মূল কন্টেন্টে যান

আলবার্ট আইনস্টাইনের উক্তি: জীবন, জ্ঞান ও সফলতা নিয়ে ১০০+ বিখ্যাত বাণী

July 3, 2026 · উক্তি সংগ্রহ

আলবার্ট আইনস্টাইন শুধু আপেক্ষিকতার তত্ত্বের জনক নন — তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিন্তাবিদদের একজন, যাঁর কলম থেকে বেরিয়েছে বিজ্ঞান, দর্শন, শিক্ষা, শান্তি ও মানবতা নিয়ে অসংখ্য গভীর কথা। তাঁর চিঠি, সাক্ষাৎকার আর প্রবন্ধে ছড়িয়ে আছে এমন সব লাইন, যা আজও পাঠককে ভাবায় — কল্পনার শক্তি, কৌতূহলের মূল্য, আর সরল জীবনের সৌন্দর্য নিয়ে।

তবে সতর্কতা জরুরি — ইন্টারনেটে আইনস্টাইনের নামে যত উক্তি ঘোরে, তার বড় অংশই ভুয়া। এই প্রবন্ধে শুধু সেই ১০০টি উক্তি রাখা হয়েছে, যেগুলোর নির্দিষ্ট উৎস খুঁজে পাওয়া গেছে — কোন চিঠিতে, কোন সাক্ষাৎকারে বা কোন বইয়ে তিনি কথাটা বলেছিলেন বা লিখেছিলেন। প্রতিটি উক্তির নিচে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা আছে, যাতে কথাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে সুবিধা হয়।

নিচের ১০০টি উক্তিই আলবার্ট আইনস্টাইনের লেখা চিঠি, দেওয়া সাক্ষাৎকার ও প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ — প্রতিটির সঙ্গে নির্দিষ্ট উৎসের নাম দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি মূল থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছে বইইনফো সম্পাদনা টিম। ইন্টারনেটে তাঁর নামে ছড়ানো যাচাই-না-হওয়া উক্তি (যেমন “পাগলামির সংজ্ঞা” বা “মাছ-গাছের” কথা) ইচ্ছা করেই বাদ দেওয়া হয়েছে।

কল্পনা, স্বজ্ঞা ও জ্ঞান

আইনস্টাইন বিশ্বাস করতেন, বড় আবিষ্কারের পেছনে থাকে কল্পনা ও স্বজ্ঞা — শুধু তথ্যের স্তূপ নয়। এই বিভাগের উক্তিগুলো সেই ভাবনারই প্রতিফলন।

১. “কল্পনা জ্ঞানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জ্ঞান সীমিত; কল্পনা গোটা পৃথিবীকে ঘিরে রাখে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট সাক্ষাৎকার (১৯২৯)

জ্ঞানের সীমা আছে, কল্পনার নেই।

২. “আমি স্বজ্ঞা ও অনুপ্রেরণায় বিশ্বাস করি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট সাক্ষাৎকার (১৯২৯)

বড় সিদ্ধান্তে যুক্তির পাশাপাশি ভেতরের অনুভূতিকেও জায়গা দাও।

৩. “কেবল সাহসী অনুমানই আমাদের এগিয়ে নিতে পারে — তথ্যের স্তূপ নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, মিশেল বেসোকে লেখা চিঠি (৮ অক্টোবর, ১৯৫২)

অগ্রগতি আনে সাহসী অনুমান, তথ্যের স্তূপ নয়।

৪. “গোটা বিজ্ঞান দৈনন্দিন চিন্তার পরিমার্জিত রূপ ছাড়া আর কিছু নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ফিজিক্স অ্যান্ড রিয়ালিটি প্রবন্ধ (১৯৩৬)

বিজ্ঞান রোজকার চিন্তারই শোধিত সংস্করণ।

৫. “বলা যায়, পৃথিবীর চিরন্তন রহস্য হলো এর বোধগম্যতা” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ফিজিক্স অ্যান্ড রিয়ালিটি প্রবন্ধ (১৯৩৬)

পৃথিবীকে বোঝা যায় — এই বোধগম্যতাটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময়।

৬. “মহাবিশ্বের নিয়মে এমন এক আত্মা প্রকাশ পায়, যা মানুষের চেয়ে অসীম শ্রেষ্ঠ” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ফিলিস রাইটকে লেখা চিঠি (২৪ জানুয়ারি, ১৯৩৬)

গভীর বিজ্ঞানচর্চা মানুষকে বিনয়ের দিকেই নিয়ে যায়।

৭. “চিন্তা ও ধারণা, সূত্র নয় — এগুলোই প্রতিটি ভৌত তত্ত্বের শুরু” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ইভোলিউশন অফ ফিজিক্স (১৯৩৮)

আগে ধারণা, পরে সূত্র — এই ক্রমটা মনে রেখো।

৮. “অনেকে এমন — হাজারো গাছ দেখেছে, কিন্তু বন দেখেনি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্ট থর্টনকে লেখা চিঠি (৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৪)

