ইমাম সালিহ আল ফাউযান
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | সালেহ বিন ফাউযান বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাউযান |
| জন্ম | ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ (১ রজব ১৩৫৪ হিজরি) |
| জন্মস্থান | আশ-শামাসিয়্যাহ, আল-কাসিম প্রদেশ, সৌদি আরব |
| জাতীয়তা | সৌদি আরবীয় |
| পেশা | ইসলামি আলেম, ফকীহ, অধ্যাপক, লেখক |
| শিক্ষা | কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ, রিয়াদ (১৯৬২); ফিকহে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট, ইমাম মুহাম্মদ ইবন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় |
| পদ | সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি (২২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে); সিনিয়র আলেম পরিষদের সদস্য |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | আল-মুলাখখাস আল-ফিকহি, ই’আনাতুল মুসতাফিদ বি শারহি কিতাবিত তাওহিদ, শারহুল উসুলিস সালাসাহ, শারহুল কাওয়াইদিল আরবা’আহ, আল-ইরশাদ ইলা সহিহিল ই’তিকাদ, তানবিহাত আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল-মু’মিনাত |
পরিচিতি
শাইখ সালেহ বিন ফাউযান আল-ফাউযান (জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৩৫) সৌদি আরবের একজন প্রবীণ ইসলামি আলেম, ফকীহ ও লেখক। আকিদা ও ফিকহ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি পরিচিত; ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি — দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ — হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দশকের পর দশক ধরে রেডিও, মসজিদের দারস ও গ্রন্থরচনার মাধ্যমে তিনি ইসলামি জ্ঞান প্রচারে সক্রিয় রয়েছেন।
জন্ম ও শৈশব
১৯৩৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর (১৩৫৪ হিজরির ১ রজব) সৌদি আরবের আল-কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহ শহরের নিকটবর্তী আশ-শামাসিয়্যাহ গ্রামে তার জন্ম। তিনি আদ-দাওয়াসির গোত্রের আশ-শাম্মাস শাখার আল-ওয়াদাইন পরিবারের সন্তান। শৈশবেই তার বাবা মারা যান; পরিবারের তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম হামুদ ইবন সুলাইমান আত-তিলালের কাছে কুরআন শিক্ষা এবং লেখা-পড়ার প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবন
১৯৫০ সালে আশ-শামাসিয়্যাহর সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি; ১৯৫২ সালে বুরাইদাহর আল-ফয়সালিয়্যাহ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৫৪ সালে বুরাইদাহে মা’হাদুল ইলমি প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে ভর্তি হয়ে ১৯৫৮ সালে স্নাতক হন। এরপর রিয়াদের কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ থেকে ১৯৬২ সালে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েয) বিষয়ে আত-তাহকিকাতুল মারদিয়্যাহ ফিল-মাবাহিসিল ফারদিয়্যাহ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য ফিকহে স্নাতকোত্তর এবং আহকামুল আত’ইমাহ ফিশ-শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ (ইসলামি শারিয়াহতে খাদ্যের বিধান) শীর্ষক গবেষণার জন্য একই কলেজ থেকে ফিকহে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তার অন্যতম শিক্ষক ছিলেন সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শাইখ আব্দুল আজিজ ইবন বায — তার কাছে তিনি উত্তরাধিকার-শাস্ত্র (ইলমুল মাওয়ারিস) অধ্যয়ন করেন এবং তার দারস, বক্তৃতা ও ফতোয়া-অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন।
কর্মজীবন
ডক্টরেটের পর তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মা’হাদুল ইলমিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন; পরে কুল্লিয়াতুশ শারিয়াহ, কুল্লিয়াতু উসুলিদ্দিনের স্নাতকোত্তর বিভাগ এবং উচ্চ বিচারবিভাগীয় ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা করেন — শেষোক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট অব জাস্টিসের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংস্থা সিনিয়র আলেম পরিষদের সদস্য; এছাড়া তিনি মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ-অধিভুক্ত মক্কার ফিকহ পরিষদ, স্থায়ী ফতোয়া ও গবেষণা কমিটি এবং হজ মৌসুমে প্রচারকদের তত্ত্বাবধান কমিটির সদস্য। রিয়াদের প্রিন্স মুতাইব বিন আব্দুল আজিজ মসজিদে তিনি ইমাম, খতিব ও শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কুরআন রেডিওর দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান নূরুন আলাদ-দারব-এ তিনি ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন এবং গবেষণা-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।
রচনাবলি
আকিদা ও ফিকহ বিষয়ে তার বহু গ্রন্থ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- আল-মুলাখখাস আল-ফিকহি — ফিকহের সংক্ষিপ্তসার; ইংরেজিতে A Summary of Islamic Jurisprudence নামে অনূদিত।
- ই’আনাতুল মুসতাফিদ বি শারহি কিতাবিত তাওহিদ — কিতাবুত তাওহিদ-এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
- শারহুল উসুলিস সালাসাহ — তিন মূলনীতির ব্যাখ্যা; শারহুল কাওয়াইদিল আরবা’আহ — চারটি নিয়মের ব্যাখ্যা।
- আল-ইরশাদ ইলা সহিহিল ই’তিকাদ — সঠিক আকিদার দিশা ও ভ্রান্ত আকিদার খণ্ডন।
- তানবিহাত আলা আহকামিন তাখতাসসু বিল-মু’মিনাত — মুমিন নারীদের জন্য বিশেষ বিধানাবলি।
- বায়ানু হাকিকাতিত তাওহিদ — তাওহিদের প্রকৃত সত্যের বর্ণনা।
গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বাদশাহ সালমানের রাজকীয় ফরমানে — যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সুপারিশক্রমে — তিনি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি নিযুক্ত হন। তিনি এই পদে শাইখ আব্দুল আজিজ আলুশ শাইখের স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি ২৫ বছর এই দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। ৯০ বছর বয়সে এই পদে আসীন হওয়া তিনি সৌদি আরবের চতুর্থ গ্র্যান্ড মুফতি।
বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার
গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষাদান, ফতোয়া-কার্যক্রম ও গবেষণায় সক্রিয় আছেন। তার ফতোয়া ও বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। আকিদা ও ফিকহের ওপর রচিত তার গ্রন্থমালা বিশ্বের বহু মাদ্রাসা ও ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্য ও রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।