মূল কন্টেন্টে যান

জবাইঘর বইটি কেন পড়বেন ? হাসান মাহবুব – Jobaighor By Hasan Mahbub Books

বই সম্পর্কে

  • বই : জবাইঘর
  • লেখক : হাসান মাহবুব
  • প্রচ্ছদ : ধ্রুব চন্দ্র
  • প্রকাশনা : পেন্ডুলাম পাবলিশার্স
  • অলংকরণ : মিথুন রশিদ 
  • প্রথম প্রকাশ : জানুয়ারি ২০২০ 
  • জনরা : থ্রিলার, জাদুবাস্তবতা, এবসার্ডিজম।
  • রিভিউয়ার : ওয়াসিম হাসান মাহমুদ

গল্পগুলো অস্বস্তিকর। গল্পগুলো অশ্লীল। ভায়োলেন্সে ভর্তি প্রায় প্রতিটি স্টোরি। মানবজীবনের সাথে সেই ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সমিল আছে গল্পগুলোর সেটা বলতে হবে। মানুষের জীবনের দুঃখ, দূর্দশা, নিত্যদিনকার শীতল নির্মানবিকতা ফুটে উঠেছে এই ব‌ইয়ে‌।

এক ডজন গল্পের সমন্বয়ে এই গ্রন্থের সৃজন। প্রতিটি স্টোরি মনে হয় কয়েক লেয়ার বা স্তরে লিখা। যত লেয়ারে সচেতন পাঠক প্রবেশ করবেন তত‌ই অস্বস্তিকর এক একটা জানালা উন্মোচিত হতে থাকবে। সবগুলো গল্প আমার ভালো লেগেছে এই কথা বলবো না। তবে অধিকাংশ ক্লিশে ভর্তি, বিভিন্ন ডাইরেক্ট এবং ইনডিরেক্ট উপমা, ভঙ্গিমা এবং রূপকের ব্যবহার হয়েছে। 
একজন সর্বভূক সচেতন পাঠকের কাছে এসব দূর্বোধ্যতা তেমন কঠিন কোন ম্যাথ হবে না সলভ করার জন্যে। বরঞ্চ ভালো রিডার নিজেকে অথবা নিজের পারিপার্শ্বিকতাকে হয়তো খুজে পেতে পারেন এই ব‌ইয়ে। গ্রন্থকারের লেখনী বেশ দ্রুতগামী। গল্পগুলো ঝুলে যায়নি কোথাও। এর মধ্যে হয়তো এই ব‌ইয়ের জনরা কি সেটা নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে রিডারদের মাঝে।
হাসান মাহবুবের লিখা কোন ব‌ই এই প্রথম পড়ে শেষ করলাম। এখন মনে হচ্ছে আরো আগে কেন খুঁজে নিলাম না এই লেখককে? বাংলা ভাষায় একজন আন্ডাররেটেড পাওয়ারফুল প্রোজ রাইটারের দেখা পেলাম এই ব‌ইয়ের মধ্য দিয়ে যাত্রা করার সময়। কি শক্তিশালী লেখনীর অধিকারী লেখক হাসান মাহবুব! 
লেখকের কয়েক লেয়ারে লিখা এই ব‌ইয়ের কিছু গল্প থ্রিলার, কিছু গল্প জাদুবাস্তবতা এবং কিছু গল্প উদ্দেশ্যমূলকভাবে অর্থহীন মনে হতে পারে। তবে তার লেখনী যথেষ্ঠ ডার্ক। সবসময় আলো পথ দেখাবে এই চিন্তা ভাবালুতায় ভর্তি। মানবজীবনের বৃহৎ অংশ অন্ধকারে ঢাকা। মানবসন্তানের বেশিরভাগ গল্প নির্মমতম পরাজয়ের। লেখক হ্যাপি এন্ডিং দিতে চান নি। বেশিরভাগ সময় কি আসলে আমাদের গল্পের এন্ডিং গুলো হ্যাপি হয়? 
এই ব‌ই দূর্বল হৃদয়ের অধিকারী পাঠকের জন্য নয়। এই ব‌ই নয় নায়কের জয় খুঁজে ফেরা রিডারের জন্য। ব‌ইটি বেশিরভাগ পাঠকের মন খারাপ করে দিতে পারে। তবে আমি মনে করি এরকম ব‌ই যদি হাসান মাহবুব লিখে যেতে থাকেন তাহলে তিনি বাংলা ভাষায় একজন কিংবদন্তী লেখকে পরিণত হবেন। তাঁর লিখা ব‌ইসমূহ ক্লাসিকের মর্যাদা পেতে পারে। বাংলা সাহিত্যকে হাসান মাহবুবের প্রাপ্য মর্যাদা দিতেই হবে।
লেখকের কথা ঠিক, “মানুষের অসুখ এবং আঁধারের ঠিকানা দরকার, কি বলেন?” হাসান মাহবুব ব‌ইয়ের পিছনে পাঠকের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সাহস করে এসব অন্ধকারের মুখোমুখি হ‌ওয়ার জন্য। 
চ্যালেঞ্জ আমি নিয়েছি। অন্ধকার অবচেতন জিতেনি। জিতেছি আমি।
কারণ জীবনে বিভিন্ন রূপে আমাদের সবার জন্য হয়তো জবাইঘরের সিরিয়াল আছে। আতঙ্কিত না হয়ে বরঞ্চ আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে জবাইঘরের দিকেই যাত্রা করার প্রস্তুতি থাকুক সবার।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।