খুঁটিনাটিতে ডুবে গিয়ে বড় ছবিটা হারিও না।

৯. “তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার তার কাগজের ঝুড়ি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, পি. মরিসনের স্মৃতিচারণে (নেচার, ১৯৭৯)

ভুল ফেলে দেওয়ার সাহসই বিজ্ঞানীর হাতিয়ার।

১০. “পদার্থবিজ্ঞান মূলত স্বজ্ঞামূলক ও মূর্ত বিজ্ঞান। গণিত কেবল ঘটনা নিয়ন্ত্রণকারী নিয়ম প্রকাশের মাধ্যম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, মরিস সলভিনকে লেখা চিঠি

গণিত ভাষা মাত্র; আসল বোঝাপড়া আসে স্বজ্ঞা থেকে।

কৌতূহল ও প্রশ্ন

নিজেকে “আবেগপ্রবণভাবে কৌতূহলী” বলতেন আইনস্টাইন। তাঁর মতে, প্রশ্ন করা বন্ধ মানেই শেখা বন্ধ।

১১. “প্রশ্ন করা বন্ধ কোরো না। কৌতূহলের নিজস্ব অস্তিত্বের কারণ আছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লাইফ ম্যাগাজিন (২ মে, ১৯৫৫)

উত্তর না মিললেও প্রশ্ন চালিয়ে যাও।

১২. “পবিত্র কৌতূহল কখনো হারিও না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লাইফ ম্যাগাজিন (২ মে, ১৯৫৫)

বয়স বাড়লেও ভেতরের শিশুসুলভ বিস্ময়টা বাঁচিয়ে রেখো।

১৩. “আমার কোনো বিশেষ প্রতিভা নেই। আমি কেবল আবেগপ্রবণভাবে কৌতূহলী” — আলবার্ট আইনস্টাইন, কার্ল জেলিগকে লেখা চিঠি (১১ মার্চ, ১৯৫২)

প্রতিভার চেয়ে বড় শক্তি হলো নিরন্তর জানার আকাঙ্ক্ষা।

১৪. “ঈশ্বর কি পৃথিবীকে অন্যরকমভাবে সৃষ্টি করতে পারতেন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আর্নস্ট স্ট্রাউসের স্মৃতিচারণে (কার্ল জেলিগের গ্রন্থ, ১৯৫৬)

উত্তর না থাকলেও প্রশ্ন করাই দার্শনিকের কাজ।

১৫. “প্রশ্ন করা বন্ধ কোরো না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৫৪ সালের আলাপ)

প্রশ্নের কারণ খোঁজার চেয়ে প্রশ্ন চালিয়ে যাওয়াটাই জরুরি।

১৬. “একা থাকো — বিস্মিত হওয়ার, সত্য খোঁজার সময় পাবে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৫৪)

নির্জনতাই কৌতূহলের সার।

১৭. “আমি যদি কিছু কল্পনা করতে না পারি, তবে তা বুঝতে পারি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, জন আর্চিবাল্ড হুইলারের স্মৃতিচারণে (সায়েন্টিফিক আমেরিকান, ১৯৯১)

বোঝার প্রথম ধাপ হলো মনে ছবি আঁকতে পারা।

১৮. “তিনি পাশা খেলেন — এটা আমি এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্বাস করতে পারি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, কর্নেল ল্যাংকজোসকে লেখা চিঠি (২১ মার্চ, ১৯৪২)

মহাবিশ্বে নিয়ম আছে — এটাই ছিল তাঁর গভীর বিশ্বাস।

১৯. “জন্মের মহা রহস্যের সামনে আমরা কৌতূহলী শিশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, অটো জুলিয়াসবুর্গারকে লেখা চিঠি (২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২)

বয়স সংখ্যা মাত্র; কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখলেই তারুণ্য থাকে।

২০. “বুদ্ধিকে ঈশ্বর বানিও না; এর পেশি আছে, ব্যক্তিত্ব নেই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আউট অফ মাই লেটার ইয়ার্স (১৯৫০)

বুদ্ধি হাতিয়ার মাত্র; মূল্যবোধ আসে হৃদয় থেকে।

বিজ্ঞান ও সত্য

বিজ্ঞান কী, সত্য কী — এই প্রশ্নে আইনস্টাইনের ভাবনা ছিল দার্শনিকের মতো গভীর।

২১. “আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনো ভাবি না। এটা এমনিতেই তাড়াতাড়ি এসে যায়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, বেলগেনল্যান্ড জাহাজে সাক্ষাৎকার (ডিসেম্বর, ১৯৩০)

ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় বর্তমান নষ্ট কোরো না।

২২. “যাই হোক, আমি নিশ্চিত — তিনি পাশা খেলেন না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ম্যাক্স বর্নকে লেখা চিঠি (৪ ডিসেম্বর, ১৯২৬)

কোয়ান্টাম অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে ছিল তাঁর বিখ্যাত আপত্তি।

