মূল কন্টেন্টে যান

এরিস্টটলের উক্তি: জীবন, জ্ঞান ও সফলতা নিয়ে ১০০+ দার্শনিক বাণী

July 1, 2026 · উক্তি সংগ্রহ

এরিস্টটল — প্লেটোর শিষ্য, আলেকজান্ডারের শিক্ষক, আর পশ্চিমা দর্শনের ভিত্তি গড়ে দেওয়া মানুষ। নীতিশাস্ত্র, রাজনীতি, যুক্তিবিদ্যা, জীববিজ্ঞান — জ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই, যেখানে তাঁর ছাপ নেই। তাঁর লেখা পড়লে মনে হয়, আড়াই হাজার বছর আগের এক মানুষ আজকের পৃথিবীটাকেই দেখছেন।

এই প্রবন্ধে রইল এরিস্টটলের গ্রন্থ থেকে বাছাই করা ১০০টি যাচাইকৃত বাণীর বাংলা অনুবাদ — সদ্গুণ, অভ্যাস, সুখ, বন্ধুত্ব, ন্যায় ও যুক্তি নিয়ে। তাঁর নামে ইন্টারনেটে ছড়ানো ভুয়া উক্তি বাদ দিয়ে শুধু গ্রন্থে পাওয়া বা প্রাচীন জীবনীকারদের উদ্ধৃত বাণীই রাখা হয়েছে। প্রতিটি বাণীর সঙ্গে গ্রন্থের নাম ও বেকার নম্বর দেওয়া আছে, যাতে মূল পাঠ মিলিয়ে নেওয়া যায়। নিচে এক লাইনের ব্যাখ্যাও আছে — দার্শনিক ভাবনাকে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জুড়তে।

নিচের ১০০টি বাণীই এরিস্টটলের লেখা গ্রন্থ — নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র, পলিটিক্স, মেটাফিজিক্স, রেটরিক, পোয়েটিক্স — থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ, অথবা প্রাচীন জীবনীকার ডায়োজিনিস লার্টিয়াস ও স্টোবাইয়াসের লেখায় তাঁর উক্তি হিসেবে উদ্ধৃত। প্রতিটির সঙ্গে গ্রন্থের নাম ও বেকার নম্বর দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছে বইইনফো সম্পাদনা টিম। তাঁর নামে ছড়ানো যাচাই-না-হওয়া উক্তি (যেমন “আমরা যা বারবার করি, তাই আমরা” — আসলে উইল ডুরান্টের সারসংক্ষেপ) ইচ্ছা করেই বাদ দেওয়া হয়েছে।

জ্ঞান ও বিস্ময়

এরিস্টটলের দর্শন শুরু হয় বিস্ময় থেকে — জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষের স্বভাব বলেই তিনি মনে করতেন।

১. “সব মানুষ স্বভাবত জানতে চায়” — এরিস্টটল, মেটাফিজিক্স (১.১, ৯৮০a)

কৌতূহল মানুষের জন্মগত — এটাই জ্ঞানের শুরু।

২. “তাদের বিস্ময়ের কারণেই মানুষ এখন এবং প্রথমে দর্শন শুরু করে” — এরিস্টটল, মেটাফিজিক্স (১.২, ৯৮২b)

বিস্ময়ই দর্শনের জননী — প্রশ্ন না থাকলে জ্ঞান নেই।

৩. “যা নিজের জন্য এবং জানার জন্য কাম্য, তা ফলের জন্য কাম্য বস্তুর চেয়ে প্রজ্ঞার বেশি কাছাকাছি” — এরিস্টটল, মেটাফিজিক্স (১.২, ৯৮২a)

লাভের জন্য নয়, জানার আনন্দে জানাই আসল প্রজ্ঞা।

৪. “প্রকৃতির সবকিছুতেই বিস্ময়কর কিছু আছে” — এরিস্টটল, পার্টস অফ অ্যানিমালস (১.৫, ৬৪৫a)

ক্ষুদ্রতম প্রাণীতেও দেখার মতো সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

৫. “প্রতিটা প্রাণী নিয়ে বিতৃষ্ণা ছাড়াই অধ্যয়ন করা উচিত; প্রতিটাই আমাদের কাছে প্রাকৃতিক ও সুন্দর কিছু প্রকাশ করবে” — এরিস্টটল, পার্টস অফ অ্যানিমালস (১.৫, ৬৪৫a)

