গৌতম বুদ্ধের বাণী আড়াই হাজার বছর পরেও মানুষের মনকে শান্ত করে। দুঃখ, ক্রোধ, আসক্তি আর ভয় — আধুনিক জীবনের এইসব যন্ত্রণার ওষুধ তিনি দিয়ে গেছেন সহজ, সরল কথায়। তাঁর শিক্ষার মূলে আছে একটাই সত্য — মনকে শাসন করতে পারলেই জীবনকে শাসন করা যায়।
এই প্রবন্ধে রইল বুদ্ধের ১০০টি যাচাইকৃত বাণী — বেশিরভাগই ধম্মপদ-এর ৪২৩টি শ্লোক থেকে, প্রতিটির শ্লোক নম্বরসহ; সঙ্গে আছে সুত্ত পিটকের নির্ভরযোগ্য সুত্রের উদ্ধৃতি। মন, ক্রোধ, কর্ম, করুণা, ধ্যান, তৃষ্ণা ও নির্বাণ — দশটি থিমে সাজানো এই সংগ্রহ বুদ্ধের শিক্ষাকে নির্ভরযোগ্যভাবে চেনার পথ। বাংলায় অনুবাদ করেছে বইইনফো সম্পাদকীয় দল। ইন্টারনেটে বুদ্ধের নামে ছড়ানো যাচাই-না-হওয়া উক্তি — যেমন “মনই সবকিছু” ধরনের কাটছাঁট বাক্য — এখানে ইচ্ছে করেই রাখা হয়নি।
একটি সৎ কথা: নিচের ১০০টি বাণীই গৌতম বুদ্ধের নামে প্রচলিত কথার মধ্যে থেকে যাচাই করে বাছাই করা — প্রতিটি ধম্মপদ-এর নির্দিষ্ট শ্লোক (শ্লোক নম্বর উল্লেখসহ) বা পালি ত্রিপিটকের নির্দিষ্ট সুত্ত (যেমন কালাম সুত্ত, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, মেত্তা সুত্ত) থেকে নেওয়া সংক্ষিপ্ত অংশ। বাংলা অনুবাদ বইইনফো সম্পাদকীয় দলের; যাচাই-না-হওয়া ইন্টারনেট-উক্তি এখানে নেই।
মনই সবকিছুর পূর্বগামী
বুদ্ধের শিক্ষার শুরু মন থেকে — ভেতরের মনকে শাসন করতে পারলেই জীবন বদলায়।
১. “মন সব ধর্মের পূর্বগামী, মনই প্রধান। মলিন মনে কাজ করলে দুঃখ অনুসরণ করে — যেমন চাকা বলদের পা।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১
চিন্তাই ভাগ্য গড়ে — মন শুদ্ধ রাখো।
২. “মন সব ধর্মের পূর্বগামী, মনই প্রধান। প্রসন্ন মনে কাজ করলে সুখ অনুসরণ করে — যেমন ছায়া সঙ্গ ছাড়ে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২
ভালো চিন্তাই ভালো জীবনের বীজ।
৩. “মন চঞ্চল, অস্থির, রক্ষা-দমন কঠিন। জ্ঞানী একে সোজা করেন — যেমন শরনির্মাতা তীর সোজা করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩
অশান্ত মনকে শাসন করাই সাধনার শুরু।
৪. “মন দমন করা কঠিন, দ্রুতগামী, যথেচ্ছ বিচরণশীল। মনকে দমন করা ভালো; দমিত মন সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫
মন জয় মানেই জীবন জয়।
৫. “মন অত্যন্ত দুর্লক্ষ্য, সূক্ষ্ম, যথেচ্ছ বিচরণশীল। জ্ঞানী মনকে রক্ষা করুক; রক্ষিত মন সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬
মনের পাহারাদার হও — এটাই শান্তির পথ।
৬. “দেহরূপ গুহায় বাস করে মন দূরে যায়, একাকী বিচরণ করে। যারা মনকে সংযত করে, তারা মারের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭
মন বাঁধতে পারলেই মুক্তি।
৭. “শত্রু শত্রুর বা হিংসুক হিংসুকের যা ক্ষতি করে, বিপথগামী মন তোমার তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪২
সবচেয়ে বড় শত্রু ভেতরেই।
৮. “মা-বাবা বা কোনো আত্মীয় যা করতে পারে না, সুপথগামী মন তা করতে পারে — তোমাকে উন্নত করতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৩
সঠিক মানসিকতাই শ্রেষ্ঠ বন্ধু।