২৩. “গণিতের নিয়ম যতটুকু নিশ্চিত, ততটুকু বাস্তবতার কথা বলে না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, জিওমেট্রি অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স (১৯২১)

নিখুঁত নিশ্চয়তা আর বাস্তবতা একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

২৪. “সত্যের পেছনে ছোটাই আত্মাকে মুক্ত করে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, নিজের প্রতিকৃতির নিচে লেখা নোট (আনু. ১৯২০)

সত্যের পেছনে ছোটার আনন্দই মুক্তি।

২৫. “বিজ্ঞান শেষ হয় না; মানবমন ক্ষমতার ক্ষুদ্র অংশই ব্যবহার করে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৩০ সালের আলাপ)

জানার পথ অনন্ত — এটাই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য।

২৬. “মহাবিশ্বের নিয়ম সরল; আমাদের ইন্দ্রিয় সীমিত বলে ধরতে পারি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৩০)

জটিল মনে হওয়ার কারণ আমাদের সীমাবদ্ধতা, প্রকৃতির নয়।

২৭. “গণিতের কষ্ট নিয়ে ভেবো না; আমার কষ্ট এখনো বেশি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, বারবারা উইলসনকে লেখা চিঠি (৭ জানুয়ারি, ১৯৪৩)

মহান বিজ্ঞানীরও হিমশিম খেতে হয়েছে — হাল ছেড়ো না।

২৮. “পৃথিবী এক রহস্য — প্রকৃতি কেবল বস্তুগতও নয়, আধ্যাত্মিকও নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৩ সালের আলাপ)

বাস্তবতাকে এক ছকে বাঁধা যায় না।

২৯. “সৃষ্টির সুরেলাতায় আস্থা না থাকলে ত্রিশ বছর চেষ্টা করতাম না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৩)

দীর্ঘ সাধনার পেছনে থাকে বিশ্বাস — মহাবিশ্বে শৃঙ্খলা আছে।

৩০. “বাস্তবতার মাপে আমাদের বিজ্ঞান আদিম ও শিশুসুলভ; তবু এটাই মূল্যবান সম্পদ” — আলবার্ট আইনস্টাইন, হান্স মিউজামকে লেখা চিঠি (৯ জুলাই, ১৯৫১)

অসম্পূর্ণ জ্ঞানও মূল্যবান — বিনয়ই বিজ্ঞানীর ভূষণ।

শিক্ষা ও শিক্ষক

প্রচলিত স্কুলব্যবস্থার কঠোর সমালোচক ছিলেন আইনস্টাইন। তাঁর মতে, শিক্ষার উদ্দেশ্য পরীক্ষা নয় — আনন্দ আর স্বাধীন চিন্তা।

৩১. “শিক্ষকের সর্বোচ্চ শিল্প হলো সৃজনশীল প্রকাশ ও জ্ঞানের প্রতি আনন্দ জাগিয়ে তোলা” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইডিয়াজ অ্যান্ড ওপিনিয়নস (১৯৫৪)

ভালো শিক্ষক তথ্য গেলান না; জানার আনন্দ জাগান।

৩২. “স্কুলের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো ভয়, বলপ্রয়োগ ও কৃত্রিম কর্তৃত্ব” — আলবার্ট আইনস্টাইন, অন এডুকেশন প্রবন্ধ (১৯৩৬)

ভয়ে শেখা শেখা নয় — আনন্দে শেখাই আসল শিক্ষা।

৩৩. “স্কুল আমাকে ব্যর্থ করেছে, আমিও স্কুলকে — এটা আমাকে বিরক্ত করত” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৩০)

প্রথাবিরোধী মেধা প্রচলিত ব্যবস্থায় অনেক সময়ই “ব্যর্থ” দেখায়।

৩৪. “আমি শিখতে চাইতাম যা জানতে চাই; তারা চাইত পরীক্ষার জন্য শিখি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৩০)

পরীক্ষার পড়া আর জানার পড়া আলাদা।

৩৫. “শুধু খবরের কাগজ পড়া মানুষ ক্ষীণদৃষ্টি ব্যক্তির মতো, যে চশমা পরতে অস্বীকার করে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ডের ইয়ুংকাউফমান পত্রিকায় নিবন্ধ (এপ্রিল, ১৯৫২)

শুধু বর্তমানে ডুবে থাকলে দৃষ্টি সংকীর্ণ হয়।

৩৬. “বেশি পড়া আর মস্তিষ্ক কম ব্যবহার করা মনকে অলস চিন্তার অভ্যাসে ফেলে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আমেরিকান ম্যাগাজিন সাক্ষাৎকার (জুন, ১৯৩০)

পড়ার পাশাপাশি নিজে ভাবো — নইলে মন অলস হয়।

৩৭. “একটা বিষয় শেখানোই যথেষ্ট নয় — এতে সে যন্ত্র হবে, ব্যক্তিত্ব নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, এডুকেশন ফর ইনডিপেনডেন্ট থট, নিউ ইয়র্ক টাইমস (৫ অক্টোবর, ১৯৫২)

বিশেষজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি মানুষ হওয়াটাও শেখা দরকার।

৩৮. “শিক্ষায় কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর অতিরিক্ত জোর সরাসরি নৈতিক মূল্যবোধের ক্ষতি করেছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য নিড ফর এথিক্যাল কালচার ভাষণ (৫ জানুয়ারি, ১৯৫১)

শুধু মাথা ভরালেই হবে না; হৃদয়টাও গড়তে হবে।

৩৯. “নৈতিক সংস্কৃতি ছাড়া মানবতার কোনো মুক্তি নেই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য নিড ফর এথিক্যাল কালচার ভাষণ (৫ জানুয়ারি, ১৯৫১)

প্রযুক্তি এগোলেও নৈতিকতা না এগোলে মানবতার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

৪০. “অন্ধভাবে কর্তৃত্ব মানা সত্যের সবচেয়ে বড় শত্রু” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ইয়োস্ট ভিনটেলারকে লেখা চিঠি (৮ জুলাই, ১৯০১)

প্রশ্নহীন আনুগত্যই সত্যের বড় বাধা।

সরল জীবন

খ্যাতির চূড়ায় থেকেও আইনস্টাইন বেছে নিয়েছিলেন সরল, নিরহংকার জীবন। এই উক্তিগুলো সেই দর্শনের।

৪১. “জীবন সাইকেল চালানোর মতো — ভারসাম্য ধরে রাখতে হলে চালিয়ে যেতেই হবে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ছেলে এডুয়ার্ডকে লেখা চিঠি (৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০)

থেমে গেলেই পড়ে যাবে; এগিয়ে চলাই জীবনের নিয়ম।

৪২. “শান্ত ও বিনয়ী জীবন সাফল্যের পেছনে দৌড়ানোর চেয়ে বেশি সুখ দেয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্বহস্তে লেখা নোট (নভেম্বর, ১৯২২)

এই নোটটিই পরে নিলামে দেড় মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।

৪৩. “সরল ও নিরহংকার জীবনপদ্ধতি সবার জন্য সেরা — শরীর ও মন দুটোর জন্যই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

সরলতাই স্বাস্থ্য আর মানসিক শান্তির চাবি।

৪৪. “আমি সুখী, কারণ কারও কাছে কিছু চাই না; টাকার পরোয়া করি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট সাক্ষাৎকার (১৯২৯)

চাওয়া কমালেই সুখ বাড়ে।

৪৫. “ভ্রমণ করতে ভালোবাসি, কিন্তু পৌঁছাতে ঘৃণা করি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, জন হুইলারের স্মৃতিচারণে

গন্তব্যের চেয়ে যাত্রাটাই আসল আনন্দ — জীবনেও তাই।

৪৬. “পদার্থবিজ্ঞানী না হলে সংগীতজ্ঞ হতাম; আমি প্রায়ই সংগীতে চিন্তা করি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট সাক্ষাৎকার (১৯২৯)

বিজ্ঞানীর ভেতরেও একজন শিল্পী বাস করত।

৪৭. “সবচেয়ে গম্ভীর অনুষ্ঠানেও আমি মোজা না পরে পার পেয়ে গেছি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, এলসাকে লেখা চিঠি

বাইরের আড়ম্বরের পরোয়া না করাই ছিল তাঁর স্টাইল।

৪৮. “পাইপ টানা সব মানবিক বিষয়ে শান্ত ও বস্তুনিষ্ঠ বিচারে সাহায্য করে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, মন্ট্রিল পাইপ স্মোকার্স ক্লাবে বক্তব্য (১৯৫০)

হালকা রসিকতায় তিনি নিজের অভ্যাসকেও দার্শনিক রূপ দিতেন।

৪৯. “আমার প্রতিটা মন্তব্য এভাবে রেকর্ড হবে জানলে আরও গুটিয়ে থাকতাম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, কার্ল জেলিগকে লেখা চিঠি (২৫ অক্টোবর, ১৯৫৩)

খ্যাতির বিড়ম্বনা নিয়ে তাঁর নিজেরই হালকা আক্ষেপ।

৫০. “বুড়ো হওয়ার অদ্ভুত দিক — এখানে-এখনকার সঙ্গে পরিচয় হারিয়ে যায়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, বেলজিয়ামের রানি এলিজাবেথকে লেখা চিঠি (১২ জানুয়ারি, ১৯৫৩)

বার্ধক্য মানে বর্তমান থেকে দূরে সরে যাওয়া।

সাফল্য, মূল্য ও কাজ

সাফল্যের পেছনে না দৌড়ে মূল্যবান হওয়ার পরামর্শ দিতেন আইনস্টাইন। কাজ নিয়ে তাঁর ভাবনা ছিল গভীর।

৫১. “সফল মানুষ হওয়ার চেষ্টা কোরো না; বরং মূল্যবান মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লাইফ ম্যাগাজিন (২ মে, ১৯৫৫)

