ে অসীম শ্রেয়।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১১ আগস্ট ১৯২০)
ক্ষমাই আসল শক্তি।
১৩. “কাপুরুষতা হিংসার চেয়েও খারাপ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১১ আগস্ট ১৯২০)
সাহসে সত্যের পক্ষে দাঁড়াও।
১৪. “দুর্বল বলে নয়, শক্তি সচেতন হয়ে অহিংসা চাই।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১১ আগস্ট ১৯২০)
শক্তি থেকে নম্র হও।
১৫. “অহিংসা পোশাক নয়; এর আসন হৃদয়ে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
হৃদয়ে ধারণ করো।
১৬. “হিংসায় জয় ক্ষণস্থায়ী পরাজয়।” — মহাত্মা গান্ধী, সত্যাগ্রহ লিফলেট (৩ মে ১৯১৯)
শান্তির জয়ই স্থায়ী।
১৭. “অন্যায় আইনই হিংসা; তা ভাঙায় গ্রেপ্তার আরও বড় হিংসা।” — মহাত্মা গান্ধী, ভাইসরয়কে চিঠি (১৯৩০)
নীরবতাই অপরাধ।
১৮. “অহিংসা ক্ষমতা দখল করে না; ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১)
নৈতিক শক্তিই শক্তি।
১৯. “আইনহীন রাষ্ট্রে আইন অমান্য পবিত্র কর্তব্য।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (৫ মার্চ ১৯৩১)
শান্ত প্রতিবাদই পথ।
২০. “নিয়ন্ত্রিত রাগ পৃথিবী নাড়ানোর শক্তি।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১৫ সেপ্টেম্বর ১৯২০)
রাগকে নিয়ন্ত্রণ করো।
ক্ষমা, সহনশীলতা ও ধর্ম
সব ধর্ম একই বাগানের ফুল — বলতেন গান্ধী।
২১. “দুর্বল ক্ষমা করতে পারে না; ক্ষমা শক্তিশালীর গুণ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২ এপ্রিল ১৯৩১)
ক্ষমাই বড় শক্তি।
২২. “নারীকে দুর্বল বলা অপবাদ; নৈতিক শক্তিতে নারী শ্রেষ্ঠ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১০ এপ্রিল ১৯৩০)
সহনশীলতাই শক্তি।
২৩. “ধর্মগুলো একই বাগানের ফুল, একই বৃক্ষের শাখা।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৩০ জানুয়ারি ১৯৩৭)
ধর্মে ঝগড়া কোরো না।
২৪. “আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান — একই; বিশ্বাস মানে ভ্রাতৃত্ব।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১৪ মে ১৯৩৮)
এই বোধই শান্তি আনে।
২৫. “সহনশীলতা চাই — নিজ ধর্মে উদাসীনতা নয়, শুদ্ধ ভালোবাসা।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২ অক্টোবর ১৯৩০)
অন্যের ধর্মকে সম্মান করো।
২৬. “হিন্দুধর্ম সব জীবের ভ্রাতৃত্ব বলে।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২৮ মার্চ ১৯৩৬)
প্রাণের প্রতি দয়া রাখো।
২৭. “ভালো মানুষ হলেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত — ধর্মান্তর কেন?” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৩০ জানুয়ারি ১৯৩৭)
ভালো মানুষ হওয়াই আসল।
২৮. “ধর্ম ভিন্ন পথ, গন্তব্য এক — ঝগড়া কীসের?” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
এই বোধেই সম্প্রীতি।
২৯. “আমার হিন্দুধর্ম সর্ব-অন্তর্ভুক্তিমূলক।” — মহাত্মা গান্ধী, বম্বে ক্রনিকল (১৯৩২)
উদারতাই ধর্মের প্রাণ।
৩০. “আমরা বদলালে পৃথিবীর প্রবণতাও বদলাবে।” — মহাত্মা গান্ধী, ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন (৯ আগস্ট ১৯১৩)
আগে নিজেকে বদলাও।
সরল জীবন, উচ্চ চিন্তা
চাওয়া কমাও, সন্তুষ্ট থাকো — আজও প্রাসঙ্গিক।