৯. “দক্ষ মালাকারের মতো ফুল তোলার মতো করে কে ধর্মপদগুলো তুলে নেবে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৪
জ্ঞানের ফুল কুড়িয়ে নেওয়াই জীবনের কাজ।
১০. “বিজ্ঞ শিক্ষার্থী পৃথিবী ও যমলোক জয় করবে; ফুল তোলার মতো সে ধর্মপদগুলো তুলে নেবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪৫
শেখার আগ্রহই বড় করে।
ক্রোধ জয় ও ক্ষমা
ঘৃণা দিয়ে ঘৃণা মোছে না — ক্রোধকে জয় করতে হয় অক্রোধে, মন্দকে ভালোতে।
১১. “’আমাকে গালি দিল, মারল, লুটল’ — যারা এমন চিন্তা পোষণ করে না, তাদের ঘৃণা শান্ত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩-৪
অপমানের স্মৃতি আঁকড়ে থাকলে ঘৃণা বাঁচে।
১২. “এ জগতে ঘৃণা কখনো ঘৃণায় শান্ত হয় না; অঘৃণাতেই ঘৃণা শান্ত হয় — এ চিরন্তন নিয়ম।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৫
ঘৃণার আগুন নেভে ক্ষমায়, ঘৃণায় নয়।
১৩. “ক্রোধকে জয় করো অক্রোধে, মন্দকে ভালোতে; কৃপণকে দানে, মিথ্যাবাদীকে সত্যে জয় করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৩
মন্দের জবাব ভালো — এটাই বীরত্ব।
১৪. “সত্য কথা বলো, ক্রোধের বশ হয়ো না; চাইলে অল্প থেকে হলেও দাও — এই তিনে দেবলোকে যাওয়া যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৪
সত্য, সংযম আর দান — তিনটেই স্বর্গের সিঁড়ি।
১৫. “অন্যের দোষ, অন্যের কৃত-অকৃত কর্মের দিকে তাকিও না; নিজের কৃত-অকৃত কর্মের দিকেই তাকাও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৫০
অন্যের বিচার ছেড়ে নিজেকে শোধরাও।
১৬. “কাউকে কঠোর কথা বোলো না; যাকে বলবে সে পাল্টা বলবে। প্রতিহিংসার বাক্য বেদনাদায়ক; পাল্টা আঘাত তোমাকেও ছুঁতে পারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩৩
কথার আঘাত ফিরে আসে — জিভ সংযত রাখো।
১৭. “ভাঙা কাঁসার মতো নিজেকে নীরব করলে তুমি নির্বাণে পৌঁছে গেছ; তোমার মধ্যে প্রতিহিংসা থাকবে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩৪
নীরবতাই ক্রোধের বড় জবাব।
১৮. “দেহের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; দেহে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩১
হাত ওঠার আগেই মনকে থামাও।
১৯. “বাক্যের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; বাক্যে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩২
রাগের মাথায় বলা কথা সারাজীবনের অনুশোচনা।
২০. “মনের ক্রোধ থেকে নিজেকে রক্ষা করো; মনে সংযত হও।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩৩
ক্রোধের বীজ মনেই — সেখানেই উপড়াও।
কর্ম ও তার ফল
যেমন বীজ, তেমন ফল — ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে, তেমনি অল্প অল্প করে পাপ-পুণ্য জমে।
২১. “সৎকাজে ত্বরা করো; মনকে পাপ থেকে বিরত রাখো। যে সৎকাজে ঢিলে, তার মন পাপে আনন্দ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৬
ভালো কাজে দেরি কোরো না।
২২. “কেউ পাপ করলে বারবার তা কোরো না; তাতে আনন্দ পেয়ো না। পাপের সঞ্চয় দুঃখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৭
