মূল কন্টেন্টে যান

বুদ্ধের উক্তি: জীবন, শান্তি ও সুখ নিয়ে ১০০+ অনুপ্রেরণামূলক বাণী

June 29, 2026 · উক্তি সংগ্রহ

গৌতম বুদ্ধের বাণী আড়াই হাজার বছর পরেও মানুষের মনকে শান্ত করে। দুঃখ, ক্রোধ, আসক্তি আর ভয় — আধুনিক জীবনের এইসব যন্ত্রণার ওষুধ তিনি দিয়ে গেছেন সহজ, সরল কথায়। তাঁর শিক্ষার মূলে আছে একটাই সত্য — মনকে শাসন করতে পারলেই জীবনকে শাসন করা যায়।

এই প্রবন্ধে রইল বুদ্ধের ১০০টি যাচাইকৃত বাণী — বেশিরভাগই ধম্মপদ-এর ৪২৩টি শ্লোক থেকে, প্রতিটির শ্লোক নম্বরসহ; সঙ্গে আছে সুত্ত পিটকের নির্ভরযোগ্য সুত্রের উদ্ধৃতি। মন, ক্রোধ, কর্ম, করুণা, ধ্যান, তৃষ্ণা ও নির্বাণ — দশটি থিমে সাজানো এই সংগ্রহ বুদ্ধের শিক্ষাকে নির্ভরযোগ্যভাবে চেনার পথ। বাংলায় অনুবাদ করেছে বইইনফো সম্পাদকীয় দল। ইন্টারনেটে বুদ্ধের নামে ছড়ানো যাচাই-না-হওয়া উক্তি — যেমন “মনই সবকিছু” ধরনের কাটছাঁট বাক্য — এখানে ইচ্ছে করেই রাখা হয়নি।

একটি সৎ কথা: নিচের ১০০টি বাণীই গৌতম বুদ্ধের নামে প্রচলিত কথার মধ্যে থেকে যাচাই করে বাছাই করা — প্রতিটি ধম্মপদ-এর নির্দিষ্ট শ্লোক (শ্লোক নম্বর উল্লেখসহ) বা পালি ত্রিপিটকের নির্দিষ্ট সুত্ত (যেমন কালাম সুত্ত, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, মেত্তা সুত্ত) থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ। বাংলা অনুবাদ বইইনফো সম্পাদকীয় দলের; যাচাই-না-হওয়া ইন্টারনেট-উক্তি এখানে নেই।

মনই সবকিছুর পূর্বগামী

বুদ্ধের শিক্ষার শুরু মন থেকে — ভেতরের মনকে শাসন করতে পারলেই জীবন বদলায়।

১. “মন সব ধর্মের পূর্বগামী, মনই প্রধান। মলিন মনে কাজ করলে দুঃখ অনুসরণ করে — যেমন চাকা বলদের পা।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১

চিন্তাই ভাগ্য গড়ে — মন শুদ্ধ রাখো।

২. “মন সব ধর্মের পূর্বগামী, মনই প্রধান। প্রসন্ন মনে কাজ করলে সুখ অনুসরণ করে — যেমন ছায়া সঙ্গ ছাড়ে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২

ভালো চিন্তাই ভালো জীবনের বীজ।

৩. “মন চঞ্চল, অস্থির, রক্ষা-দমন কঠিন। জ্ঞানী একে সোজা করেন — যেমন শরনির্মাতা তীর সোজা করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩

অশান্ত মনকে শাসন করাই সাধনার শুরু।

৪. “মন দমন করা কঠিন, দ্রুতগামী, যথেচ্ছ বিচরণশীল। মনকে দমন করা ভালো; দমিত মন সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫

মন জয় মানেই জীবন জয়।

৫. “মন অত্যন্ত দুর্লক্ষ্য, সূক্ষ্ম, যথেচ্ছ বিচরণশীল। জ্ঞানী মনকে রক্ষা করুক; রক্ষিত মন সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬

মনের পাহারাদার হও — এটাই শান্তির পথ।

৬. “দেহরূপ গুহায় বাস করে মন দূরে যায়, একাকী বিচরণ করে। যারা মনকে সংযত করে, তারা মারের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭

মন বাঁধতে পারলেই মুক্তি।

৭. “শত্রু শত্রুর বা হিংসুক হিংসুকের যা ক্ষতি করে, বিপথগামী মন তোমার তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪২

সবচেয়ে বড় শত্রু ভেতরেই।

৮. “মা-বাবা বা কোনো আত্মীয় যা করতে পারে না, সুপথগামী মন তা করতে পারে — তোমাকে উন্নত করতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৩

সঠিক মানসিকতাই শ্রেষ্ঠ বন্ধু।

৯. “দক্ষ মালাকারের মতো ফুল তোলার মতো করে কে ধর্মপদগুলো তুলে নেবে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৪

জ্ঞানের ফুল কুড়িয়ে নেওয়াই জীবনের কাজ।

১০. “বিজ্ঞ শিক্ষার্থী পৃথিবী ও যমলোক জয় করবে; ফুল তোলার মতো সে ধর্মপদগুলো তুলে নেবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৫

শেখার আগ্রহই বড় করে।

ক্রোধ জয় ও ক্ষমা

ঘৃণা দিয়ে ঘৃণা মোছে না — ক্রোধকে জয় করতে হয় অক্রোধে, মন্দকে ভালোতে।

১১. “’আমাকে গালি দিল, মারল, লুটল’ — যারা এমন চিন্তা পোষণ করে না, তাদের ঘৃণা শান্ত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩-৪

অপমানের স্মৃতি আঁকড়ে থাকলে ঘৃণা বাঁচে।

১২. “এ জগতে ঘৃণা কখনো ঘৃণায় শান্ত হয় না; অঘৃণাতেই ঘৃণা শান্ত হয় — এ চিরন্তন নিয়ম।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৫

ঘৃণার আগুন নেভে ক্ষমায়, ঘৃণায় নয়।

১৩. “ক্রোধকে জয় করো অক্রোধে, মন্দকে ভালোতে; কৃপণকে দানে, মিথ্যাবাদীকে সত্যে জয় করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৩

মন্দের জবাব ভালো — এটাই বীরত্ব।

১৪. “সত্য কথা বলো, ক্রোধের বশ হয়ো না; চাইলে অল্প থেকে হলেও দাও — এই তিনে দেবলোকে যাওয়া যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৪

সত্য, সংযম আর দান — তিনটেই স্বর্গের সিঁড়ি।

১৫. “অন্যের দোষ, অন্যের কৃত-অকৃত কর্মের দিকে তাকিও না; নিজের কৃত-অকৃত কর্মের দিকেই তাকাও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৫০

অন্যের বিচার ছেড়ে নিজেকে শোধরাও।

১৬. “কাউকে কঠোর কথা বোলো না; যাকে বলবে সে পাল্টা বলবে। প্রতিহিংসার বাক্য বেদনাদায়ক; পাল্টা আঘাত তোমাকেও ছুঁতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩৩

কথার আঘাত ফিরে আসে — জিভ সংযত রাখো।

১৭. “ভাঙা কাঁসার মতো নিজেকে নীরব করলে তুমি নির্বাণে পৌঁছে গেছ; তোমার মধ্যে প্রতিহিংসা থাকবে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩৪

নীরবতাই ক্রোধের বড় জবাব।

১৮. “দেহের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; দেহে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩১

হাত ওঠার আগেই মনকে থামাও।

১৯. “বাক্যের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; বাক্যে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩২

রাগের মাথায় বলা কথা সারাজীবনের অনুশোচনা।

২০. “মনের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; মনে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩৩

ক্রোধের বীজ মনেই — সেখানেই উপড়াও।

কর্ম ও তার ফল

যেমন বীজ, তেমন ফল — ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে, তেমনি অল্প অল্প করে পাপ-পুণ্য জমে।

২১. “সৎকাজে ত্বরা করো; মনকে পাপ থেকে বিরত রাখো। যে সৎকাজে ঢিলে, তার মন পাপে আনন্দ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৬

ভালো কাজে দেরি কোরো না।

২২. “কেউ পাপ করলে বারবার তা কোরো না; তাতে আনন্দ পেয়ো না। পাপের সঞ্চয় দুঃখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৭