৩১. “চাওয়া বাড়ালেই সরল জীবনের আদর্শ থেকে সরে যাওয়া।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২ জানুয়ারি ১৯৪২)
সরল জীবনেই সুখ।
৩২. “সুখ সন্তুষ্টিতে; অসন্তুষ্ট চাওয়ার দাস।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২ জানুয়ারি ১৯৪২)
যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকো।
৩৩. “মাত্রার বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বাধা হয়।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২৯ আগস্ট ১৯৩৬)
বেশি জিনিস মানেই বোঝা।
৩৪. “চাহিদার সন্তুষ্টি এক বিন্দুতে থামতেই হবে।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২৯ আগস্ট ১৯৩৬)
সীমাহীন চাওয়াই অশান্তি।
৩৫. “সভ্যতা — কর্তব্যের পথ দেখানো আচরণ।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
কর্তব্যই সভ্যতা।
৩৬. “আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহজীব হত্যা বন্ধ চাই।” — মহাত্মা গান্ধী, লোজান ভাষণ (১৯৩১)
প্রাণের প্রতি দয়া রাখো।
৩৭. “মানুষ ফলমূল খেয়ে বাঁচতে জন্মেছে।” — মহাত্মা গান্ধী, লন্ডন ভাষণ (১৯৩১)
প্রকৃতির সঙ্গে বাঁচো।
৩৮. “শ্রেষ্ঠত্ব — অন্যকে বাঁচতে দিয়ে নিজে ত্যাগে।” — মহাত্মা গান্ধী, প্রেমাবেন কান্তককে চিঠি
ত্যাগই মহত্ত্ব।
৩৯. “ক্ষুধার্তের কাছে ঈশ্বর রুটির রূপে আসেন।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
আগে খাওয়াও, তত্ত্ব পরে।
৪০. “সবার কল্যাণ চরম আত্মত্যাগে।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
স্বার্থ ত্যাগ করো।
ঈশ্বর ও বিশ্বাস
ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল শিশুর মতো সরল।
৪১. “পরমাণু নিয়ম মানে; আমরা ঔদ্ধত্যে প্রকৃতির নিয়ম অস্বীকার করি।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩১)
ঔদ্ধত্যই পতনের মূল।
৪২. “আমি আছি, তাই ঈশ্বর আছেন।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩১)
বিশ্বাস হৃদয়ের।
৪৩. “পরীক্ষায় তিনি আমাকে বাঁচিয়েছেন।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৪ এপ্রিল ১৯৩১)
বিশ্বাসই শক্তি।
৪৪. “সব আশা শেষেও কোথা থেকে সাহায্য আসে।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৪ এপ্রিল ১৯৩১)
আশা ছেড়ো না।
৪৫. “ঈশ্বরের কণ্ঠ, বিবেকের কণ্ঠ — একই।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৮ জুলাই ১৯৩৩)
বিবেকের কথা শোনো।
৪৬. “প্রার্থনা চাওয়া নয়; আত্মার আকাঙ্ক্ষা।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
নিজেকে সমর্পণ করো।
৪৭. “ধর্ম শরীরের চেয়েও নিজের অংশ।” — মহাত্মা গান্ধী, গান্ধী (১৯৩৫)
ধর্মকে হালকা নিয়ো না।
৪৮. “চোখের বদলে চোখে পৃথিবী অন্ধ।” — মহাত্মা গান্ধী, দ্য স্টোরি অব মাই এক্সপেরিমেন্টস
ক্ষমাই পথ।
৪৯. “মরার মতো বাঁচো; চিরকালের মতো শেখো।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন (পাঠে মতভেদ)
শেখা থামিয়ো না।
৫০. “সত্য ও অহিংসা পাহাড়ের মতো পুরনো।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
চিরন্তন সত্যকে ধরো।
স্বরাজ ও স্বাধীনতা
স্বরাজ মানে প্রতিটি মানুষের আত্মশাসন।
