মূল কন্টেন্টে যান
প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান

প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম নাজমুদ্দিন এরবাকান (Necmettin Erbakan)
জন্ম ২৯ অক্টোবর ১৯২৬, সিনোপ, তুরস্ক
মৃত্যু ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১, আঙ্কারা, তুরস্ক
জাতীয়তা তুর্কি
পেশা রাজনীতিবিদ, যন্ত্র প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক
শিক্ষা ইস্তানবুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (১৯৪৮); RWTH আখেন বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানি (পিএইচডি)
উল্লেখযোগ্য পদ তুরস্কের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী (২৮ জুন ১৯৯৬ – ৩০ জুন ১৯৯৭); তিনবার উপ-প্রধানমন্ত্রী (১৯৭৪, ১৯৭৫–৭৭, ১৯৭৭–৭৮)
রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল অর্ডার পার্টি, ন্যাশনাল সালভেশন পার্টি, ওয়েলফেয়ার পার্টি, ভার্চু পার্টি, ফেলিসিটি পার্টি
উল্লেখযোগ্য রচনা মিল্লি গোরুশ (জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি) ইশতেহার, ১৯৬৯

পরিচিতি

প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান (২৯ অক্টোবর ১৯২৬ – ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১) ছিলেন তুর্কি রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি তুরস্কের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন — আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে ইসলামি-ঘেঁষা দলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তিনি ‘মিল্লি গোরুশ’ (জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি) নামে একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, যা তুরস্কের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে মত দেয়।

জন্ম ও শিক্ষা

তুরস্কের উত্তরাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর-তীরবর্তী সিনোপ শহরে তার জন্ম। বাবা মেহমেত সাবরি ছিলেন একজন বিচারক। ইস্তানবুল হাই স্কুলের পড়াশোনা শেষে তিনি ইস্তানবুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির যন্ত্র প্রকৌশল অনুষদ থেকে ১৯৪৮ সালে স্নাতক হন। পরে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির RWTH আখেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। জার্মানিতে থাকাকালে তিনি ডয়টজ এজি কারখানার গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। দেশে ফিরে ইস্তানবুল টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন। শিল্পখাতে নেতৃস্থানীয় পদে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি রাজনীতিতে আসেন।

কর্মজীবন ও রাজনীতি

১৯৬৯ সালে তিনি কোনিয়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে তিনি ন্যাশনাল অর্ডার পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন; ১৯৭১ সালে সামরিক সরকার দলটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৭২ সালে তিনি ন্যাশনাল সালভেশন পার্টি গঠন করেন, যা ১৯৭০-এর দশকে জোট সরকারে অংশ নেয় — এই সময়ে তিনি তিনবার তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন (১৯৭৪; ১৯৭৫–৭৭; ১৯৭৭–৭৮), যার মধ্যে ১৯৭৪ সালের সাইপ্রাস সংকটকালও অন্তর্ভুক্ত। ১৯৮০ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তার দল আবার নিষিদ্ধ হয় এবং ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ছিলেন। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ১৯৮৭ সালে তিনি ওয়েলফেয়ার পার্টির নেতা হন। ১৯৯৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলটির অপ্রত্যাশিত সাফল্যের পর ১৯৯৬ সালের ২৮ জুন তিনি ট্রু পাথ পার্টির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আরব দেশগুলোর সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করেন এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ‘ডি-৮’ গঠনে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৭ সালে সামরিক বাহিনীর চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন; এরপর আদালত ওয়েলফেয়ার পার্টি নিষিদ্ধ করে এবং তাকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ‘লস্ট ট্রিলিয়ন’ মামলায় তাকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে তিনি ফেলিসিটি পার্টির নেতৃত্ব দেন (২০০৩–০৪ এবং ২০১০–১১)।

রচনাবলি ও মতাদর্শ

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত মিল্লি গোরুশ (জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি) ইশতেহারে এরবাকান তার রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেন — সুদবিহীন ‘ন্যায্য শৃঙ্খলা’ (আদিল দ্যুজেন) অর্থনীতি, জাতীয় শিল্পায়ন এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঐক্য। এই মতাদর্শকে কেন্দ্র করে ১৯৭০ থেকে ২০১০-এর দশক পর্যন্ত তুরস্কে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে। তার আন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদদের মধ্যে পরবর্তী তুর্কি রাষ্ট্রপতি রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

১৯৬৭ সালে তিনি নেরমিন সাতচিওলুকে বিয়ে করেন; ২০০৫ সালে স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তাদের তিন সন্তান — জেয়নেপ, এলিফ ও ফাতিহ।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আঙ্কারার চাঙ্কায়ার গুভেন হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান; বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ফাতিহ মসজিদে জানাজার পর ইস্তানবুলের মেরকেজেফেন্দি কবরস্থানে স্ত্রীর পাশে তাকে দাফন করা হয়। তুরস্কের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ধারার ইতিহাসে তিনি একটি কেন্দ্রীয় ও বিতর্কিত-পরবর্তী-আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।