মূল কন্টেন্টে যান

র. বাউমডোল

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এক নজরে

পূর্ণ নাম রাখিল লভোভনা বাউমভোল (Rakhil Lvovna Baumvol; ইদ্দিশ নাম রোখল বয়মভোল)
পরিচিতি কবি, শিশুসাহিত্যিক ও অনুবাদক (ইদ্দিশ ও রুশ ভাষায়)
জন্ম ৪ মার্চ ১৯১৪ (পুরনো ক্যালেন্ডারে ১৯ ফেব্রুয়ারি), ওডেসা, রুশ সাম্রাজ্য
মৃত্যু ১৬ জুন ২০০০, জেরুজালেম
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ নীল দস্তানা (Синяя варежка, ১৯৫৯) — শিশুতোষ গল্প; শিশুদের গানের সংকলন কিন্ডার-লিডার (১৯৩০)

নাম-পরিচয় সম্পর্কে একটি জরুরি নোট

বাংলায় “র. বাউমডোল” নামে পরিচিত এই লেখকের আসল পরিচয় রুশ-ইদ্দিশ লেখিকা রাখিল লভোভনা বাউমভোল (Р. Баумволь)। বাংলায় প্রকাশিত তাঁর বই নীল দস্তানা (অনুবাদক রেখা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশী ভাষায় সাহিত্য প্রকাশালয়, মস্কো; ছবি এঁকেছেন ভ. লোসিন) আসলে তাঁর রুশ শিশুতোষ বই সিনায়া ভারেজকা (“নীল দস্তানা”, দেতগিজ, ১৯৫৯, চিত্রশিল্পী ভেনিয়ামিন লোসিন)-এর অনুবাদ — লেখক, চিত্রশিল্পী ও প্রকাশনীর এই ত্রিমিলন পরিচয় নিশ্চিত করে। “বাউমভোল” থেকে “বাউমডোল” — বাংলা রূপান্তরে নামটি বিকৃত হয়েছে।

পরিচিতি

রাখিল বাউমভোল (১৯১৪–২০০০) ছিলেন সোভিয়েত ও ইসরায়েলি কবি, যিনি ইদ্দিশ ও রুশ — দুই ভাষাতেই লিখতেন। শিশুদের কবিতা, গান ও গল্পের লেখিকা হিসেবে তিনি সোভিয়েত পাঠকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন; তাঁর কিছু বইয়ের মুদ্রণসংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী জীবনে তিনি ইদ্দিশ থেকে রুশ ভাষায় গুরুত্বপূর্ণ অনুবাদও করেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯১৪ সালে ওডেসায় জন্ম নেওয়া রাখিলের বাবা লেইব শিমোনোভিচ বাউমভোল ছিলেন ওয়ারশর ইহুদি নাট্যমঞ্চের নাট্যকার ও পরিচালক; ১৯২০ সালে সোভিয়েত-পোলিশ যুদ্ধের সময় পোলিশ সৈন্যদের হাতে কাজাতিনে তিনি নিহত হন — এই হামলায় শিশু রাখিলও আহত হন এবং কয়েক বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। মায়ের সঙ্গে তিনি মস্কো চলে যান। ছয় বছর বয়সে লেখা শুরু করা রাখিলের প্রথম ইদ্দিশ কবিতা নয় বছর বয়সে কমসোমল পত্রিকায় ছাপা হয়। ১৯৩০ সালে শামুয়েল গালকিনের সহায়তায় তাঁর প্রথম বই — শিশুদের গানের সংকলন কিন্ডার-লিডার — প্রকাশিত হয়। পরে তিনি দ্বিতীয় মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি বিভাগে পড়াশোনা করেন।

কর্মজীবন

মস্কোতেই তিনি স্বামী জিয়ামা তেলেসিনের সঙ্গে পরিচিত হন ও বিয়ে করেন। ১৯৩৫ সালে স্নাতক হওয়ার পর তাঁদের মিনস্কে কাজে পাঠানো হয়, যেখানে রাখিল দ্রুত শিশুসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান। মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের সময় পরিবারসহ তিনি তাশখন্দে সরে যান (স্বামী লাল ফৌজে যুদ্ধ করেন); যুদ্ধকালেই তিনি রুশ ভাষায় প্রকাশনা শুরু করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে ইদ্দিশ ভাষায় প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি রুশ ভাষায় অসংখ্য কবিতা, শিশুদের গান ও গল্প প্রকাশ করেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি ইদ্দিশ থেকে রুশ ভাষায় অনুবাদ করেন — যার মধ্যে আছে মোইশে কুলবাকের উপন্যাস (১৯৬০) ও ইসহাক বাশেভিস সিঙ্গারের দাস (১৯৭৬)। ১৯৬১ সাল থেকে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের একমাত্র ইদ্দিশ পত্রিকা সোভেতিশ হেইমলান্ড-এর নিয়মিত লেখিকা ছিলেন।

সাহিত্যজীবন

বাউমভোলের রুশ ভাষায় লেখা শিশুতোষ বইগুলো সোভিয়েত শিশুসাহিত্যের জনপ্রিয় অংশ হয়ে ওঠে। এর মধ্যে নীল দস্তানা (১৯৫৯) — ভেনিয়ামিন লোসিনের ছবিসহ — বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়। তাঁর কয়েক ডজন বই ও পুস্তিকার কিছু সংস্করণের মুদ্রণসংখ্যা দশ লাখে পৌঁছেছিল।

ব্যক্তিগত জীবন ও দেশান্তর

তাঁর পুত্র ইউলিউস তেলেসিন ছিলেন মস্কোর ভিন্নমতাবলম্বী ও সামিজদাত-কর্মী; ১৯৬৯ সালে তিনি ইসরায়েলে অভিবাসনের আবেদন করেন। পিতা-মাতা তাঁকে অনুসরণ করে ১৯৭১ সালে ইসরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পান এবং জেরুজালেমে বসতি স্থাপন করেন — সোভিয়েত ইহুদি লেখকদের বড় ঢেউয়ের অংশ হিসেবে। তাঁর স্বামী ১৯৭২ সালে সেখানে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। ইসরায়েলে তিনি শিশুতোষ বই লেখার প্রধান আয়ের উৎস হারান এবং ক্রমে ইদ্দিশ কবিতার বই প্রকাশের দিকে ঝুঁকেন; তাঁর কিছু ইদ্দিশ সংকলন পরবর্তী দশকগুলোতে হিব্রু ভাষায় অনূদিত হয়।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

২০০০ সালের ১৬ জুন জেরুজালেমে তাঁর মৃত্যু হয়; বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ইদ্দিশ ও রুশ — দুই ভাষার সেতুবন্ধ হিসেবে এবং সোভিয়েত শিশুসাহিত্যের জনপ্রিয় কবি হিসেবে তিনি স্মরণীয়।

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।