আবু তাহের মিছবাহ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আবু তাহের মিছবাহ |
| অন্য নাম | আদিব হুজুর |
| জন্ম | ৬ মার্চ ১৯৫৬ |
| জন্মস্থান | ঢাকা (পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লা) |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, লেখক, অনুবাদক |
| শিক্ষা | আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া — দাওরায়ে হাদিস (১৯৭৭) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | এসো আরবি শিখি, আল মানার (অভিধান), বায়তুল্লাহর মুসাফির, এসো কলম মেরামত করি, তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে; মাদানি নেসাব শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তন |
পরিচিতি
আবু তাহের মিছবাহ (জন্ম ৬ মার্চ ১৯৫৬), “আদিব হুজুর” নামে সুপরিচিত, বাংলাদেশের একজন দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও লেখক। বাংলা সাহিত্যিক আলেম হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। মাদরাসা শিক্ষায় “মাদানি নেসাব” নামে একটি সংস্কারধর্মী শিক্ষাপদ্ধতির প্রবর্তক হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত; তার রচিত আরবি ভাষা-শিক্ষার পাঠ্যবই বাংলাদেশের মাদরাসাছাত্রদের কাছে বহুল পঠিত।
জন্ম ও শিক্ষা
১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ ঢাকায় তার জন্ম; পৈতৃক বাড়ি কুমিল্লায় হলেও তিনি বড় হন ঢাকায়। পিতা মিছবাহুল হক। জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ ও জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় পড়ার পর ১৯৭৭ সালে তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর সমমান) সম্পন্ন করেন।
শিক্ষকতা ও মাদানি নেসাব
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় শিক্ষক হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়; পরে তিনি জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় প্রায় ২৫ বছর শিক্ষকতা করেন। নূরিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতাকালে হাতে লেখা আরবি পত্রিকা ইকরা প্রকাশের মাধ্যমে তিনি একটি শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন। ১৯৯২ সালে তার চিন্তাধারার আলোকে আবদুল হাই পাহাড়পুরীর তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদরাসাতুল মাদিনা; এখান থেকেই তার প্রবর্তিত শিক্ষাপদ্ধতি “মাদানি নেসাব” নামে পরিচিতি পায় এবং পরবর্তীতে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মাদানি নেসাবের জন্য তিনি পরীক্ষামূলক পাঠ্যবই রচনা শুরু করেন — এসো আরবি শিখি ছিল এই ধারার প্রথম পাঠ্যবই, যা বাংলাদেশে আরবি শেখার প্রাথমিক গ্রন্থ হিসেবে পঠিত হয়।
পাঠ্যবই ও অভিধান
মাদানি নেসাবের জন্য রচিত তার পাঠ্যবইগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- এসো আরবি শিখি
- এসো সরফ শিখি
- এসো নাহু শিখি
- এসো বালাগাত শিখি
- এসো ফিকাহ শিখি
- এসো উর্দু শিখি
- এসো তাফসির শিখি
- এসো কোরআন শিখি — উপমহাদেশের মাদরাসাছাত্রদের কুরআন-বিষয়ক প্রথম প্রাথমিক গ্রন্থ
- ইসলামকে জানতে হলে
এছাড়া আল মানার (আরবি-বাংলা ও বাংলা-আরবি) নামে তিনি দুটি আধুনিক আরবি-বাংলা অভিধান রচনা করেছেন।
বাংলা সাহিত্য
পাঠ্যবইয়ের বাইরে বাংলা সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তার রচিত ভ্রমণকাহিনী ও সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে:
- বায়তুল্লাহর মুসাফির — তরুণ বয়সে মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জীর সঙ্গে হজের ভ্রমণকাহিনী
- বাইতুল্লাহর ছায়ায়
- তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে
- এসো কলম মেরামত করি
- দরদী মালীর কথা শোনো
তার গ্রন্থ বায়তুল্লাহর মুসাফির-এ উল্লেখ আছে, ১৯৮২ সালে তিনি হাফেজ্জী হুজুরের সঙ্গে ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে ইরাক সফর করেন এবং সে সময় সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
অনুবাদ ও শিশুসাহিত্য
তিনি আবুল হাসান আলী হাসানী নদভীর ভাবশিষ্য; নদভীর মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, কাসাসুন নাবিয়্যিন, আরকানে আরবাআ-সহ বহু গ্রন্থ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। মুহাম্মদ তাকি উসমানির মাযহাব কী ও কেন? ও ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মুআবিয়া (রা.) এবং গুরু দত্ত সিং-এর রসুলে আরাবি (তোমাকে ভালোবাসি হে নবী নামে) তার হাতে অনূদিত হয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শিশুসাহিত্যে তার শিশু আকিদা সিরিজ ও শিশু সীরাত সিরিজ (প্রতিটি দশটি করে বই) উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
মাসিক আল কলম
তিনি বাংলা সাহিত্য সাময়িকী মাসিক আল কলমের (পুষ্প) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি আলেমসমাজকে এক নতুন পথ দেখিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে; তার অসংখ্য শিষ্য বাংলা সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেছেন। মাসিক আল কাউসার-সহ বিভিন্ন পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়। দেওবন্দি ঘরানার এই আলেম হানাফি মাযহাবের অনুসারী।