ভুল বারবার করলে অভ্যাস হয়।
২৩. “কেউ ভালো করলে বারবার তা করুক; তাতে আনন্দ পাক। পুণ্যের সঞ্চয় সুখ আনে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৮
ভালো অভ্যাসই সুখের ব্যাংক।
২৪. “সজ্জনও পাপকে ভালো দেখে যতক্ষণ তার পুণ্য না পাকে; পুণ্য পাকলে তখন ভালোকে ভালো দেখে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১১৯
ফল পাকতে সময় লাগে।
২৫. “দুর্জনও ভালোকে মন্দ দেখে যতক্ষণ তার পাপ না পাকে; পাপ পাকলে তখন মন্দকে মন্দ দেখে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২০
পাপের ফল দেরিতে হলেও আসে।
২৬. “পাপকে তুচ্ছ ভেবো না। ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে; তেমনি মূর্খ অল্প অল্প করে পাপে পূর্ণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২১
ছোট পাপও জমে পাহাড় হয়।
২৭. “পুণ্যকে তুচ্ছ ভেবো না। ফোঁটা ফোঁটা জলে কলসি ভরে; তেমনি জ্ঞানী অল্প অল্প করে পুণ্যে পূর্ণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২২
ছোট ভালো কাজও জমে সম্পদ হয়।
২৮. “আকাশে নয়, সাগরের মাঝে নয়, পাহাড়ের গুহায় নয় — পাপকর্মের ফল থেকে পালানোর জায়গা কোথাও নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৭
কর্মফল থেকে পালানো যায় না।
২৯. “আকাশে নয়, সাগরের মাঝে নয়, পাহাড়ের গুহায় নয় — মৃত্যু থেকে পালানোর জায়গা কোথাও নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৮
মৃত্যু অনিবার্য — জীবন অর্থবহ করো।
৩০. “মন্দ কর্ম দুধের মতো সঙ্গে সঙ্গে টকে না; ছাইচাপা আগুনের মতো মূর্খকে অনুসরণ করে পোড়ায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৭১
পাপের আগুন নেভে না, অপেক্ষা করে।
অহিংসা ও করুণা
সব প্রাণী হিংসায় কাঁপে, সবাই মৃত্যুকে ভয় পায় — নিজেকে অন্যের জায়গায় বসিয়ে দেখো।
৩১. “সবাই হিংসায় কাঁপে, মৃত্যুকে ভয় পায় — নিজের সঙ্গে তুলনা করে কাউকে হত্যা কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৯
অন্যের প্রাণও তোমার মতোই দামি।
৩২. “সবাই হিংসায় কাঁপে; সবার কাছে জীবন প্রিয় — নিজের সঙ্গে তুলনা করে কাউকে হত্যা কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩০
অহিংসাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
৩৩. “নিজের সুখ চেয়ে সুখকামী প্রাণীদের দণ্ডে আঘাত করে যে, সে মৃত্যুর পর সুখ পায় না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩১
অন্যের দুঃখে নিজের সুখ গড়া যায় না।
৩৪. “নিজের সুখ চেয়েও সুখকামী প্রাণীদের দণ্ডে আঘাত করে না যে, সে মৃত্যুর পর সুখ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৩২
দয়া করলে দয়া ফিরে পাবে।
৩৫. “নির্দোষের ওপর দোষ চাপালে মন্দ নিজের ওপরই ফিরে আসে — যেমন বাতাসের বিপরীতে ছোড়া ধুলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১২৫
অন্যায়ের তীর ঘুরে নিজের দিকে আসে।
৩৬. “সব প্রাণী সুখী হোক, নিরাপদ হোক — এই মৈত্রীভাবনা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মেত্তা সুত্ত (সুত্ত নিপাত ১.৮)