সাফল্য বাইরের মাপকাঠি; মূল্য ভেতরের — ভেতরটাই গড়ো।

৫২. “মূল্যবান মানুষ দেবে যা পায় তার চেয়ে বেশি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লাইফ ম্যাগাজিন (২ মে, ১৯৫৫)

নেওয়ার চেয়ে দেওয়ার মানসিকতাই মানুষকে বড় করে।

৫৩. “যদি সুখী জীবন চাও, তাকে লক্ষ্যের সঙ্গে বাঁধো — মানুষ বা বস্তুর সঙ্গে নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আর্নস্ট স্ট্রাউসের স্মৃতিচারণে (১৯৮০)

লক্ষ্য স্থির থাকলে পরিস্থিতি বদলালেও টিকে থাকবে।

৫৪. “মূল্যবান কিছুই উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে জন্মায় না; জন্মায় ভালোবাসা ও নিষ্ঠা থেকে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, চিঠি (৩০ জুলাই, ১৯৪৭)

ভালোবাসা ছাড়া করা কাজে প্রাণ থাকে না।

৫৫. “আমার জীবন দাঁড়িয়ে আছে অন্য মানুষের শ্রমের ওপর” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

কৃতজ্ঞতাই তাঁর দৈনন্দিন অনুশীলন ছিল।

৫৬. “আমি কারও কাছে কোনো কৃতিত্ব দাবি করি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্ট সাক্ষাৎকার (১৯২৯)

এই বিনয়ই তাঁকে মহান করে।

৫৭. “অন্যরা ব্যাখ্যা করার পর থেকে আমি নিজেই আর এটা বুঝি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৩০)

নিজের কাজ নিয়েই তাঁর ছিল চমৎকার রসবোধ।

৫৮. “বিজ্ঞান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ না করতে হলে বিজ্ঞান চমৎকার জিনিস” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ই. হোলজাপফেলকে লেখা চিঠি (মার্চ, ১৯৫১)

পেশার চাপে ভালোবাসার বিষয়টাও ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে।

৫৯. “আমি বুদ্ধিমান, কিন্তু শ্রমিকের মতো দৃঢ়চেতা নই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, চাচাতো ভাই রিচার্ডকে লেখা চিঠি (অক্টোবর, ১৯৪৭)

নিজের কাজকে তিনি কখনোই শ্রমজীবীর কষ্টের ওপরে রাখেননি।

৬০. “সত্য ও সৌন্দর্যের অনুসন্ধানে সারাজীবন শিশু থাকার অনুমতি আছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আদ্রিয়ানা এনরিকেসকে লেখা চিঠি (অক্টোবর, ১৯২১)

জ্ঞানের পথে শিশুসুলভ বিস্ময়ই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

মানবতা ও নৈতিকতা

বিজ্ঞানীর পাশাপাশি আইনস্টাইন ছিলেন মানবতাবাদী। মানুষের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থান ছিল স্পষ্ট।

৬১. “অন্যদের জন্য বাঁচা জীবনই কেবল বাঁচার যোগ্য জীবন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ইয়ুথ পত্রিকার প্রশ্নের জবাব, নিউ ইয়র্ক টাইমস (২০ জুন, ১৯৩২)

অন্যের জন্য বাঁচাই জীবনকে অর্থ দেয়।

৬২. “আত্মার প্রধান কাজ মানুষকে তার অহং থেকে মুক্ত করা” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৮ সালের আলাপ)

অহং কমালেই মন বড় হয় — এটাই আত্মিক উন্নতি।

৬৩. “জ্ঞান ও দক্ষতা একা মানবতাকে সুখী জীবনে নিতে পারে না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লিখিত বিবৃতি (সেপ্টেম্বর, ১৯৩৭)

জ্ঞানের সঙ্গে নৈতিকতা না থাকলে অগ্রগতি অর্থহীন।

৬৪. “মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হলো আমাদের কাজে নৈতিকতার জন্য সংগ্রাম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, ব্রুকলিনের যাজককে লেখা চিঠি (২০ নভেম্বর, ১৯৫০)

নৈতিক জীবনই একমাত্র টেকসই সাফল্য।

৬৫. “পৃথিবীকে উন্নত করবে আদর্শ। কনফুসিয়াস, বুদ্ধ, যিশু, গান্ধী বিজ্ঞানের চেয়ে বেশি করেছেন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৮)

সভ্যতা এগোয় আদর্শের হাতে, শুধু প্রযুক্তির হাতে নয়।

৬৬. “এই ভ্রম থেকে মুক্তিই আমাদের কাজ — করুণার বৃত্ত প্রশস্ত করে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, রবার্ট মার্কাসকে লেখা শোকবার্তা (১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫০)

আলাদা ভাবার ভ্রম কাটিয়ে করুণা বাড়াও।

৬৭. “পৃথিবী বেশি বিপদে তাদের কারণে, যারা মন্দকে সহ্য করে — মন্দকারীদের কারণে নয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, পাবলো ক্যাসালসের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি (৩০ মার্চ, ১৯৫৩)