কোনো জ্ঞানই তুচ্ছ নয় — প্রতিটা পর্যবেক্ষণের মূল্য আছে।

৬. “প্রকৃতি বৃথা কিছু করে না” — এরিস্টটল, ডি কায়েলো (১.৪, ২৭১a)

প্রকৃতির প্রতিটা কাজের পেছনে উদ্দেশ্য আছে।

৭. “সত্য থেকে ক্ষুদ্রতম প্রাথমিক বিচ্যুতি পরে হাজার গুণ বেড়ে যায়” — এরিস্টটল, ডি কায়েলো (১.৫, ২৭১b)

শুরুতে ছোট ভুলও পরে বড় বিপদ ডেকে আনে — সতর্ক থেকো।

৮. “একবার-দুবার নয়, অসংখ্যবার একই ধারণা পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়” — এরিস্টটল, ডি কায়েলো (১.৩, ২৭০b)

ইতিহাস ঘুরে ফিরে আসে — নতুন মনে হওয়া অনেক কিছুই পুরনো।

৯. “ঘটনার জ্ঞান কারণের জ্ঞান থেকে আলাদা” — এরিস্টটল, পোস্টেরিয়র অ্যানালিটিক্স (১.১৩, ৭৮a)

“কী ঘটেছে” জানা আর “কেন ঘটেছে” জানা এক নয়।

১০. “আত্মা ছবি ছাড়া কখনো চিন্তা করে না” — এরিস্টটল, ডি আনিমা (৩.৭, ৪৩১a)

চিন্তার সঙ্গে কল্পনার ছবি জড়িত — মন এভাবেই কাজ করে।

অভ্যাস ও সদ্গুণ

এরিস্টটলের সবচেয়ে বিখ্যাত শিক্ষা — সদ্গুণ জন্মগত নয়, অভ্যাসে গড়া। ভালো কাজ বারবার করলেই ভালো মানুষ হওয়া যায়।

১১. “নৈতিক উৎকর্ষ অভ্যাসের ফলে আসে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.১, ১১০৩a)

সৎ মানুষ জন্মায় না — সৎ কাজের অভ্যাসে তৈরি হয়।

১২. “যা করার আগে আমাদের শিখতে হয়, তা আমরা করে করেই শিখি” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.১, ১১০৩a)

বই পড়ে সাঁতার শেখা যায় না — পানিতে নামতে হয়।

১৩. “সদ্গুণ আমাদের মধ্যে প্রকৃতিতে বা প্রকৃতিবিরুদ্ধে জন্মায় না; অভ্যাসে তা পূর্ণতা পায়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.১, ১১০৩a)

ভালো হওয়ার বীজ সবার মধ্যে আছে — চর্চায় তা ফলে।

১৪. “যুবক বয়স থেকে কোন ধরনের অভ্যাস গড়ি, তাতে সামান্য নয় — বরং বিশাল, বলা যায় সব পার্থক্যই হয়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.১, ১১০৩b)

ছোটবেলার অভ্যাসই ভবিষ্যতের চরিত্র নির্ধারণ করে।

১৫. “আমরা সদ্গুণ কী তা জানতে পড়ছি না, ভালো মানুষ হতে পড়ছি — নইলে পড়া বৃথা” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.২, ১১০৩b)

নীতিশাস্ত্রের উদ্দেশ্য জ্ঞান নয় — চরিত্র গঠন।

১৬. “সদ্গুণ হলো পছন্দ-সংক্রান্ত চরিত্রের অবস্থা, যা মধ্যপন্থায় অবস্থিত” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.৬, ১১০৬b)

অতিরিক্ত আর ঘাটতি — দুই চরমের মাঝেই সদ্গুণ।

১৭. “মানুষ একভাবে ভালো, কিন্তু বহুভাবে খারাপ” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.৬, ১১০৬b)

সঠিক পথ একটা; ভুল পথ অসংখ্য।

১৮. “ব্যর্থ হওয়া যায় বহুভাবে, কিন্তু সফল হওয়া যায় কেবল একভাবে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.৬, ১১০৬b)

সাফল্যের পথ সংকীর্ণ — লক্ষ্য ঠিক রাখতে হয়।

১৯. “রাগ করা যে কেউ পারে — এটা সহজ; কিন্তু ঠিক ব্যক্তির ওপর, ঠিক মাত্রায়, ঠিক সময়ে, ঠিক উদ্দেশ্যে রাগ করা সহজ নয়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.৯, ১১০৯a)