৫১. “স্বরাজ — ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ক্ষমতা সবার হাতে।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২৯ জানুয়ারি ১৯২৫)
অন্যায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই স্বাধীনতা।
৫২. “ভালো সরকার স্ব-শাসনের বিকল্প নয়।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২ সেপ্টেম্বর ১৯২০)
নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নাও।
৫৩. “ন্যায় চাইলে অন্যকে ন্যায় করো।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
আগে নিজে ন্যায়পরায়ণ হও।
৫৪. “ব্যক্তি না থাকলে সমাজ কী?” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২)
স্বাধীনতা রক্ষা করো।
৫৫. “সেরা শাসিত রাষ্ট্র — সবচেয়ে কম শাসিত।” — মহাত্মা গান্ধী, বি. জি. খের আলোচনা (১৯৪০)
আত্মশাসনই আদর্শ।
৫৬. “রাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যক্তিত্ব ধ্বংস করে।” — মহাত্মা গান্ধী, মডার্ন রিভিউ (১৯৩৫)
ব্যক্তিত্ব বিকিয়ো না।
৫৭. “হিংসায় হিংসা দূর হয় না।” — মহাত্মা গান্ধী, মডার্ন রিভিউ (১৯৩৫)
এটা মনে রেখো।
৫৮. “অহিংস ভারতে বিকেন্দ্রীকরণ চাই।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১৮ জানুয়ারি ১৯৪২)
ক্ষমতা ছড়িয়ে দাও।
৫৯. “যুদ্ধের নাম যাই হোক, ক্ষতি সাধারণের।” — মহাত্মা গান্ধী, নন-ভায়োলেন্স ইন পিস অ্যান্ড ওয়ার (১৯৪২)
শান্তিই পথ।
৬০. “অন্যায় আইন মানতে তুমি বাধ্য নও।” — মহাত্মা গান্ধী, তেন্ডুলকর: মহাত্মা (খণ্ড ২)
শান্তভাবে অস্বীকার করো।
সাতটি সামাজিক পাপ
১৯২৫-এ ইয়ং ইন্ডিয়ায় দেওয়া তালিকা — আজও প্রাসঙ্গিক।
৬১. “নীতিহীন রাজনীতি।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
নীতি ছাড়া রাজনীতি থেকে দূরে থাকো।
৬২. “পরিশ্রমহীন সম্পদ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
ঘাম ছাড়া সম্পদে শান্তি নেই।
৬৩. “বিবেকহীন আনন্দ।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
অন্যের ক্ষতিতে আনন্দ পাপ।
৬৪. “চরিত্রহীন জ্ঞান।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
আগে মানুষ হও।
৬৫. “নৈতিকতাহীন বাণিজ্য।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
সৎ ব্যবসাই টেকে।
৬৬. “মানবতাহীন বিজ্ঞান।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
বিজ্ঞান মানুষের জন্য।
৬৭. “ত্যাগহীন উপাসনা।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (২২ অক্টোবর ১৯২৫)
উপাসনায় হৃদয় দাও।
৬৮. “মুখোশের অহিংসার চেয়ে সৎ হিংসা ভালো।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
ভান কোরো না।
৬৯. “অহিংসা মানে দুষ্কৃতকারীর কাছে আত্মসমর্পণ নয়।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১৯২০)
অহিংসা সাহসী কষ্টভোগ।
৭০. “ভালোবাসা ছাড়া আমার যুক্তি ভেঙে পড়ে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
ভালোবাসাই ভিত্তি।
মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্র
সাংবাদিক গান্ধী জানতেন — সংবাদপত্রের কাজ সত্য বলা।
৭১. “সংবাদপত্রের কাজ — জনমত প্রকাশ, ভালো ভাব জাগানো, ত্রুটি উন্মোচন।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
প্রশ্ন করে সংবাদ পড়ো।
