শাইখ আলী জাবির আল-ফীফী
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ ইবনে আলী জাবির আস-সাইদী আল-মুওয়াসতী আল-ইয়াফিঈ আল-হিময়ারী (আরবি: علي عبد الله جابر الفيفي) |
| জন্ম | আগস্ট ১৯৫৪ (জিলহজ্জ ১৩৭৩ হিজরি), জেদ্দা, সৌদি আরব |
| মৃত্যু | ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫, জেদ্দা, সৌদি আরব |
| সমাধিস্থল | আল-শারায়ে কবরস্থান, মক্কা |
| জাতীয়তা | সৌদি |
| পেশা | ক্বারী, ইমাম, ইসলামি পণ্ডিত, অধ্যাপক |
| শিক্ষা | রিয়াদ — তুলনামূলক ফিকহে মাস্টার্স ও পিএইচডি (১৯৮৭) |
| খ্যাতি | মসজিদুল হারামের ইমাম ("বাদশাহর ইমাম"); স্বতন্ত্র সুরেলা কুরআন তিলাওয়াত |
পরিচিতি
শাইখ ড. আলী জাবির আল-ফীফী (১৯৫৪–২০০৫) ছিলেন সৌদি আরবের একজন প্রসিদ্ধ ক্বারী, ইমাম ও ইসলামি পণ্ডিত। মক্কার মসজিদুল হারামে ইমামতির জন্য তিনি "বাদশাহর ইমাম" (আমামুল মালিক) নামে পরিচিতি পান এবং তাঁর স্বতন্ত্র, সুরেলা তিলাওয়াতের জন্য মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে স্মরণীয়। (উল্লেখ্য, কিছু অনলাইন উৎসে তাঁকে ভুল করে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম বলা হয়; নির্ভরযোগ্য জীবনী অনুযায়ী তিনি মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ছিলেন।)
জন্ম ও শৈশব
আলী জাবির ১৯৫৪ সালের আগস্টে (১৩৭৩ হিজরির জিলহজ্জ মাসে) জেদ্দায় জন্মগ্রহণ করেন; তাঁর এক যমজ ভাই ছিলেন — সালেম। বয়স ৫ বছর হলে পরিবারসহ তিনি মদিনায় চলে যান এবং সেখানেই কুরআন শিক্ষা শুরু করেন। তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ইবনে সালেহ মদিনায় মারা যান, তখন আলী জাবিরের বয়স ছিল ১১ বছর।
শিক্ষাজীবন
মদিনায় রহমতুল্লাহ ক্বারীর তত্ত্বাবধানে তিনি কুরআন শিক্ষা শুরু করেন; পরে মদিনার কুরআন হিফজ দাতব্য সমিতিতে শাইখ খলীল আল-ক্বারীর নির্দেশনায় সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেন এবং তাজবীদ শিখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ডিগ্রির পর তিনি রিয়াদের হাইয়ার ইনস্টিটিউট অব জুডিশিয়ারিতে (ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় অধীন) ভর্তি হন এবং ১৩৯৬–১৩৯৭ হিজরি শিক্ষাবর্ষে মাস্টার্স প্রোগ্রামে নাম লেখান। তুলনামূলক ফিকহ বিভাগে "আবদুল্লাহ ইবনে উমরের ফিকহ ও মদিনা মাযহাবে এর প্রভাব" বিষয়ে তিনি সসম্মানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে "আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকরের ফিকহ: প্রখ্যাত মুজতাহিদদের ফিকহের সঙ্গে তুলনামূলক" বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবন
মাত্র ২১ বছর বয়সে, ১৯৭৪ সালে (১৩৯৪ হিজরি) মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদে আল-গামামায় সহকারী ইমাম হিসেবে তাঁর ইমামতি শুরু হয়; সেখানে প্রায় দুই বছর তিনি নামাজ পড়ান। এরপর মদিনার কয়েকটি মসজিদে ইমামতি করার পর ১৯৮১ সালে (১৪০১ হিজরি) রমজান মাসে বাদশাহ খালেদের আহ্বানে তিনি মক্কার মসজিদুল হারামে তারাবিহর নামাজ পড়ান — ২৩তম রমজানের রাত থেকে মাস শেষ পর্যন্ত। এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে তাঁকে মসজিদুল হারামের আনুষ্ঠানিক ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়; ১৯৮১–১৯৮৩ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৬–১৯৮৯ (১৪০৬–১৪০৯ হিজরি) সময়ে তিনি রমজানে অতিথি ইমাম হিসেবে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদে ইমামতি করেন; সর্বশেষ ৩০ রমজান ১৪০৯ (৪ মে ১৯৮৯) তিনি হারামে ইমামতি করেন। পাশাপাশি তিনি জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ফিকহ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৩ সালে কানাডা সফরকালে তিনি একটি স্টুডিওতে নিজ কণ্ঠে সম্পূর্ণ কুরআন রেকর্ড করেন, যার মূল কপি রিয়াদের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
অসুস্থতার পর ২০০৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জেদ্দার বুগশান হাসপাতালে আলী জাবির আল-ফীফী মারা যান; বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। পরদিন মক্কার মসজিদুল হারামে আসর নামাজের পর তাঁর জানাজা হয় এবং একই দিন তাঁকে আল-শারায়ে কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর সুরেলা তিলাওয়াত আজও অসংখ্য রেকর্ডিং ও ভিডিওর মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত; তাঁর ছাত্রদের মধ্যে সালাহ বাউছমান পরবর্তীতে মসজিদুল হারামের অতিথি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।