আবেগ নিয়ন্ত্রণই আসল পরিণতবোধ।

২০. “যা উচিত তা উপভোগ করা আর যা উচিত তা ঘৃণা করা — চরিত্রের সদ্গুণে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.৩, ১১০৪b)

পছন্দ-অপছন্দ ঠিক হলেই চরিত্র ঠিক হয়।

২১. “প্রতিটা শিল্প, প্রতিটা অনুসন্ধান, প্রতিটা কাজ ও প্রচেষ্টা কোনো ভালোর দিকে লক্ষ্য রাখে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.১, ১০৯৪a)

মানুষের প্রতিটা কাজের পেছনে কোনো না কোনো ভালোর খোঁজ আছে।

২২. “গণিতবিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য যুক্তি মেনে নেওয়া আর বাগ্মীর কাছে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দাবি করা — দুটোই সমান বোকামি” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৩, ১০৯৪b)

প্রতিটা বিষয়ের নিজস্ব মানদণ্ড আছে — সেটা মেনে বিচার করো।

সুখ

এরিস্টটলের মতে, সুখ মানে আনন্দ-উল্লাস নয় — সদ্গুণ অনুযায়ী জীবনযাপন।

২৩. “একটা চড়ুই গ্রীষ্ম বানায় না; একটা দিনও মানুষকে সুখী করে না” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৭, ১০৯৮a)

একদিনের সাফল্যে সুখী ভেবো না — ধারাবাহিকতাই আসল।

২৪. “সুখ চূড়ান্ত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ — এটাই কাজের শেষ” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৭, ১০৯৭b)

সব কাজের চূড়ান্ত লক্ষ্য সুখ — এর বাইরে আর কিছু নেই।

২৫. “সুখ হলো সদ্গুণ অনুযায়ী আত্মার ক্রিয়া” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.১৩, ১১০২a)

সুখ কোনো অনুভূতি নয় — এটা ভালোভাবে বাঁচার কাজ।

২৬. “মানুষের ভালোই রাজনীতির বিজ্ঞানের শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.২, ১০৯৪b)

রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয় — নাগরিকের কল্যাণ।

২৭. “তবু এই দুর্ভাগ্যের মধ্যেও আত্মার মহত্ত্ব উজ্জ্বল হয় — যখন মানুষ অনেক বড় বিপদ শান্তভাবে বহন করে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.১০, ১১০০b)

বিপদে ভেঙে না পড়াই চরিত্রের আসল পরীক্ষা।

২৮. “যে সম্পূর্ণ সদ্গুণে বাঁচে, সে সুখী” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.১০, ১১০১a)

সদ্গুণময় জীবনই সুখী জীবন — এর বাইরে শর্টকাট নেই।

২৯. “সুখী জীবন সদ্গুণময় বলে মনে করা হয়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৮, ১০৯৮b)

সুখ আর সদ্গুণ আলাদা নয় — একে অন্যের সঙ্গে জড়িত।

৩০. “সুখ যদি সদ্গুণ অনুযায়ী ক্রিয়া হয়, তবে তা সর্বোচ্চ সদ্গুণ অনুযায়ী হওয়াই যুক্তিযুক্ত” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১০.৭, ১১৭৭a)

সেরা সুখ আসে সেরা গুণের চর্চা থেকে।

৩১. “বুদ্ধির জীবন মানুষের জন্য সেরা ও সবচেয়ে আনন্দদায়ক” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১০.৭, ১১৭৮a)

চিন্তা ও জ্ঞানচর্চায় যে আনন্দ, তার তুলনা নেই।

৩২. “আমরা মানুষ হয়েও, যতদূর পারি, অমর হওয়ার চেষ্টা করব” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১০.৭, ১১৭৭b)

মানুষের সেরা অংশকে বাঁচিয়ে রাখো — জ্ঞানচর্চায়।

বন্ধুত্ব

বন্ধুত্ব নিয়ে এরিস্টটলের চেয়ে গভীরভাবে আর কেউ লেখেননি। তাঁর মতে, বন্ধু ছাড়া সুখী জীবন অসম্ভব।

৩৩. “বন্ধু ছাড়া কেউ বাঁচতে চাইবে না — তার সব ভালো থাকলেও” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৮.১, ১১৫৫a)

সম্পদ থাকলেও বন্ধুহীন জীবন শূন্য।

৩৪. “বন্ধুত্ব এক সদ্গুণ, অথবা সদ্গুণ জড়িত” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৮.১, ১১৫৫a)