শত্রু-মিত্র সবার মঙ্গল কামনা করো।
৩৭. “মা যেমন একমাত্র সন্তানকে প্রাণ দিয়ে রক্ষা করে, তেমনি সব প্রাণীর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা পোষণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মেত্তা সুত্ত (সুত্ত নিপাত ১.৮)
মায়ের ভালোবাসাই করুণার আদর্শ।
৩৮. “যে ঋষিরা অহিংস ও সর্বদা সংযত, তারা অমৃতপদে যান — যেখানে গিয়ে আর শোক থাকে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২৫
অহিংসাই অমরত্বের পথ।
৩৯. “অলঙ্কৃত হলেও যে শান্ত, দান্ত, নিয়ত, সংযত — সব প্রাণীর প্রতি দণ্ড ত্যাগ করেছে, সেই ব্রাহ্মণ, সেই শ্রমণ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৪২
পোশাকে নয়, আচরণে মানুষ চেনা যায়।
৪০. “অহো, আমরা কত সুখে বাস করি — ঘৃণাকারীদের মধ্যে ঘৃণাহীন হয়ে!” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৯৭
ঘৃণার জবাবে ঘৃণা নয় — এটাই সুখ।
প্রজ্ঞা, ধ্যান ও মূর্খ-জ্ঞানীর পার্থক্য
ধ্যান ছাড়া প্রজ্ঞা জন্মায় না — আর মূর্খ ও জ্ঞানীর পার্থক্য বোধের গভীরতায়।
৪১. “ধ্যান থেকে প্রজ্ঞা জন্মায়; ধ্যান ছাড়া প্রজ্ঞা ক্ষয় পায় — এই দুই পথ জেনে চলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮২
প্রতিদিনের ধ্যান প্রজ্ঞার খোরাক।
৪২. “যার ধ্যান নেই তার প্রজ্ঞা নেই; যার প্রজ্ঞা নেই তার ধ্যান নেই। যার দুটোই আছে, সেই নির্বাণের কাছে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭২
ধ্যান-প্রজ্ঞা একে অন্যের পরিপূরক।
৪৩. “ধ্যান করো, হে ভিক্ষু! প্রমত্ত হয়ো না! মনকে কামভোগে ঘোরাতে দিও না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭১
অলস মনই পাপের কারখানা।
৪৪. “নির্জন আবাসে মন শান্ত করে ধর্মকে প্রজ্ঞায় যে দেখে, তার মধ্যে মানবীয় সব আনন্দ ছাড়িয়ে যাওয়া আনন্দ জাগে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৩
নির্জনতায় ভেতরের আনন্দ মেলে।
৪৫. “স্কন্ধের উৎপত্তি-বিলয় প্রজ্ঞায় দেখে যে আনন্দ-সুখ পায়, বিজ্ঞজনের কাছে এটাই অমৃত।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৪
সব বদলায় — এই বোধই মুক্তি।
৪৬. “নিজেকে মূর্খ জেনে যে মূর্খ, সে সেই কারণে জ্ঞানী; নিজেকে জ্ঞানী ভাবা মূর্খই আসল মূর্খ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬২
অজ্ঞতা স্বীকারই জ্ঞানের প্রথম ধাপ।
৪৭. “মূর্খ সারাজীবন জ্ঞানীর সঙ্গে থাকলেও সত্য বোঝে না — যেমন চামচ ঝোলের স্বাদ পায় না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬৩
কাছে থাকলেই শেখা হয় না।
৪৮. “বুদ্ধিমান মুহূর্তের সঙ্গেও সত্য বুঝে ফেলে — যেমন জিভ ঝোলের স্বাদ পায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬৪
গ্রহণশীল মন অল্পতেই শেখে।
৪৯. “অল্পশ্রুত মানুষ বলদের মতো বুড়ো হয় — মাংস বাড়ে, প্রজ্ঞা বাড়ে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৫২
বয়স বাড়লেই জ্ঞান বাড়ে না।
