মূল কন্টেন্টে যান

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী
ইংরেজি নাম Muhammad Yusuf Ali
জন্ম ১ মার্চ ১৯৪২
জন্মস্থান বড়গাঁও, কালীগঞ্জ, গাজীপুর
মৃত্যু ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৩, চান্দিনা, কুমিল্লা
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা অধ্যাপক, ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, রাজনীতিবিদ
শিক্ষা ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট কলেজ, ঢাকা (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) — ম্যাট্রিক ১৯৫৭; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — অর্থনীতিতে এমএ, ১৯৬২
উল্লেখযোগ্য কর্ম কুরআনের আলোকে মানব জীবন, অর্থনৈতিক সাম্য ও ইসলাম, মু’মিন জীবনের বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত

পরিচিতি

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী (১ মার্চ ১৯৪২ – ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৩) ছিলেন একজন বাংলাদেশি অধ্যাপক, ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক ও রাজনৈতিক সংগঠক। পেশায় কলেজ-শিক্ষক হলেও জীবনের বড় অংশ তিনি ইসলামি আন্দোলন ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে ব্যয় করেন। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে তিনি দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। লেখক হিসেবে তার আটটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে কুরআনের আলোকে মানব জীবন সর্বাধিক পরিচিত।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪২ সালের ১ মার্চ গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন বড়গাঁও গ্রামে তার জন্ম। ঢাকার ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট কলেজ (বর্তমানে কবি নজরুল সরকারি কলেজ) থেকে ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধাতালিকায় চতুর্দশ স্থান অধিকার করেন এবং ১৯৫৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করে ১৯৬২ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন

১৯৬৩ সালে সাংবাদিক হিসেবে ‘সাপ্তাহিক ইয়ং পাকিস্তান’-এ কাজের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। সাংবাদিকতা ছেড়ে ১৯৬৪ সালে তিনি মৌলভীবাজার ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন; কিছুদিন পর একই বছর নরসিংদী ডিগ্রি কলেজে যোগ দিয়ে ১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যাপনা করেন।

ছাত্রজীবনেই তিনি ইসলামি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইসলামি চিন্তাবিদ খুররম জাহ্ মুরাদের বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৫৯ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘে যোগ দেন; ১৯৬১-৬২ সেশনে তিনি ঢাকা মহানগরীর ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ইসলামী ছাত্র সংঘের মজলিসে শুরার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে একই বছর রুকন হন। ১৯৬৬-৬৭ সালে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিভাগের আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামীর যুগ্ম সেক্রেটারি এবং ১৯৮৮ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, প্রকাশনা বিভাগ, সফরসূচি প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় অফিস পরিচালনাসহ বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত ছিল। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জামায়াতের প্রকাশনা এবং ‘সাপ্তাহিক সোনার বাংলা’ পরিচালনা বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন; ইকোনমিক্স রিসার্চ ব্যুরো প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক প্রকাশনীর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

সমাজসেবক হিসেবে তিনি কালীগঞ্জ থানায় সুপরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ঢাকার তা’মিরুল মিল্লাত ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি, গাজীপুর ইসলামী ট্রাস্ট এবং কালীগঞ্জ আল-ইসলাহ ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন। তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা, ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

সাংগঠনিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অধ্যাপক ইউসুফ আলী লেখালেখি চালিয়ে যান; তার রচনা ইসলামি আন্দোলন, অর্থনীতি, পারিবারিক জীবন ও মুমিন-চরিত্র বিষয়ক। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ আটটি: অর্থনৈতিক সাম্য ও ইসলাম, মু’মিন জীবনের বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত, ইসলামী আন্দোলনমুখী পরিবার গঠন, ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তির আত্মগঠন, ইসলামী বিপ্লব সাধনে সংগঠন, কুরআনের আলোকে মানব জীবন ও মু’মিনের পারিবারিক জীবন। এছাড়া কোরআনের দৃষ্টিতে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের উপায় শীর্ষক আরেকটি গ্রন্থেরও লেখক তিনি। তার বইগুলো সহজপাঠ্য ভাষায় লেখা বলে পাঠকমহলে পরিচিতি পায়।

ব্যক্তিগত জীবন

তিনি ১৯৭৯ ও ১৯৮২ সালে দু’বার হজব্রত পালন করেন এবং রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামীর উদ্যোগে করাচিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামিক অধিবেশনে যোগ দেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে জামায়াতের রুকন ছিলেন; দুই ছোট ভাইয়ের মধ্যে একজন কৃষিবিদ ইদরীস আলী এবং অপরজন কবি আসাদ বিন হাফিজ।

মৃত্যু

২০০৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লায় সাংগঠনিক সফরকালে তিনি ইন্তেকাল করেন। কুমিল্লার চান্দিনা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন; চান্দিনা হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি মা, স্ত্রী, দুই ভাই, পাঁচ ছেলে ও চার মেয়ে রেখে যান।

তথ্য-সীমাবদ্ধতা: এই পরিচিতি জামায়াতে ইসলামীর দাপ্তরিক স্মৃতিচারণ (লেখক: মাযহারুল ইসলাম) ও বই-তালিকা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে রচিত; তার প্রাপ্ত পুরস্কার বা সম্মাননা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।