৭২. “হিংসা ছাড়া অসন্তোষ প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত।” — মহাত্মা গান্ধী, বিচারে বিবৃতি (১৯২২)
মতপ্রকাশ রক্ষা করো।
৭৩. “আদালত ক্ষমতা টিকাতেই ব্যবহৃত হয়।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
আগে নিজে ন্যায়পরায়ণ হও।
৭৪. “ভারতের সভ্যতার জুড়ি নেই।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
ঐতিহ্যে গর্ব করো।
৭৫. “তারা আসার আগেই আমরা এক জাতি ছিলাম।” — মহাত্মা গান্ধী, হিন্দ স্বরাজ (১৯০৯)
শিকড় চিনলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
৭৬. “এক আউন্স অনুশীলন টন প্রচারের চেয়ে দামি।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
কম বলো, বেশি করো।
৭৭. “রাগ ও অসহিষ্ণুতা বোঝার শত্রু।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
শান্ত হয়ে ভাবো।
৭৮. “রাগ ভুলে ঘুমোতে যাও।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
ক্ষমা করে ঘুমাও।
৭৯. “বিচার হবে উদ্দেশ্যে, কাজে নয়।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
নিয়ত পরিষ্কার রাখো।
৮০. “সৎ মতভেদ অগ্রগতির লক্ষণ।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
ভিন্নমতকে ভয় পেয়ো না।
শিক্ষা, ভাষা ও মানবতা
মাতৃভাষায় শিক্ষা আর মানুষের মর্যাদা — দুই দাবিই জীবন্ত।
৮১. “মাতৃভাষায় শিখলে চার বছরের পড়া এক বছরে হতো।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৩০ জুলাই ১৯৩৮)
মাতৃভাষায় বোঝা সহজ।
৮২. “নিজ ভাষায় পৃথিবীর জ্ঞান পাক জাতি।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (৩০ জুলাই ১৯৩৮)
বাংলায় জ্ঞানচর্চা করো।
৮৩. “স্বাধীনতা কাড়া শরীরের অনাহারের চেয়েও খারাপ।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১৯৩৩)
মর্যাদা অন্নের চেয়ে জরুরি।
৮৪. “আমি শান্তির সৈনিক।” — মহাত্মা গান্ধী, মহাদেব দেশাইয়ের ডায়েরি (১৯৩২)
শান্তিতেও লড়াই লাগে।
৮৫. “৫১ শতাংশের জন্য ৪৯ শতাংশের বলি — হৃদয়হীন।” — মহাত্মা গান্ধী, মহাদেব দেশাইয়ের ডায়েরি (১৯৩২)
সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করো।
৮৬. “ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আজকের কাজে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
আজকের কাজে মন দাও।
৮৭. “দ্রুততার চেয়েও জীবনে অনেক কিছু আছে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
থেমে দেখো।
৮৮. “প্রকৃত সম্পদ স্বাস্থ্য, সোনা নয়।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
শরীরের যত্ন নাও।
৮৯. “সৎ ‘না’ মিথ্যে ‘হ্যাঁ’-এর চেয়ে ভালো।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
না বলতে শেখো।
৯০. “পাশ্চাত্য সভ্যতা — খুব ভালো ধারণা হতো।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
অন্ধ অনুকরণ নয়।
যুদ্ধ, শান্তি ও মানবতা
হিটলারের যুগেও বলেছিলেন — হিংসায় হিংসা জয় হয় না।
৯১. “পাল্টা-হিংসায় হিংসা জয় হয় না।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২২ জুন ১৯৪০)
ঘৃণায় ঘৃণা বাড়ে।
৯২. “শান্তি চাইলে শিশুদের দিয়ে শুরু করো।” — মহাত্মা গান্ধী, ইয়ং ইন্ডিয়া (১৯ নভেম্বর ১৯৩১)
ভালোবাসা শেখাও।
