মুহিব খান
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | মুহিব্বুর রহমান খান (মুহিব খান) |
|---|---|
| জন্ম | ১ অক্টোবর ১৯৭৯ (উইকিপিডিয়া সূত্র; কিছু সূত্রে শুধু “অক্টোবর ১৯৭৯”) |
| জন্মস্থান | নূর মনযিল, কিশোরগঞ্জ শহর |
| মৃত্যু | — (জীবিত) |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশি |
| পেশা | কবি, সংগীতশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ |
| শিক্ষা | কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস (১৯৯৮ সালে বেফাক বোর্ডে স্নাতকোত্তর); জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (২০০৪) |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | লাল সাগরের ঢেউ (২০০১), প্রাণের আওয়াজ, অচিনকাব্য, মেঘে ঢাকা সুন্নাত, বারোটি সুন্দর গল্প; কুরআনের কাব্যানুবাদ; সংগীত “ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি”, “কেন কেন” |
| পুরস্কার | — (প্রাপ্ত সূত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পুরস্কারের তথ্য নেই) |
পরিচিতি
মুহিব্বুর রহমান খান বা মুহিব খান (জন্ম: ১৯৭৯) বাংলাদেশের একজন ইসলামি চিন্তাবিদ, কবি, সংগীতশিল্পী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ। “জাগ্রত কবি” হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। তার লেখা দেশপ্রেমমূলক সংগীত ইঞ্চি ইঞ্চি মাটিসহ বহু গান দেশব্যাপী জনপ্রিয় হয়েছে, এবং বাংলা ভাষায় কুরআনের কাব্যানুবাদের কাজের জন্য তিনি আলোচিত। পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এবং ২০১৬ সালে “ন্যাশনাল মুভমেন্ট বাংলাদেশ” নামে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয়।
জন্ম ও শৈশব
১৯৭৯ সালের অক্টোবরে কিশোরগঞ্জ শহরের নূর মনযিলে তার জন্ম। (উইকিপিডিয়ার তথ্যপঞ্জিতে নির্দিষ্ট তারিখ হিসেবে ১ অক্টোবর ১৯৭৯ দেওয়া আছে, যদিও মূল নিবন্ধের পাঠে শুধু “অক্টোবর ১৯৭৯” উল্লেখ আছে।) তার পিতা মাওলানা আতাউর রহমান খান ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের বরেণ্য আলেম, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব। মুহিব খান ছিলেন তার কনিষ্ঠ পুত্র। ফলে ইসলামি শিক্ষা, সংগ্রাম ও দাওয়াতি ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পরিবেশেই তার বেড়ে ওঠা।
শিক্ষাজীবন
তিনি কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং ১৯৯৮ সালে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ড থেকে “তাকমীল ফিল হাদিস ওয়াল উলূমিল ইসলামিয়া” বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনায় তিনি ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কর্মজীবন
মুহিব খান একই সঙ্গে লেখক, সাংবাদিক, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও সংগঠক। তিনি জাতীয় সাপ্তাহিক লিখনী-র নির্বাহী সম্পাদক ও পরে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ধর্মীয় টিভি চ্যানেল ইসলামিক টিভির প্রথম অনুষ্ঠান নির্বাহীও ছিলেন তিনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তিনি নিয়মিত শিল্পী, আলোচক ও বিভিন্ন জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন। তরুণদের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মানবিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি “ইসলামিক কালচারাল ইনস্টিটিউট (আইসিআই)” নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
রাজনীতিতে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি “ন্যাশনাল মুভমেন্ট বাংলাদেশ” নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সাহিত্যজীবন
তার সাহিত্যযাত্রার মূল ধারা কবিতা ও সংগীত। ২০০১ সালে লাল সাগরের ঢেউ নামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে প্রকাশ পায় প্রাণের আওয়াজ, অচিনকাব্য, মেঘে ঢাকা সুন্নাত, তৃষ্ণা মেটে না মোর, মুরাকাবা (আত্মদর্শনের তত্ত্বরহস্য), প্রেম বিরহের মাঝে, নতুন ঝড়, পৃথিবীর পথে, আমার গান এবং বারোটি সুন্দর গল্প।
তার সবচেয়ে আলোচিত কাজ বাংলা ভাষায় কুরআনের কাব্যানুবাদ। ২০০৪ সালে তিনি এই অনুবাদ শুরু করেন; ২০০৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম দশ পারার অনুবাদ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এরপর কাজে কিছুটা ধীরতা আসলেও ২০২০ সালে করোনাকালের অবরুদ্ধ সময়ে তিনি এই কাব্যানুবাদ সমাপ্ত করেন। কিছু প্রকাশনায় এটিকে বাংলা ভাষায় কুরআনের সর্বপ্রথম পূর্ণাঙ্গ কাব্যানুবাদ বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও মুসা আল হাফিজসহ কেউ কেউ এই দাবির বিরোধিতা করে পূর্ববর্তী একাধিক কাব্যানুবাদের উল্লেখ করেছেন।
সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি দেশাত্মবোধক ও আদর্শিক গান রচনা ও পরিবেশন করেন। তার রচিত “ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি” গানটি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উদ্দীপনা সংগীত হিসেবে এবং আনসার-ভিডিপির দলীয় সংগীত রচয়িতা হিসেবেও তার নাম জড়িয়ে আছে। “কেন কেন”-সহ তার একাধিক সংগীত জনপ্রিয়তা পেয়েছে; সুবীর নন্দী, আইয়ুব বাচ্চু, কনক চাঁপা, ফাহমিদা নবীর মতো খ্যাতিমান শিল্পীরা তার লেখা দেশের গান পরিবেশন করেছেন। “জাগ্রত কবি” অভিধায় তিনি বাংলা ভাষার পাঠক-শ্রোতাদের কাছে সুপরিচিত।
সঙ্গীত-রাজনীতির এই ধারা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ও বিতর্কও উঠেছে; যেমন ২০২২ সালের মৌলবাদ-বিরোধী গণকমিশনের একটি প্রতিবেদনে তার সঙ্গীতচর্চার সমালোচনা করা হয়। এসব বিতর্কের সত্যতা যাচাই এখানে সম্ভব নয় — তবে তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব নিয়ে ভিন্নমত আছে, এটি পাঠকের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করা হলো।
ব্যক্তিগত জীবন
তার পিতা মাওলানা আতাউর রহমান খান। বিবাহ বা সন্তানাদি সম্পর্কে প্রকাশ্য কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি বলে এখানে তা উল্লেখ করা হলো না।
পুরস্কার ও সম্মাননা
প্রাপ্ত সূত্রে তার কোনো নির্দিষ্ট সাহিত্য-পুরস্কারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে “জাগ্রত কবি” অভিধা এবং জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিল্পী ও বিচারক হিসেবে স্বীকৃতি তার গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।