নীরব দর্শকও অপরাধের অংশীদার — প্রতিবাদই নৈতিকতা।

৬৮. “যে আনন্দে সামরিক সারিতে মার্চ করে, সে ইতিমধ্যেই আমার ঘৃণা অর্জন করেছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

অন্ধ আনুগত্যের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর আজীবন অবস্থান।

৬৯. “এক পাল ভেড়ার নিখুঁত সদস্য হতে হলে সবার আগে নিজেকেই ভেড়া হতে হবে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

ভিড়ের তালে নিজের চিন্তা হারিও না।

৭০. “আমি মানুষের ভ্রাতৃত্বে ও ব্যক্তিগত মৌলিকত্বে বিশ্বাস করি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৫৪ সালের আলাপ)

সবার সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব, তবু নিজের স্বকীয়তা — দুটোই জরুরি।

শান্তি, যুদ্ধ ও সাহস

পারমাণবিক যুগের সূচনালগ্নে দাঁড়িয়ে আইনস্টাইন শান্তির পক্ষে ছিলেন সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বরদের একজন।

৭১. “আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কোন অস্ত্রে লড়া হবে; কিন্তু চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধ লড়া হবে লাঠি ও পাথরে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আলফ্রেড ওয়ার্নারকে দেওয়া সাক্ষাৎকার (এপ্রিল–মে, ১৯৪৯)

পারমাণবিক যুদ্ধ মানে সভ্যতার পতন।

৭২. “পরমাণুর শক্তি চিন্তার ধরন ছাড়া সবকিছু বদলে দিয়েছে; আমরা বিপর্যয়ের দিকে ভাসছি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, বিশিষ্ট আমেরিকানদের কাছে পাঠানো টেলিগ্রাম (২৪ মে, ১৯৪৬)

প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মানুষের চিন্তা বদলায়নি — এটাই বিপদ।

৭৩. “জাতীয়তাবাদ শিশুসুলভ রোগ। এটা মানবতার হাম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদকে তিনি রোগের সঙ্গেই তুলনা করতেন।

৭৪. “নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া স্থায়ী শান্তি হতে পারে না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনের জন্য লেখা (১৯৩২)

অস্ত্র হাতে শান্তির কথা বলা নিজের সঙ্গেই প্রতারণা।

৭৫. “আমাদের সমস্ত প্রশংসিত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি রোগাক্রান্ত অপরাধীর হাতে কুঠারের সঙ্গে তুলনীয়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, হাইনরিখ জ্যাংগারকে লেখা চিঠি (১৯১৭)

ভুল হাতে প্রযুক্তি আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়।

৭৬. “হিরোশিমা ও নাগাসাকি আগে থেকে জানলে ১৯০৫ সালেই আমার সূত্রটা ছিঁড়ে ফেলতাম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৮ সালের আলাপ)

নিজের আবিষ্কারের অপব্যবহারে ছিল তাঁর গভীর অনুশোচনা।

৭৭. “মহান আত্মারা সবসময়ই মাঝারি মনের হিংস্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, মরিস কোহেনকে লেখা চিঠি (১৯ মার্চ, ১৯৪০)

প্রচলিত ধ্যানধারণায় মাথা না নোয়ানো কঠিন।

৭৮. “পৃথিবীর নতুন নৈতিক প্রেরণা দরকার — যা, আমার ভয়, গির্জাগুলো থেকে আসবে না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৩ সালের আলাপ)

নৈতিক নেতৃত্বের নতুন উৎস খোঁজার আহ্বান ছিল তাঁর।

৭৯. “পারমাণবিক শক্তি নতুন সমস্যা তৈরি করেনি; পুরনো সমস্যার সমাধান জরুরি করেছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আটলান্টিক মান্থলিতে বিবৃতি (নভেম্বর, ১৯৪৫)

সমস্যা বোমায় নয় — মানুষের মনে; সমাধানও সেখানেই।

৮০. “মানবতার টিকে থাকতে নতুন ধরনের চিন্তা অপরিহার্য” — আলবার্ট আইনস্টাইন, নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৫ মে, ১৯৪৬)

পুরনো চিন্তায় নতুন সংকট মেটে না।

বিশ্বাস ও মহাবিশ্ব

ঈশ্বর ও ধর্ম নিয়ে আইনস্টাইনের ভাবনা ছিল জটিল ও গভীর — ব্যক্তিগত ঈশ্বরে তিনি বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু মহাবিশ্বের প্রতি ছিল তাঁর গভীর শ্রদ্ধা।

৮১. “সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা রহস্য — এটাই সব শিল্প ও বিজ্ঞানের উৎস” — আলবার্ট আইনস্টাইন, হোয়াট আই বিলিভ (১৯৩০)

রহস্যের সামনে বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাই সৃজনশীলতার প্রাণ।

৮২. “ধর্ম ছাড়া বিজ্ঞান খোঁড়া; বিজ্ঞান ছাড়া ধর্ম অন্ধ” — আলবার্ট আইনস্টাইন, সায়েন্স অ্যান্ড রিলিজিয়ন প্রবন্ধ (১৯৪১)