ভুল বারবার করলে অভ্যাস হয়।

২৩. “কেউ ভালো করলে বারবার তা করুক; তাতে আনন্দ পাক। পুণ্যের সঞ্চয় সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৮

ভালো অভ্যাসই সুখের ব্যাংক।

২৪. “সজ্জনও পাপকে ভালো দেখে যতক্ষণ তার পুণ্য না পাকে; পুণ্য পাকলে তখন ভালোকে ভালো দেখে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৯

ফল পাকতে সময় লাগে।

২৫. “দুর্জনও ভালোকে মন্দ দেখে যতক্ষণ তার পাপ না পাকে; পাপ পাকলে তখন মন্দকে মন্দ দেখে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২০

পাপের ফল দেরিতে হলেও আসে।

২৬. “পাপকে তুচ্ছ ভেবো না। ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে; তেমনি মূর্খ অল্প অল্প করে পাপে পূর্ণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২১

ছোট পাপও জমে পাহাড় হয়।

২৭. “পুণ্যকে তুচ্ছ ভেবো না। ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে; তেমনি জ্ঞানী অল্প অল্প করে পুণ্যে পূর্ণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২২

ছোট ভালো কাজও জমে সম্পদ হয়।

২৮. “আকাশে নয়, সাগরের মাঝে নয়, পাহাড়ের গুহায় নয় — পাপকর্মের ফল থেকে পালানোর জায়গা কোথাও নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৭

কর্মফল থেকে পালানো যায় না।

২৯. “আকাশে নয়, সাগরের মাঝে নয়, পাহাড়ের গুহায় নয় — মৃত্যু থেকে পালানোর জায়গা কোথাও নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৮

মৃত্যু অনিবার্য — জীবন অর্থবহ করো।

৩০. “মন্দ কর্ম দুধের মতো সঙ্গে সঙ্গে টকে না; ছাইচাপা আগুনের মতো মূর্খকে অনুসরণ করে পোড়ায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৭১

পাপের আগুন নেভে না, অপেক্ষা করে।

অহিংসা ও করুণা

সব প্রাণী হিংসায় কাঁপে, সবাই মৃত্যুকে ভয় পায় — নিজেকে অন্যের জায়গায় বসিয়ে দেখো।

৩১. “সবাই হিংসায় কাঁপে, মৃত্যুকে ভয় পায় — নিজের সঙ্গে তুলনা করে কাউকে হত্যা কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৯

অন্যের প্রাণও তোমার মতোই দামি।

৩২. “সবাই হিংসায় কাঁপে; সবার কাছে জীবন প্রিয় — নিজের সঙ্গে তুলনা করে কাউকে হত্যা কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩০

অহিংসাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।

৩৩. “নিজের সুখ চেয়ে সুখকামী প্রাণীদের দণ্ডে আঘাত করে যে, সে মৃত্যুর পর সুখ পায় না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩১

অন্যের দুঃখে নিজের সুখ গড়া যায় না।

৩৪. “নিজের সুখ চেয়েও সুখকামী প্রাণীদের দণ্ডে আঘাত করে না যে, সে মৃত্যুর পর সুখ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩২

দয়া করলে দয়া ফিরে পাবে।

৩৫. “নির্দোষের ওপর দোষ চাপালে মন্দ নিজের ওপরই ফিরে আসে — যেমন বাতাসের বিপরীতে ছোড়া ধুলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৫

অন্যায়ের তীর ঘুরে নিজের দিকে আসে।

৩৬. “সব প্রাণী সুখী হোক, নিরাপদ হোক — এই মৈত্রীভাবনা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মেত্তা সুত্ত (সুত্ত নিপাত ১.৮)

শত্রু-মিত্র সবার মঙ্গল কামনা করো।

৩৭. “মা যেমন একমাত্র সন্তানকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করে, তেমনি সব প্রাণীর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা পোষণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মেত্তা সুত্ত (সুত্ত নিপাত ১.৮)

মায়ের ভালোবাসাই করুণার আদর্শ।

৩৮. “যে ঋষিরা অহিংস ও সর্বদা সংযত, তারা অমৃতপদে যান — যেখানে গিয়ে আর শোক থাকে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৫