৫০. “যে আগে অসতর্ক থেকে এখন সতর্ক হয়, সে মেঘমুক্ত চাঁদের মতো জগৎ আলোকিত করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৭৩
বদলাতে কখনো দেরি হয় না।
সতর্কতা ও সংযম
অপ্রমাদ অর্থাৎ সতর্ক মনোযোগই বুদ্ধের শিক্ষার প্রাণ।
৫১. “অপ্রমাদ অমৃতের পথ; প্রমাদ মৃত্যুর পথ। অপ্রমত্তরা মরে না; প্রমত্তরা মৃতপ্রায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২১
সতর্কতাই জীবন, অসতর্কতাই মৃত্যু।
৫২. “অপ্রমাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্ট বুঝে জ্ঞানীরা অপ্রমাদে আনন্দ পান।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২২
সতর্কতায় আনন্দ পাওয়াই জ্ঞানীর লক্ষণ।
৫৩. “প্রমত্তদের মধ্যে অপ্রমত্ত, ঘুমন্তদের মধ্যে জাগ্রত — জ্ঞানী এগিয়ে যান দ্রুত ঘোড়ার মতো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৯
সবাই ঘুমালে জাগ্রতজনই এগিয়ে যায়।
৫৪. “অপ্রমাদে রত ভিক্ষু প্রমাদে ভয় দেখে — আগুনের মতো এগিয়ে যায়, বন্ধন ছিঁড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩১
সতর্কতাই সব বন্ধন পোড়ায়।
৫৫. “অপ্রমাদে রত ভিক্ষুর পতন অসম্ভব — সে নির্বাণের দ্বারে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২
সতর্ক মানুষের পতন হয় না।
৫৬. “জাগো! প্রমত্ত হয়ো না! সদাচার অনুসরণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬৮
প্রতিদিন সকালে নিজেকে এই কথা বলো।
৫৭. “ধীরে ধীরে, ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞানী নিজের মলিনতা দূর করে — যেমন স্বর্ণকার রূপার মরিচা দূর করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৩৯
আত্মশুদ্ধি প্রতিদিনের কাজ।
৫৮. “বাক্যে সতর্ক, মনে সুসংযত হও; দেহে পাপ কোরো না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮১
তিন দ্বারের পাহারা রাখো।
৫৯. “চোখের সংযম ভালো, কানের সংযম ভালো, নাকের সংযম ভালো, জিভের সংযম ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬০
ইন্দ্রিয় সংযমই মনের শান্তি।
৬০. “দেহে সংযম ভালো, বাক্যে সংযম ভালো, মনে সংযম ভালো — সর্বত্র সংযম ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬১
সর্বাঙ্গীণ সংযমই পূর্ণ মুক্তি।
নিজের ওপর নির্ভর করো
বুদ্ধ অন্ধ অনুসরণ চাননি — নিজেই নিজের দ্বীপ হও, নিজেই নিজের আশ্রয়।
৬১. “নিজের দ্বারাই পাপ, নিজের দ্বারাই শুদ্ধি — কেউ কাউকে শুদ্ধ করতে পারে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬৫
মুক্তির চাবি তোমার হাতেই।
৬২. “তোমাদের নিজেদেরই চেষ্টা করতে হবে; বুদ্ধগণ শুধু পথ দেখান।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৬
পথ দেখানো যায়, হাঁটা নিজের।
৬৩. “নিজেকে নিজে উদ্বুদ্ধ করো; নিজেকে নিজে পরীক্ষা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৯
নিজের শিক্ষক নিজে হও।
৬৪. “নিজেই নিজের রক্ষক; আর কে রক্ষক হতে পারে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৮০
নিজের চেয়ে বড় আশ্রয় নেই।
৬৫. “নিজেই নিজের প্রভু; আর কে প্রভু হতে পারে? নিজেকে ভালোভাবে দমন করে দুর্লভ প্রভুত্ব পাওয়া যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬০