বিজ্ঞান ও ধর্ম পরস্পরের শত্রু নয় — পরিপূরক।

৮৩. “আমার ধর্ম — সেই সীমাহীন উচ্চতর আত্মার প্রতি বিনয়ী প্রশংসা” — আলবার্ট আইনস্টাইন, দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাজ আই সি ইট (১৯৩১)

প্রকৃতির শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাই ছিল তাঁর ধর্ম।

৮৪. “আমি ব্যক্তিগত ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না — এটা কখনো অস্বীকার করিনি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, এক নাস্তিককে লেখা চিঠি (২৪ মার্চ, ১৯৫৪)

নিজের অবস্থান নিয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ স্পষ্ট।

৮৫. “মহাবিশ্ব পরিচালনাকারী সুরেলা নিয়মে আমি প্রতিদিন ঈশ্বরের দেখা পাই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৮ সালের আলাপ)

প্রকৃতির নিয়মেই তিনি ঈশ্বরের প্রকাশ দেখতেন।

৮৬. “গির্জার কর্তৃত্বের ওপর ভিত্তি করে ঈশ্বরের ধারণা মেনে নিতে পারি না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৫৪ সালের আলাপ)

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বাইরে ছিল তাঁর আধ্যাত্মিকতা।

৮৭. “মহাবিশ্বের সুরেলাতা দেখে যারা বলে ঈশ্বর নেই, তাতে আমি রাগান্বিত হই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, প্রিন্স হুবার্টাস জু লোভেনস্টাইনকে বলা (আনু. ১৯৪১)

তাঁকে নাস্তিকতার পক্ষে ব্যবহার তিনি পছন্দ করতেন না।

৮৮. “আমি বিশ্বাস করি, আমার মহাজাগতিক ধর্মীয় অনুভূতি আছে” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৩ সালের আলাপ)

তাঁর ধর্ম ছিল মহাবিশ্বের প্রতি বিস্ময়।

৮৯. “বিজ্ঞানের সূক্ষ্ম অনুমান ধর্মীয় অনুভূতি থেকে জন্মায়” — আলবার্ট আইনস্টাইন, জে. মারফি ও সুলিভানকে সাক্ষাৎকার (১৯৩০)

বড় বৈজ্ঞানিক অন্তর্দৃষ্টির পেছনেও থাকে এক ধরনের শ্রদ্ধা।

৯০. “আমি রহস্যবাদী নই; প্রকৃতির নিয়ম খোঁজার সঙ্গে রহস্যবাদের সম্পর্ক নেই” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৫৪ সালের আলাপ)

বিস্ময় থাকলেও তাঁর পথ ছিল যুক্তি ও পর্যবেক্ষণের।

হাস্যরস ও ব্যক্তিত্ব

গম্ভীর বিজ্ঞানীর আড়ালে ছিলেন রসিক, বিনয়ী এক মানুষ। তাঁর রসবোধের ঝলক এই বিভাগে।

৯১. “কেউ আমাকে বোঝে না, অথচ সবাই আমাকে ভালোবাসে — এটা কেন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, নিউ ইয়র্ক টাইমস সাক্ষাৎকার (১২ মার্চ, ১৯৪৪)

নিজের খ্যাতি নিয়েই ছিল তাঁর চমৎকার রসিকতা।

৯২. “সহজ ব্যাপার, বন্ধু। কারণ রাজনীতি পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ে কঠিন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, প্রিন্সটনের আলোচনাসভায় (জানুয়ারি, ১৯৪৬)

পরমাণু বোঝা গেলেও রাজনীতির জট বোঝা কঠিন ছিল।

৯৩. “প্রেমে পড়ার জন্য মহাকর্ষকে দায়ী করা যায় না” — আলবার্ট আইনস্টাইন, চিঠির কিনারে লেখা নোট (১৯৩৩)

সূত্র দিয়ে প্রেম ব্যাখ্যা হয় না — তাঁর মজার মন্তব্য।

৯৪. “বাস্তবতা কেবল এক ভ্রম — যদিও খুব জেদি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, মিশেল বেসোকে লেখা চিঠি (১৯৫২)

গভীর দার্শনিক সত্যকে তিনি বলতেন হালকা ভঙ্গিতে।

৯৫. “অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের পার্থক্য কেবল এক জেদি ভ্রম” — আলবার্ট আইনস্টাইন, বেসোর পরিবারকে লেখা শোকপত্র (১৯৫৫)

বন্ধুর মৃত্যুতেও বিজ্ঞানের চোখে সান্ত্বনা খুঁজেছিলেন তিনি।

৯৬. “আমাকে যদি আবার জন্মাতে হয়, আমি মুচি হব — আর শান্তিতে চিন্তা করব” — আলবার্ট আইনস্টাইন, আইনস্টাইন অ্যান্ড দ্য পোয়েট (১৯৪৮ সালের আলাপ)

খ্যাতির কোলাহল থেকে দূরে সরল জীবনই চাইতেন।

৯৭. “পৃথিবীতে বোঝা সবচেয়ে কঠিন জিনিস হলো আয়কর” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লিও ম্যাটার্সডর্ফের স্মৃতিচারণে (টাইম, ১৯৬৩)

আপেক্ষিকতা বুঝলেও করের হিসাব তাঁর মাথায় ঢোকেনি!