অহিংসাই অমরত্বের পথ।

৩৯. “অলঙ্কৃত হলেও যে শান্ত, দান্ত, নিয়ত, সংযত — সব প্রাণীর প্রতি দণ্ড ত্যাগ করেছে, সেই ব্রাহ্মণ, সেই শ্রমণ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৪২

পোশাকে নয়, আচরণে মানুষ চেনা যায়।

৪০. “অহো, আমরা কত সুখে বাস করি — ঘৃণাকারীদের মধ্যে ঘৃণাহীন হয়ে!” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৯৭

ঘৃণার জবাবে ঘৃণা নয় — এটাই সুখ।

প্রজ্ঞা, ধ্যান ও মূর্খ-জ্ঞানীর পার্থক্য

ধ্যান ছাড়া প্রজ্ঞা জন্মায় না — আর মূর্খ ও জ্ঞানীর পার্থক্য বোধের গভীরতায়।

৪১. “ধ্যান থেকে প্রজ্ঞা জন্মায়; ধ্যান ছাড়া প্রজ্ঞা ক্ষয় পায় — এই দুই পথ জেনে চলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮২

প্রতিদিনের ধ্যান প্রজ্ঞার খোরাক।

৪২. “যার ধ্যান নেই তার প্রজ্ঞা নেই; যার প্রজ্ঞা নেই তার ধ্যান নেই। যার দুটোই আছে, সেই নির্বাণের কাছে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭২

ধ্যান-প্রজ্ঞা একে অন্যের পরিপূরক।

৪৩. “ধ্যান করো, হে ভিক্ষু! প্রমত্ত হয়ো না! মনকে কামভোগে ঘোরাতে দিও না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭১

অলস মনই পাপের কারখানা।

৪৪. “নির্জন আবাসে মন শান্ত করে ধর্মকে প্রজ্ঞায় যে দেখে, তার মধ্যে মানবীয় সব আনন্দ ছাড়িয়ে যাওয়া আনন্দ জাগে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৩

নির্জনতায় ভেতরের আনন্দ মেলে।

৪৫. “স্কন্ধের উৎপত্তি-বিলয় প্রজ্ঞায় দেখে যে আনন্দ-সুখ পায়, বিজ্ঞজনের কাছে এটাই অমৃত।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৪

সব বদলায় — এই বোধই মুক্তি।

৪৬. “নিজেকে মূর্খ জেনে যে মূর্খ, সে সেই কারণে জ্ঞানী; নিজেকে জ্ঞানী ভাবা মূর্খই আসল মূর্খ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬২

অজ্ঞতা স্বীকারই জ্ঞানের প্রথম ধাপ।

৪৭. “মূর্খ সারাজীবন জ্ঞানীর সঙ্গে থাকলেও সত্য বোঝে না — যেমন চামচ ঝোলের স্বাদ পায় না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬৩

কাছে থাকলেই শেখা হয় না।

৪৮. “বুদ্ধিমান মুহূর্তের সঙ্গেও সত্য বুঝে ফেলে — যেমন জিভ ঝোলের স্বাদ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬৪

গ্রহণশীল মন অল্পতেই শেখে।

৪৯. “অল্পশ্রুত মানুষ বলদের মতো বুড়ো হয় — মাংস বাড়ে, প্রজ্ঞা বাড়ে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৫২

বয়স বাড়লেই জ্ঞান বাড়ে না।

৫০. “যে আগে অসতর্ক থেকে এখন সতর্ক হয়, সে মেঘমুক্ত চাঁদের মতো জগৎ আলোকিত করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৭৩

বদলাতে কখনো দেরি হয় না।

সতর্কতা ও সংযম

অপ্রমাদ অর্থাৎ সতর্ক মনোযোগই বুদ্ধের শিক্ষার প্রাণ।

৫১. “অপ্রমাদ অমৃতের পথ; প্রমাদ মৃত্যুর পথ। অপ্রমত্তরা মরে না; প্রমত্তরা মৃতপ্রায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২১

