মূল কন্টেন্টে যান

কাসাসুল হাদিস (২য় খণ্ড)

বই সম্পর্কে

কাসাসুল হাদিস (২য় খণ্ড) (pdf no available right now)
লেখক : ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ)
প্রকাশনী : মাকতাবাতুস সুন্নাহ (বাংলাবাজার)
বিষয় : হাদিস বিষয়ক আলোচনা

পৃষ্ঠা : 368, কভার : হার্ড কভার

Image


কাসাসুল হাদিস (২য় খণ্ড) রিভিউ
গল্প পড়তে সবারই ভালো লাগে। ভালো লাগাটা আরও বেড়ে যায়, যদি গল্পটি হয় প্রিয়নবী সা.-এর। আর সেটি যদি হয় অলৌকিক বিষয় নিয়ে, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। প্রিয়নবী সা.-এর মু‘জিযার গল্প পড়ার অপেক্ষা আর সহ্য হতে চায় না।
.
প্রিয় পাঠক! ইতিপূর্বে আমরা আপনাদের উপহার দিয়েছিলাম কাসাসুল হাদিস-০১। এবার কিন্তু আমরা আরও সুন্দর করে সাজিয়েছি কাসাসুল হাদিস-০২। এ উপহার আপনাদের জন্য। হ্যাঁ, আপনাদের জন্য আমরা উপহারটি সাজিয়েছি দলিল-প্রমাণ সমৃদ্ধ ঘটনা দ্বারা। বইটির প্রতিটি ঘটনাই রাসূল সা.এর মুজিযা।এবং প্রতিটি মুজিযাই হাদিস।ভালো লাগার আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের এবারের আয়োজন সব বয়সী পাঠকের জন্য। শিশুরা যেমন পড়ে আনন্দ পাবে। আবার বড়রাও এটা পড়ে অনেক কিছু জানতে পারবে। অর্থাৎ শিশুতোষ ভাষায় চমৎকার তথ্য সমৃদ্ধ করেই আমাদের এবারের আয়োজন।

লেখক সামনে রেখেছেন ইমাম ইবনে হাজার আসকালানি রহ.-এর কালজয়ী গ্রন্থ ‘মু‘জিযাতুর রাসূল’ এই বইটি। এরপর সুন্দর করে বিন্যস্ত করেছেন প্রিয়নবী সা.-এর মুজিযাকে। গল্পের আদলে উপস্থাপন করেছেন নবীজীবনে ঘটে যাওয়া অলৌকিক কাহিনীগুলোকে।
কাসাসুল হাদিস-০২ এর লেখক নিজে হাদীসের শিক্ষক। এ পর্যন্ত চারটি চারটি সীরাতগ্রন্থ সংকলন ও অনুবাদের কাজ করেছেন তিনি। সাহাবী সিরিজ লিখেছেন আট খণ্ড। এসব লিখনীর নির্যাস হলো কাসাসুল হাদিস-০২

চাঁদের সাথে খেলা

তখনও তিনি মুসলমান হননি। তারপরও…

তারপরও তিনি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালোবাসতেন। তাঁর কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন। যে কোনো বিপদাপদে তিনি রাসূলের পাশে দাঁড়াতেন। অথচ তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। মুসলমান হননি।

মহান আল্লাহ তাআলা তখনও রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মদীনা হিজরতের অনুমতি দেননি; তবে ইশারা ইঙ্গিত বিবেচনায় তিনি হিজরতের চিন্তা-ভাবনা করছেন। নবুওয়াতের ১০ম বর্ষের রজব মাস। এ সময় মদীনা থেকে মক্কায় এলো একটি প্রতিনিধিদল।

তাঁরা এসেছিলো হজ্জব্রত পালন করতে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকাবা নামক স্থানে তাঁদের সাথে মিলিত হলেন। তিনি তাঁদেরকে মহান আল্লাহ তাআলার সুমধুর বাণী পবিত্র কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করে শোনালেন। এসব লোক একজন আরেকজনের (সাথে পরামর্শ করে) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন

‘মনে হচ্ছে ইনিই সেই সর্বশেষ নবী। এমন যেন না হয় যে, ইহুদিরা আমাদেরকে হারিয়ে দেয়। এ কথার বলার সাথে সাথে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলেন। এঁরা ছিলেন ছয়জন।

পরের বছর মদীনা থেকে ১২জন লোক এসে মুসলমান হলেন। এসব নওমুসলিম লোকেরা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবদার জানালেন যে, আমাদের সাথে এমন ব্যক্তিবর্গ প্রেরণ করুন, যাঁরা আমাদেরকে ইসলামের বাণী শেখাতে পারে এবং আমাদের শহরে গিয়ে ওয়ায নসীহত করে দীন প্রচার করতে পারে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কাজের জন্য বিশিষ্ট সাহাবী হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে নির্বাচন করলেন। তিনি ছিলেন আবদে মানফের নাতী এবং

