পূর্ব-পশ্চিম লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বই সম্পর্কে
- পূর্ব-পশ্চিম (পিডিএফ ডাউনলোড) PDF Available⤵️
- লেখক : সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
- প্রকাশনী : আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড
- বিষয় : ভারতীয় বাংলা বই
- রেটিংঃ🌟🌟🌟🌟🌟
সময়তো আর দর্পনের মতন থেমে থাকেনা,সময় নদীর স্রোতের মতন বয়ে চলে।আর বয়ে চলা ‘সেই সময়’ স্রোতের টানে এসে শেষ হয় ‘পূর্ব-পশ্চিম’ এ। সময়ের এ বয়ে চলার মধ্যেই অনেক হাসি,অনেক কান্না, অনেক দুঃখ, দুর্দশা, আর অনেক হৃদয় ভাঙার গল্প হয়ে ছবির মতোই স্থির হয়ে যায় একটি ব্যাপার ‘দেশ ভাগ’।
দেশ ভাগের আখ্যানে লেখা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের টাইম ট্রিলজির শেষ বই ‘পূর্ব পশ্চিম’ মূলত গল্পচ্ছলে বলা ইতিহাসের এক স্বপ্নভঙের গল্প। দুই বাংলার কেন্দ্রস্থল কলকাতার রিপন কলেজে পড়ুয়া দুই বন্ধু পূর্ববাংলার মালখনগরের মজুমদার বাড়ির প্রতাপ মজুমদার আর কুমিল্লার দাউনকান্দির সৈয়দ মোজাম্মেল হক তথা মামুন এর হাত ধরেই ইতিহাস এগিয়ে চলে ধারাবাহিক ভাবে। প্রায় চল্লিশ বছর সময়কে লেখক একটু একটু করে স্পর্শ করেছেন এক হাজার পেইজের এই নাতিদীর্ঘ বইয়ে।ইতিহাসের চরিত্রগুলোকে রক্ত মাংসের জীবন্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে।
১৯৪৭ সালে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে সংগঠিত হয় দুঃস্বপ্নের দেশ ভাগ।ভারতের মতো একটি দেশ “যে দেশে শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ কুসংস্কার -তাড়িত,সামান্য বাইরের প্ররোচনাতেই ধর্মের নামে হাতিয়ার তুলে নেয়,কথায় কথায় রক্তের স্রোত বইয়ে দেয়, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রইলেন এমন একজন, যিনি ব্যাক্তিগত জীবনে ধর্মচর্চাকে অরুচিকর বিবেচনায় আত্মশ্লাঘা বোধ করেন।” মালখনগরের স্মৃতিকে বাচিঁয়ে রেখে প্রতাম মজুমদার থেকে যান বাংলার পশ্চিমে। উনাকে কেন্দ্র করে উঠে আসে দেশ ভাগ পরবর্তী পশ্চিম বাংলার রাজনৈতিক উত্থান-পতন, রিফিউজিদের মর্মান্তিক করুন জীবন,নকশাল আন্দোলন। তৎকালীন পশ্চিম বাংলার বাঙালি পরিবারগুলোর সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক, ও ধর্মীয় দিকগুলোও সমানতালে চলে আসে ইতিহাসের অংশ হিসেবে।
সমান্তরাল ভাবে ১৯৩৭ সালে বাংলার পূর্ব দিকে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে এসেছিল এক নতুন আশা আর উদ্দীপনার জোয়ার।সেই উদ্দীপনায় গা ভাসিয়ে মুসলিমদের জন্য পাওয়া একটা আলাদা রাষ্ট্রের আহ্লাদ নিয়ে মামুন চলে আসে একটা স্বাধীন দেশের মাটিতে।কিন্তু আহ্লাদে আটখানা হওয়া পূর্ববাংলা মুসলিমরা সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলো আরো অনেক বছর পরে।এতো স্বাদের পাকিস্তানে এসে মামুন একে একে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়গুলোর সাক্ষী দিয়ে যান বইয়ের পাতায় পাতায়।
লেখক বাংলার দুই দিক পূর্ব-পশ্চিম ছাড়াও পাঠকদেরকে ঘুরিয়ে এনেছেন ইউরোপ, আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি পরিবারগুলোর সভ্য জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে।এছাড়াও তুলে এনেছেন তাদের দেশপ্রেম,অর্থনীতি,ও ইস্কনের মতোন ধর্মীয় উন্মাদনার বিষয়গুলো।
তথ্যে ঠাসা ইতিহাস নির্ভর বই পড়তে যারা ভয় পান তাদের জন্য গল্পচ্ছলে বলা এই উপন্যাসটা হাইলি রেকোমেন্ডেড। ইতিহাসের সব তথ্য -উপাত্ত উপন্যাস লেখার খাতিরে হয়তো একটু এদিক সেদিক হয়ে যায়,আবার লেখকের নিজের মতামত, চিন্তাধারা, আদর্শও চলে আসে লেখনির ফাঁক ফুকোরে।এক্ষেত্রে লেখকের ঋণ স্বীকারের কর্তব্যবোধে দেয়া তালিকার ৪০টি বই অবশ্য দ্রষ্টব্য।
✍️ Marjana Maria