সতর্কতাই জীবন, অসতর্কতাই মৃত্যু।

৫২. “অপ্রমাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট বুঝে জ্ঞানীরা অপ্রমাদে আনন্দ পান।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২

সতর্কতায় আনন্দ পাওয়াই জ্ঞানীর লক্ষণ।

৫৩. “প্রমত্তদের মধ্যে অপ্রমত্ত, ঘুমন্তদের মধ্যে জাগ্রত — জ্ঞানী এগিয়ে যান দ্রুত ঘোড়ার মতো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৯

সবাই ঘুমালে জাগ্রতজনই এগিয়ে যায়।

৫৪. “অপ্রমাদে রত ভিক্ষু প্রমাদে ভয় দেখে — আগুনের মতো এগিয়ে যায়, বন্ধন ছিঁড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩১

সতর্কতাই সব বন্ধন পোড়ায়।

৫৫. “অপ্রমাদে রত ভিক্ষুর পতন অসম্ভব — সে নির্বাণের দ্বারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২

সতর্ক মানুষের পতন হয় না।

৫৬. “জাগো! প্রমত্ত হয়ো না! সদাচার অনুসরণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬৮

প্রতিদিন সকালে নিজেকে এই কথা বলো।

৫৭. “ধীরে ধীরে, ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞানী নিজের মলিনতা দূর করে — যেমন স্বর্ণকার রূপার মরিচা দূর করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩৯

আত্মশুদ্ধি প্রতিদিনের কাজ।

৫৮. “বাক্যে সতর্ক, মনে সুসংযত হও; দেহে পাপ কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮১

তিন দ্বারের পাহারা রাখো।

৫৯. “চোখের সংযম ভালো, কানের সংযম ভালো, নাকের সংযম ভালো, জিভের সংযম ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬০

ইন্দ্রিয় সংযমই মনের শান্তি।

৬০. “দেহে সংযম ভালো, বাক্যে সংযম ভালো, মনে সংযম ভালো — সর্বত্র সংযম ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬১

সর্বাঙ্গীণ সংযমই পূর্ণ মুক্তি।

নিজের ওপর নির্ভর করো

বুদ্ধ অন্ধ অনুসরণ চাননি — নিজেই নিজের দ্বীপ হও, নিজেই নিজের আশ্রয়।

৬১. “নিজের দ্বারাই পাপ, নিজের দ্বারাই শুদ্ধি — কেউ কাউকে শুদ্ধ করতে পারে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬৫

মুক্তির চাবি তোমার হাতেই।

৬২. “তোমাদের নিজেদেরই চেষ্টা করতে হবে; বুদ্ধগণ শুধু পথ দেখান।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৬

পথ দেখানো যায়, হাঁটা নিজের।

৬৩. “নিজেকে নিজে উদ্বুদ্ধ করো; নিজেকে নিজে পরীক্ষা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৯

নিজের শিক্ষক নিজে হও।

৬৪. “নিজেই নিজের রক্ষক; আর কে রক্ষক হতে পারে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৮০

নিজের চেয়ে বড় আশ্রয় নেই।

৬৫. “নিজেই নিজের প্রভু; আর কে প্রভু হতে পারে? নিজেকে ভালোভাবে দমন করে দুর্লভ প্রভুত্ব পাওয়া যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬০

আত্মশাসনই স্বাধীনতা।

৬৬. “নিজের করা, নিজের থেকে জন্মানো পাপ মূর্খকে ধ্বংস করে — যেমন বজ্রমণি মূল্যবান পাথর কাটে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬১

নিজের পাপ নিজেকেই কাটে।

৬৭. “আমি সব জয় করেছি, সব জানি, সব ত্যাগ করেছি — নিজে জেনেছি; আমার গুরু কে হবে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫৩

আত্মজ্ঞানই সর্বোচ্চ গুরু।

৬৮. “শোনা কথা, ঐতিহ্য, গুজব বা শাস্ত্রের কর্তৃত্বে যেও না। নিজে জেনে যা কল্যাণকর, তাই গ্রহণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, কালাম সুত্ত, অঙ্গুত্তর নিকায় ৩.৬৫