সত্যিকারের বন্ধুত্ব নিজেই একটা নৈতিক গুণ।

৩৫. “দারিদ্র্য ও জীবনের অন্য দুর্ভাগ্যে সত্যিকারের বন্ধু নিশ্চিত আশ্রয়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৮.১, ১১৫৫a)

বিপদেই বন্ধুর আসল পরিচয় মেলে।

৩৬. “বন্ধু হতে চাওয়া দ্রুত কাজ, কিন্তু বন্ধুত্ব ধীরে পাকা ফল” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৮.৩, ১১৫৬b)

গভীর বন্ধুত্বে সময় লাগে — তাড়াহুড়ো কোরো না।

৩৭. “যার অনেক বন্ধু, তার কোনো বন্ধু নেই” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৮.৬, ১১৫৮a)

সংখ্যা নয় — গভীরতাই বন্ধুত্বের মাপকাঠি।

৩৮. “সেরা বন্ধু সে-ই, যে আমার জন্য ভালো চায় — আমার স্বার্থে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৯.৪, ১১৬৬a)

নিঃস্বার্থ শুভকামনাই বন্ধুত্বের প্রাণ।

৩৯. “দুর্ভাগ্য দেখিয়ে দেয় কারা আসল বন্ধু নয়” — এরিস্টটল, ইউডেমীয় নীতিশাস্ত্র (৭, ১২৩৮a)

কঠিন সময়ই আসল-নকল চেনার কষ্টিপাথর।

৪০. “চরম সুখী মানুষেরও বন্ধু দরকার” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৯.৯, ১১৬৯b)

সুখ ভাগ না করলে পূর্ণ হয় না।

৪১. “বন্ধু কী? দুই দেহে বাস করা এক আত্মা” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

সত্যিকারের বন্ধুত্বে দুজন মিলে এক হয়ে যায়।

৪২. “মায়েরা বাবাদের চেয়ে সন্তানকে বেশি ভালোবাসে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৯.৭, ১১৬৮a)

যে বেশি কষ্ট করে, তার ভালোবাসা গভীর হয়।

রাষ্ট্র ও সমাজ

“মানুষ রাজনৈতিক প্রাণী” — এই এক লাইনেই এরিস্টটলের রাষ্ট্রদর্শনের সার।

৪৩. “মানুষ স্বভাবত রাজনৈতিক প্রাণী” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫৩a)

সমাজ ছাড়া মানুষ পূর্ণ হতে পারে না — এটাই স্বভাব।

৪৪. “রাষ্ট্র স্বভাবত পরিবার ও ব্যক্তির আগে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫৩a)

ব্যক্তি সমাজের অংশ; সমাজ ছাড়া ব্যক্তির অর্থ নেই।

৪৫. “যে সমাজে বাঁচতে অক্ষম, বা নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে প্রয়োজন বোধ করে না — সে পশু অথবা দেবতা” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫৩a)

মানুষের জন্য সমাজ অপরিহার্য — এড়িয়ে চলা অস্বাভাবিক।

৪৬. “মানুষ পূর্ণতায় সব প্রাণীর সেরা; কিন্তু আইন ও বিচার থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সবচেয়ে খারাপ” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫৩a)

শিক্ষা ও আইন ছাড়া মানুষের বুদ্ধি ধ্বংসের হাতিয়ার হয়।

৪৭. “আইন হলো আবেগমুক্ত যুক্তি” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.১৬, ১২৮৭a)

আইনের শক্তি এর নিরপেক্ষতায় — ব্যক্তির মর্জিতে নয়।

৪৮. “আইনকে শাসন করতে দাও — মানুষকে নয়” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.১৬, ১২৮৭a)

ব্যক্তির শাসনে পক্ষপাত আসে; আইনের শাসনে ন্যায়।

৪৯. “যে আইনকে শাসন করতে বলে, সে ঈশ্বর ও যুক্তিকেই শাসন করতে বলে; কিন্তু যে মানুষকে শাসন করতে বলে, সে পশুত্ব যোগ করে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.১৬, ১২৮৭a)

একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আড়াই হাজার বছরের পুরনো সতর্কবাণী।

৫০. “আইন লিখিত হলেও সবসময় অপরিবর্তিত থাকা উচিত নয়” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.৮, ১২৬৯a)

সময় বদলায় — আইনকেও বদলাতে হবে।

৫১. “দারিদ্র্য বিপ্লব ও অপরাধের জননী” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.৬)

অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাও — নইলে অস্থিরতা আসবেই।

৫২. “সম্পত্তি নয়, মানুষের আকাঙ্ক্ষাই সমান করতে হবে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.৭, ১২৬৬b)

লোভ না কমালে সম্পদ ভাগ করে কোনো লাভ নেই।

৫৩. “সবচেয়ে বড় অপরাধ প্রয়োজনে হয় না, অতিরিক্তে হয়” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.৭, ১২৬৭a)

অভাব নয় — লোভই বড় অপরাধের জন্ম দেয়।

৫৪. “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্বাধীনতা” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৬.১, ১৩১৭a)

স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র শুধু নামমাত্র।

শাসন ও ন্যায়

ভালো শাসক কে? ন্যায় কী? — এই প্রশ্নে এরিস্টটলের উত্তর আজও প্রাসঙ্গিক।

৫৫. “ভালো শাসক হতে হলে আগে শাসিত হতে হবে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.৪, ১২৭৭b)

নেতৃত্বের আগে আনুগত্য শেখো — তবেই ভালো নেতা হবে।

৫৬. “গণতন্ত্র জন্মায় এই ধারণা থেকে — যারা একদিকে সমান, তারা সবদিকে সমান” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৫.১, ১৩০১a)

সাম্যের ভুল ব্যাখ্যাও বিপদ ডেকে আনতে পারে।

৫৭. “সবচেয়ে নিখুঁত রাষ্ট্র সেটাই, যেখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণি নিয়ন্ত্রণে থাকে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৪.১১, ১২৯৫b)

চরম ধনী-দরিদ্রের বদলে মধ্যপন্থী সমাজই স্থিতিশীল।

৫৮. “সব বেতনভুক্ত কাজ মনকে শোষণ করে ও অবনত করে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৮.২, ১৩৩৭b)

শুধু টাকার জন্য কাজ মনের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়।

৫৯. “অতিথিই ভোজের ভালো বিচারক — রাঁধুনির চেয়ে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.১১, ১২৮২a)

ব্যবহারকারী অনেক সময় নির্মাতার চেয়ে ভালো বিচার করে।

৬০. “অনেকে একসঙ্গে মিললে প্রত্যেকের চেয়ে ভালো বিচারক হতে পারে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (৩.১১, ১২৮২a)

সমষ্টির প্রজ্ঞা ব্যক্তির প্রজ্ঞাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

৬১. “যা সর্বাধিক সংখ্যার সাধারণ সম্পত্তি, তার যত্ন সবচেয়ে কম হয়” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.৩, ১২৬১b)

সবার জিনিস মানে কারও জিনিস নয় — দায়িত্ব ভাগ হয় না।

৬২. “ন্যায় হলো সমানুপাতিক; অন্যায় হলো অনুপাত লঙ্ঘন” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৫.৩, ১১৩১a)

ন্যায় মানে অন্ধ সমতা নয় — যোগ্য অনুপাতে দেওয়া।

৬৩. “ন্যায় সম্পূর্ণ সদ্গুণ — তবে প্রতিবেশীর প্রতি সম্পর্কে” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৫.১, ১১২৯b)

ন্যায়ের পরীক্ষা হয় অন্যের সঙ্গে ব্যবহারে।

৬৪. “টাকা বিনিময়ের জন্য তৈরি — সুদে বাড়ানোর জন্য নয়; সম্পদ অর্জনের সব পথের মধ্যে এটাই সবচেয়ে অস্বাভাবিক” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১, ১২৫৮b)

টাকা থেকে টাকা বানানোকে তিনি প্রকৃতিবিরুদ্ধ মনে করতেন।

বক্তৃতা ও আবেগ

রেটরিক গ্রন্থে এরিস্টটল মানুষের আবেগ ও প্ররোচনার মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করেছেন।

৬৫. “চরিত্রকে প্রায় সবচেয়ে কার্যকর প্ররোচনার মাধ্যম বলা যায়” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.২, ১৩৫৬a)

যুক্তির চেয়ে বক্তার বিশ্বাসযোগ্যতাই বেশি প্রভাব ফেলে।

৬৬. “ভালো মানুষকে আমরা অন্যদের চেয়ে পূর্ণতর ও দ্রুততর বিশ্বাস করি” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.২, ১৩৫৬a)

