মূল কন্টেন্টে যান
হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড
জন্ম ২২ জুন ১৮৫৬, ব্র্যাডেনহ্যাম, নরফোক, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ১৪ মে ১৯২৫, মেরিলিবোন, লন্ডন, ইংল্যান্ড (বয়স ৬৮)
সমাধি সেন্ট মেরি’স চার্চ, ডিচিংহ্যাম, নরফোক, ইংল্যান্ড
জাতীয়তা ব্রিটিশ
পেশা ঔপন্যাসিক, প্রবন্ধিক, সরকারি কর্মকর্তা
শিক্ষা বেসরকারি স্কুল; আইন অধ্যয়ন, বারে যোগদান (১৮৮১)
উল্লেখযোগ্য কর্ম কিং সলোমন’স মাইনস (১৮৮৫), শি: আ হিস্ট্রি অব অ্যাডভেঞ্চার (১৮৮৬), অ্যালান কোয়াটারমেইন সিরিজ
পুরস্কার নাইট ব্যাচেলর (১৯১২), কেবিই

পরিচিতি

স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড (২২ জুন ১৮৫৬ – ১৪ মে ১৯২৫) ছিলেন ইংরেজ ঔপন্যাসিক, যিনি মূলত আফ্রিকাকে পটভূমি করে লেখা দুঃসাহসিক রোমান্স উপন্যাসের জন্য বিখ্যাত এবং ‘লস্ট ওয়ার্ল্ড’ সাহিত্য-ধারার অন্যতম অগ্রদূত। তার সৃষ্ট অ্যালান কোয়াটারমেইন চরিত্রটি আধুনিক সাহিত্যে গুপ্তধন-সন্ধানী নায়কের আদর্শরূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। জীবদ্দশায় তিনি চল্লিশের বেশি বই লিখেছেন, যার অনেকগুলো চলচ্চিত্রে রূপ পেয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষা

নরফোকের ব্র্যাডেনহ্যামে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের জন্ম; দশ সন্তানের মধ্যে তিনি অষ্টম। বাবা উইলিয়াম মেইবোম রাইডার হ্যাগার্ড ছিলেন ব্যারিস্টার ও জমিদার; মা এলা ডোভেটন নিজেও লেখিকা ও কবি ছিলেন। বাবা তাকে পরিবারের ‘দুর্বল ছাত্র’ মনে করতেন। বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি সেনাবাহিনীর প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে ১৮৭৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান।

কর্মজীবন

১৮৭৫ সালে নাটাল উপনিবেশের লেফটেন্যান্ট-গভর্নর স্যার হেনরি বুলওয়ারের সচিব হিসেবে হ্যাগার্ড কাজ শুরু করেন। পরে তিনি বিশেষ কমিশনারের কর্মচারী হন এবং ট্রান্সভালের হাইকোর্টের মাস্টার ও রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন। দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি মোট ছয় বছর কাটান; এই অভিজ্ঞতা এবং জুলু সংস্কৃতির প্রতি মুগ্ধতাই তার সাহিত্যের মূল উৎস। ১৮৮১ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে তিনি আইন পড়ে বারে যোগ দেন, তবে আইন পেশা তেমন একটা করেননি। ১৯১২ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ডোমিনিয়ন রয়্যাল কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি ব্যাপক ভ্রমণ করেন; ভূমি সংস্কার নিয়ে সরকারি কমিশনে কাজ করেন এবং দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রায় শতাধিক চিঠি লেখেন।

সাহিত্যজীবন

আফ্রিকায় থাকতেই হ্যাগার্ড দ্য জেন্টলম্যান’স ম্যাগাজিনে নিজের অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রবন্ধ লেখেন। তার প্রথম বই সেটিওয়ায়ো অ্যান্ড হিজ হোয়াইট নেইবারস (১৮৮২) — দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ নীতির সমালোচনামূলক পর্যালোচনা। প্রথম কথাসাহিত্য ডন (১৮৮৪) প্রকাশের পর ১৮৮৫ সালে লেখা কিং সলোমন’স মাইনস অভাবনীয় সাফল্য পায়; এই উপন্যাসেই অভিযাত্রী অ্যালান কোয়াটারমেইনের আবির্ভাব। এরপর শি: আ হিস্ট্রি অব অ্যাডভেঞ্চার (১৮৮৬) — যেখানে রহস্যময়ী আয়েশা চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে — দুটোই পরবর্তীতে বইয়ের সিরিজে রূপ নেয়। সব মিলিয়ে অ্যালান কোয়াটারমেইনকে নিয়ে তিনি আঠারোটি কাহিনী লিখেছেন। তার লেখায় ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের প্রতিফলন ও সমালোচনা — দুটোই আছে। গ্রাহাম গ্রিন মন্তব্য করেছিলেন, হ্যাগার্ডের বইগুলো ‘অক্ষুণ্ণ প্রাণশক্তি নিয়ে আজও বেঁচে আছে’। সিগমুন্ড ফ্রয়েড, এডগার রাইস বারোজ, আর্থার কোনান ডয়েল থেকে জর্জ লুকাস পর্যন্ত বহু স্রষ্টা তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

১৮৮০ সালে হ্যাগার্ড নরফোকের উত্তরাধিকারী লুইজা মারগিটসনকে বিয়ে করেন; তাদের চার সন্তান ছিল। কিছুকাল তিনি ট্রান্সভালে উটপাখির খামারে বসবাস করেন; তবে ট্রান্সভাল ডাচদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পর সপরিবারে ইংল্যান্ডে ফিরে আসতে বাধ্য হন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সরকারি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯১২ সালে তিনি নাইট ব্যাচেলর উপাধি পান; পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের নাইট কমান্ডার (কেবিই) নিযুক্ত হন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯২৫ সালের ১৪ মে লন্ডনের মেরিলিবোনে ৬৮ বছর বয়সে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের মৃত্যু হয়। তার চিতাভস্ম নরফোকের ডিচিংহ্যামের সেন্ট মেরি’স চার্চে সমাহিত করা হয়। দুঃসাহসিক ও ফ্যান্টাসি সাহিত্যের জনক হিসেবে তিনি আজও পঠিত ও প্রভাবশালী।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।