অন্ধবিশ্বাস নয়, যাচাই করে বিশ্বাস করো।

৬৯. “নিজেই নিজের দ্বীপ হও, নিজেই নিজের আশ্রয় হও — বাইরের আশ্রয় খুঁজো না।” — গৌতম বুদ্ধ, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, দীঘ নিকায় ১৬

এটাই আত্মনির্ভরতার মূলমন্ত্র।

৭০. “সব সংস্কার ক্ষয়শীল; অপ্রমাদের সঙ্গে সাধনা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, দীঘ নিকায় ১৬ (বুদ্ধের শেষ বাণী)

এটাই বুদ্ধের শেষ কথা।

তৃষ্ণা ও আসক্তি ত্যাগ

দুঃখের মূলে তৃষ্ণা — এই লতা উপড়ে ফেলতে পারলেই দুঃখের শেষ।

৭১. “প্রমত্ত মানুষের তৃষ্ণা মালুবা লতার মতো বাড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৪

অসতর্ক মনে কামনা গজায়।

৭২. “এই হীন আসক্তি-তৃষ্ণায় যে অভিভূত, তার শোক বর্ষার ঘাসের মতো বাড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৫

তৃষ্ণা বাড়লে দুঃখ বাড়ে।

৭৩. “যে এই দুর্জয় তৃষ্ণা জয় করে, তার শোক পদ্মপাতার জলবিন্দুর মতো ঝরে যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৬

তৃষ্ণা গেলে দুঃখও থাকে না।

৭৪. “কাটা গাছও যদি মূল অক্ষত থাকে আবার গজায়, তেমনি সুপ্ত তৃষ্ণা না উপড়ালে দুঃখ বারবার জন্মায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৮

মূলে আঘাত করো, ডালে নয়।

৭৫. “তৃষ্ণার স্রোত সবদিকে বয়; তৃষ্ণার লতা গজিয়ে দাঁড়ায়। লতা গজাতে দেখে প্রজ্ঞা দিয়ে তার মূল কেটে ফেলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪০

শুরুতেই লোভ চিনে থামাও।

৭৬. “ইচ্ছার বন কেটে ফেলো, গাছ নয়। ইচ্ছার বন থেকে ভয় জন্মায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৩

ভয়ের মূলে অফুরন্ত চাওয়া।

৭৭. “শরতের পদ্ম যেমন হাতে ছিঁড়ে ফেলো, তেমনি আসক্তি ছিঁড়ে ফেলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৫

মায়া ছিঁড়তে দ্বিধা কোরো না।

৭৮. “সন্তান-সম্পদে আসক্ত মনকে মৃত্যু নিয়ে যায় — যেমন মহাপ্লাবন ঘুমন্ত গ্রাম ভাসিয়ে নেয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৭

আসক্তিতে ঘুমালে জাগরণের আগেই শেষ।

৭৯. “পাপচিন্তায় বিক্ষিপ্ত, রাগে পূর্ণ, শুধু প্রিয়দিকে তাকানো মানুষের তৃষ্ণা বাড়তেই থাকে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪৯

ভালো লাগার পেছনে ছুটলেই তৃষ্ণা বাড়ে।

৮০. “যে পাপচিন্তা দমনে আনন্দ পায়, অশুভ ভাবনা করে, সদা স্মৃতিমান — সে তৃষ্ণার শেষ করবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫০

মনের ব্যায়ামই তৃষ্ণার ওষুধ।

সৎ সঙ্গ ও বন্ধুত্ব

সঙ্গ মানুষকে গড়ে বা ভাঙে — মূর্খের সঙ্গের চেয়ে একা চলা ভালো।

৮১. “ভ্রমণে যদি শ্রেষ্ঠ বা সমান সঙ্গী না পাও, দৃঢ়ভাবে একাকী পথ চলো; মূর্খের সঙ্গে সঙ্গ নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬১

খারাপ সঙ্গের চেয়ে একা ভালো।

৮২. “বুদ্ধিমান সঙ্গী, জ্ঞানী ও বিচক্ষণ বন্ধু পেলে তার সঙ্গে স্মৃতিমান ও আনন্দিত হয়ে চলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৬

