মূল কন্টেন্টে যান
মুসা আল হাফিজ

মুসা আল হাফিজ

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম মুসা আল হাফিজ
জন্ম ৫ অক্টোবর ১৯৮৪
জন্মস্থান বিশ্বনাথ, সিলেট, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশি
পেশা কবি, গবেষক, লেখক, আলেম
শিক্ষা কওমি মাদ্রাসা — হিফজ (১৯৯৫), দাওরায়ে হাদীস (২০০৭), তাফসীরে তাখাসসুস (২০০৮)
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘ঈভের হ্রদের মাছ’ (কবিতা), ‘প্রাচ্যবিদের দাঁতের দাগ’ (গবেষণা), ‘মহাসত্যের বাঁশি: জালালুদ্দীন রুমী’ (জীবনী), ‘আত্মগত দার্শনিক’ (উপন্যাস)
বর্তমান দায়িত্ব চেয়ারম্যান, ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ

পরিচিতি

মুসা আল হাফিজ (জন্ম ৫ অক্টোবর ১৯৮৪) বাংলাদেশের একজন কবি, গবেষক, লেখক ও আলেম। কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা, ইতিহাস, জীবনী ও উপন্যাস — সাহিত্যের বহু শাখায় তাঁর ষাটের অধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। কওমি মাদ্রাসার প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি সমাজ, সংস্কৃতি ও দর্শনের স্বাধীন অধ্যয়ন তাঁর লেখাকে দিয়েছে বৈদগ্ধ্যের ছাপ। বর্তমানে তিনি ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

জন্ম ও শিক্ষা

১৯৮৪ সালের ৫ অক্টোবর সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলায় তাঁর জন্ম (বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী রামপাশা ইউনিয়নের মাখর-গাঁও গ্রাম; একটি সংবাদ প্রতিবেদনে গ্রামের নাম আমতৈল বলা হয়েছে)। বাবা হাফিজ ইব্রাহীম আলী, মা জুবেদা খাতুন। মাত্র ১১ বছর বয়সে, ১৯৯৫ সালে তিনি কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। কওমি মাদ্রাসার দারসে নেজামি পাঠ্যক্রমে ২০০৭ সালে দাওরায়ে হাদীস এবং ২০০৮ সালে তাফসীরুল কুরআনে তাখাসসুস (বিশেষায়িত ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে সমাজ, সংস্কৃতি ও দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন এবং লেখালেখিতে তিনি মগ্ন ছিলেন।

কর্মজীবন

২০০৯ সালে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বনাথ জামেয়া মাদানিয়ায় হাদীস ও তাফসীরের শিক্ষকতা এবং মাসিক ‘আল ফারুক’-এর উপদেষ্টা সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ২০১৬ সালে সিলেটের উচ্চতর ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়াতুল খায়র আল ইসলামিয়ায় বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দেন। ২০১৯ সালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে তিনি ইসলামি দাওয়াহ ও গবেষণা কেন্দ্র ‘মা’হাদুল ফিকরি ওয়াদ্দিরাসাতিল ইসলামিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সাহিত্যজীবন

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:

  • ‘ঈভের হ্রদের মাছ’ (কবিতা)
  • ‘ঐন্দ্রজালিক আত্মজীবনী’ (আত্মকথন)
  • ‘প্রাচ্যবিদের দাঁতের দাগ’ (গবেষণা)
  • ‘ইসলামোফোবিয়ার উজানে’ (প্রবন্ধ)
  • ‘মহাসত্যের বাঁশি: জালালুদ্দীন রুমী’ (জীবনী)
  • ‘অনিবার্য ইবনে খালদুন’ (প্রবন্ধ)
  • ‘দৃশ্যকাব্যে ফররুখ আহমদ’ (সাহিত্য সমালোচনা)
  • ‘বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা’ (সাহিত্য সমালোচনা)
  • ‘ছড়াবৃন্দ’ (ছড়া)
  • ‘আত্মগত দার্শনিক’ (উপন্যাস)

একটি বই-বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের লেখক-পরিচিতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বইয়ের সংখ্যা চল্লিশের অধিক; একটি সংবাদ প্রতিবেদনে ষাটের অধিক বলা হয়েছে।

সাহিত্যদৃষ্টি ও প্রভাব

তাঁর চিন্তা ও লেখায় প্রভাব ফেলেছেন এমন ব্যক্তিত্বের তালিকায় রয়েছে ইমাম গাজ্জালী, জালালউদ্দীন রুমি, ইবনে খালদুন, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী, আল্লামা ইকবাল, কাজী নজরুল ইসলাম ও সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর নাম। কবিতায় তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার ধারার সঙ্গে ইসলামী ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছেন বলে সমালোচকরা মনে করেন; আর গবেষণামূলক লেখায় প্রাচ্যবাদ, ইসলামোফোবিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরেছেন। কলামিস্ট ও বক্তা হিসেবেও তিনি পরিচিত।

তাঁর সাহিত্য নিয়ে গবেষণা

২০১১ সালে কবি-সমালোচক মুকুল চৌধুরীর সনাক্তধর্মী আলোচনা ‘মুসা আল হাফিজ: কবিতার নতুন কণ্ঠস্বর’ প্রকাশিত হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রিজাউল ইসলাম তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণাগ্রন্থ ‘মুসা আল হাফিজের মননবিশ্ব’ (২০১৮) রচনা করেন। ২০১৯ সালে তরুণ কবি এম আসাদ চৌধুরীর সম্পাদনায় বিশজন আলোচকের পর্যালোচনাগ্রন্থ ‘মননের কবি, বৈদগ্ধের দৃষ্টিতে’ প্রকাশিত হয়। (এই তথ্যগুলো বই-বিক্রেতা ও সংবাদ সূত্রনির্ভর; স্বতন্ত্র যাচাই সীমিত।)

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ তরুণ আলেম প্রতিভা — ২০০৮’ (বই-বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের লেখক-পরিচিতি অনুযায়ী)
  • কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন — ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি পদক প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয় (সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী)

বর্তমান অবস্থা ও উত্তরাধিকার

মুসা আল হাফিজ বর্তমানে লেখালেখি, গবেষণা ও সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় আছেন। কওমি-ঘরানার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কবিতা ও গবেষণাধর্মী লেখালেখির জন্য তিনি একটি পরিচিত নাম; তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-পর্যায়ের গবেষণা ও একাধিক পর্যালোচনাগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়া তাঁর সাহিত্যিক গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। কলামিস্ট ও সুবক্তা হিসেবেও তিনি বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রোফাইল ছবি: Wikimedia Commons (CC BY 4.0 — Rayhan Ahmed Tamim (own work))

বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে থাকুন

নতুন বই, কবিতা ও লেখক আপডেট পেতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।