সততাই সবচেয়ে বড় প্রভাব — এটা আজকের যুগেও সত্য।

৬৭. “প্ররোচনা স্পষ্টত এক ধরনের প্রদর্শন” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.১, ১৩৫৫a)

ভালো বক্তব্যও যুক্তির শৃঙ্খলা মেনে চলে।

৬৮. “কুসংস্কার, করুণা, রাগ জাগানোর সঙ্গে মূল তথ্যের কোনো সম্পর্ক নেই” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.১, ১৩৫৪a)

আবেগে ভাসিয়ে সত্যকে ঢাকা যায় — সতর্ক থেকো।

৬৯. “সব মানবিক কাজের এক বা একাধিক কারণ থাকে — দৈব, প্রকৃতি, বাধ্যবাধকতা, অভ্যাস, যুক্তি, আবেগ, আকাঙ্ক্ষা” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.১০, ১৩৬৯a)

কাজের পেছনের কারণ বুঝলেই মানুষ বোঝা যায়।

৭০. “রাগ হলো প্রতিশোধের প্রবণতা — স্পষ্ট অবজ্ঞার বদলা” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.২, ১৩৭৮a)

রাগের মূলে থাকে অপমানের অনুভূতি।

৭১. “ভয় হলো ভবিষ্যতের ধ্বংসাত্মক বা বেদনাদায়ক মন্দের মানসিক চিত্র থেকে জন্ম নেওয়া ব্যথা” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.৫, ১৩৮২a)

ভয় বর্তমানের নয় — ভবিষ্যতের কল্পনার।

৭২. “করুণা হলো এমন মন্দ দেখে ব্যথা, যা অযোগ্য ব্যক্তির ওপর পড়ে” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.৮, ১৩৮৫b)

নির্দোষের কষ্ট দেখেই করুণা জন্মায়।

৭৩. “ঈর্ষা হলো এমন সৌভাগ্য দেখে ব্যথা” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.১০, ১৩৮৭b)

অন্যের ভালো দেখে কষ্ট পাওয়াই ঈর্ষা।

৭৪. “বুদ্ধি হলো সুশিক্ষিত ঔদ্ধত্য” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.১২, ১৩৮৯b)

রসিকতায়ও শালীনতার সীমা থাকে।

কবিতা ও রূপক

পোয়েটিক্স গ্রন্থে এরিস্টটল শিল্প ও কবিতার তত্ত্ব দিয়েছেন — যা আজও পড়ানো হয়।

৭৫. “সবচেয়ে বড় বিষয় হলো রূপকের ওস্তাদ হওয়া” — এরিস্টটল, পোয়েটিক্স (২২, ১৪৫৯a)

সাদৃশ্য দেখার চোখই প্রতিভার চিহ্ন — এটা শেখানো যায় না।

৭৬. “কবিতা ইতিহাসের চেয়ে সূক্ষ্ম ও দার্শনিক” — এরিস্টটল, পোয়েটিক্স (৯, ১৪৫১b)

ইতিহাস বলে কী ঘটেছিল; কবিতা বলে কী ঘটতে পারত।

৭৭. “অবিশ্বাস্য সম্ভাবনার চেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অসম্ভব সবসময় শ্রেয়” — এরিস্টটল, পোয়েটিক্স (২৪, ১৪৬০a)

গল্পে যুক্তির চেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা বড়।

৭৮. “কবির কাজ ঘটে যাওয়া বর্ণনা নয় — ঘটতে পারা বর্ণনা” — এরিস্টটল, পোয়েটিক্স (৯, ১৪৫১a)

শিল্পীর কাজ বাস্তবের অনুলিপি নয় — সম্ভাবনার উদ্ভাবন।

৭৯. “ট্র্যাজেডি হলো গুরুতর, সম্পূর্ণ ও নির্দিষ্ট মাত্রার কাজের অনুকরণ” — এরিস্টটল, পোয়েটিক্স (৬, ১৪৪৯b)

মহৎ ট্র্যাজেডির সংজ্ঞা — আজও নাট্যতত্ত্বের ভিত্তি।

৮০. “যুবকরা সহজে প্রতারিত হয়, কারণ তারা দ্রুত আশা করে” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.১২, ১৩৮৯a)

আশাবাদ ভালো, কিন্তু অন্ধ আশা বিপদ ডাকে।

৮১. “যুবকরা চরিত্রে আকাঙ্ক্ষাপ্রবণ — যা চায়, তাই করতে চায়” — এরিস্টটল, রেটরিক (২.১২, ১৩৮৯a)

