ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আবুল ফারাজ জামালুদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-জাওযি (Abu al-Faraj ibn al-Jawzi) |
| জন্ম | আনুমানিক ১১১৬ খ্রিস্টাব্দ (৫১০ হিজরি) |
| জন্মস্থান | বাগদাদ, আব্বাসীয় খিলাফত |
| মৃত্যু | ১৬ জুন ১২০১ খ্রিস্টাব্দ (১২ রমজান ৫৯৭ হিজরি), বাগদাদ |
| জাতীয়তা | আরব |
| পেশা | আলেম, ফকিহ, বাগ্মী (ওয়ায়েজ), ইতিহাসবিদ |
| মাযহাব | হানবালি |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | জাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির, সাইদুল খাতির, তালবিসু ইবলিস, আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলুক, সিফাতুস সাফওয়া, কিতাবুল মাওযুআত |
পরিচিতি
ইমাম ইবনুল জাওযি (আনু. ১১১৬–১২০১ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন আব্বাসীয় যুগের বাগদাদের অন্যতম প্রখ্যাত ও বহুমুখী ইসলামি পণ্ডিত। হানবালি মাযহাবের এই আলেম একাধারে ফকিহ (আইনবিদ), মুহাদ্দিস (হাদিসবিদ), মুফাসসির, ইতিহাসবিদ ও যুগের সর্বাধিক প্রভাবশালী ওয়ায়েজ (ধর্মীয় বক্তা) ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা কয়েক শত বলে বর্ণিত হয়েছে; তার মধ্যে তাফসির, হাদিস, ইতিহাস ও আখলাক বিষয়ে বহু গ্রন্থ আজও অধ্যয়ন ও প্রকাশিত হচ্ছে।
জন্ম, বংশ ও শিক্ষা
আনুমানিক ১১১৬ খ্রিস্টাব্দে (৫১০ হিজরি) বাগদাদে তার জন্ম (সঠিক মাস-তারিখ জানা যায় না)। তার বংশধারা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর দিকে পৌঁছায় বলে বর্ণিত হয়েছে; এজন্য তাকে “আল-বাকরি” বলেও উল্লেখ করা হয়। শৈশবেই পিতা আলী ইবনে মুহাম্মদ মারা যান। বাগদাদের হানবালি আলেমদের কাছে তিনি কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষাশাস্ত্রে গভীর শিক্ষা লাভ করেন। কথিত আছে, দশ বছর বয়সে তিনি প্রথম বক্তৃতা দেন এবং তেরো বছর বয়সে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন — তবে এই বিবরণ জীবনীকারদের বর্ণনা, স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা কঠিন।
কর্মজীবন
ইবনুল জাওযি বাগদাদে ওয়ায়েজ ও খতিব হিসেবে অসাধারণ খ্যাতি অর্জন করেন; তার বক্তৃতায় হাজারো শ্রোতা উপস্থিত হতো বলে বর্ণিত আছে। তিনি আব্বাসীয় খলিফাদের দরবারেও সম্মানিত ছিলেন এবং এক পর্যায়ে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, খলিফা আন-নাসিরের আমলে তিনি কিছুকাল ওয়াসিতে নির্বাসনে ছিলেন; পরে বাগদাদে ফিরে আসেন। তার পুত্র ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমানও আলেম ছিলেন; তার নাতি সিবত ইবনুল জাওযি পরবর্তীকালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হন।
রচনাবলি
ইসলামি জ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখায় তিনি গ্রন্থ রচনা করেন। প্রধান রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- জাদুল মাসির ফি ইলমিত তাফসির — বহু খণ্ডের কোরআন তাফসির
- সাইদুল খাতির — ব্যক্তিগত চিন্তা, উপলব্ধি ও নৈতিক পর্যবেক্ষণের সংকলন
- তালবিসু ইবলিস — শয়তানের প্রতারণা ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিচ্যুতি নিয়ে সমালোচনামূলক গ্রন্থ
- আল-মুনতাজাম ফি তারিখিল উমাম ওয়াল মুলুক — সৃষ্টি থেকে নিজ যুগ পর্যন্ত বিস্তারিত সাধারণ ইতিহাস
- সিফাতুস সাফওয়া — সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের জীবনী সংকলন
- কিতাবুল মাওযুআত — জাল হাদিসের সংকলন ও সমালোচনা
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১২০১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন (১২ রমজান ৫৯৭ হিজরি) বাগদাদে তিনি মারা যান; বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর। ইবনুল জাওযির রচনাবলি পরবর্তী প্রজন্মের বহু আলেমকে প্রভাবিত করেছে — তাদের মধ্যে ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি ও তার নাতি সিবত ইবনুল জাওযি উল্লেখযোগ্য। তার বক্তৃতা-সাহিত্য, আখলাকি রচনা ও ইতিহাসগ্রন্থ আজও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করা হয়।
তথ্য-সীমাবদ্ধতা: জন্মের সঠিক তারিখ জানা না থাকায় জন্মতারিখের ক্ষেত্রে শুধু আনুমানিক সাল দেওয়া হয়েছে; শৈশবের বক্তৃতা ও প্রথম গ্রন্থ-রচনার বিবরণ জীবনীকারদের বর্ণনার ভিত্তিতে, “কথিত আছে” হিসেবে উল্লেখযোগ্য।