বিন্দুবিসর্গ : দেবতোষ দাশ
বই সম্পর্কে
- বই : বিন্দুবিসর্গ পিডিএফ ডাউনলোড
- লেখক : দেবতোষ দাশ
- প্রকাশনী : পত্রভারতী
- মুদ্রিত মূল্য : ৩৭৫ রুপি
❝এক দেশের বুলি, আরেক দেশের গালি।❞
ভাষা এমন একটি জিনিস যা অঞ্চলভেদে তার অর্থ বদলায়। ভাষা পরিবর্তনশীল। হাজার বছর আগের বাংলা ভাষা আর বর্তমানের বাংলা ভাষার মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। তবে এই ভাষার সূত্র এক। কালের বিবর্তনে অনেক পরিবর্তন হলেও এর উৎস সেই আদিকাল। প্রতিটা শব্দের অর্থ কী দেশ বা অঞ্চলভেদে আলাদা। তবে এমনটা কি হতে পারে যে সকল ভাষার পরিবর্তিত রূপ বা অর্থ আসলে সেই আদিকালের ভাষার থেকেই? যাহা লাউ তাহাই কি কদু?
❝গোধূলি গগনে মেঘে ঢেকেছিল তারা..❞ বাজছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। পরপর গু লি ঢুকছে মিডিয়া ব্যারন ভোরের কাগজের সম্পাদক বিল্বদল চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে। কেঁপে উঠছে শরীর। খু ন হলেন তিনি নিজের অফিসেই। কিন্তু কেন?
আচ্ছা মহাভারত-রামায়ণের আসল অর্থ কি আমরা জানি? একে শুধুই ধর্মগ্রন্থ হিসেবে দেখে কি প্রাচীন ভারতের সভ্যতার ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি? এই সভ্যতার আসল ইতিহাসের অর্থোদ্ধার করতেই গতো ত্রিশ বছর ধরে নিজেকে নিবেদন করেছেন কবীর খান। দীর্ঘ এই সাধনার ফলও পেয়েছেন। সঠিক পাঠদ্ধার করেছেন মহাভারত-রামায়ণের। এবার প্রচারের পালা। এ ব্যাপারে সাহায্য করেছিলেন কবীরের ওল্ড ফ্রেন্ড আমাদের মিডিয়া ব্যারন বিলু চ্যাটার্জি (বিল্বদল চট্টোপাধ্যায়)। কিন্তু কবীরের গবেষণা এতোটাই চমকপ্রদ যে তা প্রকাশ হলে রিরি পড়ে যাবে চারদিকে। নতুন করে লিখতে হবে ইতিহাস। কিন্তু একদল স্বার্থান্বেষী আছে যারা চায়না এরকমটা হোক। তাই এই গবেষণা প্রকাশ হবার আগেই সমূলে উৎপাটন করতে চায় তারা। তারই জের ধরে উ গ্র জাতীয়তাবাদী এক মৌ ল বাদী সংগঠন সত্যসেনা (এসএস) পাঠায় তাদের অন্যতম সেনাপ্রমুখকে। বিলুকে শেষ করে দিয়ে সে ছোটে কবীরের পিছে।
বিলু হত্যার তদন্তে নামে লালবাজার ডিসি- ডিডি রজত। সাথে এক্সপার্ট অপিনিয়ন হিসেবে সঙ্গী হয় ডিকে ওরফে ধরণী কয়াল। তদন্ত শুরু হয়। এক এক করে উঠে আসে নানা তথ্য। বিলু মৃ ত্যু র পূর্বে বিড়বিড় করে বলে যায় কিছু কথা। সেটা কি কোন কোড? এনক্রিপ্টেড কোন তথ্য না পাসওয়ার্ড? অনুসন্ধান চলছে।
তদন্তে নাম বেরিয়ে আসে বিলুর অন্যতম সেক্রেটারি নিবেদিতার। গবেষণা সম্পর্কে অনেক কিছু সে জানে। এবং মনে প্রাণে চায় এই পাণ্ডুলিপি বই আকারে বেরিয়ে আসুক। হাজার বছরের অন্ধ নিয়মের অবসান হোক। তাই সে ছুটে চলে কবীর খানকে নিয়ে। যে করেই হোক খানদাকে বাঁচাতেই হবে। ঘটনাক্রমে নিবেদিতা এবং কবীর খানের যাত্রা সঙ্গী হয় ডিকে। শেষ রক্ষা হবে কি? না এসএস এর থিংক ট্যাংক খ্যাত সেই সেনাপ্রমুখ এবারও তার কম্মে সফল হয়ে ইতিহাস রচনার নতুন সূর্য ডুবিয়ে দেবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