যৌবনের আবেগ স্বাভাবিক — একে শেখাতে হয়, দমন নয়।

৮২. “সবচেয়ে বড় সদ্গুণ সেগুলোই, যা অন্যের সবচেয়ে বেশি উপযোগী” — এরিস্টটল, রেটরিক (১.৯, ১৩৬৬b)

নিজের জন্য নয় — অন্যের উপকারেই গুণের সার্থকতা।

জীবনযাপন

যুদ্ধ, অবসর, অর্থ, মৃত্যু — জীবনের বড় প্রশ্নে এরিস্টটলের সংক্ষিপ্ত উত্তর।

৮৩. “আমরা যুদ্ধ করি যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারি” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১০.৭, ১১৭৭b)

সংগ্রামের উদ্দেশ্য শান্তি — এটা ভুলো না।

৮৪. “আমরা ব্যস্ত থাকি যাতে অবসর পাই” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১০.৭, ১১৭৭b)

কাজের লক্ষ্য বিশ্রাম নয় — অর্থপূর্ণ অবসর।

৮৫. “অর্থ উপার্জনের জীবন বাধ্যতামূলক জীবন” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৫, ১০৯৬a)

শুধু টাকার পেছনে ছোটা মুক্ত জীবন নয়।

৮৬. “সবকিছুতে পরিবর্তন মধুর” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৭.১৪, ১১৫৪b)

একঘেয়েমি ভাঙতে মাঝে মাঝে বদল দরকার।

৮৭. “যা করা আমাদের ক্ষমতায়, তা না করাও আমাদের ক্ষমতায়” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৩.৫, ১১১৩b)

পছন্দের স্বাধীনতা মানেই দায়িত্ব — কাজ ও না-কাজ দুটোই তোমার।

৮৮. “আমরা উপলব্ধি করছি বা চিন্তা করছি — এটা সচেতন হওয়াই আমাদের অস্তিত্বের সচেতনতা” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (৯.৯, ১১৭০a)

নিজের চিন্তা নিয়ে ভাবতে পারাই মানুষের বিশেষত্ব।

৮৯. “যে তার ভয় জয় করেছে, সে সত্যিই মুক্ত” — এরিস্টটল, ইয়োয়ানেস স্টোবাইয়াসের ফ্লোরিলেজিয়াম গ্রন্থে উদ্ধৃত

ভয়ই সবচেয়ে বড় শৃঙ্খল — এটা ভাঙলেই মুক্তি।

৯০. “শত্রুকে জয় করার চেয়ে আকাঙ্ক্ষা জয় করা বড় বীরত্ব” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

নিজের ওপর জয়ই সবচেয়ে কঠিন জয়।

প্রাচীন উক্তি

প্রাচীন জীবনীকারদের লেখায় এরিস্টটলের নামে সংরক্ষিত সংক্ষিপ্ত উক্তি — যুগ যুগ ধরে উদ্ধৃত।

৯১. “আশা হলো জাগ্রত স্বপ্ন” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

আশা ঘুমের স্বপ্ন নয় — জেগে থাকা মানুষের স্বপ্ন।

৯২. “শিক্ষার শিকড় তেতো, কিন্তু ফল মিষ্টি” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

শেখার কষ্ট সহ্য করো — ফল একদিন মিষ্টি হবেই।

৯৩. “শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের পার্থক্য জীবিত ও মৃতের পার্থক্যের মতো” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

জ্ঞানহীন জীবন প্রায় মৃত্যুর সমান।

৯৪. “ভোজ থেকে যেমন ওঠা উচিত — তৃষ্ণার্তও নয়, মাতালও নয় — জীবন থেকেও তেমন ওঠা ভালো” — এরিস্টটল, ডায়োজিনিস লার্টিয়াসের বিশিষ্ট দার্শনিকদের জীবন গ্রন্থে উদ্ধৃত

পরিমিতবোধ জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৯৫. “পবিত্রতা দাবি করে — বন্ধুর চেয়ে সত্যকে বেশি সম্মান করো” — এরিস্টটল, নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (১.৬, ১০৯৬a)

বন্ধুত্বের খাতিরে সত্যকে বিসর্জন দিও না।

৯৬. “মন্দও মানুষকে একত্রিত করে” — এরিস্টটল, রেটরিক

বিপদে শত্রুরাও হাত মেলায় — এটাই মানবস্বভাব।

৯৭. “মহান প্রতিভা ছাড়া পাগলামির ছোঁয়া থাকে না” — এরিস্টটল, সেনেকার ডি ট্রানকুইলিটাটে অ্যানিমি গ্রন্থে তাঁর উক্তি হিসেবে উদ্ধৃত