ভালো বন্ধু জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

৮৩. “বুদ্ধিমান সঙ্গী না পেলে একা চলো — যেমন রাজ্য ত্যাগী রাজা, যেমন বনের হাতি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৭

একা চলাও একটা গুণ।

৮৪. “মূর্খকে সঙ্গী করে চলার চেয়ে একা চলা ভালো। একা চলো, পাপ না করে, স্বচ্ছন্দে — যেমন বনের হাতি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৮

সঙ্গ বাছাইয়ে ভুল কোরো না।

৮৫. “প্রয়োজনে বন্ধু ভালো; যা পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্টি ভালো; জীবনশেষে পুণ্য ভালো; সব দুঃখ ত্যাগ ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩১

সত্যিকারের বন্ধু চেনা যায় প্রয়োজনে।

৮৬. “বিজ্ঞ ভিক্ষুর শুরু এটাই — ইন্দ্রিয়সংযম, সন্তুষ্টি, শীলসংযম, আর সৎ-উদ্যমী-শুদ্ধজীবী বন্ধুর সঙ্গ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৫

ভালো পথের শুরু ভালো সঙ্গ।

৮৭. “আচরণে বন্ধুভাবাপন্ন ও বিনয়ী হও; তাহলে আনন্দিত হয়ে দুঃখের শেষ করবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৬

বিনয়-বন্ধুভাব দুঃখ ভোলায়।

৮৮. “শ্রদ্ধা-শীল-যশ-ভোগসম্পন্ন ভিক্ষু যেখানেই যায়, সেখানেই সম্মানিত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩০৩

চরিত্রবান সর্বত্র সম্মান পায়।

৮৯. “সজ্জন দূর থেকেও জ্বলেন — হিমালয় পর্বতের মতো; দুর্জন দেখা যায় না — রাতে ছোড়া তীরের মতো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩০৪

ভালো মানুষের খ্যাতি দূরে ছড়ায়।

৯০. “জন্মে কেউ নীচ হয় না, জন্মে কেউ ব্রাহ্মণ হয় না; কর্মেই নীচ হয়, কর্মেই ব্রাহ্মণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, সুত্ত নিপাত ১৩৬

মানুষের মাপ জন্মে নয়, কর্মে।

নির্বাণ ও পরম সত্য

সব সংস্কার অনিত্য, সব দুঃখময়, সব অনাত্ম — এই তিন সত্যই নির্বাণের দ্বার।

৯১. “সব পাপ থেকে বিরত থাকা, কল্যাণের অনুশীলন, নিজের মনকে শুদ্ধ করা — এটাই সব বুদ্ধের শিক্ষা।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৮৩

বুদ্ধের পুরো শিক্ষা এক শ্লোকে।

৯২. “সব সংস্কার অনিত্য — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৭

কিছুই স্থায়ী নয় — এই বোধ মুক্তি।

৯৩. “সব সংস্কার দুঃখময় — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৮

আসক্তিতে দুঃখ, ত্যাগে শান্তি।

৯৪. “সব ধর্ম অনাত্ম — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৯

‘আমি’ বলে কিছু নেই — এই উপলব্ধি জ্ঞান।

৯৫. “অতীত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ত্যাগ করো; সব ভবের পারে গেলে আর জন্ম-মৃত্যু হবে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪৮

সব ছাড়তে পারলে সব পাওয়া যায়।

৯৬. “ধর্মদান সব দানকে ছাড়িয়ে যায়; ধর্মরস সব রসকে; ধর্মানন্দ সব আনন্দকে। তৃষ্ণার ক্ষয় সব দুঃখকে জয় করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫৪

জ্ঞানদানই শ্রেষ্ঠ দান।

৯৭. “দিনে সূর্য জ্বলে, রাতে চাঁদ জ্বলে; যোদ্ধা জ্বলে বর্মে, ব্রাহ্মণ ধ্যানে — কিন্তু বুদ্ধ জ্বলেন দিনরাত মহিমায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৮৭

জ্ঞানীর দীপ্তি কখনো নেভে না।

৯৮. “যিনি পূর্বজন্ম জানেন, স্বর্গ-নরক দেখেন, জন্মের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন — তাঁকেই আমি ব্রাহ্মণ বলি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪২৩

