মাওলানা আব্দুর রহীম
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | মুহাম্মদ আবদুর রহীম (Muhammad Abdur Rahim) |
| জন্ম | ১৯ জানুয়ারি ১৯১৮ |
| জন্মস্থান | শিয়ালকাঠি গ্রাম, পিরোজপুর (তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত) |
| মৃত্যু | ১ অক্টোবর ১৯৮৭, ঢাকা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | ইসলামী পণ্ডিত, লেখক, অনুবাদক |
| শিক্ষা | শর্ষিনা আলিয়া মাদ্রাসা; কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা — ফাজিল (১৯৪০), কামিল (১৯৪২) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | হাদীস শরীফ (৩ খণ্ড); হাদীস সংকলনের ইতিহাস; তাফহিমুল কুরআন-এর বাংলা অনুবাদ (১৯ খণ্ড); আজকের চিন্তাধারা |
পরিচিতি
পরিচয়-সংক্রান্ত নোট: বইইনফোর লেখক-পোস্টে কেবল “মাওলানা আব্দুর রহীম” নামটি দেওয়া আছে। এই নামে একাধিক লেখক থাকায় নিচের জীবনীটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত ও লেখক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (১৯১৮–১৯৮৭)-কে কেন্দ্র করে রচিত, যার গ্রন্থাবলি বাংলা ইসলামি সাহিত্যে সুপরিচিত। একই নামের মীনা বুক হাউস-প্রকাশিত সীরাত-গ্রন্থের লেখক সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো জীবনীমূলক তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (১৯ জানুয়ারি ১৯১৮ – ১ অক্টোবর ১৯৮৭) ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, লেখক ও অনুবাদক। সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী ও ইউসূফ আল-কারযাভীর গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ এবং ইসলাম-বিষয়ক মৌলিক রচনার জন্য তিনি পরিচিত। মওদুদীর তাফহিমুল কুরআন-এর ১৯ খণ্ডের বাংলা অনুবাদ তার সর্বাধিক পরিচিত কর্ম।
জন্ম ও শৈশব
১৯১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি পিরোজপুর জেলার শিয়ালকাঠি গ্রামে তার জন্ম। পিতা হাজি খবিরউদ্দিন ও মা আকলিমুন্নেসা; পরিবারের ১২ সন্তানের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তার ভাইদের মধ্যে এ টি এম আবদুল ওয়াহিদ ছিলেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার স্নাতক ও খ্যাতনামা লেখক; আরো দুই ভাই এম এ করিম ও এম এ সাত্তারও লেখক ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
নিজ গ্রামের বাড়ির পাশের মসজিদে চার বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ১৯৩৪ সালে তিনি শর্ষিনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ১৯৩৮ সালে সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় (বর্তমান আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হয়ে ১৯৪০ সালে ফাজিল ও ১৯৪২ সালে কামিল পাস করেন।
কর্মজীবন
আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্র থাকাকালে তিনি সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী সম্পাদিত তরজমানুল কুরআন পত্রিকার নিয়মিত পাঠক ছিলেন। ১৯৪৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিখিল ভারত সম্মেলনে অংশ নেন এবং ১৯৪৬–৪৭ সালে সংগঠনে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন এবং ১৯৭০ সালে নিখিল পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মনোনীত হন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন এবং ১৯৭৪ সালে দেশে ফেরেন। ১৯৭৫–৭৭ সময়ে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন; ১৯৭৬ সালে তিনি ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) গঠনে ভূমিকা রাখেন, যা ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। পরবর্তীতে তিনি জামায়াত ত্যাগ করে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৭ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন।
সাহিত্যজীবন
তিনি বাংলা ও উর্দুতে মৌলিক রচনা ও অনুবাদ — দুটোতেই অবদান রেখেছেন। তার মৌলিক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হাদীস শরীফ (৩ খণ্ড, ১৯৬৪), হাদীস সংকলনের ইতিহাস (১৯৭০), আজকের চিন্তাধারা (১৯৮০), আল কুরআনের আলোকে উন্নত জীবনের আদর্শ (১৯৮০), আল কুরআনের আলোকে শিরক ও তাওহিদ (১৯৮৩), আল কুরআনের নবুয়ত ও রিসালাত (১৯৮৪), পাশ্চাত্য সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তি (১৯৮৪), ইসলামে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও গণতন্ত্র নয় পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব। অনুবাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর তাফহিমুল কুরআন (১৯ খণ্ড), সাইয়েদ কুতুবের বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়াত, ইউসূফ আল-কারযাভীর ইসলামের জাকাত বিধান ও ইসলামে হালাল-হারামের বিধান। আল কুরআনের রাষ্ট্র ও সরকার (১৯৮৮) তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবন
তার স্ত্রীর নাম খায়রুন্নেসা; এই দম্পতির ১০ সন্তান ছিল।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
১৯৮৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন; ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন; বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।