অসাধারণত্বের সঙ্গে একটু পাগলামি থাকেই।

৯৮. “শহর বিভিন্ন ধরনের মানুষে গঠিত” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (২.২, ১২৬১a)

বৈচিত্র্যই সমাজের শক্তি — একরকম মানুষে শহর হয় না।

৯৯. “রাষ্ট্র জীবনের জন্য জন্মায়, কিন্তু ভালো জীবনের জন্য টিকে থাকে” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫২b)

রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য শুধু বাঁচা নয় — ভালোভাবে বাঁচা।

১০০. “শুরু থেকে জিনিস বাড়তে দেখলে তার সেরা দৃষ্টি পাওয়া যায়” — এরিস্টটল, পলিটিক্স (১.২, ১২৫২a)

কোনো কিছুর উৎপত্তি বুঝলেই তার স্বরূপ বোঝা যায়।

প্রশ্নোত্তর: সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

1. এরিস্টটলের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি কোনটি?

“সব মানুষ স্বভাবত জানতে চায়” (মেটাফিজিক্স) — তাঁর দর্শনের সারসংক্ষেপ। এরপরেই “মানুষ স্বভাবত রাজনৈতিক প্রাণী” ও “আইন হলো আবেগমুক্ত যুক্তি”।

2. “আমরা যা বারবার করি, তাই আমরা” — এটা কি এরিস্টটলের উক্তি?

না। এটা উইল ডুরান্টের দ্য স্টোরি অফ ফিলোসফি (১৯২৬) বইয়ে এরিস্টটলের ভাবনার সারসংক্ষেপ — তাঁর নিজের লেখা নয়। আসল বক্তব্য আছে নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র (২.১)-এ অভ্যাস নিয়ে।

3. বেকার নম্বর কী?

এরিস্টটলের গ্রিক মূল পাঠের পৃষ্ঠা-নম্বর পদ্ধতি (যেমন ১১০৩a)। যে অনুবাদই পড়ো না কেন, এই নম্বরে মূল অংশটা খুঁজে পাবে।

4. এরিস্টটলের কোন গ্রন্থ থেকে উক্তিগুলো নেওয়া?

মূলত নিকোমাকীয় নীতিশাস্ত্র, পলিটিক্স, মেটাফিজিক্স, রেটরিক ও পোয়েটিক্স থেকে — আর কিছু প্রাচীন জীবনীকারদের উদ্ধৃতি।

5. এই বাণীগুলো কি দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে?

অবশ্যই। অভ্যাস গড়া, রাগ নিয়ন্ত্রণ, বন্ধুত্ব, ন্যায়বিচার — এসব নিয়ে তাঁর পরামর্শ আড়াই হাজার বছর পরেও ব্যবহারিক।


এরিস্টটলের বাণী ভালো লাগলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: সক্রেটিসের উক্তি, বুদ্ধের উক্তি, মহাত্মা গান্ধীর উক্তি, স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি আর এ পি জে আব্দুল কালামের উক্তি — সঙ্গে জীবন, সাফল্য, জ্ঞান ও নৈতিকতা নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় বাণীটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো — হয়তো কারও চিন্তার গভীরতা বাড়বে।

আরও উক্তি সংগ্রহ

সব উক্তি →

“জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হয় না — কারণ জীবন নিজেই প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প লেখে। কখনো সেই গল্পে হাসি থাকে, কখনো কান্না; কখনো অপ্রত্যাশিত সাফল্য, কখনো হঠাৎ ভেঙে…”

আরও দেখুন →

“ভালোবাসার উক্তি: ১৫০+ সুন্দর প্রেমের উক্তি, বাণী ও ভালোবাসার কথা ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ, আবার সবচেয়ে গভীর অনুভূতি। এটা কখনো আসে প্রথম দেখার এক ঝলকে — ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ চোখে…”

আরও দেখুন →

“কষ্টের উক্তি: ১০০+ হৃদয় ছোঁয়া কষ্টের কথা ও বাস্তব জীবনের বাণী কষ্ট জীবনের এমন এক সত্য, যা থেকে কেউ রেহাই পায় না — ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সবাই কোনো না কোনোভাবে কষ্টের…”

আরও দেখুন →

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।