শাইখ খালিদ আর রাশিদ
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | খালিদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামাদ আল-রাশেদ (خالد بن محمد بن حمد الراشد) |
| জন্ম | ১৮ মার্চ ১৯৬২ (আলকারামার মতে) — বাংলা প্রকাশনা-সূত্রগুলোতে ১৯৭০ উল্লেখ আছে |
| এলাকা | সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল — আল-খোবার/আল-থুকবা |
| জাতীয়তা | সৌদি |
| পেশা | ইসলামি প্রচারক (দাঈ), খতিব, বক্তা |
| পরিচিতি | “ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদ” খুতবার বক্তা |
| রচনাবলি | বক্তৃতার বাংলা সংকলন — হে যুবক ফিরে এসো রবের দিকে, আল্লাহ আপনাকে দেখছেন, অনুতপ্ত অশ্রু, আলো হাতে আঁধার পথে, নীড়ে ফেরার গল্প, পুণ্যময় আখেরাত, শয়তান তোমার শত্রু, আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন, এখনো কি ফিরে আসার সময় হয়নি |
| বর্তমান অবস্থা | সৌদি আরবে কারাবন্দী (USCIRF-এর তথ্য অনুযায়ী এখনও মুক্তি পাননি) |
পরিচিতি
শাইখ খালিদ আর-রাশিদ (আরবি: خالد الراشد) সৌদি আরবের একজন খ্যাতিমান ইসলামি প্রচারক ও খতিব। ২০০৫ সালের ডেনিশ কার্টুন-বিতর্কের সময় “ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদ” (হে মুহাম্মদের উম্মত) শীর্ষক বিখ্যাত খুতবার জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান; একাধিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী ওই খুতবার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তার বক্তৃতার বাংলা সংকলনগুলো বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে পঠিত হচ্ছে — ফলে বাঙালি পাঠকের কাছে তিনি একাধারে আলিম, বক্তা ও লেখক হিসেবে পরিচিত।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন
তার জন্মসাল নিয়ে সূত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেয়। মানবাধিকার সংস্থা আলকারামার তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৮ মার্চ; অন্যদিকে বাংলা বই-বিক্রেতা ও প্রকাশনা-সূত্রগুলোতে (যেমন বাতিঘর) জন্মসাল হিসেবে ১৯৭০ এবং জন্মস্থান হিসেবে পূর্বাঞ্চলীয় শহর আল-খোবার উল্লেখ আছে। আলকারামার তথ্য অনুযায়ী, দাওয়াতি কাজে আসার আগে তিনি সৌদি আরামকো কোম্পানিতে চাকরি করতেন; পরে চাকরি ছেড়ে আল-থুকবার ফাহদ বিন মুফলেহ আল-সুবাই মসজিদে খতিব ও শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। বাতিঘরের জীবনী-নোটের দাবি অনুযায়ী, শৈশবে তার ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ ছিল এবং স্বপ্ন ছিল সামরিক অফিসার হওয়ার; ক্রিমিনোলজিতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রেও যান। ওই সূত্রের বর্ণনা মতে, ফুটবল খেলতে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পাওয়ার পর মায়ের একটি কথায় তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় এবং তিনি দীনি ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি শাইখ ইবনে বাজ, ইবনে জিবরীন প্রমুখের কাছে ইলম অর্জন করেন — তবে এই দাবিগুলো সব সূত্রে সমানভাবে নিশ্চিত নয়।
দাওয়াতি কর্মজীবন
আল-থুকবার ফাহদ বিন মুফলেহ আল-সুবাই মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে তার খুতবা ও বক্তৃতা আরব বিশ্বে ব্যাপক প্রচার পায়। তার অনুসারীদের সূত্র অনুযায়ী তিনি আকীদা ও হাদীসশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নিয়মিত ইলমি পাঠদান করতেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে তার বক্তৃতার অডিও-ভিডিও অনলাইনে প্রচারিত হয়, যা তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দেয়।
“ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদ” ও গ্রেপ্তার
২০০৫ সালে ডেনমার্কের জিল্যান্ডস-পোস্টেন পত্রিকায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে তিনি “ইয়া উম্মাতা মুহাম্মাদ” (হে মুহাম্মদের উম্মত) শীর্ষক একটি আবেগঘন খুতবা দেন, যেখানে তিনি মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারের তারিখ ও কারণ নিয়ে সূত্রগুলোর মধ্যে মতভেদ আছে। মানবাধিকার সংস্থা সানাদের মতে, কার্টুন-বিতর্কের প্রতিবাদে দেওয়া খুতবার পর ২০০৫ সালেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে আলকারামার মতে, ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ মক্কায় উমরাহ পালনের সময় স্ত্রীর উপস্থিতিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়; তার পরিবারের বিশ্বাস — সরকারি নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং তথাকথিত “সংস্কার আন্দোলনের” সঙ্গে সংযোগই গ্রেপ্তারের কারণ। জাতিসংঘের স্বেচ্ছাচারী আটক-বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ ২০০৭ সালে তার আটককে স্বেচ্ছাচারী বলে মত দেয়।
প্রাথমিকভাবে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; ২০০৯ সালে আপিলের পর সাজা বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। ২০২০ সালে সাজা শেষ হলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি; ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনর্বিচারে আরও ৮ বছর এবং একই বছরের নভেম্বরে আপিল আদালত আরও ১৭ বছর যোগ করে — মোট ৪০ বছরের কারাদণ্ড হয়। মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের (USCIRF) তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী তিনি এখনও মুক্তি পাননি। (তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, USCIRF, আলকারামা)
বাংলা রচনাবলি
তিনি মূলত বক্তা; আরবিতে লিখিত গ্রন্থের চেয়ে তার বক্তৃতার রেকর্ডই বেশি পরিচিত। বাংলাদেশে তার বক্তৃতার বাংলা সংকলন হাসানাহ পাবলিকেশন, রুহামা পাবলিকেশনসহ বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য শিরোনামগুলোর (সবই বক্তৃতা-সংকলন) মধ্যে আছে — হে যুবক ফিরে এসো রবের দিকে, আল্লাহ আপনাকে দেখছেন, অনুতপ্ত অশ্রু, আলো হাতে আঁধার পথে, নীড়ে ফেরার গল্প, পুণ্যময় আখেরাত, শয়তান তোমার শত্রু, আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন, এখনো কি ফিরে আসার সময় হয়নি ও ইয়া উম্মতে মুহাম্মদ।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
USCIRF-এর তথ্য অনুযায়ী তিনি এখনও সৌদি কারাগারে বন্দী। কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তার বক্তৃতা অনলাইনে ও বই আকারে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হচ্ছে; বাংলাদেশে তার বক্তৃতা-সংকলনগুলো তরুণ পাঠকের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। ধর্মীয় বক্তব্যের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় তার নাম একটি পরিচিত উদাহরণ হয়ে আছে — উইকিপিডিয়া, USCIRF ও আলকারামার মতো সূত্রগুলো তার মামলাকে নথিভুক্ত করেছে।