শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
এক নজরে
| পূর্ণ নাম | আহমাদ মুসা জিবরিল (ইংরেজিতে Ahmad Musa Jibril; ‘জেবরিল’ বানানেও উল্লেখিত) |
| জন্ম | ১৯৭১ সাল (কিছু সূত্রে ১৯৭২) |
| জন্মস্থান | ডিয়ারবর্ন, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র |
| মৃত্যু | — |
| জাতীয়তা | ফিলিস্তিনি-মার্কিন |
| পেশা | ইসলামি বক্তা, ধর্মীয় পণ্ডিত, প্রাবন্ধিক |
| শিক্ষা | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা — শরিয়াহে ডিগ্রি; মিশিগান থেকে জেডি ও এলএলএম |
| উল্লেখযোগ্য কর্ম | ধূলিমলিন উপহার : রামাদান (বাংলা অনুবাদ, সীরাত পাবলিকেশন) — ‘Gems of Ramadan’ লেকচার সিরিজ অবলম্বনে |
| পুরস্কার | যাচাইযোগ্য তথ্য নেই |
পরিচিতি
শাইখ আহমাদ মুসা জিবরিল একজন ফিলিস্তিনি-মার্কিন ইসলামি বক্তা, আলেম ও ইমাম, যিনি ইংরেজি ভাষায় অনলাইন বক্তৃতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে তিনি AlSalafyoon.com ওয়েবসাইট চালু করেন, যেখানে ইসলামি বক্তাদের ভিডিও প্রকাশ করা হতো। ২০০৪ সালে তিনি জালিয়াতি-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রায় সাড়ে ছয় বছর কারাভোগ করেন এবং ২০১২ সালে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি অনলাইনে বক্তৃতা দেওয়া পুনরায় শুরু করেন। তাঁর বক্তৃতাগুলো থেকে সংকলিত বই বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
জন্ম ও শিক্ষা
তাঁর জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডিয়ারবর্নে — নিজের ওয়েবসাইটের জীবনী অনুযায়ী ১৯৭১ সালে, আর উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ১৯৭২ সালে। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত পরিবারের সন্তান হিসেবে শৈশবে কিছু সময় তিনি সৌদি আরবের মদিনায় কাটান, যেখানে তাঁর বাবা শাইখ মুসা জিবরিল মদিনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। নিজের জীবনী অনুযায়ী তিনি ১১ বছর বয়সে কুরআন মুখস্থ করেন। ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে পরে তিনি আবার মদিনায় ফিরে যান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মিশিগানের একটি আইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জেডি ও এলএলএম ডিগ্রি লাভ করেন।
প্রচারজীবন ও বিতর্ক
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে জিবরিল AlSalafyoon.com ওয়েবসাইট চালু করেন; ২০০৩–২০০৪ সালে তাঁর গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের পর ওয়েবসাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১২ সালে মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যে তিনি অনলাইনে বক্তৃতা প্রকাশ শুরু করেন — ইউটিউব ভিডিও ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
২০০৪ সালে ডেট্রয়েটে তাঁর ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে মোট ৪২টি অভিযোগে বিচার হয় — ষড়যন্ত্র, ব্যাংক জালিয়াতি, ওয়্যার জালিয়াতি, অর্থপাচার, আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগ। জিবরিল দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ড পান; টের হোট ফেডারেল কারেকশনাল কমপ্লেক্সে তিনি কারাভোগ করে ২০১২ সালের কোনো এক সময়ে মুক্তি পান।
২০১৪ সালের জুন মাসে লন্ডনভিত্তিক International Centre for the Study of Radicalisation (ICSR) একটি প্রতিবেদনে তাঁকে সিরিয়ার বিদেশি যোদ্ধাদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে। ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রবেশন লঙ্ঘনের কারণে তাঁর ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ২০১৫ সালের মার্চে শেষ হয়। ২০১৭ সালের জুন মাসে ইউটিউব তাঁর ভিডিওগুলো পর্যালোচনা করে সেগুলোকে সহিংসতা-সমর্থন নীতিমালার লঙ্ঘন নয় বলে মত দেয়, তবে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত কনটেন্টে সতর্কতা-লেবেল ও সীমিত দৃশ্যমানতার নীতি ঘোষণা করে।
রচনাবলি
জিবরিলের বক্তৃতা-সিরিজ অবলম্বনে বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে ধূলিমলিন উপহার : রামাদান (সীরাত পাবলিকেশন, ২২৪ পৃষ্ঠা)। বইটি তাঁর ‘Gems of Ramadan’ লেকচার সিরিজের বাংলা রূপান্তর হিসেবে পরিচিত। তাঁর ইউটিউব বক্তৃতার বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে কুরআনের ব্যাখ্যা, ইসলামি আচরণ, রোজা ও পশ্চিমা চিকিৎসা-সংক্রান্ত আলোচনা।
ব্যক্তিগত জীবন
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তাঁর বাবা শাইখ মুসা জিবরিলও একজন আলেম ছিলেন।
বর্তমান অবস্থা
তিনি জীবিত এবং অনলাইনে ধর্মীয় বক্তৃতা প্রকাশ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রভাব ও কার্যক্রম বিভিন্ন গবেষণা-প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমে নথিভুক্ত হয়েছে।