আত্মশাসনই স্বাধীনতা।
৬৬. “নিজের করা, নিজের থেকে জন্মানো পাপ মূর্খকে ধ্বংস করে — যেমন বজ্রমণি মূল্যবান পাথর কাটে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৬১
নিজের পাপ নিজেকেই কাটে।
৬৭. “আমি সব জয় করেছি, সব জানি, সব ত্যাগ করেছি — নিজে জেনেছি; আমার গুরু কে হবে?” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫৩
আত্মজ্ঞানই সর্বোচ্চ গুরু।
৬৮. “শোনা কথা, ঐতিহ্য, গুজব বা শাস্ত্রের কর্তৃত্বে যেও না। নিজে জেনে যা কল্যাণকর, তাই গ্রহণ করো।” — গৌতম বুদ্ধ, কালাম সুত্ত, অঙ্গুত্তর নিকায় ৩.৬৫
অন্ধবিশ্বাস নয়, যাচাই করে বিশ্বাস করো।
৬৯. “নিজেই নিজের দ্বীপ হও, নিজেই নিজের আশ্রয় হও — বাইরের আশ্রয় খুঁজো না।” — গৌতম বুদ্ধ, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, দীঘ নিকায় ১৬
এটাই আত্মনির্ভরতার মূলমন্ত্র।
৭০. “সব সংস্কার ক্ষয়শীল; অপ্রমাদের সঙ্গে সাধনা করো।” — গৌতম বুদ্ধ, মহাপরিনির্বাণ সুত্ত, দীঘ নিকায় ১৬ (বুদ্ধের শেষ বাণী)
এটাই বুদ্ধের শেষ কথা।
তৃষ্ণা ও আসক্তি ত্যাগ
দুঃখের মূলে তৃষ্ণা — এই লতা উপড়ে ফেলতে পারলেই দুঃখের শেষ।
৭১. “প্রমত্ত মানুষের তৃষ্ণা মালুবা লতার মতো বাড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৪
অসতর্ক মনে কামনা গজায়।
৭২. “এই হীন আসক্তি-তৃষ্ণায় যে অভিভূত, তার শোক বর্ষার ঘাসের মতো বাড়ে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৫
তৃষ্ণা বাড়লে দুঃখ বাড়ে।
৭৩. “যে এই দুর্জয় তৃষ্ণা জয় করে, তার শোক পদ্মপাতার জলবিন্দুর মতো ঝরে যায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৬
তৃষ্ণা গেলে দুঃখও থাকে না।
৭৪. “কাটা গাছও যদি মূল অক্ষত থাকে আবার গজায়, তেমনি সুপ্ত তৃষ্ণা না উপড়ালে দুঃখ বারবার জন্মায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩৮
মূলে আঘাত করো, ডালে নয়।
৭৫. “তৃষ্ণার স্রোত সবদিকে বয়; তৃষ্ণার লতা গজিয়ে দাঁড়ায়। লতা গজাতে দেখে প্রজ্ঞা দিয়ে তার মূল কেটে ফেলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪০
শুরুতেই লোভ চিনে থামাও।
৭৬. “ইচ্ছার বন কেটে ফেলো, গাছ নয়। ইচ্ছার বন থেকে ভয় জন্মায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৩
ভয়ের মূলে অফুরন্ত চাওয়া।
৭৭. “শরতের পদ্ম যেমন হাতে ছিঁড়ে ফেলো, তেমনি আসক্তি ছিঁড়ে ফেলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৫
মায়া ছিঁড়তে দ্বিধা কোরো না।
৭৮. “সন্তান-সম্পদে আসক্ত মনকে মৃত্যু নিয়ে যায় — যেমন মহাপ্লাবন ঘুমন্ত গ্রাম ভাসিয়ে নেয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৮৭
আসক্তিতে ঘুমালে জাগরণের আগেই শেষ।
৭৯. “পাপচিন্তায় বিক্ষিপ্ত, রাগে পূর্ণ, শুধু প্রিয়দিকে তাকানো মানুষের তৃষ্ণা বাড়তেই থাকে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪৯
ভালো লাগার পেছনে ছুটলেই তৃষ্ণা বাড়ে।
