মূল কন্টেন্টে যান
শায়খ ইমরান নজর হোসেন

শায়খ ইমরান নজর হোসেন

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম শায়খ ইমরান নজর হোসেন
ইংরেজি রূপ Imran Nazar Hosein
জন্ম ১৯৪২
জন্মস্থান ত্রিনিদাদ, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো
জাতীয়তা ত্রিনিদাদীয়
পেশা ইসলামি প্রচারক, লেখক, দার্শনিক, সাবেক কূটনীতিক
শিক্ষা আলিমিয়া ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ, করাচি (১৯৭১); দর্শনে স্নাতকোত্তর, করাচি বিশ্ববিদ্যালয়; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট; সংক্ষিপ্ত অধ্যয়ন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো (১৯৬৩–৬৪)
উল্লেখযোগ্য রচনা Jerusalem in the Qur’an; The Prohibition of Riba in the Qur’an and Sunnah; The Gold Dinar and Silver Dirham: Islam and the Future of Money; Surah Al-Kahf and the Modern Age; An Islamic View of Gog and Magog in the Modern World; Constantinople in the Qur’an; Dajjal, the Qur’an, and Awwal Al-Zamaan

পরিচিতি

ইমরান নজর হোসেন (জ. ১৯৪২) ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর একজন ইসলামি প্রচারক, লেখক ও দার্শনিক। ইসলামি শেষযুগতত্ত্ব (এসকাটোলজি), বিশ্বরাজনীতি, অর্থনীতি এবং আধুনিক আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমসাময়িক ব্যাখ্যার জন্য তিনি পরিচিত। Jerusalem in the Qur’an তার সর্বাধিক পরিচিত গ্রন্থ; এক ডজনের বেশি বইয়ের রচয়িতা তিনি এবং ১৯৭১ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ইসলামি বক্তৃতা সফর করে আসছেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৪২ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপ ত্রিনিদাদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক পরিবারে তার জন্ম; তার পূর্বপুরুষরা ভারত থেকে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে ত্রিনিদাদে এসেছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সময় ইসলামি শিক্ষা নেন; এরপর পাকিস্তানে গিয়ে করাচির আলিমিয়া ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজে ইসলামি পণ্ডিত ও সুফি শায়খ মাওলানা ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান আনসারীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে সেখান থেকে স্নাতক হন। এছাড়া তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে স্নাতকোত্তর এবং ত্রিনিদাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন।

কর্মজীবন

কয়েক বছর তিনি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফরেন সার্ভিস অফিসার হিসেবে কাজ করেন; ১৯৮৫ সালে এই পদ ছেড়ে ইসলামের দাওয়াতি কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেন। তিনি করাচির আলিমিয়া ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যক্ষ, করাচির ওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেসের গবেষণা পরিচালক, ফ্লোরিডার মায়ামির ইসলামিক ইনস্টিটিউট ফর এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক এবং উত্তর আমেরিকায় তানজিম-ই-ইসলামীর দাওয়াহ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিউইয়র্কে দশ বছর অবস্থানকালে তিনি গ্রেটার নিউইয়র্কের মুসলিম সংগঠনগুলোর যৌথ কমিটির ইসলামিক স্টাডিজ পরিচালক ছিলেন, লং আইল্যান্ডের মসজিদ দার আল-কুরআনের ইমাম ছিলেন এবং ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মাসে একবার করে ধারাবাহিকভাবে দশ বছর জুমার নামাজে ইমামতি ও খুতবা দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বহু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, গির্জা, সিনাগগ ও কারাগারে তিনি ইসলাম বিষয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন এবং খ্রিস্টান ও ইহুদি পণ্ডিতদের সঙ্গে আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি

তার রচিত এক ডজনের বেশি বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: Jerusalem in the Qur’an, The Prohibition of Riba in the Qur’an and Sunnah, The Gold Dinar and Silver Dirham: Islam and the Future of Money, Surah Al-Kahf and the Modern Age, An Islamic View of Gog and Magog in the Modern World, Constantinople in the Qur’an, Dajjal, the Qur’an, and Awwal Al-Zamaan, The Qur’an, Dajjal, and the Jassad, The Islamic Travelogue, The Strategic Importance of Dreams and Visions in Islam, Fasting and Power, Islam and Buddhism in the Modern World ও A Muslim Response to the Attack on America। তার বইগুলোতে কুরআনি শেষযুগতত্ত্বের আলোকে আধুনিক বিশ্বরাজনীতি, অর্থব্যবস্থা ও ইতিহাসের গতিপ্রবাহ ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

চিন্তা ও বিতর্ক

হোসেন নিজেকে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন তিনি বেরেলভি, দেওবন্দি বা ওয়াহাবি — কোনো ঘরানারই অনুসারী নন। কাগুজে মুদ্রা (ফিয়াট কারেন্সি) সম্পর্কে তার অবস্থান নথিভুক্ত: তিনি একে ভুয়া, প্রতারণামূলক ও হারাম বলে অভিহিত করলেও প্রয়োজনের ইসলামি নীতির ভিত্তিতে তা ব্যবহারের অনুমতি দেন এবং স্বর্ণ-রৌপ্যভিত্তিক সুন্নাহ মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্ষুদ্র বাজারের প্রস্তাব করেন। তার কিছু ব্যাখ্যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে: মুফতি ইব্রাহিম দেসাই (আসকইমাম) তার বক্তব্য শোনা থেকে বিরত থাকার ফতোয়া দেন; তাকে মুকুরাপো মসজিদ ও সিঙ্গাপুরে বক্তব্য দিতে নিষেধ করা হয়; এবং ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আলবেনিয়ার রিনাস বিমানবন্দরে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

ইমরান নজর হোসেন জীবিত এবং তার ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বক্তৃতা ও লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক যুগে ইসলামি শেষযুগতত্ত্বের ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে অনুসারী ও সমালোচক — উভয় মহলেই তিনি আলোচিত ব্যক্তিত্ব।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।