ধর্ম বা ইতিহাস একদম ডিসেকশন করে থ্রিলার জাতীয় বই পড়লে প্রথমেই মাথায় টুইং করে বেজে ওঠে ❝আউ, এইটা তো ড্যান ব্রাউনের ভিঞ্চি কোডের মতো!❞ কনস্পিরেসি থ্রিলারের ক্ষেত্রে ভিঞ্চি কোডের পর এ জাতীয় বই পড়লে এরকম ধারনা আসতেই পারে। যদিও লেখক বইয়ের ভূমিকায় স্বীকার করেছেন ভিঞ্চি কোড থেকেই ভাবনাটা মাথায় এসেছে। তবে ভিঞ্চি কোডের সাথে একে তুলনা না করলেই বরং ভালো। ধর্ম, পুরাণ ও ভারতবর্ষের ইতিহাস নিয়ে লেখা অসাধারণ এক উপন্যাস ❝বিন্দুবিসর্গ❞।
শুরুতেই দেখা যায় ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক মিডিয়া ব্যারন বিল্বদল চট্টোপাধ্যায় খু ন হোন এবং তার তদন্তে নামে রজত। সাথে তাকে সাহায্য করে ধরণী কয়াল। তদন্তে বের হয়ে আসে গা ছমছম করা সব তথ্য। মহাভারত-রামায়ণ এফোঁড়-ওফোঁড় করে তথ্য বের করেছে কবীর খান। লেখক প্রতিটা অধ্যায় বেশ পান্ডিত্যের সাথে লিখেছেন। বইটা পড়ার আগে হয়তো একটা সাধারণ শব্দের মানে কী রকম হতে পারে বা তার আসল অর্থ কী সেসব নিয়ে ভাবিই নি।
শব্দতত্ত্ব, সংস্কৃত, বাংলা তৎসম শব্দ, ক্রিয়াভিত্তিক শব্দ এবং এর আসল অর্থ নিয়ে মহাভারত আর রামায়ণকে বোঝার ব্যাপারটা এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। লোকমুখে প্রচলিত যেসব প্রবাদ প্রবচন আমরা শুনে আসছি তার উৎস এবং প্রকৃত অর্থ কী আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা। আবার জানলেও হয়তো বিকৃত রূপটাই জেনে এসেছি। ❝বিন্দুবিসর্গ❞ বইতে লেখক কবীর খানের মাধ্যমে সেই বিষয়গুলোই তুলে ধরেছেন।
ভূমিকায় লেখক ❝কলিম খান❞ এর গবেষণালব্ধ ফলের অংশ বিশেষ উপন্যাসে ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করেন। উপন্যাস পড়ার সময় ❝কবীর খান❞ কেই আমার বারবার কলিম খান বলে মনে হচ্ছিল।
নতুন সত্য প্রকাশ হলে একদল মানুষের সেটা মেনে না নেয়ার যে প্রবণতা, নিজের স্বার্থ রক্ষায় হাজার বছর ধরে চলা অ না চা র, অ ন্যা য়ে র অবসান করতে না দেয়ার যে প্রবৃত্তি সে বিষয়গুলো লেখক তার উপন্যাসে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত দারুণভাবে উপভোগ করেছি। মাঝের দিকে একটু ধীর গতির লেগেছিল যদিও। শেষের দিকের নিবেদিতার একটি দৃশ্য মনঃপুত হয়নি ঠিক (স্পয়লার হয়ে যাবে বলে বিস্তারিত বলা গেলো না)।
❝বিন্দুবিসর্গ❞ বইটি বাংলাদেশেও “ভূমি প্রকাশ” থেকে বের হয়েছে।
.jpeg)