মূল কন্টেন্টে যান
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
ইংরেজি রূপ Tapan Bandyopadhyay
জন্ম ৭ জুন ১৯৪৭
জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলা (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ)
জাতীয়তা ভারতীয়
পেশা ঔপন্যাসিক, গল্পকার, কবি, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা
শিক্ষা গণিতে স্নাতক (প্রথম শ্রেণী), আশুতোষ কলেজ; গণিতে স্নাতকোত্তর, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ
উল্লেখযোগ্য রচনা নদী-মাটি-অরণ্য, দ্বৈরথ, মহুলবনীর সেরেঞ, বীরবল, টাঁড়বাংলার উপাখ্যান; নারী গোয়েন্দা “গার্গী” সিরিজ
পুরস্কার বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার (২০০২), সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (২০২২), সাহিত্য আকাদেমি অনুবাদ পুরস্কার (২০১৯), বিএফজেএ পুরস্কার (২০০৪)

পরিচিতি

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় (৭ জুন ১৯৪৭) ভারতের একজন বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কবি। ১৯৭০-এর দশকে কবিতা দিয়ে লেখালেখির সূত্রপাত হলেও ক্রমে তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পঞ্চাশের বেশি উপন্যাস, প্রায় তিন শতাধিক ছোটগল্প, আটটি কবিতার বই ও একাধিক কিশোরগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তার লেখায় একদিকে উঠে এসেছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, অন্যদিকে প্রতিফলিত হয়েছে বহু সুপ্ত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় নারী গোয়েন্দা চরিত্র “গোয়েন্দা গার্গী”-র স্রষ্টা হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে তিনি সাহিত্যচর্চায় পূর্ণ মনোযোগ দেন।

জন্ম ও শৈশব

১৯৪৭ সালের ৭ জুন (২২ জ্যৈষ্ঠ ১৩৫৪) সাতক্ষীরা জেলায় তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। দেশভাগের বছরেই তার পরিবার পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে এবং বসিরহাটের কাছে বাদুড়িয়ায় বসতি স্থাপন করে। উদ্বাস্তু পরিবারের সংগ্রামময় শৈশব ও বাদুড়িয়া অঞ্চলের জীবন পরবর্তীকালে তার বহু রচনার পটভূমি হয়ে ওঠে।

শিক্ষাজীবন

বাদুড়িয়া লন্ডন মিশনারি সোসাইটি হাইস্কুল থেকে তিনি স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা পাস করেন। এরপর কলকাতায় এসে আশুতোষ কলেজে ভর্তি হয়ে গণিতে অনার্সে প্রথম শ্রেণী লাভ করেন এবং রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

পড়াশোনা শেষে সাত মাস একটি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে শিক্ষকতা এবং দুই বছর একটি জাতীয়কৃত ব্যাংকে কেরানির কাজ করার পর ১৯৭২ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি চাকরিতে (ডব্লিউবিসিএস) যোগ দেন। বিভিন্ন দপ্তরে উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালের জুনে তিনি “স্পেশাল সেক্রেটারি ও এক্স-অফিসিও ডিরেক্টর অব কালচার” পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন; পরে শিশু কিশোর আকাদেমির সচিব হিসেবে পুনর্নিয়োগ পান।

সাহিত্যজীবন

কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু হলেও তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত প্রতিষ্ঠা গল্প ও উপন্যাসে। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে নদী-মাটি-অরণ্য (যার জন্য ২০০২ সালে রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার পান), দ্বৈরথ, মহুলবনীর সেরেঞ, বীরবল (যার জন্য ২০২২ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার), টাঁড়বাংলার উপাখ্যান, ঈর্ষার সবুজ চোখ, লাল ফিতে ও শঙ্খচিলের ডানা। রহস্যসাহিত্যেও তিনি সক্রিয় — বহে বিষ বাতাস দিয়ে শুরু করে তিনি সৃষ্টি করেন নারী গোয়েন্দা “গার্গী” চরিত্র, যা বাংলা গোয়েন্দাসাহিত্যে একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করেছে। কিশোর পাঠকদের জন্য লিখেছেন দশটি উপন্যাস (যেমন ভুতুড়ে দুপুর)। অনুবাদক হিসেবেও তার অবদান রয়েছে — সতীকান্ত মহাপাত্রের ওড়িয়া কবিতা সংকলন ভারতবর্ষ-এর বাংলা অনুবাদের জন্য ২০১৯ সালে তিনি সাহিত্য আকাদেমি অনুবাদ পুরস্কার পান। ২০১০ সালে তিনি বেইজিং আন্তর্জাতিক বইমেলায় ভারতের লেখক-প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন।

ব্যক্তিগত জীবন

তার দাম্পত্যসঙ্গী কল্পনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক জীবনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে সীমিত।

পুরস্কার ও সম্মাননা

তিনি বহু জাতীয় ও রাজ্য-পর্যায়ের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার (২০০২); বিএফজেএ পুরস্কার (২০০৪, মহুলবনীর সেরেঞ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা কাহিনিকার); সাহিত্য আকাদেমি অনুবাদ পুরস্কার (২০১৯); সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (২০২২, বীরবল উপন্যাসের জন্য); অমৃতলোক পুরস্কার (২০০১); পঞ্চজন পুরস্কার (২০০৩); রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র পুরস্কার (২০০৫); রূপসী বাংলা পুরস্কার (২০০৯); তারাশঙ্কর স্মৃতি পুরস্কার (২০১১)। এছাড়া ২০০২ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশে সাহিত্যিক সম্মাননা লাভ করেন।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জীবিত এবং এখনও সাহিত্যচর্চায় সক্রিয়। গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও ইতিহাসকে উপন্যাসের কেন্দ্রে আনা, কিশোরসাহিত্যে অবদান এবং “গার্গী” চরিত্রের মাধ্যমে বাংলা গোয়েন্দাসাহিত্যে নারী-কেন্দ্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা — এই তিনটি ক্ষেত্রে তার অবদান বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।