৮০. “যে পাপচিন্তা দমনে আনন্দ পায়, অশুভ ভাবনা করে, সদা স্মৃতিমান — সে তৃষ্ণার শেষ করবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫০
মনের ব্যায়ামই তৃষ্ণার ওষুধ।
সৎ সঙ্গ ও বন্ধুত্ব
সঙ্গ মানুষকে গড়ে বা ভাঙে — মূর্খের সঙ্গের চেয়ে একা চলা ভালো।
৮১. “ভ্রমণে যদি শ্রেষ্ঠ বা সমান সঙ্গী না পাও, দৃঢ়ভাবে একাকী পথ চলো; মূর্খের সঙ্গে সঙ্গ নেই।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৬১
খারাপ সঙ্গের চেয়ে একা ভালো।
৮২. “বুদ্ধিমান সঙ্গী, জ্ঞানী ও বিচক্ষণ বন্ধু পেলে তার সঙ্গে স্মৃতিমান ও আনন্দিত হয়ে চলো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৬
ভালো বন্ধু জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
৮৩. “বুদ্ধিমান সঙ্গী না পেলে একা চলো — যেমন রাজ্য ত্যাগী রাজা, যেমন বনের হাতি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৭
একা চলাও একটা গুণ।
৮৪. “মূর্খকে সঙ্গী করে চলার চেয়ে একা চলা ভালো। একা চলো, পাপ না করে, স্বচ্ছন্দে — যেমন বনের হাতি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩২৮
সঙ্গ বাছাইয়ে ভুল কোরো না।
৮৫. “প্রয়োজনে বন্ধু ভালো; যা পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্টি ভালো; জীবনশেষে পুণ্য ভালো; সব দুঃখ ত্যাগ ভালো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৩১
সত্যিকারের বন্ধু চেনা যায় প্রয়োজনে।
৮৬. “বিজ্ঞ ভিক্ষুর শুরু এটাই — ইন্দ্রিয়সংযম, সন্তুষ্টি, শীলসংযম, আর সৎ-উদ্যমী-শুদ্ধজীবী বন্ধুর সঙ্গ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৫
ভালো পথের শুরু ভালো সঙ্গ।
৮৭. “আচরণে বন্ধুভাবাপন্ন ও বিনয়ী হও; তাহলে আনন্দিত হয়ে দুঃখের শেষ করবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৭৬
বিনয়-বন্ধুভাব দুঃখ ভোলায়।
৮৮. “শ্রদ্ধা-শীল-যশ-ভোগসম্পন্ন ভিক্ষু যেখানেই যায়, সেখানেই সম্মানিত হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩০৩
চরিত্রবান সর্বত্র সম্মান পায়।
৮৯. “সজ্জন দূর থেকেও জ্বলেন — হিমালয় পর্বতের মতো; দুর্জন দেখা যায় না — রাতে ছোড়া তীরের মতো।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩০৪
ভালো মানুষের খ্যাতি দূরে ছড়ায়।
৯০. “জন্মে কেউ নীচ হয় না, জন্মে কেউ ব্রাহ্মণ হয় না; কর্মেই নীচ হয়, কর্মেই ব্রাহ্মণ হয়।” — গৌতম বুদ্ধ, সুত্ত নিপাত ১৩৬
মানুষের মাপ জন্মে নয়, কর্মে।
নির্বাণ ও পরম সত্য
সব সংস্কার অনিত্য, সব দুঃখময়, সব অনাত্ম — এই তিন সত্যই নির্বাণের দ্বার।
৯১. “সব পাপ থেকে বিরত থাকা, কল্যাণের অনুশীলন, নিজের মনকে শুদ্ধ করা — এটাই সব বুদ্ধের শিক্ষা।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ১৮৩
বুদ্ধের পুরো শিক্ষা এক শ্লোকে।
৯২. “সব সংস্কার অনিত্য — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৭
কিছুই স্থায়ী নয় — এই বোধ মুক্তি।
৯৩. “সব সংস্কার দুঃখময় — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৮
আসক্তিতে দুঃখ, ত্যাগে শান্তি।
৯৪. “সব ধর্ম অনাত্ম — প্রজ্ঞায় এ দেখে দুঃখ থেকে মুখ ফেরায়; এটাই শুদ্ধির পথ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২৭৯
