মূল কন্টেন্টে যান
আলেক্সান্দর কাজানৎসেভ

আলেক্সান্দর কাজানৎসেভ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম আলেক্সান্দর পেত্রোভিচ কাজানৎসেভ (Alexander Petrovich Kazantsev)
পরিচিতি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক, প্রকৌশলী, দাবা-সমস্যা রচয়িতা
জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯০৬, আকমোলিনস্ক, রুশ সাম্রাজ্য (বর্তমান আস্তানা, কাজাখস্তান)
মৃত্যু ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০২, পেরেদেলকিনো, রাশিয়া
উল্লেখযোগ্য রচনা জ্বলন্ত দ্বীপ (Пылающий остров, ১৯৪০), ঝড়ের গ্রহ (Планета бурь, ১৯৫৯), ফায়েতি (Фаэты) ট্রিলজি, মহাকাশের অতিথি (Гость из космоса)
পুরস্কার আয়েলিতা পুরস্কার (১৯৮১); অর্ডার অব দ্য প্যাট্রিয়টিক ওয়ার, অর্ডার অব দ্য রেড স্টার (সামরিক)

পরিচিতি

আলেক্সান্দর পেত্রোভিচ কাজানৎসেভ (১৯০৬–২০০২) সোভিয়েত ও রুশ বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। পেশায় প্রকৌশলী এই লেখক একই সঙ্গে ছিলেন ইউএফও-গবেষক (ইউফোলজিস্ট) ও দাবার এন্ডগেম-সমস্যার খ্যাতিমান রচয়িতা। ৯৬ বছর বয়সে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সোভিয়েত যুগ থেকে উত্তর-সোভিয়েত রাশিয়া — দুই যুগেই সক্রিয় ছিলেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯০৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রুশ সাম্রাজ্যের আকমোলিনস্কে (বর্তমান কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানা) তাঁর জন্ম। তিনি টমস্ক পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন এবং সোভিয়েত ইলেক্ট্রোমেকানিক্স গবেষণা ইনস্টিটিউটে কাজ করেন। ১৯৩৯ সালে নিউইয়র্ক বিশ্বমেলায় সোভিয়েত প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন তিনি।

কর্মজীবন

১৯৪১ সালে জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলে কাজানৎসেভ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে কর্নেল পদমর্যাদায় তিনি সামরিক চাকরি ছাড়েন এবং অর্ডার অব দ্য প্যাট্রিয়টিক ওয়ার ও অর্ডার অব দ্য রেড স্টারসহ একাধিক পদকে ভূষিত হন। এরপর তিনি মস্কোর কাছে লেখকদের “সাহিত্য-গ্রাম” পেরেদেলকিনোতে বসতি স্থাপন করেন এবং পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

সাহিত্যজীবন

কাজানৎসেভ ছিলেন স্টালিন-যুগের “নিকট-লক্ষ্য বিজ্ঞান কল্পকাহিনী” (close-aim science fiction) ধারার শীর্ষস্থানীয় লেখকদের একজন — এই ধারায় সুদূর ভবিষ্যতের বদলে নিকট ভবিষ্যতের শিল্প-সাফল্য, আবিষ্কার ও সৌরজগতের ভ্রমণকে কেন্দ্র করা হতো। তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য উপন্যাস জ্বলন্ত দ্বীপ (১৯৪০); এরপর ঝড়ের গ্রহ (১৯৫৯) — যা ১৯৬২ সালে প্লানেতা বুর নামে চলচ্চিত্রায়িত হয় এবং পরে পশ্চিমে পুনঃসম্পাদিত হয়ে মুক্তি পায়। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ ফায়েতি (Фаэты) ট্রিলজি — ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রহ ফায়েনার কাহিনী। মহাকাশের অতিথি গল্পে তিনি ১৯০৮ সালের তুঙ্গুস্কা বিস্ফোরণকে মহাজাগতিক দর্শনার্থীর আগমন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন — এই ধারণা তাঁকে সোভিয়েত ইউফোলজির অগ্রদূত করে তোলে। বাংলা অনুবাদেও তাঁর রচনা পৌঁছেছে — যেমন গ্রহান্তরের আগন্তুক সংকলন। ১৯৮১ সালে তিনি সোভিয়েত বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মর্যাদাপূর্ণ আয়েলিতা পুরস্কার পান।

দাবা-জীবন

সাহিত্যের বাইরে কাজানৎসেভ ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতির দাবা-সমস্যা রচয়িতা। মাত্র সত্তরটির মতো এন্ডগেম-স্টাডি রচনা করলেও সেগুলোর মান ছিল অত্যন্ত উঁচু; ১৯৫৫ সালে তিনি দ্য সোভিয়েত চেস স্টাডি গ্রন্থের সহ-রচয়িতা ছিলেন এবং ১৯৮৩ সালে তাঁর দাবা-রচনা ও কল্পকাহিনীর সংকলন কাইসার উপহার প্রকাশিত হয়।

ব্যক্তিগত জীবন

তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে খুব কমই জানা যায়; একটি শোকসংবাদে উল্লেখ আছে “তাঁর ব্যক্তিগত বা প্রকাশ্য জীবন সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়”। জানা তথ্যের মধ্যে আছে — তিনি পেরেদেলকিনোতে দীর্ঘদিন বসবাস করেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও লেখালেখি চালিয়ে যান।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

২০০২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পেরেদেলকিনোতে স্বাভাবিক কারণে তাঁর মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, জনপ্রিয় বিজ্ঞান ও দাবা-রচনা — তিন অঙ্গনেই তাঁর অবদান রুশ সংস্কৃতিতে স্মরণীয় হয়ে আছে।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।