বইয়ের নাম- অনেক আঁধার পেরিয়ে
লেখক- মুহাম্মাদ জাভেদ কায়সার রাহিমাহুল্লাহ
শারঈ সম্পাদনা- শাইখ আহমাদুল্লাহ
সম্পাদনা- আসিফ আদনান
প্রকাশনী- সমর্পণ প্রকাশন
মোট পৃষ্ঠা : ১৯২
বইটি পড়ার অনুভূতি শুধু এটুকুই বলব লেখাগুলো পড়েছি,ভেবেছি, কেঁদেছি নিজের উদাসীনতার কথা ভেবে। প্রত্যকেটা গল্প পড়ে মনে হয়েছে এ যে আমারই গল্প কিংবা আমার আশেপাশের মানুষগুলোর জীবনে ঘটে যাওয়া গল্প।
টুকরো টুকরো গল্পগুলো শুধু গল্প নয় টুকরো টুকরো আলোও বটে। যে আলোর বিচ্ছুরণ নিজে এবং নিজের আশেপাশের অন্ধকারে থাকা মানুষগুলোকেও আলোকিত করবে।( ইনশাআল্লাহ)
▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
মুহাম্মদ জাভেদ কায়সারের ইচ্ছে ছিলো অসাধারণ মৃত্যুর। গুনাহহীন,পরিস্কার আমলনামা নিয়ে নিজের রবের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলেন তিনি। হজ্জের সফরের পর ২০১৯ এর ২৮ শে আগস্ট,মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় উচ্চস্বরে কালিমা পড়েছিলেন। মক্কাতেই তার দাফন হয়। তার খুব প্রিয় দুইটি বইয়ের নাম ছিল,”বায়তুল্লাহ’র মুসাফির” এবং বায়তুল্লাহ’র ছায়ায়।” এখন বাইতুল্লাহর মুসাফির হয়ে আছেন বায়তুল্লাহর ছায়ায়। আমরা আশা করি,মহান আল্লাহ তায়ালা তার দুয়া,তার স্বপ্ন কবুল করেছেন।
লেখক জাভেদ কায়সার ভাইয়ের দীনে আসার আগে ও পরে তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানান রোমাঞ্চকর ঘটনা, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে যেভাবে দেখতেন তিনি সমাজকে, মানুষগুলো থেকে পাওয়া তার গল্প, উপলব্ধি,অভিজ্ঞতা, হাহাকার, খুশি, আত্মসমর্পণ নিয়ে আলোচনা। কিভাবে আল্লাহর ইশারায় ফেইসবুকের একটি স্ট্যাটাসের কমেন্ট বদলে দিল তার সমস্ত জীবনটাকে? কি এমন ছিল সেই স্ট্যাটাসে? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে লেখা চমৎকার একটি বই – অনেক আঁধার পেরিয়ে।
∎ আমার পাঠ্যানুভূতি:-
▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে আছে এখন এই বইটি।লেখকের হজ্জে যাওয়ার ঘটনাটি পড়লে আপনি বিস্মিত না হয়ে পারবেন না, আমিও পারিনি। শুধু কেঁদেছিলাম আর ভেবেছি এও কি সম্ভব? মানুষের নিয়ত কতটা খাস হলে আর চাওয়ার পরিমাণটা কতটা তীব্র হলে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামিন এভাবে তার ইচ্ছা পুরন করে তা আমি প্রচণ্ডভাবে উপলব্ধি করতে পারছিলাম।
এখন বইয়ের কথায় আসি। আল্লাহ্’র দেওয়া সব ইবাদতের মধ্যে হজ্জের প্রতি আমার আলাদা একটা টান কাজ করে। আসলে বায়তুল্লাহ’র প্রতি একটা আলাদা ভালোবাসা আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল। আমার অনেক লেখায় সেটা প্রকাশ করেছি। তাই যখনই কারো হজ্জের গল্প শুনি, আমি আগ্রহ নিয়ে শুনি। একেক জনের গল্প একেকরকম। তবে সবার গল্পে একটা ব্যাপার মিল পাই, সবাই একই কথা বলেন, সেটা