৯৩. “মুষ্টিমেয় দৃঢ়প্রতিজ্ঞরাই ইতিহাস বদলায়।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১৯ নভেম্বর ১৯৩৮)
বিশ্বাসই শক্তি।
৯৪. “ক্ষুদ্রতমের জন্যও ন্যায়বিচার বলে অসম্ভব।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (২০ এপ্রিল ১৯৪০)
শান্তিপথে চাও।
৯৫. “আমার কোনো শত্রু নেই — সবার বন্ধুত্ব চাই।” — মহাত্মা গান্ধী, হিটলারকে চিঠি (১৯৪০)
শত্রুকেও বন্ধু ভাবো।
৯৬. “আমরা দুই জাতি নই।” — মহাত্মা গান্ধী, লুই ফিশার আলাপ (১৯৪২)
বিভেদ থেকে দূরে থাকো।
৯৭. “ধর্মে বিভেদের বিরুদ্ধে আমার আত্মা বিদ্রোহী।” — মহাত্মা গান্ধী, হরিজন (১৩ এপ্রিল ১৯৪০)
মানবতাই বড়।
৯৮. “পশুর প্রতি আচরণে জাতির মহত্ত্ব।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
দুর্বলের প্রতি দয়া রাখো।
৯৯. “কিছু না করলে ফল হবে না।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
কাজ শুরু করো।
১০০. “ইতিহাসে সত্য ও ভালোবাসাই জিতেছে।” — মহাত্মা গান্ধী, উইকিকোট সংকলন
হতাশ হয়ো না।
মহাত্মা গান্ধীর উক্তি: সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: গান্ধীর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি কোনটি?
উত্তর: “দুর্বল কখনো ক্ষমা করতে পারে না; ক্ষমা শক্তিশালীর গুণ” — ১৯৩১ সালে ইয়ং ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকার থেকে। আর “চোখের বদলে চোখ নিলে পুরো পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে” লাইনটিও বহুল উদ্ধৃত।
প্রশ্ন ২: “বি দ্য চেঞ্জ” কথাটা কি গান্ধী বলেছিলেন?
উত্তর: এই শব্দে নয়। তবে ১৯১৩ সালে ইন্ডিয়ান ওপিনিয়নে তিনি লিখেছিলেন — “আমরা বদলালে পৃথিবীর প্রবণতাও বদলাবে” — এই ভাবনারই জনপ্রিয় রূপ হলো “be the change”।
প্রশ্ন ৩: সাতটি সামাজিক পাপ কী কী?
উত্তর: নীতিহীন রাজনীতি, পরিশ্রমহীন সম্পদ, বিবেকহীন আনন্দ, চরিত্রহীন জ্ঞান, নৈতিকতাহীন বাণিজ্য, মানবতাহীন বিজ্ঞান ও ত্যাগহীন উপাসনা — ইয়ং ইন্ডিয়া, ২২ অক্টোবর ১৯২৫।
প্রশ্ন ৪: গান্ধীর নামে অনেক উক্তি দেখি — সব কি আসল?
উত্তর: না। যেমন “ফার্স্ট দে ইগনোর ইউ…” আসলে নিকোলাস ক্লাইনের, “নোবডি ক্যান হার্ট মি…”-এরও নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। এই প্রবন্ধে শুধু যাচাইকৃত ১০০টিই রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: হিন্দ স্বরাজ বইটি কী নিয়ে?
উত্তর: ১৯০৯ সালে লেখা গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনের বই — সভ্যতা, স্বরাজ, অহিংসা ও ধর্ম নিয়ে সংলাপ-আকারে লেখা। এই প্রবন্ধের অনেক উক্তি এই বই থেকে।
প্রশ্ন ৬: এই উক্তিগুলো কি স্ট্যাটাসে ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: ব্যক্তিগত শেয়ারে হ্যাঁ — গান্ধীর নাম ও উৎস (যেমন ইয়ং ইন্ডিয়া) উল্লেখ করে শেয়ার করাই শোভন।
গান্ধীর বাণী ভালো লাগলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: এ পি জে আব্দুল কালামের উক্তি, স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি — আর সত্য, ক্ষমা, শান্তি, মানবতা ও সরল জীবন নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় বাণীটি শেয়ার করো — হয়তো কারো মনে শান্তির বীজ বুনে দেবে।