ব্ল্যাক ফেয়ারি টেইল – লেখক অৎসুইশি
বই সম্পর্কে
- বইঃ ব্ল্যাক ফেয়ারি টেইল
- লেখকঃ অৎসুইশি
- বাংলা অনুবাদকঃ Salman Haque (রোদেলা প্রকাশনী)
- রিভিউ লেখকঃ আয়শা সিনীন খাঁন
- Reviewer, Article and blog writer
অৎসুইশির ব্ল্যাক ফেয়ারি টেইল আসলে গতানুগতিক রূপকথার গল্প নয়!
তুষারশুভ্র এক দিনে ছাতার চোখা অংশ বাম চোখটাতে ঢুকে যাওয়ায় তুখোড় মেধাবী হাসিখুশি নামির প্রশংসামুখর জীবনে কালো ছায়া নেমে আসে। বাম চোখটা হারানোর সাথে হারায় আগের সব স্মৃতি। কিছুদিন পর কাজুয়া নামের এক মৃত ছেলের চোখ প্রতিস্থাপন করার হয় নামির বাম চোখের কোটরে। দৃষ্টি ফিরে পেলেও ফিরে পায়নি আগের স্মৃতি। তবে অদ্ভুত বিষয় এই যে, নামি মাঝেমাঝেই বাম চোখে নতুন কিছু স্বপ্ন দেখা শুরু করে। এগুলো কি স্বপ্ন? নাকি বাস্তবে ঘটা কাজুয়ার পুরনো স্মৃতি? কাজুয়া তার জীবনের সাথে জড়িয়ে যায়। নামি এই মৃত যুবকটির প্রেমে পড়ে যায়। কাজুয়ার মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয়নি। সবাই আত্মহত্যা বলে জানলেও নামি আবিষ্কার করে এটা খুন। শুরু হয় তার অনুসন্ধান। সেই অনুসন্ধানেই নামি জড়িয়ে যায় এক রহস্যময় ঘটনায়, আবিষ্কার করে অদ্ভুত রহস্যময় সব কান্ড।
এখানে একজন স্মৃতি হারানো মেয়ের কষ্টানুভূতি, একাকিত্ব, অসহায়ত্ব সাবলীল ভঙ্গীতে ফুটে উঠেছে। একজন তুখোড় মেধাবী মানুষ যখন তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলে তার সব মেধা হারিয়ে ফেলে কেমন হয় তার জীবন? আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, শিক্ষক শিক্ষার্থী সবাই যখন সেই পুরনো মেধাবী হাসিখুশি মানুষটিকে চায় ঠিক তখন স্মৃতি হারানো মানুষটি কি রকম বিভীষিকাময় পরিস্থিতির স্বীকার হয়? যখন সে চাইলেও আগের অবস্থাতে ফিরে যেতে পারে না তখন কেমন অনুভূতি হয়? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ব্ল্যাক ফেয়ারি টেইল উপন্যাসটিতে।
অনুবাদক সালমান হক খুব সাবলীল ভঙ্গিতে জাপানী বিখ্যাত লেখক অৎসুইশির উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন। পড়লে মনেই হয় না যে অনুবাদ পড়ছি। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়টি হচ্ছে লেখক সালমান হকের লেখায় কোন আড়ষ্টতা নেই।
বলা যায়, বাংলাদেশে বিদেশী থ্রিলারের মধ্যে জাপানি থ্রিলারই এখন সব থেকে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে জাপানী থ্রিলারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায়, এই বইটিও বেশ ভালো অবস্থানেই আছে। বইটি নিয়ে পড়তে বসলে পাঠক এক অজানা রহস্যে তলিয়ে যাবে, চলে যাবে সেই মেলানকলি গ্রোভ, ছোট শহর কায়েদিতে, চোখ হারানো মেয়েটির জীবনে যে কিনা প্রেমে পড়েছে একজন মৃত যুবকের। যার ফলে উপন্যাসটি শেষ করতে সে বাধ্য!