হচ্ছে জীবনের কোনো না কোনো সময়, সবাই মন থেকে চেয়েছেন বা নিয়ত করেছেন হজ্জে যাওয়ার। উনার লেখাতেও আমি সেটা পেয়েছি। কি আগ্রহ আর টান ছিল উনার বায়তুল্লাহর প্রতি। বিশেষ করে উনার প্রথমবার হজ্জে যাওয়ার ঘটনা যখন আমি আমার পরিবারের সাথে গল্প করেছিলাম , তখন সবাই অবাক হয়েছিল। এরকম ঘটনাও ঘটে মানুষের জীবনে! উনার হজ্জ সম্পর্কিত সবগুলো লেখা আমার সবচেয়ে প্রিয়। এই প্রসঙ্গে বলি, লেখকের সাথে ২০১৬ সালে ম্যাসেঞ্জারে আমার কথা হয়েছিল হজ্জ সম্পর্কে।
তারপর উনার দ্বীনের পথে আসার গল্পটাও খুব ভালো লেগেছে। প্রতিটি মানুষের দ্বীনের পথে আসার গল্পটা শুনতে খুব ভালো লাগে। আল্লাহ’র প্ল্যানিংটা দেখি তখন। আল্লাহ্’র প্রতি টানটা বেড়ে যায় অনেক, কৃতজ্ঞতায় মাথা নুয়ে আসে।
উনার ছোটবেলার ঘটনা, চলতি পথে উনার জীবনের টুকরো টুকরো গল্পের মাঝ থেকে উনার উপলব্ধিগুলো ভাবনার খোরাক জোগায়।
কিছু লেখা পড়ে মনে হয়েছে, আলেয়ার পিছেই কি ছুটে চলছি আমরা? কিছু লেখা আমাকে ভাবিয়েছে আল্লাহ্’র নিয়ামতের কথা, নিজের মৃত্যুর কথা, দুনিয়ার মোহের কথা, নিজেকে ঠকানোর কথা।
শিক্ষনীয় কিছু বিদেশি গল্পের অনুবাদগুলো পড়ে অভিভূত হয়েছি। বিদেশি গল্পগুলো আমার আগেই পড়া ছিল। প্রাঞ্জল ভাষায় অনুবাদ করেছেন তিনি।
এত সাবলীল ভাষায় কিছু সাহাবী রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহুর কথা বলেছেন যে, পড়ার পর মনে হয়েছে, আহা! আরো কিছু লিখতো, শেষ হয়ে গেলো কেনো লেখাটা
∎ বইটির বিশেষত্বঃ
▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
বইএর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে বইটি লেখকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস গুলো একত্র করে তৈরি করা।মানে লেখক কখনোই বই বের করার উদ্দেশ্যে লেখাগুলো লেখেননি,তিনি পথভোলা ভাইবোনদের দীনের প
তিনি রিয়ার(লোক দেখানো ইবাদত) ভয়ে কখনোই চান নি বই প্রকাশ করতে। তিনি জানতেনও না কখনো যে তিনি চলে যাবার পর এক দল ভাই(প্রকাশক,সম্পাদক টিম) তার লেখাগুলোকে বই আকারে প্রকাশ করে তার জন্য সাদকায়ে জারিয়া বানিয়ে রাখবেন, মাশা আল্লাহ!
আল্লাহ ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন।
বইটি_যাদের_জন্যঃ
যারা ইসলামে চলার পথে নতুন তাদের জন্য বইটি খুব ই উপকারী। লেখক খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন ইসলামের সকল দিক৷
বইটি_কেন_পড়বেনঃ
দ্বীন পালনের অনুপ্রেরণা যোগানোর জন্য অসাধারণ একটি বই। ভাইয়ের এই বইটি আল্লাহ তা’য়ালা সাদকায়ে জারিয়া হিসাবে কবুল করুন। আমীন।
এই বইটির প্রকাশের সাথে জড়িত সকলকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান করুক। প্রিয় জাভেদ কায়সার ভাইকে আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ জান্নাত দান করুক।
বইপাও থেকে আপনি আর কি কি কন্টেন্ট পেতে চান?