‘আমি’ বলে কিছু নেই — এই উপলব্ধি জ্ঞান।
৯৫. “অতীত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান ত্যাগ করো; সব ভবের পারে গেলে আর জন্ম-মৃত্যু হবে না।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৪৮
সব ছাড়তে পারলে সব পাওয়া যায়।
৯৬. “ধর্মদান সব দানকে ছাড়িয়ে যায়; ধর্মরস সব রসকে; ধর্মানন্দ সব আনন্দকে। তৃষ্ণার ক্ষয় সব দুঃখকে জয় করে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৫৪
জ্ঞানদানই শ্রেষ্ঠ দান।
৯৭. “দিনে সূর্য জ্বলে, রাতে চাঁদ জ্বলে; যোদ্ধা জ্বলে বর্মে, ব্রাহ্মণ ধ্যানে — কিন্তু বুদ্ধ জ্বলেন দিনরাত মহিমায়।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৮৭
জ্ঞানীর দীপ্তি কখনো নেভে না।
৯৮. “যিনি পূর্বজন্ম জানেন, স্বর্গ-নরক দেখেন, জন্মের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন — তাঁকেই আমি ব্রাহ্মণ বলি।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৪২৩
জন্ম নয়, জ্ঞান মানুষকে মহান করে।
৯৯. “এই নৌকা খালি করো, হে ভিক্ষু! খালি হলে হালকা চলবে; রাগ-দ্বেষ ছিন্ন করে নির্বাণে পৌঁছবে।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ৩৬৯
মনের বোঝা ফেললে যাত্রা হালকা।
১০০. “আরোগ্যই পরম লাভ, সন্তোষই পরম ধন, বিশ্বাসই পরম জ্ঞাতি, নির্বাণই পরম সুখ।” — গৌতম বুদ্ধ, ধম্মপদ, শ্লোক ২০৪
সুখের চার স্তম্ভ।
প্রশ্ন ১: বুদ্ধের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাণী কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: ধম্মপদ-এ — খুদ্দক নিকায়ের এই গ্রন্থে ৪২৩টি শ্লোকে বুদ্ধের মূল শিক্ষা সংকলিত — শ্লোক নম্বরসহ।
প্রশ্ন ২: “মনই সবকিছু, যা ভাবো তাই হও” — এটা কি বুদ্ধের উক্তি?
উত্তর: এই সঠিক বাক্যটির প্রাচীন উৎস নেই; এটি ধম্মপদ-এর ১ম শ্লোকের (“মন সব ধর্মের পূর্বগামী”) পরবর্তীকালের সংক্ষিপ্ত রূপ — মূল শ্লোক ১ নম্বরে।
প্রশ্ন ৩: বুদ্ধ কি নিজে কিছু লিখে গেছেন?
উত্তর: না। শিষ্যরা মৌখিকভাবে সংরক্ষণ করেন, পরে ত্রিপিটকে লিপিবদ্ধ হয় — তাই সুত্তের নামসহ উদ্ধৃতিই নির্ভরযোগ্য।
প্রশ্ন ৪: কালাম সুত্ত কী শেখায়?
উত্তর: অন্ধবিশ্বাস নয় — নিজে যাচাই করে যা কল্যাণকর তাই গ্রহণ করতে শেখায়।
প্রশ্ন ৫: বুদ্ধের শেষ কথা কী ছিল?
উত্তর: “সব সংস্কার ক্ষয়শীল; অপ্রমাদের সঙ্গে সাধনা করো” — মহাপরিনির্বাণ সুত্ত (দীঘ নিকায় ১৬) অনুযায়ী তাঁর শেষ বাণী।
প্রশ্ন ৬: এই বাণীগুলোর বাংলা অনুবাদ কি নির্ভরযোগ্য?
উত্তর: প্রতিটি বাণী নির্দিষ্ট শ্লোক বা সুত্তের সংক্ষিপ্ত বাংলা রূপান্তর — যাচাই-না-হওয়া উক্তি বাদ দেওয়া হয়েছে।
বুদ্ধের বাণী পড়ে মনে শান্তি পেলে এই সিরিজের আরও প্রবন্ধ দেখো: সক্রেটিসের উক্তি, বিশ্ব বিখ্যাত মনীষীদের উক্তি, এরিস্টটলের উক্তি — আর শান্তি, সুখ, ধৈর্য ও জীবন নিয়ে আলাদা আলাদা উক্তি সংগ্রহ। প্রিয় বাণীটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করো — হয়তো কারো অশান্ত মনে একটু শান্তি আসবে।