মূল কন্টেন্টে যান

শাইখ মুহাম্মাদ আল গাজালি

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি আল-সাক্কা
জন্ম ২২ সেপ্টেম্বর ১৯১৭
জন্মস্থান নিকলা আল-ইনাব, বুহাইরা গভর্নরেট, মিশর
মৃত্যু ৯ মার্চ ১৯৯৬, সৌদি আরব
সমাধি জান্নাতুল বাকি কবরস্থান, মদিনা
জাতীয়তা মিশরীয়
পেশা ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, ধর্মপ্রচারক
শিক্ষা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৪১), উসুল আদ-দিন অনুষদ
উল্লেখযোগ্য কর্ম Journey Through the Qur’an (আল-তাফসির আল-মাওদুঈ লি-সুয়ার আল-কুরআন আল-কারিম), Islam and Political Despotism, Islam and Women’s Issues, The Prophetic Sunna: Between the Jurists and the Hadith Scholars
পুরস্কার ফার্স্ট অর্ডার অব দ্য রিপাবলিক অব ইজিপ্ট (১৯৮৮), কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯), এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড (পাকিস্তান)

পরিচিতি

শাইখ মুহাম্মাদ আল-গাজালি আল-সাক্কা (২২ সেপ্টেম্বর ১৯১৭ – ৯ মার্চ ১৯৯৬) ছিলেন একজন মিশরীয় ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক ও ধর্মপ্রচারক। প্রথমেই একটি ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো জরুরি: তিনি মধ্যযুগের বিখ্যাত দার্শনিক-ধর্মতত্ত্ববিদ আবু হামিদ মুহাম্মাদ আল-গাজালি (১০৫৮–১১১১) নন; বরং বিশ শতকের একজন আধুনিক মিশরীয় আলেম। জীবনীসূত্রে জানা যায়, তার পিতা মধ্যযুগের আল-গাজালির প্রতি শ্রদ্ধা থেকে পুত্রের এই নাম রেখেছিলেন। কুরআন ও ইসলামের আধুনিক ব্যাখ্যাধর্মী রচনার জন্য তিনি পরিচিত। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে তিনি ৯৪টি গ্রন্থের রচয়িতা (অন্যান্য সূত্রে ষাটের বেশি গ্রন্থের উল্লেখ আছে); মিশরে সাম্প্রতিক সময়ের ইসলামি বিশ্বাস-পুনরুজ্জীবনে তার অবদান রয়েছে বলে বহু সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মিশরের বুহাইরা গভর্নরেটের নিকলা আল-ইনাব নামক ছোট শহরে তার জন্ম। শৈশবে স্থানীয় কুত্তাবে (মসজিদ-পাঠশালা) পড়াশোনা শুরু করেন; জীবনীসূত্রে জানা যায়, দশ বছর বয়সে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ করেছিলেন। এরপর আলেকজান্দ্রিয়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করে কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দিন অনুষদে ভর্তি হন এবং ১৯৪১ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবন

১৯৪৩ সালে তিনি কায়রোর আল-মাকতাবা আল-খাদরায় ইমাম ও প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও হাসান আল-বান্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন; ১৯৫৩ সালে তিনি সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে তিনি মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ে (মিনিস্ট্রি অব আওকাফ) যোগ দেন এবং ১৯৭১ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে ইসলামি দাওয়া বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি পদে উন্নীত হন। তার শিক্ষকতাজীবনে রয়েছে মক্কার উম্ম আল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আলজেরিয়ার কনস্টান্টাইনে অবস্থিত আল-আমির আবদ আল-কাদির ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা। এছাড়া তিনি কায়রোর ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট-এর একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

রচনাবলি

ধর্মতত্ত্ব, রাজনীতি ও সমাজ — নানা বিষয়ে তিনি লিখেছেন; তার রচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি শিক্ষাকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে Journey Through the Qur’an (আরবি মূল: আল-তাফসির আল-মাওদুঈ লি-সুয়ার আল-কুরআন আল-কারিম — কুরআনের সূরাগুলোর বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যা), Islam and Political Despotism, Islam and Women’s Issues এবং The Prophetic Sunna: Between the Jurists and the Hadith Scholars। তার বহু গ্রন্থ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

পুরস্কার

জ্ঞান ও দাওয়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি মিশরের ফার্স্ট অর্ডার অব দ্য রিপাবলিক (১৯৮৮), কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯) এবং পাকিস্তানের এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা পান।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৯৬ সালের ৯ মার্চ সৌদি আরবে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন; বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাকে মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবনের শেষ দিকে ধর্মচিন্তাবিদ ফারাজ ফুদার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার অবস্থান বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ আছে। মধ্যযুগের আল-গাজালির সঙ্গে নামের সাদৃশ্য থাকলেও — যার সঙ্গে তাকে প্রায়শই গুলিয়ে ফেলা হয় — বিশ শতকের এই মিশরীয় আলেম আধুনিক ইসলামি চিন্তার ইতিহাসে নিজস্ব স্থান ধরে রেখেছেন।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।