জন্ম নয়, জ্ঞান মানুষকে মহান করে।

৯৯. “এই নৌকা খালি করো, হে ভিক্ষু! খালি হলে হালকা চলবে; রাগ-দ্বেষ ছিন্ন করে নির্বাণে পৌঁছবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬৯

মনের বোঝা ফেললে যাত্রা হালকা।

১০০. “আরোগ্যই পরম লাভ, সন্তোষই পরম ধন, বিশ্বাসই পরম জ্ঞাতি, নির্বাণই পরম সুখ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২০৪

সুখের চার স্তম্ভ।


প্রশ্ন ১: বুদ্ধের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাণী কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: ধম্মপদ-এ — খুদ্দক নিকায়ের এই গ্রন্থে ৪২৩টি শ্লোকে বুদ্ধের মূল শিক্ষা সংকলিত — শ্লোক নম্বরসহ।

প্রশ্ন ২: “মনই সবকিছু, যা ভাবো তাই হও” — এটা কি বুদ্ধের উক্তি?
উত্তর: এই সঠিক বাক্যটির প্রাচীন উৎস নেই; এটি ধম্মপদ-এর ১ম শ্লোকের (“মন সব ধর্মের পূর্বগামী”) পরবর্তীকালের সংক্ষিপ্ত রূপ — মূল শ্লোক ১ নম্বরে।

প্রশ্ন ৩: বুদ্ধ কি নিজে কিছু লিখে গেছেন?
উত্তর: না। শিষ্যরা মৌখিকভাবে সংরক্ষণ করেন, পরে ত্রিপিটকে লিপিবদ্ধ হয় — তাই সুত্তের নামসহ উদ্ধৃতিই নির্ভরযোগ্য।

প্রশ্ন ৪: কালাম সুত্ত কী শেখায়?
উত্তর: অন্ধবিশ্বাস নয় — নিজে যাচাই করে যা কল্যাণকর তাই গ্রহণ করতে শেখায়।

প্রশ্ন ৫: বুদ্ধের শেষ কথা কী ছিল?
উত্তর: “সব সংস্কার ক্ষয়শীল; অপ্রমাদের সঙ্গে সাধনা করো” — মহাপরিনির্বাণ সুত্ত (দীঘ নিকায় ১৬) অনুযায়ী তাঁর শেষ বাণী।

প্রশ্ন ৬: এই বাণীগুলোর বাংলা অনুবাদ কি নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: প্রতিটি বাণী নির্দিষ্ট শ্লোক বা সুত্তের সংক্ষিপ্ত বাংলা রূপান্তর — যাচাই-না-হওয়া উক্তি বাদ দেওয়া হয়েছে।


বুদ্ধের বাণী পড়ে মনে শান্তি পেলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: সক্রেটিসের উক্তি, বিশ্ব বিখ্যাত মনীষীদের উক্তি, এরিস্টটলের উক্তি — আর শান্তি, সুখ, ধৈর্য ও জীবন নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় বাণীটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো — হয়তো কারো অশান্ত মনে একটু শান্তি আসবে।

আরও উক্তি সংগ্রহ

সব উক্তি →

“জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হয় না — কারণ জীবন নিজেই প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প লেখে। কখনো সেই গল্পে হাসি থাকে, কখনো কান্না; কখনো অপ্রত্যাশিত সাফল্য, কখনো হঠাৎ ভেঙে…”

আরও দেখুন →

“ভালোবাসার উক্তি: ১৫০+ সুন্দর প্রেমের উক্তি, বাণী ও ভালোবাসার কথা ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ, আবার সবচেয়ে গভীর অনুভূতি। এটা কখনো আসে প্রথম দেখার এক ঝলকে — ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ চোখে…”

আরও দেখুন →

“কষ্টের উক্তি: ১০০+ হৃদয় ছোঁয়া কষ্টের কথা ও বাস্তব জীবনের বাণী কষ্ট জীবনের এমন এক সত্য, যা থেকে কেউ রেহাই পায় না — ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সবাই কোনো না কোনোভাবে কষ্টের…”

আরও দেখুন →

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।