প্রবীণ মুসলমানদের মধ্যে অন্যতম।
হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এসব লোকের সাথে মদীনায় আগমন করলেন। এখানে এসে তিনি মানুষের ঘরে গিয়ে গিয়ে ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে লাগলেন। তাঁর ওয়ায নসীহত শুনে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করতে আরম্ভ করলো। আলহামদুলিল্লাহ! মাত্র একবছরের মধ্যেই প্রায় প্রতিটি ঘরে (দুয়েকজন করে লোক ) মুসলমান হয়ে গেল।
পরের বছর যখন হজ্জের সময় হলো তখন মদীনার ৭২ জন লোক রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে এলেন এবং তাঁরা গোপনে বাই’আত গ্রহণ করলেন।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক চাচা ছিলেন আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব। তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি; কিন্তু রাসূলকে ভীষণ ভালোবাসতেন। কাজে-কর্মে সাধ্যমতো সহযোগিতা করতেন।
আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব এসব নওমুসলিমদের বললেন
‘হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বংশে অনেক মর্যাদার অধিকারী। শত্রুর মোকাবিলায় আমরা সবসময় তাঁর সাথে থাকি। এখন তিনি আপনাদের সাথে যেতে চাচ্ছেন। যদি আপনারা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর সাথে থাকেন, তো ভালো। অন্যথায় এখনই পরিষ্কার ভাষায় সেটা বলে দিন।
মদীনার নেতা হযরত বারা ইবনে মা’রূর রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তখন বললেন
‘আমরা তরবারীর ছায়াতলে লালিত পালিত হয়েছি। আপনার এবং ইসলামের হেফাজতের জন্য নিজেদের জীবনবাজি রেখে এমনভাবে লড়াই করে যাবো। যেভাবে আমরা নিজেদের আত্মরক্ষা, পরিবার পরিজনের সুরক্ষা ও মান সম্মান বাঁচানোর জন্য জীবনবাজি রেখে লড়াই করে থাকি।’
তিনি এ কথা বলার পরে অপর নেতা হযরত আবুল হায়সাম বিন তায়হান রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বললেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ও ইহুদিদের মাঝে সম্পর্ক ছিলো। বাইআতের পরে সে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। এমন যেন না হয় যে,
ইসলামের যখন শক্তি-সামর্থ্য অর্জিত হবে তখন আপনি আমাদের ছেড়ে
তাদের কাছে চলে যাবেন।’
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন ‘তোমাদের রক্তই আমার রক্ত। তোমরা আমার, আমিও তোমাদের।’
এই যে, আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব, যিনি ইসলাম গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রাসূলকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডের সহযোগিতা করতেন। তিনি এটা কেন করতেন?
এর উত্তর আমাদের দিয়েছেন ইমাম বায়হাকী, সা’বুনী, খতীব ও ইবনে
আসাকির রহ.। তারা বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল
মুত্তালিব রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন
‘রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের একটি নিদর্শন আমাকে রাসূলকে ভালোবাসতে, তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করতে এবং ইসলাম গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছে।
‘তা হলো- রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশু বয়সে দোলনায় বিশ্রামের সময় যখন হাত নেড়ে চাঁদের দিকে ইশারা করতেন, তখন যেদিকে তিনি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন আকাশের চাঁদ সেদিকে ঝুঁকে যেতো।
এ কথা শুনে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন ‘আমি তখন চাঁদের সাথে কথা বলতাম। চাঁদ আমাকে কাঁদতে বারণ করতো।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন ‘চাঁদ যখন আকাশের নিচে সিজদায় পতিত হতো তখন আমি তার পতনের শব্দ শুনতে পেতাম।’
লক্ষণীয় বিষয়ঃ
বর্ণনাকারীরা বলেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের মু’জিযাসমূহের মধ্যে এটাও একটি চমৎকার বর্ণনা। 
শিক্ষণীয় বিষয়ঃ
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়নবীর জন্য চাঁদকে অনুগত করে দিয়েছিলেন। মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার হুকুম মেনে চলে, তাহলে তাকে মহান আল্লাহ তাআলা এভাবেই পুরস্কৃত করেন।

“কাসাসুল হাদিস (২য় খণ্ড)” বইটিতে হাদীসের আলোকে প্রিয়নবী (সা.)-এর জীবনের অলৌকিক ও শিক্ষণীয় ঘটনাগুলো গল্প আকারে সংকলন করা হয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।