৯৮. “ঈশ্বর আমাদের গাণিতিক কষ্টের পরোয়া করেন না। তিনি অভিজ্ঞতা থেকে সমাকলন করেন” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লিওপোল্ড ইনফেল্ডের কোয়েস্ট (১৯৪৯)

গণিতের জটিলতা নিয়ে সহকর্মীর সঙ্গে মজার মন্তব্য।

৯৯. “আমি সবার সঙ্গে একইভাবে কথা বলি — সে ময়লাওয়ালা হোক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি” — আলবার্ট আইনস্টাইন, লিওপোল্ড ইনফেল্ডের কোয়েস্ট (১৯৪৯)

পদমর্যাদা দেখে মানুষ মাপতেন না।

১০০. “পৃথিবীর শেষ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে আমার পরামর্শ — অপেক্ষা করো আর দেখো!” — আলবার্ট আইনস্টাইন, নোট (১৯ জুন, ১৯৫১)

মহাজাগতিক প্রশ্নেও তাঁর জবাব ছিল রসিকতায় মোড়া।

প্রশ্নোত্তর: সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

1. আলবার্ট আইনস্টাইনের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি কোনটি?

সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত হয় “কল্পনা জ্ঞানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ” — ১৯২৯ সালে দ্য স্যাটারডে ইভনিং পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলা। এরপরেই আছে সাইকেল-জীবনের উপমা ও “মূল্যবান মানুষ হও” বাণী।

2. ইন্টারনেটে আইনস্টাইনের নামে এত উক্তি — সব কি আসল?

না। তাঁর নামে ছড়ানো বহু উক্তি ভুয়া — যেমন “পাগলামির সংজ্ঞা”, “মাছকে গাছে চড়া দিয়ে মাপা” বা “প্রযুক্তি মানবতাকে ছাড়িয়ে যাবে”। এই প্রবন্ধের ১০০টি উক্তিই চিঠি, সাক্ষাৎকার বা গ্রন্থ থেকে উৎসসহ যাচাই করা।

3. আইনস্টাইন কি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন?

প্রচলিত অর্থে ব্যক্তিগত ঈশ্বরে নয়। তিনি বলতেন, তাঁর “ধর্ম” হলো মহাবিশ্বের শৃঙ্খলার প্রতি বিনয়ী প্রশংসা — যাকে তিনি “মহাজাগতিক ধর্মীয় অনুভূতি” বলতেন।

4. এই উক্তিগুলো কি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যবহার করা যাবে?

অবশ্যই। উৎসের নামসহ শেয়ার করলে কথাগুলোর মর্যাদা বাড়ে — এবং ভুয়া উক্তি ছড়ানোও বন্ধ হয়।

5. আইনস্টাইনের “সুখের তত্ত্ব” কী?

১৯২২ সালে টোকিওর হোটেলে বেলবয়কে টিপের বদলে লেখা নোটে তিনি লিখেছিলেন — “শান্ত ও বিনয়ী জীবন অবিরাম অস্থিরতার সঙ্গে মেশানো সাফল্যের দৌড়ের চেয়ে বেশি সুখ দেয়।”


আইনস্টাইনের উক্তি ভালো লাগলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: মহাত্মা গান্ধীর উক্তি, স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি, সক্রেটিসের উক্তি, বুদ্ধের উক্তি আর এ পি জে আব্দুল কালামের উক্তি — সঙ্গে জীবন, সাফল্য, সময় ও বন্ধুত্ব নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় উক্তিটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো — হয়তো কারও চিন্তার দুয়ার খুলে যাবে।

আরও উক্তি সংগ্রহ

সব উক্তি →

“জীবন নিয়ে কথা বলতে গেলে শেষ হয় না — কারণ জীবন নিজেই প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প লেখে। কখনো সেই গল্পে হাসি থাকে, কখনো কান্না; কখনো অপ্রত্যাশিত সাফল্য, কখনো হঠাৎ ভেঙে…”

আরও দেখুন →

“ভালোবাসার উক্তি: ১৫০+ সুন্দর প্রেমের উক্তি, বাণী ও ভালোবাসার কথা ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ, আবার সবচেয়ে গভীর অনুভূতি। এটা কখনো আসে প্রথম দেখার এক ঝলকে — ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ চোখে…”

আরও দেখুন →

“কষ্টের উক্তি: ১০০+ হৃদয় ছোঁয়া কষ্টের কথা ও বাস্তব জীবনের বাণী কষ্ট জীবনের এমন এক সত্য, যা থেকে কেউ রেহাই পায় না — ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সবাই কোনো না কোনোভাবে কষ্টের…”

আরও দেখুন →

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।